ছোট দলের হাতে বড় দলের ভাগ্য
jugantor
জার্মানির সরকার গঠন
ছোট দলের হাতে বড় দলের ভাগ্য

  জামির হোসেন  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় অবধারিতভাবেই জোট সরকারের দিকে এগোচ্ছে জার্মানি। যেনতেন জোট নয়-মহাজোট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম ৩/৪ দলীয় জোটের সরকার হচ্ছে দেশটিতে। আর এই সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর হাতে নির্ভর করছে বড় দলগুলোর ভাগ্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, জার্মানির পরবর্তী সরকার কারা চালাতে যাচ্ছে আর কেই বা চ্যান্সেলর হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করবে এই ছোট ও নবীন দলগুলো। এর অর্থ দাঁড়ায়, সরকার গঠন করতে ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি, সিডিইউ/সিএসইউ (ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন) কিংবা সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এসপিডি) গ্রিন পার্টি, ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টি (এফডিপি) ও অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) মতো ছোট দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে।

এদিকে পরাজয়ের পর দলের সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সিডিইউ নেতা আরমিন লাশেট। নির্বাচনের একদিন পর সোমবার বার্লিনে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভোটের ফলাফলে মোটেও খুশি হতে পারেননি তিনি। রোববারের নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে জয় পেয়েছে ওলাফ শলৎজের নেতৃত্বাধীন প্রধান বর্তমান বিরোধী দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। তারা পেয়েছে ২৫.৮ শতাংশ ভোট, আসন ২০৬টি। পরাজয় হয়েছে বিদায়ি চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের উত্তরসূরি আরমিন লাশেটের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন অব জার্মানি তথা সিডিইউ/সিএসইউর। দলটি পেয়েছে ২৪.১ শতাংশ ভোট আর আসন ১৯৬টি। আনালেনা বেয়ারবকের গ্রিন পার্টি বা সবুজ দল ১৪ শতাংশ ভোট ও ১১৮টি আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে আছে, যা দলটির ইতিহাসে এযাবৎকালের রেকর্ড। মুক্ত গণতন্ত্রী এফডিপি পেয়েছে ১১.৫ শতাংশ ভোট, আর আসন ৯২টি। কট্টর ডানপন্থি এএফডি পেয়েছে ১০.৩ শতাংশ ভোট, আসন ৮৩টি। এছাড়া ৪.৯ শতাংশ ভোট ও ৩৯টি আসন জিতেছে ডাই লিঙ্কে।

সব মিলিয়ে এবারের বুন্দেসট্যাগের সদস্য বা আসন দাঁড়াচ্ছে ৭৩৫টি। এর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অর্জন তথা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৩৬৮টি আসন। জার্মানিতে জোট সরকার গঠন বর্তমানে একটি ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সরকার গঠনের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট কোনো দলই পায় না। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠ পায়নি। না পাওয়ায় সরকার গঠন করতে অবশ্যই জোট গড়তে হবে। সেক্ষেত্রে সরকার গঠনে ইচ্ছুক দলকে অন্য এক বা একাধিক দলের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে কোন কোন দল মিলে জোট সরকার গঠন করবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ইতোমধ্যে সরকার গড়বে বলে জানিয়ে দিয়েছে শলৎজের দল এসপিডি। অন্যদিকে এসপিডির থেকে কম ভোট পেলেও সরকার গঠনের চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন সিডিইউ/সিএসইউও।

সিডিইউ/সিএসইউ ও এসপিডির আগেও জোট করে সরকার চালিয়েছে। চাইলে এবারও তারা একসঙ্গে সরকার গঠন করতে পারে। কিন্তু আর একসঙ্গে সরকার গঠন করবে না বলে জানিয়েছে তারা। ফলে জোটের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দল বা ‘কিংমেকার’ হিসাবে হাজির হয়েছে গ্রিন ও এফডিপির মতো দলগুলো। সরকার গঠনে চাবি তাদের হাতেই। যেমনটা বলছেন জার্মান মার্শাল ফান্ডের গবেষক সুধা ডেভিড উইল্প। ছোট দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ছোট দলগুলোই জার্মান রাজনীতির চালকের আসনে রয়েছে।’ তবে বড় দলগুলো ছোট দলগুলোকে এক ছাদের নিচে আনতে পারবে কি না, কিংবা ছোট দলগুলো নীতিগত কারণে বড় কোনো দলের সঙ্গে একমত হতে পারবে কি না, সে ব্যাপারে প্রশ্ন রয়েছে। ফলাফল পুরো বেরিয়ে গেলে ভোট-পরবর্তী জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। দলগুলো আলোচনায় বসবে। তারপরই বোঝা যাবে কারা সরকার গঠন করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত জোট সরকার গঠনে শলৎজের এসপিডির সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধবে গ্রিন পার্টি। এখন থেকে ১৬ বছর এই এসপিডির সঙ্গেই তাদের ওঠাবসা ছিল। নির্বাচনে জয়ের পরপর সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন শলৎজ।

জার্মানির সরকার গঠন

ছোট দলের হাতে বড় দলের ভাগ্য

 জামির হোসেন 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় অবধারিতভাবেই জোট সরকারের দিকে এগোচ্ছে জার্মানি। যেনতেন জোট নয়-মহাজোট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম ৩/৪ দলীয় জোটের সরকার হচ্ছে দেশটিতে। আর এই সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর হাতে নির্ভর করছে বড় দলগুলোর ভাগ্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, জার্মানির পরবর্তী সরকার কারা চালাতে যাচ্ছে আর কেই বা চ্যান্সেলর হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করবে এই ছোট ও নবীন দলগুলো। এর অর্থ দাঁড়ায়, সরকার গঠন করতে ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি, সিডিইউ/সিএসইউ (ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন) কিংবা সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এসপিডি) গ্রিন পার্টি, ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টি (এফডিপি) ও অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) মতো ছোট দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে।

এদিকে পরাজয়ের পর দলের সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সিডিইউ নেতা আরমিন লাশেট। নির্বাচনের একদিন পর সোমবার বার্লিনে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভোটের ফলাফলে মোটেও খুশি হতে পারেননি তিনি। রোববারের নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে জয় পেয়েছে ওলাফ শলৎজের নেতৃত্বাধীন প্রধান বর্তমান বিরোধী দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। তারা পেয়েছে ২৫.৮ শতাংশ ভোট, আসন ২০৬টি। পরাজয় হয়েছে বিদায়ি চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের উত্তরসূরি আরমিন লাশেটের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন অব জার্মানি তথা সিডিইউ/সিএসইউর। দলটি পেয়েছে ২৪.১ শতাংশ ভোট আর আসন ১৯৬টি। আনালেনা বেয়ারবকের গ্রিন পার্টি বা সবুজ দল ১৪ শতাংশ ভোট ও ১১৮টি আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে আছে, যা দলটির ইতিহাসে এযাবৎকালের রেকর্ড। মুক্ত গণতন্ত্রী এফডিপি পেয়েছে ১১.৫ শতাংশ ভোট, আর আসন ৯২টি। কট্টর ডানপন্থি এএফডি পেয়েছে ১০.৩ শতাংশ ভোট, আসন ৮৩টি। এছাড়া ৪.৯ শতাংশ ভোট ও ৩৯টি আসন জিতেছে ডাই লিঙ্কে।

সব মিলিয়ে এবারের বুন্দেসট্যাগের সদস্য বা আসন দাঁড়াচ্ছে ৭৩৫টি। এর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অর্জন তথা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৩৬৮টি আসন। জার্মানিতে জোট সরকার গঠন বর্তমানে একটি ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সরকার গঠনের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট কোনো দলই পায় না। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠ পায়নি। না পাওয়ায় সরকার গঠন করতে অবশ্যই জোট গড়তে হবে। সেক্ষেত্রে সরকার গঠনে ইচ্ছুক দলকে অন্য এক বা একাধিক দলের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে কোন কোন দল মিলে জোট সরকার গঠন করবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ইতোমধ্যে সরকার গড়বে বলে জানিয়ে দিয়েছে শলৎজের দল এসপিডি। অন্যদিকে এসপিডির থেকে কম ভোট পেলেও সরকার গঠনের চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন সিডিইউ/সিএসইউও।

সিডিইউ/সিএসইউ ও এসপিডির আগেও জোট করে সরকার চালিয়েছে। চাইলে এবারও তারা একসঙ্গে সরকার গঠন করতে পারে। কিন্তু আর একসঙ্গে সরকার গঠন করবে না বলে জানিয়েছে তারা। ফলে জোটের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দল বা ‘কিংমেকার’ হিসাবে হাজির হয়েছে গ্রিন ও এফডিপির মতো দলগুলো। সরকার গঠনে চাবি তাদের হাতেই। যেমনটা বলছেন জার্মান মার্শাল ফান্ডের গবেষক সুধা ডেভিড উইল্প। ছোট দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ছোট দলগুলোই জার্মান রাজনীতির চালকের আসনে রয়েছে।’ তবে বড় দলগুলো ছোট দলগুলোকে এক ছাদের নিচে আনতে পারবে কি না, কিংবা ছোট দলগুলো নীতিগত কারণে বড় কোনো দলের সঙ্গে একমত হতে পারবে কি না, সে ব্যাপারে প্রশ্ন রয়েছে। ফলাফল পুরো বেরিয়ে গেলে ভোট-পরবর্তী জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। দলগুলো আলোচনায় বসবে। তারপরই বোঝা যাবে কারা সরকার গঠন করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত জোট সরকার গঠনে শলৎজের এসপিডির সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধবে গ্রিন পার্টি। এখন থেকে ১৬ বছর এই এসপিডির সঙ্গেই তাদের ওঠাবসা ছিল। নির্বাচনে জয়ের পরপর সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন শলৎজ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন