বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছে না নারীরা
jugantor
কাবুলে বিএ পাশ তালেবান উপাচার্যের নতুন ডিক্রি
বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছে না নারীরা
তালেবানের ভয়ে ফেসবুক টুইটারের পোস্ট অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলছে আফগানরা * বাবার ‘অপারাধে’ শিশুকে হত্যা করল তালেবান

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা-শিক্ষকতা কিংবা কাজ-আপাতত কোনো ইস্যুতেই কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছে না নারীরা। তালেবান নিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য আশরাফ ঘইরত (বিএ) সোমবার এক টুইটে এই নির্দেশ জারি করেছেন। বলেন, যতক্ষণ সবার জন্য প্রকৃত ইসলামিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না ততক্ষণ নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে কিংবা কাজ করতে পারবেন না। সবকিছুর আগে ইসলাম। সিএনএন।

এর আগে পশতু ভাষায় এক টুইট বার্তায় ঘইরত জানান, নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। তবে এই পরিকল্পনা কখন বাস্তবায়ন হবে তা জানাননি তিনি। টুইটার বার্তায় তিনি লেখেন, নারী শিক্ষকের অভাবে আমরা পর্দার আড়াল থেকে পুরুষ শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। এভাবেই ইসলামিক পরিবেশ নিশ্চিত করে নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই নারীদের বাইরে বের হওয়া থেকে শুরু করে শিক্ষা-চাকরি-ব্যাবসা সব কিছুতেই নিষেধাজ্ঞা দেয় তালেবান। প্রতিবাদে কাবুলে বিক্ষোভে নামলে নারীদের চাবুক ও লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

এদিকে আফগানিস্তানে আরও একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটালো তালেবান। বাবা তালেবানবিরোধী আফগান প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্য -এই সন্দেহে শিশুসন্তানকে হত্যা করল তালেবান। মঙ্গলবার আফগানিস্তানের স্থানীয় দৈনিক পঞ্জশির অবজারভারের বরাতে বিশ্ব গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে এ খবর। তালেবানের অভিযোগ, পঞ্জশিরের তালেবানবিরোধী নেতা আহমেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্সফোর্সের (এনআরএফ) সদস্য ছিল। পঞ্জশির অবজারভার এক টুইটে বলেছে, ‘তখর প্রদেশে এক বাবাকে প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্য হিসাবে সন্দেহ করার পর তার শিশুসন্তানকে হত্যা করেছেন তালেবান যোদ্ধারা।’ গত সপ্তাহের শুরুতেই (শনিবার) আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায় তালেবান। হেরাতে তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার অপহরণকারী নিহত হয়। তারপর তাদের লাশ ক্রেনে ঝুলিয়ে শহরের মোড়ে মোড়ে ঘোরায়। আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের দ্বিতীয় আমলে সেটাই ছিল প্রথম বর্বর শাস্তির ঘটনা। দুই দশক আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছে তালেবান। সে সময় আরও ভয়ঙ্কর শাসন-হত্যাকাণ্ডের বর্বর রেকর্ড সৃষ্টি করে তালেবান। তবে এবার কাবুল দখল করেই অতীতের মতো কট্টরপন্থায় দেশ চালাবে না বলে ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি। কিন্তু গত এক মাসের কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সে কথার কোনো মিল পাচ্ছে না বিশ্ব।

আফগানিস্তানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা এখন আতঙ্কে। ফেসবুক-টুইটারে এতদিন ধরে তালেবানবিরোধী যেসব মন্তব্য, ভিডিও ছবি পোস্ট করেছে সব এখন খুঁজে খুঁজে মুছে ফেলছেন। অনেকে আবার পুরো অ্যাকাউন্টই গায়েব করে দিচ্ছে, বন্ধ করে দিয়েছে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া। ১৫ আগস্ট তালেবানের কাবুল দখলের পর থেকেই নিজেদের বাঁচাতে এ পথ বেছে নিয়েছে আফগানরা। বিবিসি।

তাদেরই একজন সাদিকা মাদাদগার। তালেবান আসার আগে তার অ্যাকাউন্টটি ছিল অন্য ১০ জন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের অ্যাকাউন্টের মতো। তালেবানের হাতে ক্ষমতা আসার কারণে সাদিকার মতো অন্যরাও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই পালিয়েছে বা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছে। সাদিকা দেশটির জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘আফগান স্টার’-এ অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তা পায়। তার অসাধারণ কণ্ঠ ও গায়কীর সঙ্গে ‘পাশের বাড়ির মেয়ের’ ইমেজ খুব দ্রুত তাকে ভক্তদের কাছে পৌঁছে দেয়। ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসাবে মাথা সবসময় ঢেকে রাখা সাদিকার দিন কাটত ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে নিজের ভিডিও আপলোড করে। ইউটিউবে তার সাবস্ক্রাইবার ছিল ২১ হাজারের বেশি। আর এক লাখ ৮২ হাজার ফলোয়ার ছিল ইনস্টাগ্রামে। নিজের গানের পাশাপাশি দিনের নানা মুহূর্তের ভিডিও করে আপলোড করত সাদিকা। কোনোটিতে থাকত তার তরমুজ কাটার দৃশ্য, কোনোটিতে আবার বন্ধুদের সঙ্গে কান্দাহারে বেড়াতে গিয়ে পিৎজা খাওয়ার ঘটনা।

কাবুলে বিএ পাশ তালেবান উপাচার্যের নতুন ডিক্রি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছে না নারীরা

তালেবানের ভয়ে ফেসবুক টুইটারের পোস্ট অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলছে আফগানরা * বাবার ‘অপারাধে’ শিশুকে হত্যা করল তালেবান
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা-শিক্ষকতা কিংবা কাজ-আপাতত কোনো ইস্যুতেই কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছে না নারীরা। তালেবান নিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য আশরাফ ঘইরত (বিএ) সোমবার এক টুইটে এই নির্দেশ জারি করেছেন। বলেন, যতক্ষণ সবার জন্য প্রকৃত ইসলামিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না ততক্ষণ নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে কিংবা কাজ করতে পারবেন না। সবকিছুর আগে ইসলাম। সিএনএন।

এর আগে পশতু ভাষায় এক টুইট বার্তায় ঘইরত জানান, নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। তবে এই পরিকল্পনা কখন বাস্তবায়ন হবে তা জানাননি তিনি। টুইটার বার্তায় তিনি লেখেন, নারী শিক্ষকের অভাবে আমরা পর্দার আড়াল থেকে পুরুষ শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। এভাবেই ইসলামিক পরিবেশ নিশ্চিত করে নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই নারীদের বাইরে বের হওয়া থেকে শুরু করে শিক্ষা-চাকরি-ব্যাবসা সব কিছুতেই নিষেধাজ্ঞা দেয় তালেবান। প্রতিবাদে কাবুলে বিক্ষোভে নামলে নারীদের চাবুক ও লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

এদিকে আফগানিস্তানে আরও একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটালো তালেবান। বাবা তালেবানবিরোধী আফগান প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্য -এই সন্দেহে শিশুসন্তানকে হত্যা করল তালেবান। মঙ্গলবার আফগানিস্তানের স্থানীয় দৈনিক পঞ্জশির অবজারভারের বরাতে বিশ্ব গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে এ খবর। তালেবানের অভিযোগ, পঞ্জশিরের তালেবানবিরোধী নেতা আহমেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্সফোর্সের (এনআরএফ) সদস্য ছিল। পঞ্জশির অবজারভার এক টুইটে বলেছে, ‘তখর প্রদেশে এক বাবাকে প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্য হিসাবে সন্দেহ করার পর তার শিশুসন্তানকে হত্যা করেছেন তালেবান যোদ্ধারা।’ গত সপ্তাহের শুরুতেই (শনিবার) আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায় তালেবান। হেরাতে তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার অপহরণকারী নিহত হয়। তারপর তাদের লাশ ক্রেনে ঝুলিয়ে শহরের মোড়ে মোড়ে ঘোরায়। আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের দ্বিতীয় আমলে সেটাই ছিল প্রথম বর্বর শাস্তির ঘটনা। দুই দশক আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছে তালেবান। সে সময় আরও ভয়ঙ্কর শাসন-হত্যাকাণ্ডের বর্বর রেকর্ড সৃষ্টি করে তালেবান। তবে এবার কাবুল দখল করেই অতীতের মতো কট্টরপন্থায় দেশ চালাবে না বলে ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি। কিন্তু গত এক মাসের কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সে কথার কোনো মিল পাচ্ছে না বিশ্ব।

আফগানিস্তানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা এখন আতঙ্কে। ফেসবুক-টুইটারে এতদিন ধরে তালেবানবিরোধী যেসব মন্তব্য, ভিডিও ছবি পোস্ট করেছে সব এখন খুঁজে খুঁজে মুছে ফেলছেন। অনেকে আবার পুরো অ্যাকাউন্টই গায়েব করে দিচ্ছে, বন্ধ করে দিয়েছে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া। ১৫ আগস্ট তালেবানের কাবুল দখলের পর থেকেই নিজেদের বাঁচাতে এ পথ বেছে নিয়েছে আফগানরা। বিবিসি।

তাদেরই একজন সাদিকা মাদাদগার। তালেবান আসার আগে তার অ্যাকাউন্টটি ছিল অন্য ১০ জন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের অ্যাকাউন্টের মতো। তালেবানের হাতে ক্ষমতা আসার কারণে সাদিকার মতো অন্যরাও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই পালিয়েছে বা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছে। সাদিকা দেশটির জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘আফগান স্টার’-এ অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তা পায়। তার অসাধারণ কণ্ঠ ও গায়কীর সঙ্গে ‘পাশের বাড়ির মেয়ের’ ইমেজ খুব দ্রুত তাকে ভক্তদের কাছে পৌঁছে দেয়। ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসাবে মাথা সবসময় ঢেকে রাখা সাদিকার দিন কাটত ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে নিজের ভিডিও আপলোড করে। ইউটিউবে তার সাবস্ক্রাইবার ছিল ২১ হাজারের বেশি। আর এক লাখ ৮২ হাজার ফলোয়ার ছিল ইনস্টাগ্রামে। নিজের গানের পাশাপাশি দিনের নানা মুহূর্তের ভিডিও করে আপলোড করত সাদিকা। কোনোটিতে থাকত তার তরমুজ কাটার দৃশ্য, কোনোটিতে আবার বন্ধুদের সঙ্গে কান্দাহারে বেড়াতে গিয়ে পিৎজা খাওয়ার ঘটনা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : আফগানিস্তানে তালেবানের পুনরুত্থান