জলবায়ু ধর্মঘটে উত্তাল বিশ্ব
jugantor
জলবায়ু ধর্মঘটে উত্তাল বিশ্ব

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু ধর্মঘটে উত্তাল বিশ্ব

মহামারি শুরুর পর এই প্রথম বিশ্বব্যাপী এক ধর্মঘট দেখল বিশ্ববাসী। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ধর্মঘটে উত্তাল হয়েছে সারাবিশ্ব। শুক্রবার প্রায় ৯৯ দেশের লাখ লাখ মানুষ একযোগে পালন করেছে ‘ফ্রাইডে ফর ফিউচার’ শিরোনামের এ কর্মসূচি। এ সময় পরিবেশ বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ অধিকারকর্মীরা। যুক্তরাজ্যের গ্ল্যাসগোতে জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কোপ-২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে বিশ্বব্যাপী এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। গার্ডিয়ান।

কর্মসূচির বৈশ্বিক আয়োজকরা জানান, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকায় বড় বড় ইভেন্টসহ বিশ্বের ১ হাজার ৮শটির বেশি শহর ও উপশহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ বিক্ষোভ। জার্মানির সাধারণ নির্বাচনের দুই দিন আগে ১০ লাখের বেশি মানুষের উদ্দেশে সুইডিশ জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলই পর্যাপ্ত কাজ করছে না। জার্মানির জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের ওপর আপনাদের চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা শুধু ভোটই দবেন না-সেই সঙ্গে আপনাদের কণ্ঠস্বরও তাদের কাছে পৌঁছাবেন। মেক্সিকো সিটির ন্যাশনাল প্যালেসের সামনে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেমেক্সের ওপর ডিকার্বোনাইজ পরিকল্পনা উপস্থাপনের দাবি জানান। বাংলাদেশের জলবায়ু কর্মীরা নতুন কয়লা ও গ্যাস-বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল করার দাবি জানান। দক্ষিণ আফ্রিকার ১২টি শহরে বিক্ষোভকারীরা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার দাবিতে তিন দিনের ধর্মঘটে যোগ দেন। লন্ডনের বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জড়ো হয়ে ব্রিটিশ সরকারকে জলবায়ুর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায়ও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। এই বছরের শুরুর দিকে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল বলেছিল, বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ ২০৩০ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে, যেন বৈশ্বিক উত্তাপকে প্রাক-শিল্পের মাত্রার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যায়। এই সীমা বজায় রাখার বিষয়ে দেশগুলো ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। ১৯৬টি দেশের প্রতিনিধিদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ওই চুক্তি। ১৭৪টি দেশ নিউইয়র্কে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের মধ্যে নৃতাত্ত্বিকভাবে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

জলবায়ু ধর্মঘটে উত্তাল বিশ্ব

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
জলবায়ু ধর্মঘটে উত্তাল বিশ্ব
ছবি: সংগৃহীত

মহামারি শুরুর পর এই প্রথম বিশ্বব্যাপী এক ধর্মঘট দেখল বিশ্ববাসী। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ধর্মঘটে উত্তাল হয়েছে সারাবিশ্ব। শুক্রবার প্রায় ৯৯ দেশের লাখ লাখ মানুষ একযোগে পালন করেছে ‘ফ্রাইডে ফর ফিউচার’ শিরোনামের এ কর্মসূচি। এ সময় পরিবেশ বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ অধিকারকর্মীরা। যুক্তরাজ্যের গ্ল্যাসগোতে জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কোপ-২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে বিশ্বব্যাপী এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। গার্ডিয়ান।

কর্মসূচির বৈশ্বিক আয়োজকরা জানান, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকায় বড় বড় ইভেন্টসহ বিশ্বের ১ হাজার ৮শটির বেশি শহর ও উপশহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ বিক্ষোভ। জার্মানির সাধারণ নির্বাচনের দুই দিন আগে ১০ লাখের বেশি মানুষের উদ্দেশে সুইডিশ জলবায়ু অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলই পর্যাপ্ত কাজ করছে না। জার্মানির জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের ওপর আপনাদের চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা শুধু ভোটই দবেন না-সেই সঙ্গে আপনাদের কণ্ঠস্বরও তাদের কাছে পৌঁছাবেন। মেক্সিকো সিটির ন্যাশনাল প্যালেসের সামনে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেমেক্সের ওপর ডিকার্বোনাইজ পরিকল্পনা উপস্থাপনের দাবি জানান। বাংলাদেশের জলবায়ু কর্মীরা নতুন কয়লা ও গ্যাস-বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল করার দাবি জানান। দক্ষিণ আফ্রিকার ১২টি শহরে বিক্ষোভকারীরা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার দাবিতে তিন দিনের ধর্মঘটে যোগ দেন। লন্ডনের বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জড়ো হয়ে ব্রিটিশ সরকারকে জলবায়ুর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায়ও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। এই বছরের শুরুর দিকে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল বলেছিল, বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ ২০৩০ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে, যেন বৈশ্বিক উত্তাপকে প্রাক-শিল্পের মাত্রার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যায়। এই সীমা বজায় রাখার বিষয়ে দেশগুলো ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। ১৯৬টি দেশের প্রতিনিধিদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ওই চুক্তি। ১৭৪টি দেশ নিউইয়র্কে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের মধ্যে নৃতাত্ত্বিকভাবে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন