সাত বছর বয়স থেকেই শিশুদের মগজে কমিউনিজম ঢোকাচ্ছে চীন
jugantor
সাত বছর বয়স থেকেই শিশুদের মগজে কমিউনিজম ঢোকাচ্ছে চীন

  যুগান্তর ডেস্ক  

০২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘শি জিনপিং চিন্তাধারা’কে প্রাথমিক পাঠ্যক্রম থেকে শুরু করে স্নাতক প্রোগ্রাম পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করেছে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারের লক্ষ্য, সাত বছর বয়স থেকেই শিশুদের মগজে কমিউনিজমের বীজ রোপণ করা। এএফপি।

১ অক্টোবর দেশটির ৭২তম জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার থেকেই নতুন পাঠপুস্তক চালু করেছে চীন। ‘শি জিনপিং চিন্তাধারা’র নতুন সেই পাঠ্যপুস্তক নিয়েই স্কুলে প্রবেশ করেছে শিশুরা। কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য ছিল শি’র ব্যক্তিত্বের সংস্কৃতি সাত বছর বয়স থেকে শিশুদের মধ্যে প্রসারিত করা এবং নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমিকদের লালন করা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে স্নাতক প্রোগ্রাম পর্যন্ত শি’র অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত রাজনৈতিক মতাদর্শ জাতীয় পাঠ্যসূচিতে ক্রমান্বয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নতুন শিক্ষাক্রমের একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবশ্যই ‘তরুণ হৃদয়ে দল, দেশ এবং সমাজতন্ত্রকে ভালোবাসার বীজ রোপণ করতে হবে’। নতুন স্কুলের বইগুলো প্রেসিডেন্টের মর্মস্পর্শী উদ্ধৃতি এবং তার হাস্যোজ্জ্বল মুখের ছবি দিয়ে সজ্জিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চীনা সভ্যতার অর্জন এবং দারিদ্র্য বিমোচনসহ এবং কোভিড-১ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা নিয়েও জ্ঞান অর্জন করতে বাধ্য হবে।

একটি পাঠ্যপুস্তকে বলা হয়েছে, ‘দাদা শি জিনপিং কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত, কিন্তু তিনি যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, তিনি এখনো আমাদের ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণ করেন এবং আমাদের সমৃদ্ধির বিষয়ে চিন্তা অব্যাহত রাখেন।’

শি’র চিন্তাধারা, যা সামরিক বাহিনীর ওপর ‘নিরঙ্কুশ দলীয় নেতৃত্ব’ এবং ‘উন্নয়নের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন’সহ ১৪টি নীতি অন্তর্ভুক্ত করে। বেশ কিছু অভিভাবক ব্যক্তিগতভাবে পাঠ্যক্রম সম্পর্কে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এএফপি সংবাদ সংস্থার কাছে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকার করেছেন, বিদেশি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য তারা সমস্যায় পড়বেন এই আশঙ্কায়। কিন্তু বেনামী ইন্টারনেট মন্তব্যকারীদের দ্বারা নীতিটি সূক্ষ্ম ধাক্কা খেয়েছে। ওয়েইবো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমের একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ব্রেইনওয়াশিং শৈশব থেকেই শুরু হয়’। জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির আন্তর্জাতিক বিষয়ের অধ্যাপক ওয়াং ফেই-লিং বলেন, পাঠ্যপুস্তকগুলো কমিউনিস্ট পার্টির ‘মাও-এর মতো শক্তিশালী নেতার ব্যক্তিত্বের সংস্কৃতিতে বাজি ধরার’ প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ। তিনি বলেন, ‘যাই হোক, গত চার দশক ধরে চীনা সমাজে যা ঘটেছে তা বিবেচনায় নিয়ে আমি মনে করি অনেক অভিভাবক হয়তো এটি খুব একটা পছন্দ করছেন না এবং অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এটি বিরক্তিকর মনে হতে পারে।

সাত বছর বয়স থেকেই শিশুদের মগজে কমিউনিজম ঢোকাচ্ছে চীন

 যুগান্তর ডেস্ক 
০২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘শি জিনপিং চিন্তাধারা’কে প্রাথমিক পাঠ্যক্রম থেকে শুরু করে স্নাতক প্রোগ্রাম পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করেছে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারের লক্ষ্য, সাত বছর বয়স থেকেই শিশুদের মগজে কমিউনিজমের বীজ রোপণ করা। এএফপি।

১ অক্টোবর দেশটির ৭২তম জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার থেকেই নতুন পাঠপুস্তক চালু করেছে চীন। ‘শি জিনপিং চিন্তাধারা’র নতুন সেই পাঠ্যপুস্তক নিয়েই স্কুলে প্রবেশ করেছে শিশুরা। কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য ছিল শি’র ব্যক্তিত্বের সংস্কৃতি সাত বছর বয়স থেকে শিশুদের মধ্যে প্রসারিত করা এবং নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমিকদের লালন করা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে স্নাতক প্রোগ্রাম পর্যন্ত শি’র অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত রাজনৈতিক মতাদর্শ জাতীয় পাঠ্যসূচিতে ক্রমান্বয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নতুন শিক্ষাক্রমের একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবশ্যই ‘তরুণ হৃদয়ে দল, দেশ এবং সমাজতন্ত্রকে ভালোবাসার বীজ রোপণ করতে হবে’। নতুন স্কুলের বইগুলো প্রেসিডেন্টের মর্মস্পর্শী উদ্ধৃতি এবং তার হাস্যোজ্জ্বল মুখের ছবি দিয়ে সজ্জিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চীনা সভ্যতার অর্জন এবং দারিদ্র্য বিমোচনসহ এবং কোভিড-১ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা নিয়েও জ্ঞান অর্জন করতে বাধ্য হবে।

একটি পাঠ্যপুস্তকে বলা হয়েছে, ‘দাদা শি জিনপিং কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত, কিন্তু তিনি যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, তিনি এখনো আমাদের ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণ করেন এবং আমাদের সমৃদ্ধির বিষয়ে চিন্তা অব্যাহত রাখেন।’

শি’র চিন্তাধারা, যা সামরিক বাহিনীর ওপর ‘নিরঙ্কুশ দলীয় নেতৃত্ব’ এবং ‘উন্নয়নের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন’সহ ১৪টি নীতি অন্তর্ভুক্ত করে। বেশ কিছু অভিভাবক ব্যক্তিগতভাবে পাঠ্যক্রম সম্পর্কে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এএফপি সংবাদ সংস্থার কাছে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকার করেছেন, বিদেশি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য তারা সমস্যায় পড়বেন এই আশঙ্কায়। কিন্তু বেনামী ইন্টারনেট মন্তব্যকারীদের দ্বারা নীতিটি সূক্ষ্ম ধাক্কা খেয়েছে। ওয়েইবো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমের একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ব্রেইনওয়াশিং শৈশব থেকেই শুরু হয়’। জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির আন্তর্জাতিক বিষয়ের অধ্যাপক ওয়াং ফেই-লিং বলেন, পাঠ্যপুস্তকগুলো কমিউনিস্ট পার্টির ‘মাও-এর মতো শক্তিশালী নেতার ব্যক্তিত্বের সংস্কৃতিতে বাজি ধরার’ প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ। তিনি বলেন, ‘যাই হোক, গত চার দশক ধরে চীনা সমাজে যা ঘটেছে তা বিবেচনায় নিয়ে আমি মনে করি অনেক অভিভাবক হয়তো এটি খুব একটা পছন্দ করছেন না এবং অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এটি বিরক্তিকর মনে হতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন