আফগানিস্তানে স্কুলেও নারী নিষিদ্ধ
jugantor
আফগানিস্তানে স্কুলেও নারী নিষিদ্ধ

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে স্কুলেও নারী নিষিদ্ধ

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার আফগানিস্তানের স্কুলগুলোতেও নারীদের নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তালেবান। শনিবার দেশটির তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্কৃতি কমিশনের সদস্য নূর মোহাম্মদ মোতাওয়াকিলের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদসংস্থা তোলো নিউজ। তবে কবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মোতাওয়াকিল বলেন, ‘নারীরা কীভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে এবং নারী শিক্ষার্থীরা কীভাবে স্কুলে যেতে পারে, তা ঠিক করতে সরকার নিজেদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।’

আফগানিস্তানের জিহাদি সরকারের এমন পদক্ষেপে কয়েক হাজার মহিলা শিক্ষিকা-কর্মীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কাবুলের গুলাম হায়দর খান হাইস্কুলে গত ৩৩ বছর ধরে শিক্ষাদান করছেন আজিজা। কিন্তু তালেবান ক্ষমতা দখল করায় তিনি কাজ হারিয়েছেন। ওই শিক্ষিকার কথায়, ‘৩৩ বছর ধরে আমি রসায়ন পড়াচ্ছি। কিন্তু এখন আমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।’ ওই স্কুলের অধ্যক্ষ আসাদুল্লা কোহিস্তানি জানিয়েছেন, শিক্ষিকাদের ওপর তালেবানি নিষেধাজ্ঞার জেরে শিক্ষক-কর্মীদের চরম অভাব দেখা দিয়েছে।

এদিকে ছেলেদের স্কুল খোলার দুই সপ্তাহের পরও মেয়েদের স্কুলে ফেরার ব্যাপারে কিছুই জানায়নি তালেবান সরকার। অথচ তীর্থের কাকের মতো তাদের ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে হাজার হাজার মেয়ে শিক্ষার্থী।

কাবুলের স্কুলছাত্রী মারওয়া বলেন, ‘ইসলামিক আমিরাতের কাছে আমার অনুরোধ, মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিন। আমি আমার জনগণ, আমার দেশ, পরিবার এবং সমাজকে সেবা দিতে উদগ্রীব হয়ে আছি। আমি শীর্ষ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখি আজও। কিন্তু আমার ভবিষ্যৎ কী হবে, আজ তা অনিশ্চিত।’

কাবুলের বাইরে হাজার হাজার তালেবান সমর্থকের মিছিল : আফগানিস্তানের উত্তর কাবুলে তালেবানের পক্ষে মিছিল করেছে হাজারখানেক সমর্থক। রোববার খোদমান শহরে একটি মাঠে তালেবানের সমর্থনে একটি র‌্যালিও অনুষ্ঠিত হয়। এএফপি।

খবরে বলা হয়, এ র‌্যালিতে অংশ নিয়েছে শুধু কিশোর ও যুবকরা। র‌্যালি কিংবা মিছিলে কোনো নারী সমর্থককে দেখা যায়নি। তবে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হওয়া সমর্থকরা তালেবানের জয়ের পক্ষে গান পরিবেশন করে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয। মাথায় লাল-সাদা ব্যান্ড বাঁধা সমর্থকদের হাতে ছিল তালেবানের নানান প্রশংসাবাক্য লেখা পোস্টার।

সমর্থকদের এ র‌্যালি শুরুর আগে অনুষ্ঠিত হয় তালেবান যোদ্ধাদের কুচকাওয়াজ। এ সময় তারা বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। ভারী অস্ত্র নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল প্রহরায় ছিল অনেক তালেবান সদস্য। এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তালেবানের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও। সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তারা।

কাবুলে মসজিদের কাছে বিস্ফোরণ, বহু প্রাণহানির শঙ্কা : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মসজিদের বাইরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তালেবান সরকার। তালেবান মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাবুলের ঈদ গাহ মসজিদের গেটের বাইরে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এসময় সেখানে তালেবান নেতা জাবিউল্লাহ মুজাহিদের মায়ের স্মরণে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। আব্দুল্লাহ নামে স্থানীয় এক দোকানদার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আমি ঈদগাহ মসজিদের কাছে গুলির পর বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। বিস্ফোরণের কয়েক মুহূর্ত আগে তালেবান মসজিদের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। আলজাজিরা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো দল বা গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে তালেবান কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর থেকে তাদের লক্ষ করে আইএসের হামলা বেশ বেড়েছে। এতে ভবিষ্যতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আরও বড় সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আফগানিস্তানে স্কুলেও নারী নিষিদ্ধ

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আফগানিস্তানে স্কুলেও নারী নিষিদ্ধ
প্রতীকী ছবি

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার আফগানিস্তানের স্কুলগুলোতেও নারীদের নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তালেবান। শনিবার দেশটির তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্কৃতি কমিশনের সদস্য নূর মোহাম্মদ মোতাওয়াকিলের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদসংস্থা তোলো নিউজ। তবে কবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মোতাওয়াকিল বলেন, ‘নারীরা কীভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে এবং নারী শিক্ষার্থীরা কীভাবে স্কুলে যেতে পারে, তা ঠিক করতে সরকার নিজেদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।’

আফগানিস্তানের জিহাদি সরকারের এমন পদক্ষেপে কয়েক হাজার মহিলা শিক্ষিকা-কর্মীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কাবুলের গুলাম হায়দর খান হাইস্কুলে গত ৩৩ বছর ধরে শিক্ষাদান করছেন আজিজা। কিন্তু তালেবান ক্ষমতা দখল করায় তিনি কাজ হারিয়েছেন। ওই শিক্ষিকার কথায়, ‘৩৩ বছর ধরে আমি রসায়ন পড়াচ্ছি। কিন্তু এখন আমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।’ ওই স্কুলের অধ্যক্ষ আসাদুল্লা কোহিস্তানি জানিয়েছেন, শিক্ষিকাদের ওপর তালেবানি নিষেধাজ্ঞার জেরে শিক্ষক-কর্মীদের চরম অভাব দেখা দিয়েছে।

এদিকে ছেলেদের স্কুল খোলার দুই সপ্তাহের পরও মেয়েদের স্কুলে ফেরার ব্যাপারে কিছুই জানায়নি তালেবান সরকার। অথচ তীর্থের কাকের মতো তাদের ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে হাজার হাজার মেয়ে শিক্ষার্থী।

কাবুলের স্কুলছাত্রী মারওয়া বলেন, ‘ইসলামিক আমিরাতের কাছে আমার অনুরোধ, মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিন। আমি আমার জনগণ, আমার দেশ, পরিবার এবং সমাজকে সেবা দিতে উদগ্রীব হয়ে আছি। আমি শীর্ষ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখি আজও। কিন্তু আমার ভবিষ্যৎ কী হবে, আজ তা অনিশ্চিত।’

কাবুলের বাইরে হাজার হাজার তালেবান সমর্থকের মিছিল : আফগানিস্তানের উত্তর কাবুলে তালেবানের পক্ষে মিছিল করেছে হাজারখানেক সমর্থক। রোববার খোদমান শহরে একটি মাঠে তালেবানের সমর্থনে একটি র‌্যালিও অনুষ্ঠিত হয়। এএফপি।

খবরে বলা হয়, এ র‌্যালিতে অংশ নিয়েছে শুধু কিশোর ও যুবকরা। র‌্যালি কিংবা মিছিলে কোনো নারী সমর্থককে দেখা যায়নি। তবে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হওয়া সমর্থকরা তালেবানের জয়ের পক্ষে গান পরিবেশন করে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয। মাথায় লাল-সাদা ব্যান্ড বাঁধা সমর্থকদের হাতে ছিল তালেবানের নানান প্রশংসাবাক্য লেখা পোস্টার।

সমর্থকদের এ র‌্যালি শুরুর আগে অনুষ্ঠিত হয় তালেবান যোদ্ধাদের কুচকাওয়াজ। এ সময় তারা বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। ভারী অস্ত্র নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল প্রহরায় ছিল অনেক তালেবান সদস্য। এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তালেবানের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও। সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তারা।

কাবুলে মসজিদের কাছে বিস্ফোরণ, বহু প্রাণহানির শঙ্কা : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মসজিদের বাইরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তালেবান সরকার। তালেবান মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাবুলের ঈদ গাহ মসজিদের গেটের বাইরে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এসময় সেখানে তালেবান নেতা জাবিউল্লাহ মুজাহিদের মায়ের স্মরণে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। আব্দুল্লাহ নামে স্থানীয় এক দোকানদার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আমি ঈদগাহ মসজিদের কাছে গুলির পর বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। বিস্ফোরণের কয়েক মুহূর্ত আগে তালেবান মসজিদের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। আলজাজিরা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো দল বা গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে তালেবান কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর থেকে তাদের লক্ষ করে আইএসের হামলা বেশ বেড়েছে। এতে ভবিষ্যতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আরও বড় সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : আফগানিস্তানে তালেবানের পুনরুত্থান