হাত-পা কাটার শাস্তিতে ফিরছে তালেবান
jugantor
হাত-পা কাটার শাস্তিতে ফিরছে তালেবান

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবারও সেই প্রথম আমলেই ফিরছে তালেবানরা। ১৯৯৬-২০০১’র শাসনামলে অপরাধীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হতো। চুরি বা সামান্য কম মাত্রার অপরাধে হাত-পা কেটে দিত। এবারও সেই শাসনব্যবস্থারই ঘোষণা দিলেন তালেবান বিচারমন্ত্রী নতা মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবি। শুক্রবার বার্তাসংস্থা এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অপরাধ দমনে মৃত্যুদণ্ড ও হাত কাটার শাস্তিতে ফিরছে তালেবান। বলেন, আগের শাসনামলের মতো ইসলামী আইন প্রয়োগ করে অপরাধ দমনে সচেষ্ট হবেন তারা। ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রচার ও অপকর্ম প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়ের প্রধান ও বিচারমন্ত্রী নুরুদ্দিনের এক চোখ ও এক পা নেই। কথিত আছে, রাশিয়াযুদ্ধে এ দুটি অঙ্গ হারিয়েছিলেন তিনি। তালেবানি শাসনের প্রথম আমলে নুরুদ্দিন ছিলেন আফগানিস্তানের আইনমন্ত্রী। কারাগারের ভারপ্রাপ্তও। ইসলামিক আইন কিভাবে বলবৎ করা হবে বা তা ঠিকঠাক বলবৎ হচ্ছে কিনা, সেটা নুরুদ্দিনই দেখাশোনা করতেন। দ্বিতীয় তালিবানি শাসনেও তার হাতে পড়ল সেই দায়িত্ব। নুরুদ্দিন তুরাবি শুক্রবার বলেন, ‘আগের আমলে স্টেডিয়ামে, মসজিদে কিংবা ঈদগাহ মাঠে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আমরা সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলাম। আমি বলতে চাই, আমরা কখনো সমালোচনাকারীদের আইন ও বিচারের বিষয়ে কোনো কথা বলিনি। আমাদের ব্যাপারেও তাদের কথা বলা উচিত নয়। আমরা ইসলাম মেনে চলব। কুরআনের ওপর আমাদের আইন তৈরি করব।’ তবে এবার প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান না-ও থাকতে পারে বলে জানান তিনি। তুরাবি জানান, ‘সাধারণত ইসলামী আইনে দোষী সাব্যস্ত হত্যাকারীর মাথায় গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবারের কেউ গুলি চালানোর দায়িত্ব পায়। তবে রক্তের টাকা পরিশোধের মাধ্যমে অপরাধীর বেঁচে থাকার সুযোগ ছিল। হাইওয়েতে ডাকাতির জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের একটি হাত এবং একটি পা কেটে ফেলা হয়।’ কিছু দিন আগে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঠিক এই ইঙ্গিতই দিয়েছেলেন আফগানিস্তানের সেন্ট্রাল জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তালেবান কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ। বলেছিলেন, যদি কোনো খুনি ইচ্ছাকৃতভাবে খুন করে তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। কিন্তু যদি ইচ্ছাকৃত না হয় তাহলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধসহ অন্যান্য শাস্তি দেওয়া হতে পারে। তিনি আরও জানান, চুরি করলে চোরের হাত কেটে ফেলা হবে এবং যারা অবৈধ যৌন সম্পর্কে জড়িত থাকবে তাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ইসলামি আইন ও বিধিতে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। শান্তি ও ইসলামি শাসন আমাদের একমাত্র চাওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো অপরাধের বিচারের জন্য চার সাক্ষী থাকতে হবে। যদি সাক্ষীদের বয়ানে সামান্য পার্থক্য থাকে তাহলে কোনো শাস্তি হবে না। কিন্তু যদি সবাই একই কথা বলে তাহলে শাস্তি হবে। সুপ্রিমকোর্ট এমন বিষয়ের দেখাশোনা করবে। তারা যদি দোষী হয়, তাহলে শাস্তি পাবে।

রিজার্ভ ছাড়ের দাবিতে কাবুলে বিক্ষোভ : যুক্তরাষ্ট্রে আটকে রাখা আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ ছাড়ের দাবিতে শুক্রবার দেশটির রাজধানী কাবুলে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছে। গত ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিলে যুক্তরাষ্ট্রে জমা থাকা রিজার্ভের প্রায় এক হাজার কোটি ডলার আটকে দেয় হোয়াইট হাউজ। ফলে চরম অর্থ সংকটে পড়েছে নতুন তালেবান সরকার। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের রিজার্ভ ছাড়ের দাবি সংবলিত ইংরেজিতে লেখা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুনে বহন করতে দেখা যায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আফগান মুসলিম যুব সমিতি এনএজেএমের সদস্য নূরউদ্দিন জালালি বলেন, আমরা চাই তারা এই অর্থ ছাড় করুক।

তালেবানের মুখপাত্র সুহেল শাহীন বিক্ষোভ সম্পর্কে টুইট করে বিক্ষোভকারীদের প্রতি নতুন সরকারের সমর্থন এবং তাদের দাবির প্রতি গুরুত্বারোপের তাগিদ দিয়েছেন।

হাত-পা কাটার শাস্তিতে ফিরছে তালেবান

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবারও সেই প্রথম আমলেই ফিরছে তালেবানরা। ১৯৯৬-২০০১’র শাসনামলে অপরাধীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হতো। চুরি বা সামান্য কম মাত্রার অপরাধে হাত-পা কেটে দিত। এবারও সেই শাসনব্যবস্থারই ঘোষণা দিলেন তালেবান বিচারমন্ত্রী নতা মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবি। শুক্রবার বার্তাসংস্থা এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অপরাধ দমনে মৃত্যুদণ্ড ও হাত কাটার শাস্তিতে ফিরছে তালেবান। বলেন, আগের শাসনামলের মতো ইসলামী আইন প্রয়োগ করে অপরাধ দমনে সচেষ্ট হবেন তারা। ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রচার ও অপকর্ম প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়ের প্রধান ও বিচারমন্ত্রী নুরুদ্দিনের এক চোখ ও এক পা নেই। কথিত আছে, রাশিয়াযুদ্ধে এ দুটি অঙ্গ হারিয়েছিলেন তিনি। তালেবানি শাসনের প্রথম আমলে নুরুদ্দিন ছিলেন আফগানিস্তানের আইনমন্ত্রী। কারাগারের ভারপ্রাপ্তও। ইসলামিক আইন কিভাবে বলবৎ করা হবে বা তা ঠিকঠাক বলবৎ হচ্ছে কিনা, সেটা নুরুদ্দিনই দেখাশোনা করতেন। দ্বিতীয় তালিবানি শাসনেও তার হাতে পড়ল সেই দায়িত্ব। নুরুদ্দিন তুরাবি শুক্রবার বলেন, ‘আগের আমলে স্টেডিয়ামে, মসজিদে কিংবা ঈদগাহ মাঠে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আমরা সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলাম। আমি বলতে চাই, আমরা কখনো সমালোচনাকারীদের আইন ও বিচারের বিষয়ে কোনো কথা বলিনি। আমাদের ব্যাপারেও তাদের কথা বলা উচিত নয়। আমরা ইসলাম মেনে চলব। কুরআনের ওপর আমাদের আইন তৈরি করব।’ তবে এবার প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান না-ও থাকতে পারে বলে জানান তিনি। তুরাবি জানান, ‘সাধারণত ইসলামী আইনে দোষী সাব্যস্ত হত্যাকারীর মাথায় গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবারের কেউ গুলি চালানোর দায়িত্ব পায়। তবে রক্তের টাকা পরিশোধের মাধ্যমে অপরাধীর বেঁচে থাকার সুযোগ ছিল। হাইওয়েতে ডাকাতির জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের একটি হাত এবং একটি পা কেটে ফেলা হয়।’ কিছু দিন আগে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঠিক এই ইঙ্গিতই দিয়েছেলেন আফগানিস্তানের সেন্ট্রাল জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তালেবান কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ। বলেছিলেন, যদি কোনো খুনি ইচ্ছাকৃতভাবে খুন করে তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। কিন্তু যদি ইচ্ছাকৃত না হয় তাহলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধসহ অন্যান্য শাস্তি দেওয়া হতে পারে। তিনি আরও জানান, চুরি করলে চোরের হাত কেটে ফেলা হবে এবং যারা অবৈধ যৌন সম্পর্কে জড়িত থাকবে তাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ইসলামি আইন ও বিধিতে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। শান্তি ও ইসলামি শাসন আমাদের একমাত্র চাওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো অপরাধের বিচারের জন্য চার সাক্ষী থাকতে হবে। যদি সাক্ষীদের বয়ানে সামান্য পার্থক্য থাকে তাহলে কোনো শাস্তি হবে না। কিন্তু যদি সবাই একই কথা বলে তাহলে শাস্তি হবে। সুপ্রিমকোর্ট এমন বিষয়ের দেখাশোনা করবে। তারা যদি দোষী হয়, তাহলে শাস্তি পাবে।

রিজার্ভ ছাড়ের দাবিতে কাবুলে বিক্ষোভ : যুক্তরাষ্ট্রে আটকে রাখা আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ ছাড়ের দাবিতে শুক্রবার দেশটির রাজধানী কাবুলে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছে। গত ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিলে যুক্তরাষ্ট্রে জমা থাকা রিজার্ভের প্রায় এক হাজার কোটি ডলার আটকে দেয় হোয়াইট হাউজ। ফলে চরম অর্থ সংকটে পড়েছে নতুন তালেবান সরকার। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের রিজার্ভ ছাড়ের দাবি সংবলিত ইংরেজিতে লেখা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুনে বহন করতে দেখা যায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আফগান মুসলিম যুব সমিতি এনএজেএমের সদস্য নূরউদ্দিন জালালি বলেন, আমরা চাই তারা এই অর্থ ছাড় করুক।

তালেবানের মুখপাত্র সুহেল শাহীন বিক্ষোভ সম্পর্কে টুইট করে বিক্ষোভকারীদের প্রতি নতুন সরকারের সমর্থন এবং তাদের দাবির প্রতি গুরুত্বারোপের তাগিদ দিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন