টেনেটুনে পাশ করেছেন কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য
jugantor
টেনেটুনে পাশ করেছেন কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তালেবানরা আগানিস্তান দখলের পরই বদলে গেছে কাবুলের পরিস্থিতি। সব থেকে বড় পরিবর্তন এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। টেনেটুনে পাশ করেছেন, এমন ব্যক্তি এখন কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য। ফেসবুক পোস্টে আরিফ বাহরামি নামের এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য মহম্মদ আশরাফ ঘইরাতের সহপাঠী ছিলেন তিনি। সেই সময় নারীদের সঙ্গে সবসময় খারাপ ব্যবহার করতেন ঘইরাত। এমনকি অধ্যাপকদেরও সম্মান দিতেন না তিনি। সব থেকে বড় বিষয়, সহজ সাবজেক্টেও কোনোমতে পাশ মার্কস পেয়েছেন ঘইরাত। সেই ব্যক্তি এখন কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার এই খবর প্রকাশিত হয়েছে পাকিস্তানের সংবাদপত্রে। খোদ তালেবানের মধ্যেই ঘইরাতের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে উত্তাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। সবার মুখেই প্রায় এক বক্তব্য, শিক্ষার আঙিনায় এত যোগ্য লোক থাকতেও কেন ঘইরাতকেই বেছে নেওয়া হলো। সাবেক উপাচার্য মহম্মদ ওসমান বাবুরিকে (পিএইচডি) সরিয়ে বিএ পাশ ঘইরাতকে বসিয়েছে তালেবান। প্রতিবাদে সোচ্চার হতে শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ। ইস্তফা দিয়েছেন ৭০ জন অধ্যাপকও। সহপাঠীর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুলেছেন ঘইরাতও। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, এ ধরনের খবর ঠিক নয়। কেউ চাইলেই তার একাডেমিক ক্যারিয়ার নিয়ে খোঁজখবর নিতে পারেন। তাহলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আরও একটি প্রমাণ সম্প্রতি সামনে এসেছে। কট্টর নারীবিদ্বেষী ও সাংবাদিক শত্র“খ্যাত ঘইরাতের গত বছর জুনের একটি ট্যুইট ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নবনিযুক্ত উপাচার্য বলেছেন, ‘একজন স্পাই জার্নালিস্ট ১০০ জন লোকাল পুলিশ বা আধাসামরিক বাহিনীর থেকে বেশি ভয়ঙ্কর। তাই স্পাই জার্নালিস্টদের মেরে ফেলা উচিত।’ এর পরপরই বর্তমানে নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে সেই ট্যুইটটা ডিলিট করেছেন ঘইরাত। চেয়ারে বসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষানীতিও পালটে ফেলার

ইঙ্গিত দিয়েছেন ঘইরাত।

বলেছেন, বিজ্ঞানের পরিবর্তে ইসলাম ধর্ম ও সংস্কৃতিবিষয়ক পড়াশোনার ওপরই জোর

দেওয়া হবে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নারীদের কথা শোনা ছাড়া তালেবানের উপায় নেই : আফগানিস্তানের প্রথিতযশা মানবাধিকার কর্মী মাহবুবা সিরাজ (৭৩) বলেছেন, তালেবানদের অর্থনৈতিক পতন এবং কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বাঁচতে চাইলে আফগান নারীদের দাবির কাছে মাথা নত করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। তিনি বলেন, তালেবান ক্রমবর্ধমানভাবে নারীদের স্বাধীনতা হরণ করেছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেয়েদের বাদ দিয়ে স্কুল খুলেছে। কর্মজীবী মহিলাদের বাড়িতে থাকতে বলছে এবং তারা একটি সর্বপুরুষ সরকার উšে§াচন করেছে। এ কারণেই তালেবানের প্রতি আফগানিস্তানের মহিলাদের আস্থা নেই। মাহবুবা বলেন, ‘আমি আশাবাদী, তালেবান ক্ষমতায় থাকতে চাইবে এবং সবকিছু সমন্বয় করতে তারা বাধ্য হবে।’

টেনেটুনে পাশ করেছেন কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তালেবানরা আগানিস্তান দখলের পরই বদলে গেছে কাবুলের পরিস্থিতি। সব থেকে বড় পরিবর্তন এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। টেনেটুনে পাশ করেছেন, এমন ব্যক্তি এখন কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য। ফেসবুক পোস্টে আরিফ বাহরামি নামের এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য মহম্মদ আশরাফ ঘইরাতের সহপাঠী ছিলেন তিনি। সেই সময় নারীদের সঙ্গে সবসময় খারাপ ব্যবহার করতেন ঘইরাত। এমনকি অধ্যাপকদেরও সম্মান দিতেন না তিনি। সব থেকে বড় বিষয়, সহজ সাবজেক্টেও কোনোমতে পাশ মার্কস পেয়েছেন ঘইরাত। সেই ব্যক্তি এখন কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার এই খবর প্রকাশিত হয়েছে পাকিস্তানের সংবাদপত্রে। খোদ তালেবানের মধ্যেই ঘইরাতের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে উত্তাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। সবার মুখেই প্রায় এক বক্তব্য, শিক্ষার আঙিনায় এত যোগ্য লোক থাকতেও কেন ঘইরাতকেই বেছে নেওয়া হলো। সাবেক উপাচার্য মহম্মদ ওসমান বাবুরিকে (পিএইচডি) সরিয়ে বিএ পাশ ঘইরাতকে বসিয়েছে তালেবান। প্রতিবাদে সোচ্চার হতে শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ। ইস্তফা দিয়েছেন ৭০ জন অধ্যাপকও। সহপাঠীর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুলেছেন ঘইরাতও। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, এ ধরনের খবর ঠিক নয়। কেউ চাইলেই তার একাডেমিক ক্যারিয়ার নিয়ে খোঁজখবর নিতে পারেন। তাহলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আরও একটি প্রমাণ সম্প্রতি সামনে এসেছে। কট্টর নারীবিদ্বেষী ও সাংবাদিক শত্র“খ্যাত ঘইরাতের গত বছর জুনের একটি ট্যুইট ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নবনিযুক্ত উপাচার্য বলেছেন, ‘একজন স্পাই জার্নালিস্ট ১০০ জন লোকাল পুলিশ বা আধাসামরিক বাহিনীর থেকে বেশি ভয়ঙ্কর। তাই স্পাই জার্নালিস্টদের মেরে ফেলা উচিত।’ এর পরপরই বর্তমানে নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে সেই ট্যুইটটা ডিলিট করেছেন ঘইরাত। চেয়ারে বসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষানীতিও পালটে ফেলার

ইঙ্গিত দিয়েছেন ঘইরাত।

বলেছেন, বিজ্ঞানের পরিবর্তে ইসলাম ধর্ম ও সংস্কৃতিবিষয়ক পড়াশোনার ওপরই জোর

দেওয়া হবে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নারীদের কথা শোনা ছাড়া তালেবানের উপায় নেই : আফগানিস্তানের প্রথিতযশা মানবাধিকার কর্মী মাহবুবা সিরাজ (৭৩) বলেছেন, তালেবানদের অর্থনৈতিক পতন এবং কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বাঁচতে চাইলে আফগান নারীদের দাবির কাছে মাথা নত করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। তিনি বলেন, তালেবান ক্রমবর্ধমানভাবে নারীদের স্বাধীনতা হরণ করেছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেয়েদের বাদ দিয়ে স্কুল খুলেছে। কর্মজীবী মহিলাদের বাড়িতে থাকতে বলছে এবং তারা একটি সর্বপুরুষ সরকার উšে§াচন করেছে। এ কারণেই তালেবানের প্রতি আফগানিস্তানের মহিলাদের আস্থা নেই। মাহবুবা বলেন, ‘আমি আশাবাদী, তালেবান ক্ষমতায় থাকতে চাইবে এবং সবকিছু সমন্বয় করতে তারা বাধ্য হবে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন