নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা
jugantor
জাতিসংঘ সাধারণ সম্মেলন
নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা
থাকছেন টিকা না নেওয়া ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টও * মনোযোগ মহামারি ও জলবায়ুতে

  যুগান্তর ডেস্ক  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা

করোনা মহামারির মধ্যেই শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সম্মেলন। আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে এর মূল বিতর্কপর্ব। গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিশ্বনেতারা। মনোযোগ থাকছে জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। বৈশ্বিক নানা সমস্যা ও অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি অধিবেশনে আফগানিস্তান ও ইরান নিয়েও আলোচনা হবে।

গত সপ্তাহেই (১৪ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ৭৬তম সাধারণ সম্মেলন। আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী সাধারণ বিতর্ক। চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বিতর্কের প্রথমদিনে অংশ নিচ্ছে ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, কলম্বিয়া, কাতার, স্লোভাকিয়া, পর্তুগাল, কিরগিজস্তান, লিথুয়ানিয়া, উজবেকিস্তান, ইরান, চিলি, কোরিয়া, তুরস্ক ও সুইজারল্যান্ড। এবারের অধিবেশন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদের করোনারোধী টিকা নেওয়ার প্রমাণপত্র দেখানোর দাবি জানিয়েছিল নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। তবে জাতিসংঘের নিয়মবিরোধী হওয়ায় সেই দাবি ধোপে টেকেনি। ফলে অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারছেন টিকা না নেওয়া ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোও। করোনার কারণে গত বছরের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল পুরোপুরি ভার্চুয়ালি। এবারও সংক্রমণ শতভাগ নিয়ন্ত্রণে না আসায় জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের এক-তৃতীয়াংশই ভিডিওবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে অংশ নিতে পারে। তবে বাকি সদস্য দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সশরীরেই হাজির থাকবেন নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন যেন করোনার ‘সুপার স্প্রেডার’ অনুষ্ঠান না হয়ে ওঠে সেজন্য বিশ্বনেতাদের নিউইয়র্কে যাওয়া আটকানোর চেষ্টা করেছিল মার্কিন প্রশাসন। যদিও দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজেই সশরীরে অধিবেশনে যোগ দেবেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর জাতিসংঘে এটাই প্রথমবারের মতো পা রাখতে চলেছেন তিনি।

জাতিসংঘে এবারের অধিবেশনে তথাকথিত একটি ‘অনার সিস্টেম’ও থাকছে। তথাকথিত এই ‘সম্মান ব্যবস্থা’ অনুযায়ী যিনিই অধিবেশন হলে ঢুকবেন তাকেই টিকাপ্রাপ্ত বলে ধরে নেওয়া হবে। টিকা নেওয়ার কোনো প্রমাণপত্র দেখানো লাগবে না। কিন্তু অধিবেশনে প্রথম দেশ হিসাবে ব্রাজিল যখন বক্তব্য দেবে, তখনই মূলত এই ‘অনার সিস্টেম’ ভেঙে পড়বে। এর কারণ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বরাবরই টিকাবিরোধী। করোনায় আক্রান্ত হলেও আজও টিকা নেননি এ নেতা। বলসোনারোর দাবি, করোনায় একবার আক্রান্ত হওয়ায় তার আর সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নেই। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে যদি ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্টের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসে তাহলে জাতিসংঘেই টিকা নিতে পারবেন তিনি। সংস্থাটির সদর দপ্তরের বাইরে জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের করোনা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখছে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ। থাকছে বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষার সুবিধাও।

জাতিসংঘ অধিবেশন সামনে রেখে সম্প্রতি সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, আমরা কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে বলতে পারি না যে, টিকা নেওয়া না থাকলে তিনি জাতিসংঘে প্রবেশ করতে পারবেন না। ম্যানহাটনে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরটি আন্তর্জাতিক ভূমি হিসাবে স্বীকৃত। ফলে সেখানে মার্কিন আইনের বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়। তবে মহামারি প্রশ্নে আগেই স্থানীয় ও জাতীয় নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তারা। তিনি আরও বলেছেন, ভ্রমণকারী কূটনীতিকদের মধ্যে কতজন টিকা নেওয়া হতে পারে, এমন আলোচনাই দেখাচ্ছে ‘টিকাদান সংক্রান্ত বৈষম্য আজ কতটা নাটকীয়’।

গুতেরেস আগামী বছরের প্রথমার্ধের মধ্যে বিশ্বের ৭০ শতাংশ মানুষের টিকাদান শেষ করতে একটি বৈশ্বিক পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে টিকার যে ৫৭০ কোটি ডোজ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে আফ্রিকা পেয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে টিকা সরবরাহ বাড়াতে বুধবার ওয়াশিংটন থেকে বাইডেন বিশ্বনেতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে এক ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন। জাতিসংঘে হওয়া জমায়েতে কোভিড-১৯ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে উদ্বিগ্ন তা দেখাতে বাইডেন নিউইয়র্কে মাত্র ২৪ ঘণ্টা থাকবেন।

জাতিসংঘ সাধারণ সম্মেলন

নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা

থাকছেন টিকা না নেওয়া ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টও * মনোযোগ মহামারি ও জলবায়ুতে
 যুগান্তর ডেস্ক 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা
ফাইল ছবি

করোনা মহামারির মধ্যেই শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সম্মেলন। আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে এর মূল বিতর্কপর্ব। গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিশ্বনেতারা। মনোযোগ থাকছে জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। বৈশ্বিক নানা সমস্যা ও অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি অধিবেশনে আফগানিস্তান ও ইরান নিয়েও আলোচনা হবে।

গত সপ্তাহেই (১৪ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ৭৬তম সাধারণ সম্মেলন। আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী সাধারণ বিতর্ক। চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বিতর্কের প্রথমদিনে অংশ নিচ্ছে ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, কলম্বিয়া, কাতার, স্লোভাকিয়া, পর্তুগাল, কিরগিজস্তান, লিথুয়ানিয়া, উজবেকিস্তান, ইরান, চিলি, কোরিয়া, তুরস্ক ও সুইজারল্যান্ড। এবারের অধিবেশন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদের করোনারোধী টিকা নেওয়ার প্রমাণপত্র দেখানোর দাবি জানিয়েছিল নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। তবে জাতিসংঘের নিয়মবিরোধী হওয়ায় সেই দাবি ধোপে টেকেনি। ফলে অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারছেন টিকা না নেওয়া ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোও। করোনার কারণে গত বছরের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল পুরোপুরি ভার্চুয়ালি। এবারও সংক্রমণ শতভাগ নিয়ন্ত্রণে না আসায় জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের এক-তৃতীয়াংশই ভিডিওবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে অংশ নিতে পারে। তবে বাকি সদস্য দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সশরীরেই হাজির থাকবেন নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন যেন করোনার ‘সুপার স্প্রেডার’ অনুষ্ঠান না হয়ে ওঠে সেজন্য বিশ্বনেতাদের নিউইয়র্কে যাওয়া আটকানোর চেষ্টা করেছিল মার্কিন প্রশাসন। যদিও দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজেই সশরীরে অধিবেশনে যোগ দেবেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর জাতিসংঘে এটাই প্রথমবারের মতো পা রাখতে চলেছেন তিনি।

জাতিসংঘে এবারের অধিবেশনে তথাকথিত একটি ‘অনার সিস্টেম’ও থাকছে। তথাকথিত এই ‘সম্মান ব্যবস্থা’ অনুযায়ী যিনিই অধিবেশন হলে ঢুকবেন তাকেই টিকাপ্রাপ্ত বলে ধরে নেওয়া হবে। টিকা নেওয়ার কোনো প্রমাণপত্র দেখানো লাগবে না। কিন্তু অধিবেশনে প্রথম দেশ হিসাবে ব্রাজিল যখন বক্তব্য দেবে, তখনই মূলত এই ‘অনার সিস্টেম’ ভেঙে পড়বে। এর কারণ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বরাবরই টিকাবিরোধী। করোনায় আক্রান্ত হলেও আজও টিকা নেননি এ নেতা। বলসোনারোর দাবি, করোনায় একবার আক্রান্ত হওয়ায় তার আর সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নেই। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে যদি ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্টের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসে তাহলে জাতিসংঘেই টিকা নিতে পারবেন তিনি। সংস্থাটির সদর দপ্তরের বাইরে জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের করোনা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখছে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ। থাকছে বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষার সুবিধাও।

জাতিসংঘ অধিবেশন সামনে রেখে সম্প্রতি সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, আমরা কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে বলতে পারি না যে, টিকা নেওয়া না থাকলে তিনি জাতিসংঘে প্রবেশ করতে পারবেন না। ম্যানহাটনে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরটি আন্তর্জাতিক ভূমি হিসাবে স্বীকৃত। ফলে সেখানে মার্কিন আইনের বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়। তবে মহামারি প্রশ্নে আগেই স্থানীয় ও জাতীয় নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তারা। তিনি আরও বলেছেন, ভ্রমণকারী কূটনীতিকদের মধ্যে কতজন টিকা নেওয়া হতে পারে, এমন আলোচনাই দেখাচ্ছে ‘টিকাদান সংক্রান্ত বৈষম্য আজ কতটা নাটকীয়’।

গুতেরেস আগামী বছরের প্রথমার্ধের মধ্যে বিশ্বের ৭০ শতাংশ মানুষের টিকাদান শেষ করতে একটি বৈশ্বিক পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে টিকার যে ৫৭০ কোটি ডোজ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে আফ্রিকা পেয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে টিকা সরবরাহ বাড়াতে বুধবার ওয়াশিংটন থেকে বাইডেন বিশ্বনেতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে এক ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন। জাতিসংঘে হওয়া জমায়েতে কোভিড-১৯ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে উদ্বিগ্ন তা দেখাতে বাইডেন নিউইয়র্কে মাত্র ২৪ ঘণ্টা থাকবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন