নোবেলের গবেষণাগার এখন কামান-গোলার কারখানা
jugantor
নোবেলের গবেষণাগার এখন কামান-গোলার কারখানা
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ভবঘুরে ছিলেন আলফ্রেড নোবেল * ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে পুরস্কার ঘোষণা : কোভিড টিকা আবিষ্কারকদের বিবেচনার দাবি

  যুগান্তর ডেস্ক  

০২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোবেলের গবেষণাগার এখন কামান-গোলার কারখানা

আজ থেকে ১২০ বছর আগে চালু হয়েছিল নোবেল পুরস্কার। সুইডিশ আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের নামে এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয় ১৯০১ সালে। আলফ্রেড নোবেলকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ভবঘুরে। জীবনের বিভিন্ন সময়ে সুইডেন, রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ইতালিতে বসবাস করেছেন তিনি। তার পেটেন্ট রক্ষা এবং বিপজ্জনক নাইট্রোগ্লিসারিনের দূরসীমার পরিবহণ এড়াতে সেসব দেশে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

শান্তিবাদী এবং সমাজসেবী আধুনিক বিস্ফোরকের জনকও ছিলেন আলফ্রেড নোবেল। তার শেষ পরীক্ষাগারটি এখনো বিদ্যমান। এখানে সুইডেনের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন অত্যাধুনিক কামান, কামানের গোলা, গুলি এবং বিস্ফোরক তৈরি করে। সুইডিশ রাজধানী স্টকহোম এবং নরওয়ের রাজধানী অসলোর মাঝামাঝি প্রায় ৩০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকাটিতে তিন বর্গকিলোমিটার (১.১৫ বর্গমাইল) জুড়ে বিস্তৃত এই কারখানার পরিমণ্ডল। ১৮৯৮ সাল থেকে এখানে গর্বের সঙ্গে তৈরি করা হচ্ছে নোবেলক্রুট (গান পাউডার)। দিনভর চার্চবেলের মতো নিয়মিত হাউইজার টেস্ট শটের আওয়াজ বেরোচ্ছে ওখান থেকে। ১৮৬৫ সালে নোবেল বিস্ফোরক ক্যাপ আবিষ্কার করেন, উচ্চ বিস্ফোরককে আধুনিকায়ন করেন। এরপর তিনি ১৮৬৭ সালে ডিনামাইট আবিষ্কার করেন। কিন্তু নোবেল শান্তিবাদ এবং অস্ত্রশিল্পে তার স্বার্থের মধ্যে কখনোই দ্বন্দ্বকে স্থান দেননি। সাম্প্রতিক জীবনী রচয়িতা ইনগ্রিড কার্লবার্গের মতে, ‘নোবেল অস্ত্রকে প্রতিরোধকারী হিসাবে দেখেছেন, ঘাতক হিসাবে নয়।’ আগামী ৪ থেকে ১১ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে ওষুধ, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতি ক্ষেত্রে ২০২১ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম। যদিও পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকা চূড়ান্তভাবে গোপন রাখে সুইডিশ একাডেমি, তবু বিশ্বব্যাপী এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অন্ত নেই। কারা পাচ্ছেন এসব পুরস্কার-সেটা আঁচ করতে না পারলেও কেউ দাবি করেছেন কোভিড-১৯ টিকা আবিষ্কারকদের পাওয়া উচিত এ পুরস্কার, হয় ওষুধ বিভাগে, নয় রসায়নে। সুইডিশ বিজ্ঞানসাংবাদিক উলরিকা বজর্কস্টেন এএফপিকে বলেন, ‘নোবেল কমিটি এমআরএনএ ভ্যাকসিন প্রযুক্তিকে পুরস্কার না দিলে ভুল হবে।’ এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসাবে হাঙ্গেরির ক্যাটালিন কারিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রু ওয়েইজম্যানের নাম উল্লেখ করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কারের জন্য মনোয়নে ভূমিকা রাখতে পারে বিশ্ব যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবহাওয়া ও জলবায়ু সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগ, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, স্তন ক্যান্সারের জিন আবিস্কার, যুদ্ধবিরোধিতা, মানবাধিকারে অগ্রগতিমূলক পদক্ষেপ, জনকল্যাণমূলক তথ্য ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমন, কোভিড মোকাবেলায় পদক্ষেপ, শরণার্থী মোকাবেলায় পদক্ষেপ ইত্যাদি।

সাহিত্যে সম্ভাব্য বিজয়ীদের কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের সাম্প্রতিক সাহিত্যকর্মে অবদান বিবেচনায়। কয়েক বছর ধরে সাহিত্য চর্চায় কিছু নাম জড়িয়ে আছে-হাঙ্গেরির পিটার নাদাস, কানাডার মার্গারেট অ্যাটউড, সিরিয়ান কবি অ্যাডোনিস এবং সোমালির লেখক নুরুদ্দিন ফারাহ। রয়েছে নতুন কিছু নামও। এদের মধ্যে রয়েছেন-ভারতের বিক্রম শেঠ, চীনের লিয়াও ইইউ এবং মোজাম্বিক লেখক মিয়া কৌটো।

৪ অক্টোবর ওষুধ বিভাগের মাধ্যমে উদ্বোধন হচ্ছে নোবেল পুরস্কার মৌসুম। ৫ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞান, ৬ অক্টোবর রসায়ন, ৭ অক্টোবর সাহিত্য, ৮ অক্টোবর শান্তি এবং ১১ অক্টোবর অর্থনীতি পুরস্কারের মাধ্যমে শেষ হবে এ মৌসুম।

নোবেলের গবেষণাগার এখন কামান-গোলার কারখানা

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ভবঘুরে ছিলেন আলফ্রেড নোবেল * ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে পুরস্কার ঘোষণা : কোভিড টিকা আবিষ্কারকদের বিবেচনার দাবি
 যুগান্তর ডেস্ক 
০২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
নোবেলের গবেষণাগার এখন কামান-গোলার কারখানা
প্রতীকী ছবি

আজ থেকে ১২০ বছর আগে চালু হয়েছিল নোবেল পুরস্কার। সুইডিশ আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের নামে এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয় ১৯০১ সালে। আলফ্রেড নোবেলকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ভবঘুরে। জীবনের বিভিন্ন সময়ে সুইডেন, রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ইতালিতে বসবাস করেছেন তিনি। তার পেটেন্ট রক্ষা এবং বিপজ্জনক নাইট্রোগ্লিসারিনের দূরসীমার পরিবহণ এড়াতে সেসব দেশে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

শান্তিবাদী এবং সমাজসেবী আধুনিক বিস্ফোরকের জনকও ছিলেন আলফ্রেড নোবেল। তার শেষ পরীক্ষাগারটি এখনো বিদ্যমান। এখানে সুইডেনের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন অত্যাধুনিক কামান, কামানের গোলা, গুলি এবং বিস্ফোরক তৈরি করে। সুইডিশ রাজধানী স্টকহোম এবং নরওয়ের রাজধানী অসলোর মাঝামাঝি প্রায় ৩০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকাটিতে তিন বর্গকিলোমিটার (১.১৫ বর্গমাইল) জুড়ে বিস্তৃত এই কারখানার পরিমণ্ডল। ১৮৯৮ সাল থেকে এখানে গর্বের সঙ্গে তৈরি করা হচ্ছে নোবেলক্রুট (গান পাউডার)। দিনভর চার্চবেলের মতো নিয়মিত হাউইজার টেস্ট শটের আওয়াজ বেরোচ্ছে ওখান থেকে। ১৮৬৫ সালে নোবেল বিস্ফোরক ক্যাপ আবিষ্কার করেন, উচ্চ বিস্ফোরককে আধুনিকায়ন করেন। এরপর তিনি ১৮৬৭ সালে ডিনামাইট আবিষ্কার করেন। কিন্তু নোবেল শান্তিবাদ এবং অস্ত্রশিল্পে তার স্বার্থের মধ্যে কখনোই দ্বন্দ্বকে স্থান দেননি। সাম্প্রতিক জীবনী রচয়িতা ইনগ্রিড কার্লবার্গের মতে, ‘নোবেল অস্ত্রকে প্রতিরোধকারী হিসাবে দেখেছেন, ঘাতক হিসাবে নয়।’ আগামী ৪ থেকে ১১ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে ওষুধ, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতি ক্ষেত্রে ২০২১ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম। যদিও পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকা চূড়ান্তভাবে গোপন রাখে সুইডিশ একাডেমি, তবু বিশ্বব্যাপী এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অন্ত নেই। কারা পাচ্ছেন এসব পুরস্কার-সেটা আঁচ করতে না পারলেও কেউ দাবি করেছেন কোভিড-১৯ টিকা আবিষ্কারকদের পাওয়া উচিত এ পুরস্কার, হয় ওষুধ বিভাগে, নয় রসায়নে। সুইডিশ বিজ্ঞানসাংবাদিক উলরিকা বজর্কস্টেন এএফপিকে বলেন, ‘নোবেল কমিটি এমআরএনএ ভ্যাকসিন প্রযুক্তিকে পুরস্কার না দিলে ভুল হবে।’ এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসাবে হাঙ্গেরির ক্যাটালিন কারিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রু ওয়েইজম্যানের নাম উল্লেখ করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কারের জন্য মনোয়নে ভূমিকা রাখতে পারে বিশ্ব যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবহাওয়া ও জলবায়ু সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগ, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, স্তন ক্যান্সারের জিন আবিস্কার, যুদ্ধবিরোধিতা, মানবাধিকারে অগ্রগতিমূলক পদক্ষেপ, জনকল্যাণমূলক তথ্য ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমন, কোভিড মোকাবেলায় পদক্ষেপ, শরণার্থী মোকাবেলায় পদক্ষেপ ইত্যাদি।

সাহিত্যে সম্ভাব্য বিজয়ীদের কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের সাম্প্রতিক সাহিত্যকর্মে অবদান বিবেচনায়। কয়েক বছর ধরে সাহিত্য চর্চায় কিছু নাম জড়িয়ে আছে-হাঙ্গেরির পিটার নাদাস, কানাডার মার্গারেট অ্যাটউড, সিরিয়ান কবি অ্যাডোনিস এবং সোমালির লেখক নুরুদ্দিন ফারাহ। রয়েছে নতুন কিছু নামও। এদের মধ্যে রয়েছেন-ভারতের বিক্রম শেঠ, চীনের লিয়াও ইইউ এবং মোজাম্বিক লেখক মিয়া কৌটো।

৪ অক্টোবর ওষুধ বিভাগের মাধ্যমে উদ্বোধন হচ্ছে নোবেল পুরস্কার মৌসুম। ৫ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞান, ৬ অক্টোবর রসায়ন, ৭ অক্টোবর সাহিত্য, ৮ অক্টোবর শান্তি এবং ১১ অক্টোবর অর্থনীতি পুরস্কারের মাধ্যমে শেষ হবে এ মৌসুম।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন