আফগানিস্তানে পথে বসছে নাপিত সেলুন ব্যবসায়ীরা
jugantor
আফগানিস্তানে পথে বসছে নাপিত সেলুন ব্যবসায়ীরা
চুলের ফ্যাশন, দাড়ি কামানোয় নিষেধাজ্ঞা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ব্যবসায় লালবাতি জ্বলতে শুরু করেছিল আফগানিস্তানের নরসুন্দর ও সেলুন মালিকদের। রীতিমতো পথে বসতে যাচ্ছেন দেশটির নরসুন্দর ও সেলুন মালিক ব্যবসায়ীরা। রোববার হেলমান্দ প্রদেশের সব সেলুনে দাড়ি কামানো ও ছাঁটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তালেবান। শরিয়া শাসনের অংশ হিসাবে এ নিয়ম জারি করে তালেবান। বলেছে, এই আদেশ কেউ না মানলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। সেলুনে সলুনে ফোন করে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে চুলের ফ্যাশন কাটিংয়েও। আমেরিকান কাটিং একেবারে নিষিদ্ধ। অথচ কুইফস, মোহাওকস, কুরু কাটেও পকেট ভরত নাপিতদের। রাজধানী কাবুলের কয়েকজন নাপিত জানিয়েছেন, তারাও একই ধরনের নির্দেশ পেয়েছেন। বিবিসি, এএফপি।

১৫ আগস্ট কাবুল দখলের পর দিন থেকেই রাজধানী শহরগুলোর সব সেলুনই ফাঁকা হয়ে পড়ে। দু-একজন যারা আসছিলেন, সবাই হঠাৎ করেই ‘নরমাল কাট’! হেরাতের ২৪ বছর বয়সি নরসুন্দর নাদের শাহ বলেন, ‘ আগে সেলুনে ঢুকেই কাস্টমাররা পশ্চিমা ফ্যাশন খুঁজত। ক্লিন শেভ করত। আর এখন ভয় পায়। কোনো রকম চুলটা ছোট করেই চলে যায়। কম হলেও প্রতিদিন ১৫ ডলার আয় হতো। তালেবান আসার পর থেকে নামতে নামতে এখন ৫ ডলারে এসে ঠেকেছ। খদ্দেরের অভাবে চুল কাটার দাম কমিয়েছেন প্রতিবেশী সেলুন মালিক মোহাম্মদ ইউসুফি। বলেন, আগে আমরা চুল কাটতাম ৬ ডলারে। এখন কাটি ১ ডলারে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন ফতোয়া দিল তালেবান। হেলমান্দে এদিন একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে তালেবান। সেখানে লেখা হয়েছে-এ নিয়ম নিয়ে ‘কারো অভিযোগ করার অধিকার নেই’। এ প্রসঙ্গে কাবুলের একজন নাপিত বলেন, ‘তালেবান যোদ্ধারা এসে দাড়ি ছাঁটা বন্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তাদের একজন আমাকে বলেছেন, আমাদের ধরতে তারা গোপনে লোক পাঠাতে পারে। রাজধানীর অন্যতম বড় একটি সেলুনের ক্ষৌরকার জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ফোন কল পেয়েছেন। তারা ‘আমেরিকান স্টাইল’ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। আরেকজন বলেন, আমি ১৫ বছর ধরে এই পেশায় আছি, আমার মনে হয় না আমি এটা চালিয়ে যেতে পারব। পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরের একজন ক্ষৌরকার জানালেন, ‘খদ্দেররা এখন আর দাড়ি কামাতে চায় না। কারণ রাস্তায় তারা তালেবান যোদ্ধাদের নজরে পড়তে চায় না।’ চুল-দাড়ি ছাঁটার মজুরি কমিয়ে দেওয়ার পরও ব্যবসায় খরা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ আর এখন স্টাইল কিংবা চুলের ফ্যাশন নিয়ে মাথা ঘামায় না।’ তালেবান শাসনের প্রথম আমলেও (১৯৯৬- ২০০১) এই আইন জারি করেছিল গোষ্ঠীটি। পরবর্তী সময়ে মার্কিন অভিযানে ২০০১ সালে তালেবানের পতনের পর দাড়ি-গোঁফ কামানোর বিষয়টি ফের জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

আফগানিস্তানে পথে বসছে নাপিত সেলুন ব্যবসায়ীরা

চুলের ফ্যাশন, দাড়ি কামানোয় নিষেধাজ্ঞা
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ব্যবসায় লালবাতি জ্বলতে শুরু করেছিল আফগানিস্তানের নরসুন্দর ও সেলুন মালিকদের। রীতিমতো পথে বসতে যাচ্ছেন দেশটির নরসুন্দর ও সেলুন মালিক ব্যবসায়ীরা। রোববার হেলমান্দ প্রদেশের সব সেলুনে দাড়ি কামানো ও ছাঁটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তালেবান। শরিয়া শাসনের অংশ হিসাবে এ নিয়ম জারি করে তালেবান। বলেছে, এই আদেশ কেউ না মানলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। সেলুনে সলুনে ফোন করে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে চুলের ফ্যাশন কাটিংয়েও। আমেরিকান কাটিং একেবারে নিষিদ্ধ। অথচ কুইফস, মোহাওকস, কুরু কাটেও পকেট ভরত নাপিতদের। রাজধানী কাবুলের কয়েকজন নাপিত জানিয়েছেন, তারাও একই ধরনের নির্দেশ পেয়েছেন। বিবিসি, এএফপি।

১৫ আগস্ট কাবুল দখলের পর দিন থেকেই রাজধানী শহরগুলোর সব সেলুনই ফাঁকা হয়ে পড়ে। দু-একজন যারা আসছিলেন, সবাই হঠাৎ করেই ‘নরমাল কাট’! হেরাতের ২৪ বছর বয়সি নরসুন্দর নাদের শাহ বলেন, ‘ আগে সেলুনে ঢুকেই কাস্টমাররা পশ্চিমা ফ্যাশন খুঁজত। ক্লিন শেভ করত। আর এখন ভয় পায়। কোনো রকম চুলটা ছোট করেই চলে যায়। কম হলেও প্রতিদিন ১৫ ডলার আয় হতো। তালেবান আসার পর থেকে নামতে নামতে এখন ৫ ডলারে এসে ঠেকেছ। খদ্দেরের অভাবে চুল কাটার দাম কমিয়েছেন প্রতিবেশী সেলুন মালিক মোহাম্মদ ইউসুফি। বলেন, আগে আমরা চুল কাটতাম ৬ ডলারে। এখন কাটি ১ ডলারে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন ফতোয়া দিল তালেবান। হেলমান্দে এদিন একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে তালেবান। সেখানে লেখা হয়েছে-এ নিয়ম নিয়ে ‘কারো অভিযোগ করার অধিকার নেই’। এ প্রসঙ্গে কাবুলের একজন নাপিত বলেন, ‘তালেবান যোদ্ধারা এসে দাড়ি ছাঁটা বন্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তাদের একজন আমাকে বলেছেন, আমাদের ধরতে তারা গোপনে লোক পাঠাতে পারে। রাজধানীর অন্যতম বড় একটি সেলুনের ক্ষৌরকার জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ফোন কল পেয়েছেন। তারা ‘আমেরিকান স্টাইল’ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। আরেকজন বলেন, আমি ১৫ বছর ধরে এই পেশায় আছি, আমার মনে হয় না আমি এটা চালিয়ে যেতে পারব। পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরের একজন ক্ষৌরকার জানালেন, ‘খদ্দেররা এখন আর দাড়ি কামাতে চায় না। কারণ রাস্তায় তারা তালেবান যোদ্ধাদের নজরে পড়তে চায় না।’ চুল-দাড়ি ছাঁটার মজুরি কমিয়ে দেওয়ার পরও ব্যবসায় খরা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ আর এখন স্টাইল কিংবা চুলের ফ্যাশন নিয়ে মাথা ঘামায় না।’ তালেবান শাসনের প্রথম আমলেও (১৯৯৬- ২০০১) এই আইন জারি করেছিল গোষ্ঠীটি। পরবর্তী সময়ে মার্কিন অভিযানে ২০০১ সালে তালেবানের পতনের পর দাড়ি-গোঁফ কামানোর বিষয়টি ফের জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন