একসময় সর্দির মতো হয়ে যাবে করোনা
jugantor
একসময় সর্দির মতো হয়ে যাবে করোনা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রমেই মারণক্ষমতা হারাবে করোনা। বিয়োজিত হয়ে আর মারাত্মক প্রজাতিতে পরিণত হবে না। বরং সাধারণ সর্দিকাশি যেমন ভোগায়, সে রকমই ভোগাবে। এমনটাই মনে করছেন অধ্যাপক ডেম সারাহ গিলবার্ট। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে দল কোভিড টিকা আবিষ্কার করেছে, ডেম তার নেতৃত্বে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ‘রয়্যাল সোসাইটি অফ মেডিসিন’-এর আলোচনা সভায় তাদের গবেষণার কথা জানিয়েছেন ডেম। ডেইলি মেলে তার সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। সেখানেই জানিয়েছেন, ভাইরাস যতই ছড়াবে, ততই দুর্বল হবে। তীব্রতা কমবে। সংক্রমণ ক্ষমতা কমবে। এটা ভাবার কোনো কারণই নেই, যে সার্স বা করোনার মতো আরও মারণাত্মক প্রজাতি আসবে। ডেম এও বললেন, যে নতুন কোথাও যাওয়ার আর তেমন জায়গাও নেই ভাইরাসের। ডেম বলেছেন, ‘জিনের পরিব্যক্তির কারণে ভবিষ্যতে আরও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় নেই। আমরা ইতোমধ্যেই চার ধরনের মানব করোনাভাইরাসের সঙ্গে বাস করছি। সেসব নিয়ে আমরা খুব একটা ভাবিও না। করোনাও একসময় মামুলি ভাইরাসে পরিণত হবে।’ ডেমের কথায়, ‘প্রশ্ন হলো, ওই পর্যায়ে যেতে সময় নেবে? আর তত দিন আমরা কিভাবে মোকাবিলা করব এই ভাইরাসের?’ এখন অক্সফোর্ডের গবেষক দল কী করছে? ডেম জানালেন, এই মহামারি শুরুর আগে টিকা নিয়েই কাজ করছিল তাদের দল। অতীতে এসেছে বা ভবিষ্যতে ফিরে আসতে পারে, এমন মহামারির বিরুদ্ধে টিকা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিলেন। এখন সেই কাজেই ফের মনোযোগ দিয়েছেন। যদিও অর্থের অভাবে ধীরগতিতে হচ্ছে সেই কাজ। আগের দিন সুইজারল্যান্ডের একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফানস ব্যানসেল আগামী বছরের মধ্যেই করোনা মহামারির সমাপ্তির আশা করছেন। যুক্তি হিসাবে টিকার উৎপাদন বৃদ্ধি ও সরবরাহ বাড়ার কথা বলেছেন তিনি।

অ্যান্টিবডি চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) শুক্রবার কোভিড-১৯ চিকিৎসায় মার্কিন বায়োটেক কোম্পানি রেজিনারনের সিন্থেটিক অ্যান্টিবডি চিকিৎসার অনুমোদন দিয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য প্রোফাইলযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা দেওয়া যাবে। ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নাল বিএমজে-তে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি উচ্চঝুঁকিতে থাকা রোগী, যাদের পর্যাপ্ত ইমিউন ক্ষমতা নেই তারা এই অ্যান্টিবডি গ্রহণ করতে পারবেন। ডব্লিউএইচও সুপারিশ করা রেজিনারনের এই অ্যান্টিবডি কোভিড-১৯ এর তৃতীয় পর্যায়ের চিকিৎসা, যা কোভিডের ওষুধ হিসাবে ‘লিভিং ডব্লিউএইচও গাইডলাইন’ এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গত জুলাই মাসে ডব্লিউএইচও কোভিড ভাইরাসের কারণে ইমিউন সিস্টেমের ওপর বিপজ্জনক প্রভাব ঠেকাতে এ ধরনের ওষুধের ব্যাপারে সম্মতি জানায়। এই ওষুধগুলো কর্টিকোস্টারয়েডের (স্টিরয়েড হরমোন গ্র“প) সাথে মিশে কোভিডের বিরুদ্ধে ভালো কাজ করে, যা ২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগীদের ব্যবহারের জন্য প্রথম সুপারিশ করেছিল।

একসময় সর্দির মতো হয়ে যাবে করোনা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রমেই মারণক্ষমতা হারাবে করোনা। বিয়োজিত হয়ে আর মারাত্মক প্রজাতিতে পরিণত হবে না। বরং সাধারণ সর্দিকাশি যেমন ভোগায়, সে রকমই ভোগাবে। এমনটাই মনে করছেন অধ্যাপক ডেম সারাহ গিলবার্ট। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে দল কোভিড টিকা আবিষ্কার করেছে, ডেম তার নেতৃত্বে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ‘রয়্যাল সোসাইটি অফ মেডিসিন’-এর আলোচনা সভায় তাদের গবেষণার কথা জানিয়েছেন ডেম। ডেইলি মেলে তার সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। সেখানেই জানিয়েছেন, ভাইরাস যতই ছড়াবে, ততই দুর্বল হবে। তীব্রতা কমবে। সংক্রমণ ক্ষমতা কমবে। এটা ভাবার কোনো কারণই নেই, যে সার্স বা করোনার মতো আরও মারণাত্মক প্রজাতি আসবে। ডেম এও বললেন, যে নতুন কোথাও যাওয়ার আর তেমন জায়গাও নেই ভাইরাসের। ডেম বলেছেন, ‘জিনের পরিব্যক্তির কারণে ভবিষ্যতে আরও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় নেই। আমরা ইতোমধ্যেই চার ধরনের মানব করোনাভাইরাসের সঙ্গে বাস করছি। সেসব নিয়ে আমরা খুব একটা ভাবিও না। করোনাও একসময় মামুলি ভাইরাসে পরিণত হবে।’ ডেমের কথায়, ‘প্রশ্ন হলো, ওই পর্যায়ে যেতে সময় নেবে? আর তত দিন আমরা কিভাবে মোকাবিলা করব এই ভাইরাসের?’ এখন অক্সফোর্ডের গবেষক দল কী করছে? ডেম জানালেন, এই মহামারি শুরুর আগে টিকা নিয়েই কাজ করছিল তাদের দল। অতীতে এসেছে বা ভবিষ্যতে ফিরে আসতে পারে, এমন মহামারির বিরুদ্ধে টিকা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিলেন। এখন সেই কাজেই ফের মনোযোগ দিয়েছেন। যদিও অর্থের অভাবে ধীরগতিতে হচ্ছে সেই কাজ। আগের দিন সুইজারল্যান্ডের একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফানস ব্যানসেল আগামী বছরের মধ্যেই করোনা মহামারির সমাপ্তির আশা করছেন। যুক্তি হিসাবে টিকার উৎপাদন বৃদ্ধি ও সরবরাহ বাড়ার কথা বলেছেন তিনি।

অ্যান্টিবডি চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) শুক্রবার কোভিড-১৯ চিকিৎসায় মার্কিন বায়োটেক কোম্পানি রেজিনারনের সিন্থেটিক অ্যান্টিবডি চিকিৎসার অনুমোদন দিয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য প্রোফাইলযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা দেওয়া যাবে। ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নাল বিএমজে-তে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি উচ্চঝুঁকিতে থাকা রোগী, যাদের পর্যাপ্ত ইমিউন ক্ষমতা নেই তারা এই অ্যান্টিবডি গ্রহণ করতে পারবেন। ডব্লিউএইচও সুপারিশ করা রেজিনারনের এই অ্যান্টিবডি কোভিড-১৯ এর তৃতীয় পর্যায়ের চিকিৎসা, যা কোভিডের ওষুধ হিসাবে ‘লিভিং ডব্লিউএইচও গাইডলাইন’ এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গত জুলাই মাসে ডব্লিউএইচও কোভিড ভাইরাসের কারণে ইমিউন সিস্টেমের ওপর বিপজ্জনক প্রভাব ঠেকাতে এ ধরনের ওষুধের ব্যাপারে সম্মতি জানায়। এই ওষুধগুলো কর্টিকোস্টারয়েডের (স্টিরয়েড হরমোন গ্র“প) সাথে মিশে কোভিডের বিরুদ্ধে ভালো কাজ করে, যা ২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগীদের ব্যবহারের জন্য প্রথম সুপারিশ করেছিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন