এবার গণমাধ্যমে তালেবান খড়গ
jugantor
এবার গণমাধ্যমে তালেবান খড়গ

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে তালেবানদের পুনরুত্থানের পর থেকে তাদের যোদ্ধাদের হাতে নানাভাবে নাজেহাল হচ্ছেন গণমাধ্যমের কর্মীরা। সংবাদ সংগ্রহের সময়, এমনকি সংবাদ পরিবেশনের পর অত্যাচারের শিকার হওয়া সংবাদকর্মীদের ছবি ভাইরালও হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এবার সরাসরি তালেবান সরকার কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধের খড়গের তলায় কাটা পড়তে যাচ্ছে আফগান গণমাধ্যম। জনগণের পক্ষে কাজ করা এ মাধ্যমটির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করায় উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি অধিকারগোষ্ঠী। রয়টার্স।

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনকাল শুরু হয় ছয় সপ্তাহ আগে। অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন আফগান নাগরিকরা। এর মাঝে বিভিন্ন ইস্যুতে তালেবানের পূর্বের শাসনের ইঙ্গিত পাচ্ছেন তারা। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক প্রতিশোধের আগুন ঝরাচ্ছে তালেবান সরকার। এবার তালেবানের টার্গেট গণমাধ্যমগুলো। সম্প্রতি গণমাধ্যমের ওপর ১১টি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নবগঠিত সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, মিডিয়া সেন্সরশিপের জন্যই এ নির্দেশনা। নতুন নির্দেশনা জারি হওয়ায় দেশটির গণমাধ্যমকর্মী, অধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা আতঙ্কিত বলে খবর পাওয়া গেছে।

গত ১৫ আগস্ট দেশটি দখলে নেওয়ার পর থেকেই তারা দেশের মানুষকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। কিন্তু ৮ সেপ্টেম্বর নতুন সরকার ঘোষণা দেওয়ার পর সংগঠনটি নতুন নতুন নিয়ম জারি করতে শুরু করে। অথচ সে সময় তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- গণমাধ্যমকে মুক্ত ও স্বাধীন রাখা হবে। গণমাধ্যমের ওপর তালেবানের আরোপিত নতুন নিয়ম চলতি সপ্তাহে জারি হয়। এতে দেখা যাচ্ছে, তালেবান তাদের আগের শাসনামলের নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে।

১১টি নির্দেশনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেকোনো গণমাধ্যম আফগানিস্তানের গভর্নমেন্ট মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের (জিএমআইসি) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবেদন তৈরি করবে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান মোহাম্মদ ইউসুফ আহমাদি, গত ২০ বছর ধরে আফগানযুদ্ধ চলাকালে যিনি তালেবানের মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পতিত প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকারসহ পূর্ববর্তী আফগান প্রশাসনের অধীনে মিডিয়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল-যখন মিডিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং পক্ষান্তরে সংবাদ পরিবেশনে প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সমালোচনা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তুরস্ক, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, তাকিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানের তুলনায় আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যসের স্বাধীনতার রেটিং ভালো ছিল। কিন্তু তালেবান অধিগ্রহণের পর থেকে, তালেবানদের ইসলামিক আমিরাতের অধীনে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

তালেবান বিধিমালার আড়ালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে হরণ করছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন অধিকার সংগঠন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এশিয়া ডিভিশনের অ্যাসোসিয়েট ডিরেকটর প্যাট্রিসিয়া গসম্যান উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণমাধ্যমকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও তাদের নতুন নিয়মগুলো দেশটিতে গণমাধ্যমের শ্বাসরোধ করছে।’

তালেবানের ভয়ে নিজেদের সৃষ্ট শিল্প মাটিতে পুঁতে ফেলছেন আফগান চিত্রকররা : সঙ্গীতসহ নানা সংস্কৃতি চর্চা আফগানিস্তানে নিষিদ্ধ করেছে তালেবান। তাই তাদের কঠোর আইন ও শাস্তির ভয়ে নিজেদের তৈরি শিল্প মাটির তলায় লুকিয়ে ফেলছেন আফগান চিত্রশিল্পীরা। যদিও আঁকা নিয়ে এখনো কোনো ফতোয়া দেয়নি তালেবান। তবু নয়ের দশকের কথা মনে করে আগেভাগেই সাবধান হয়ে গেছেন শিল্পীরা।

নেদারল্যান্ডসে থাকা ১০ দোভাষীকে তলব করেছে তালেবান : নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনওএস জানিয়েছে দেশটিতে থাকা ১০ আফগান দোভাষীকে বৃহস্পতিবার তলব করেছে তালেবান। এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দোভাষীদের চরম শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে তালেবান। ডেকে পাঠানো দোভাষীরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তালেবান চিঠিতে বলেছে, আদালতে হাজির না হতে পারলে তাদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এবার গণমাধ্যমে তালেবান খড়গ

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে তালেবানদের পুনরুত্থানের পর থেকে তাদের যোদ্ধাদের হাতে নানাভাবে নাজেহাল হচ্ছেন গণমাধ্যমের কর্মীরা। সংবাদ সংগ্রহের সময়, এমনকি সংবাদ পরিবেশনের পর অত্যাচারের শিকার হওয়া সংবাদকর্মীদের ছবি ভাইরালও হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এবার সরাসরি তালেবান সরকার কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধের খড়গের তলায় কাটা পড়তে যাচ্ছে আফগান গণমাধ্যম। জনগণের পক্ষে কাজ করা এ মাধ্যমটির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করায় উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি অধিকারগোষ্ঠী। রয়টার্স।

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনকাল শুরু হয় ছয় সপ্তাহ আগে। অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন আফগান নাগরিকরা। এর মাঝে বিভিন্ন ইস্যুতে তালেবানের পূর্বের শাসনের ইঙ্গিত পাচ্ছেন তারা। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক প্রতিশোধের আগুন ঝরাচ্ছে তালেবান সরকার। এবার তালেবানের টার্গেট গণমাধ্যমগুলো। সম্প্রতি গণমাধ্যমের ওপর ১১টি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নবগঠিত সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, মিডিয়া সেন্সরশিপের জন্যই এ নির্দেশনা। নতুন নির্দেশনা জারি হওয়ায় দেশটির গণমাধ্যমকর্মী, অধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা আতঙ্কিত বলে খবর পাওয়া গেছে।

গত ১৫ আগস্ট দেশটি দখলে নেওয়ার পর থেকেই তারা দেশের মানুষকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। কিন্তু ৮ সেপ্টেম্বর নতুন সরকার ঘোষণা দেওয়ার পর সংগঠনটি নতুন নতুন নিয়ম জারি করতে শুরু করে। অথচ সে সময় তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- গণমাধ্যমকে মুক্ত ও স্বাধীন রাখা হবে। গণমাধ্যমের ওপর তালেবানের আরোপিত নতুন নিয়ম চলতি সপ্তাহে জারি হয়। এতে দেখা যাচ্ছে, তালেবান তাদের আগের শাসনামলের নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে।

১১টি নির্দেশনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেকোনো গণমাধ্যম আফগানিস্তানের গভর্নমেন্ট মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের (জিএমআইসি) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবেদন তৈরি করবে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান মোহাম্মদ ইউসুফ আহমাদি, গত ২০ বছর ধরে আফগানযুদ্ধ চলাকালে যিনি তালেবানের মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পতিত প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকারসহ পূর্ববর্তী আফগান প্রশাসনের অধীনে মিডিয়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল-যখন মিডিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং পক্ষান্তরে সংবাদ পরিবেশনে প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সমালোচনা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তুরস্ক, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, তাকিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানের তুলনায় আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যসের স্বাধীনতার রেটিং ভালো ছিল। কিন্তু তালেবান অধিগ্রহণের পর থেকে, তালেবানদের ইসলামিক আমিরাতের অধীনে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

তালেবান বিধিমালার আড়ালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে হরণ করছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন অধিকার সংগঠন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এশিয়া ডিভিশনের অ্যাসোসিয়েট ডিরেকটর প্যাট্রিসিয়া গসম্যান উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণমাধ্যমকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও তাদের নতুন নিয়মগুলো দেশটিতে গণমাধ্যমের শ্বাসরোধ করছে।’

তালেবানের ভয়ে নিজেদের সৃষ্ট শিল্প মাটিতে পুঁতে ফেলছেন আফগান চিত্রকররা : সঙ্গীতসহ নানা সংস্কৃতি চর্চা আফগানিস্তানে নিষিদ্ধ করেছে তালেবান। তাই তাদের কঠোর আইন ও শাস্তির ভয়ে নিজেদের তৈরি শিল্প মাটির তলায় লুকিয়ে ফেলছেন আফগান চিত্রশিল্পীরা। যদিও আঁকা নিয়ে এখনো কোনো ফতোয়া দেয়নি তালেবান। তবু নয়ের দশকের কথা মনে করে আগেভাগেই সাবধান হয়ে গেছেন শিল্পীরা।

নেদারল্যান্ডসে থাকা ১০ দোভাষীকে তলব করেছে তালেবান : নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনওএস জানিয়েছে দেশটিতে থাকা ১০ আফগান দোভাষীকে বৃহস্পতিবার তলব করেছে তালেবান। এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দোভাষীদের চরম শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে তালেবান। ডেকে পাঠানো দোভাষীরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তালেবান চিঠিতে বলেছে, আদালতে হাজির না হতে পারলে তাদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন