অতি লোভে ফাটল বাড়ছে তালেবানে
jugantor
অতি লোভে ফাটল বাড়ছে তালেবানে

  সেলিম কামাল  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাক্কা ২০ বছর পর ক্ষমতা হাতে পেয়ে লোভ সামলাতে পারছে না তালেবানের কয়েকজন দখলবাজ লুটেরা সদস্য। কাবুল দখলের পর থেকেই শুরু হয় তাদের জনগণের সম্পদ লুটতরাজের মতো ঘটনা। এসব সামাল দিতেই মূলত তালেবানের মধ্যে প্রবেশ করেছে বিভেদের ঘুণ পোকা-যা তিলে তিলে নিঃশেষ করে দিতে পারে দলটিকে। তালেবানের শীর্ষনেতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের অন্তরালে চলে যাওয়া (হতে পারে হত্যাও) সন্দেহ দানা বেঁধেছে, অন্তর্দ্বন্দ্বের মাত্রা কতটা প্রকট? এমনকি তা সামাল দিতে না পারলে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করবে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে আলজাজিরা।

২০ বছর পর ক্ষমতায় ফেরার এক মাসের মধ্যে তালেবানের মধ্যে বিভক্তির ইঙ্গিত পেতে শুরু করেছে বিশ্ববাসী। চলতি মাসের প্রথম দিকে উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার হঠাৎ করে দৃষ্টির আড়ালে চলে গেছে গোষ্ঠীটির বিভক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠে। প্রথমে খবর আসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের অভ্যন্তরে কোন্দল চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বারাদার। পরে বারাদারের একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করে তালেবান। তাতে বারাদার জানিয়েছেন, কাবুল থেকে কান্দাহারে চলে যাওয়ার কারণেই তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। তালেবানের সদস্যদের মধ্যে যে ‘সহানুভূতি রয়েছে তা পরিবারের সদস্যদের তুলনায় অনেক বেশি’ বলে দাবি করেন তিনি। বারাদারের এই অডিও বার্তার সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন অনেকে। হত্যা কিংবা আহতের সন্দেহ ঘোচাতেই শেষ পর্যন্ত তার ছবি প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, গত সোমবার জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বারাদার। সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা অনলাইন জানিয়েছে, তালেবান নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ খুবই বাস্তব। আর তাদের মধ্যে যদি বিবাদ বেড়ে যায় তাহলে আফগান জনগণের জন্য তা আরও সংকটের সৃষ্টি করবে। তালেবানের মধ্যে বিভক্তির মূল কারণ রাজনৈতিক-সামরিক বিভাজন। গোষ্ঠীটির কট্টোরপন্থি সদস্যরা মনে করছে ২০ বছর লড়াইয়ের অর্জনটা তাদেরই। তালেবানের সঙ্গে এক দশক সম্পর্ক রাখা একটি রাজনৈতিক সূত্র তালেবানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার বিভক্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা নেতাদের মধ্য থেকে শুরু করে রাজপথে থাকা তালেবান সদস্যদের মধ্যে বিরোধ ছড়িয়ে পড়েছে। তালেবান যোদ্ধারা বিজিত অঞ্চল দখলের পর সাবেক সরকারের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জিনিসপত্র লুট করতে শুরু করে। সাবেক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের গাড়ি বাড়ি সবই দখলে নিচ্ছেন তারা। অথচ কয়েক দিন আগেই তালেবান নেতৃত্ব এগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল।

তালেবানের মুখপাত্র এবং তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জবিহউল্লাহ মুজাহিদ কাবুল দখলের দুদিন পর বলেছিলেন, ‘সামরিক-বেসামরিক কারও বাড়িতে প্রবেশ না করতে আমরা সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি।’ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু নিয়েও দ্বন্দ্ব রয়েছে তালেবানে। তালেবান সরকারের মূল ক্ষমতা রাখা হয়েছে কান্দাহারের শূরা কাউন্সিলের হাতে। গোষ্ঠীটির বর্তমান নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাকেন্দ্রিক এই শূরা কাউন্সিলই আফগানিস্তানের প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ বলে মনে করে একটি অংশ। এর ফলে নতুন প্রশাসনে নিজেদের অবস্থান নিয়ে বেশ কয়েকজন তালেবান নেতা বিব্রত বোধ করছেন।

তালেবানের কৌশলেই তালেবানের ওপর হামলা চালাচ্ছে আইএস : কাবুল দখলের পর থেকেই অভ্যন্তরীণ শত্র“কে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। গত মাসে কাবুল বিমানবন্দর ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার দায় স্বীকার করে আইএস সম্পৃক্ত একটি গোষ্ঠী। তালেবানের গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্য জানিয়েছেন, আইএস সংশ্লিষ্ট গ্র“পগুলো গেরিলা কৌশল বেছে নিয়েছে। তালেবানরা সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার জন্য গাড়ির নিচে ম্যাগনেটিক বোমা যুক্ত করত। আইএসও সেই একই কৌশল বেছে নিয়েছে।

অতি লোভে ফাটল বাড়ছে তালেবানে

 সেলিম কামাল 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাক্কা ২০ বছর পর ক্ষমতা হাতে পেয়ে লোভ সামলাতে পারছে না তালেবানের কয়েকজন দখলবাজ লুটেরা সদস্য। কাবুল দখলের পর থেকেই শুরু হয় তাদের জনগণের সম্পদ লুটতরাজের মতো ঘটনা। এসব সামাল দিতেই মূলত তালেবানের মধ্যে প্রবেশ করেছে বিভেদের ঘুণ পোকা-যা তিলে তিলে নিঃশেষ করে দিতে পারে দলটিকে। তালেবানের শীর্ষনেতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের অন্তরালে চলে যাওয়া (হতে পারে হত্যাও) সন্দেহ দানা বেঁধেছে, অন্তর্দ্বন্দ্বের মাত্রা কতটা প্রকট? এমনকি তা সামাল দিতে না পারলে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করবে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে আলজাজিরা।

২০ বছর পর ক্ষমতায় ফেরার এক মাসের মধ্যে তালেবানের মধ্যে বিভক্তির ইঙ্গিত পেতে শুরু করেছে বিশ্ববাসী। চলতি মাসের প্রথম দিকে উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার হঠাৎ করে দৃষ্টির আড়ালে চলে গেছে গোষ্ঠীটির বিভক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠে। প্রথমে খবর আসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের অভ্যন্তরে কোন্দল চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বারাদার। পরে বারাদারের একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করে তালেবান। তাতে বারাদার জানিয়েছেন, কাবুল থেকে কান্দাহারে চলে যাওয়ার কারণেই তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। তালেবানের সদস্যদের মধ্যে যে ‘সহানুভূতি রয়েছে তা পরিবারের সদস্যদের তুলনায় অনেক বেশি’ বলে দাবি করেন তিনি। বারাদারের এই অডিও বার্তার সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন অনেকে। হত্যা কিংবা আহতের সন্দেহ ঘোচাতেই শেষ পর্যন্ত তার ছবি প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, গত সোমবার জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বারাদার। সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা অনলাইন জানিয়েছে, তালেবান নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ খুবই বাস্তব। আর তাদের মধ্যে যদি বিবাদ বেড়ে যায় তাহলে আফগান জনগণের জন্য তা আরও সংকটের সৃষ্টি করবে। তালেবানের মধ্যে বিভক্তির মূল কারণ রাজনৈতিক-সামরিক বিভাজন। গোষ্ঠীটির কট্টোরপন্থি সদস্যরা মনে করছে ২০ বছর লড়াইয়ের অর্জনটা তাদেরই। তালেবানের সঙ্গে এক দশক সম্পর্ক রাখা একটি রাজনৈতিক সূত্র তালেবানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার বিভক্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা নেতাদের মধ্য থেকে শুরু করে রাজপথে থাকা তালেবান সদস্যদের মধ্যে বিরোধ ছড়িয়ে পড়েছে। তালেবান যোদ্ধারা বিজিত অঞ্চল দখলের পর সাবেক সরকারের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জিনিসপত্র লুট করতে শুরু করে। সাবেক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের গাড়ি বাড়ি সবই দখলে নিচ্ছেন তারা। অথচ কয়েক দিন আগেই তালেবান নেতৃত্ব এগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল।

তালেবানের মুখপাত্র এবং তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জবিহউল্লাহ মুজাহিদ কাবুল দখলের দুদিন পর বলেছিলেন, ‘সামরিক-বেসামরিক কারও বাড়িতে প্রবেশ না করতে আমরা সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি।’ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু নিয়েও দ্বন্দ্ব রয়েছে তালেবানে। তালেবান সরকারের মূল ক্ষমতা রাখা হয়েছে কান্দাহারের শূরা কাউন্সিলের হাতে। গোষ্ঠীটির বর্তমান নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাকেন্দ্রিক এই শূরা কাউন্সিলই আফগানিস্তানের প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ বলে মনে করে একটি অংশ। এর ফলে নতুন প্রশাসনে নিজেদের অবস্থান নিয়ে বেশ কয়েকজন তালেবান নেতা বিব্রত বোধ করছেন।

তালেবানের কৌশলেই তালেবানের ওপর হামলা চালাচ্ছে আইএস : কাবুল দখলের পর থেকেই অভ্যন্তরীণ শত্র“কে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। গত মাসে কাবুল বিমানবন্দর ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার দায় স্বীকার করে আইএস সম্পৃক্ত একটি গোষ্ঠী। তালেবানের গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্য জানিয়েছেন, আইএস সংশ্লিষ্ট গ্র“পগুলো গেরিলা কৌশল বেছে নিয়েছে। তালেবানরা সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার জন্য গাড়ির নিচে ম্যাগনেটিক বোমা যুক্ত করত। আইএসও সেই একই কৌশল বেছে নিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন