পৃথিবীর সব প্রান্তেই দুর্নীতি
jugantor
পৃথিবীর সব প্রান্তেই দুর্নীতি
প্যান্ডোরা পেপারস : বেকায়দায় বিশ্বনেতারা, মুখ খুলছেন অনেকেই

  জামির হোসেন  

০৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফ্রিকা থেকে ইউরোপ, এশিয়া থেকে আমেরিকা। কোথাও বাদ নেই। পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তেই ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতি। রাষ্ট্র আর সরকার ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে অনিয়ম। ন্যূনতম স্বচ্ছতা-জবাবদিহির বালাই নেই, আইনের শাসন তো দূরের কথা। অর্থ আর ক্ষমতাই যেন সব। রাষ্ট্রপ্রধান-সরকারপ্রধান, রাজনীতিক-আমলা যে যেভাবে পারছে দুহাতে লুটে নিচ্ছে। কর ফাঁকি দিয়ে গড়ছে সম্পদের পাহাড়। কেউ আবার অবৈধ সেসব অর্থ লুকিয়ে রাখছে দূরের কোনো দেশের ব্যাংকে। কেউবা কিনছে ব্যক্তিগত বিমান, প্রাসাদোপম বাড়ি আর প্রমোদতরি। এসব দুর্নীতি-অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে প্রায় প্রতি বছরই ফাঁস হচ্ছে হাজার হাজার নথিপত্র। কিন্তু পরিস্থিতির এতটুকু উন্নতি হচ্ছে না। বহাল তবিয়তেই থেকে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজরা।

পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালে বিশ্বে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিল ‘পানামা পেপারস’। এতে বিশ্বের বাঘা বাঘা রাজনীতিক ও রাষ্ট্রপ্রধানদের আর্থিক কেলেঙ্কারির নথি ফাঁস করা হয়েছিল। সেই সময়ে বেশ কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। এমনকি এই পেপারসে নাম থাকায় ক্ষমতাও চলে যায় কারও কারও। পাঁচ বছর পর চলতি সপ্তাহেই একই ধরনের আরও একটি নথি ফাঁস হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্যান্ডোরা পেপারস’। এতে বিশ্বের অনেক ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির অর্থপাচার, কর ফাঁকি ও গোপন সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। এতে আরও দেখা যাচ্ছে, ৯০টি দেশের ৩৩০ জনেরও বেশি রাজনীতিক করস্বর্গ হিসাবে পরিচিত পানামা, দুবাই, মোনাকো, সুইজারল্যান্ড ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের মতো দেশ ও অঞ্চলে অসংখ্য কোম্পানিতে অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন। প্যান্ডোরা পেপারস অনুসারে, নথিতে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে কমপক্ষে ৩৫ জন বিশ্বনেতা রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন, চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিস, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহসহ আরও অনেকেই। দেশের জনগণের চোখ এড়িয়ে হাজার হাজার কোটি ডলারের সম্পদ গড়েছেন তারা।

কর ফাঁকি দিয়ে প্রাসাদ কিনিছে ব্লেয়ার দম্পতি : প্যান্ডোরা পেপারস বলছে, ৩ লাখ ১২ হাজার পাউন্ড কর ফাঁকি দিয়ে লন্ডনে একটি প্রাসাদ কিনেছিলেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তার স্ত্রী চেরি ব্লেয়ার। ২০১৭ সালে প্রাসাদটির মূল্য ছিল ৬৫ লাখ পাউন্ড। এর মালিকানা ছিল বাহরাইনের শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটনমন্ত্রী জায়েদ বিন রশিদ আলজায়ানির। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, একটি অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে প্রাসাদটি ক্রয় করে ব্লেয়ার দম্পতি। এতে তাদের ৩ লাখ ১২ হাজার পাউন্ড কর দিতে হয়নি। অবশ্য ব্রিটেনে এ ধরনের লেনদেনে আইনি বৈধতা রয়েছে। আর কর না দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই দম্পতি এমনটি করেছিলেন-এমন প্রমাণও মেলেনি। তবে সমালোচিত হচ্ছে এ বিষয়ে ব্রিটেনের ট্যাক্সসংক্রান্ত আইনটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন আইনের কারণে বিত্তশালীরা কর না দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দেশটিতে একই ধরনের ভবন বা সম্পত্তি সরাসরি কিনতে হলে সাধারণ বাসিন্দাদের বিশাল অঙ্কের কর পরিশোধ করতে হয়।

বিদেশে সম্পদের পাহাড় কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট পরিবারের : কয়েক দশক ধরে আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ কেনিয়া শাসন করছে কেনিয়াত্তা পরিবার। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে এবারও ক্ষমতায় আসার তোড়জোড় শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা। অন্যদিকে দুর্নীতি ও অনিয়মের অর্থে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ছে তারই পরিবার। ‘প্যান্ডোরা পেপারস’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। স্বাধীনতার পর থেকে কেনিয়ার রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট কেনিয়াত্তার পরিবারের আধিপত্য। কয়েক দশক ধরে গোপনে অসংখ্য অফশোর কোম্পানির মালিক হয়েছেন এই পরিবারের সদস্যরা। ফাঁস হওয়া নথিতে এই পরিবারের ছয় সদস্যের ১৩টি অফশোর কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার। বিবিসি।

আজারি প্রেসিডেন্টের ১১ বছরের ছেলের নামে ৩ কোটি পাউন্ডের সম্পদ : আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের ছেলে হায়দার আলিয়েভে। বয়স মাত্র ১১ বছর। শিশু হায়দারের জন্য লন্ডনে গোপনে একটি ভবন কেনা হয়েছে। ৩ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে এই অফিস ভবনটি কেনা হয় অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে। সদ্য প্রকাশ হওয়া প্যান্ডোরা পেপারসে উঠে এসেছে এমন তথ্য। প্যান্ডোরা পেপারসে ফাঁস হওয়া নথি মতে, আজারি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের পরিবার গোপনে লন্ডনে ১৭টি পৃথক পৃথক সম্পত্তি কিনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টের ছেলের জন্য কেনা ওই ভবনটি। শুধু প্যান্ডোরা পেপারসে ফাঁস হওয়া কেলেঙ্কারিই নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে আলিয়েভের পরিবারের বিরুদ্ধে। প্যান্ডোরা পেপারস বলছে, ২০০৯ সালে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের এক পারিবারিক বন্ধুর মালিকানাধীন কোম্পানির মাধ্যমে লন্ডনের মেফেয়ার এলাকায় ওই অফিস ভবনটি কেনা হয়েছিল। এক মাস পরে তা হায়দার আলিয়েভের নামে হস্তান্তর করা হয়।

মোনাকোয় পুতিনের আরেক বান্ধবীর বিলাসবহুল ফ্ল্যাট : বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর রাজনীতিক রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন। যেমন ক্ষমতাধর তেমন তার সম্পদের পরিমাণও। এসব সম্পদের বেশিরভাগই ঘনিষ্টজনদের নামে করেছেন তিনি। ইউরোপের দেশ মোনাকোতে পুতিনের এক বান্ধবীর একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া গেন্নাদি টিমচেঙ্কো নামে তার এক বন্ধুর নামও উঠে এসেছে এতে। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, মোনাকোতে ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে একটি গোপন লেনদেন হয়েছিল। সেখানে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের হাতবদল হয়। এতে ৩৬ লাখ ইউরোর বিনিময়ে ক্রেতা পেয়েছিলেন মন্টে কার্লো স্টার কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলায় ঝকঝকে একটি ফ্ল্যাট, দুটি পার্কিং স্পেস, একটি স্টোররুম ও সুইমিং পুল ব্যবহারের সুযোগ। ২০০৩ সালে ফ্ল্যাটটি কেনার সময় তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তখন তার বয়স ছিল ২৮ বছর। প্যান্ডোরা পেপারসের কল্যাণে অবশেষে জানা গেল, সেই নারীর নাম সভেৎলানা ক্রিভোনোগিখ। ২০২০ সালে প্রোয়েক্ট নামে স্থানীয় একটি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দাবি করে, সেন্ট পিটারসবার্গের মেয়র থাকার সময় পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন ক্রিভোনোগিখ।

গোপন সম্পদের সাম্রাজ্য গড়েছেন জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ : ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে রীতিমতো সম্পদের পাহাড় গড়েছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন। প্যান্ডোরা পেপারস অনুসারে বাদশাহর এ সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি। ১৯৯৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের অফশোর কোম্পানিগুলোর একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ১৫টি বাড়ি কিনেছেন বাদশাহ আবদুল্লাহ। এর মধ্যে মালিবু, ক্যালিফোর্নিয়া, লন্ডন ও আস্কটে তিনটি মহাসাগর ভিউয়েও তার অন্তত ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সম্পত্তি রয়েছে। মালিবু শহর সেলিব্রেটিদের বিলাসবহুল বাড়ির জন্য বিখ্যাত।

প্যান্ডোরা পেপারসে নেপালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি : প্যান্ডোরা পেপারসের নথিতে উঠে এসেছে নেপালের সবচেয়ে ধনী বিনোদ চৌধুরীর নাম। ২০১৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য মতে, বিনোদ বিশ্বের ২১৪১তম ধনী ব্যক্তি। এই ব্যবসায়ী ভূমি আইন লংঘন করে বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন। শুধু তাই নয়, শেয়ার কেনা-বেচা করেছেন ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, সাইপ্রাস, মরিশাস, সিঙ্গাপুর এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক জোনে। প্যান্ডোরা পেপারস আরও বলেছে, তার স্ত্রী এবং তিন ছেলে নির্বান, বরুন এবং রাহুলের নামে কোম্পানি রয়েছে। তারা কোথায় বসে সেই কোম্পানির ব্যাপারে স্বাক্ষর করেছেন, সে ব্যাপারেও তথ্য রয়েছে ফাঁস হওয়া নথিতে। নেপাল টাইমস।

৩৮০ ভারতীয় ৭০০ পাকিস্তানির নাম : ভারত ও পাকিস্তানের ‘হোমরাচোমরাদের’ নামও রয়েছে প্যান্ডোরা পেপারসে। ফাঁস হওয়া নথিতে তিন শতাধিক ভারতীয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর প্রায় দ্বিগুণ নাম রয়েছে পাকিস্তানিদের। দেশটির প্রায় ৭০০ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন সরকারের দুই মন্ত্রীও রয়েছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতারা সরাসরি ইমরানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ডন।

নথি অনুযায়ী, ভারতের ৩৮০ প্রভাবশালীর নাম এর তালিকায় উঠে এসেছে। ধনকুবের-ব্যবসায়ী-রাজনীতিবিদ কে নেই এই তালিকায়। এর মধ্যে রয়েছেন রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান ও ধনকুবের অনিল আম্বানি, পলাতক হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদির বোন, জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকার। এমনকি রাজনীতিবিদ, আইনবিষয়ক কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তাও রয়েছেন এ তালিকায়। ব্রিটেনের একটি আদালতে ভারতীয় ধনকুবের অনিল আম্বানিকে ‘দেউলিয়া’ ঘোষণা করা হয়। তার সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছে প্যান্ডোরা পেপারস। বলা হচ্ছে-তার ১৮টি অফশোর কোম্পানির মালিকানা রয়েছে।

এদিকে ‘প্যান্ডোরা পেপারস’ ফাঁসের জেরে বেকায়দায় পড়েছেন বিশ্বনেতারা। নিজেদের অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের খতিয়ান ফাঁস হওয়ায় মুখে চুনকালি পড়েছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা ও বতর্ক চলছে। এদিকে অভিযুক্তদের বেশিরভাগই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাপারে চুপ করে আছেন। তবে মুখ খুলতে শুরু করেছেন কেউ কেউ। এএফপি। প্যান্ডোরা পেপারসে পাকিস্তানের প্রায় ৭০০ রাজনীতিক ও ধনীর নাম এসেছে। এসব তথ্য সামনে আসার পরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্যান্ডোরা পেপারসে যেসব পাকিস্তানির নাম এসেছে, তাদের তদন্তের আওতায় আনবে তার সরকার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। প্যান্ডোরা পেপারসে নাম আসায় বিরোধীদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আনদ্রেজ বাবিস। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত সম্পদ ও সরকারি তহবিল তসরুফের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও সত্যকে বিকৃত করার চেষ্টা।’ দেশটিতে আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব সৃষ্টি করতেই এসব সামনে আনা হচ্ছে বলে পালটা অভিযোগ করেছেন তিনি।

ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেমকভ বলেন, ‘এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ। পুতিন বন্ধুমহলের কারও গোপন সম্পদ আমরা দেখিনি।’ জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে ১০ কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে-এমন অভিযোগ ‘বিকৃত তথ্য’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির রয়্যাল কোর্ট। প্যান্ডোরা পেপারসে নাম আসা চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিয়েরাও নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে তার কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

পৃথিবীর সব প্রান্তেই দুর্নীতি

প্যান্ডোরা পেপারস : বেকায়দায় বিশ্বনেতারা, মুখ খুলছেন অনেকেই
 জামির হোসেন 
০৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফ্রিকা থেকে ইউরোপ, এশিয়া থেকে আমেরিকা। কোথাও বাদ নেই। পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তেই ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতি। রাষ্ট্র আর সরকার ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে অনিয়ম। ন্যূনতম স্বচ্ছতা-জবাবদিহির বালাই নেই, আইনের শাসন তো দূরের কথা। অর্থ আর ক্ষমতাই যেন সব। রাষ্ট্রপ্রধান-সরকারপ্রধান, রাজনীতিক-আমলা যে যেভাবে পারছে দুহাতে লুটে নিচ্ছে। কর ফাঁকি দিয়ে গড়ছে সম্পদের পাহাড়। কেউ আবার অবৈধ সেসব অর্থ লুকিয়ে রাখছে দূরের কোনো দেশের ব্যাংকে। কেউবা কিনছে ব্যক্তিগত বিমান, প্রাসাদোপম বাড়ি আর প্রমোদতরি। এসব দুর্নীতি-অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে প্রায় প্রতি বছরই ফাঁস হচ্ছে হাজার হাজার নথিপত্র। কিন্তু পরিস্থিতির এতটুকু উন্নতি হচ্ছে না। বহাল তবিয়তেই থেকে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজরা।

পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালে বিশ্বে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিল ‘পানামা পেপারস’। এতে বিশ্বের বাঘা বাঘা রাজনীতিক ও রাষ্ট্রপ্রধানদের আর্থিক কেলেঙ্কারির নথি ফাঁস করা হয়েছিল। সেই সময়ে বেশ কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। এমনকি এই পেপারসে নাম থাকায় ক্ষমতাও চলে যায় কারও কারও। পাঁচ বছর পর চলতি সপ্তাহেই একই ধরনের আরও একটি নথি ফাঁস হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্যান্ডোরা পেপারস’। এতে বিশ্বের অনেক ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির অর্থপাচার, কর ফাঁকি ও গোপন সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। এতে আরও দেখা যাচ্ছে, ৯০টি দেশের ৩৩০ জনেরও বেশি রাজনীতিক করস্বর্গ হিসাবে পরিচিত পানামা, দুবাই, মোনাকো, সুইজারল্যান্ড ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের মতো দেশ ও অঞ্চলে অসংখ্য কোম্পানিতে অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন। প্যান্ডোরা পেপারস অনুসারে, নথিতে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে কমপক্ষে ৩৫ জন বিশ্বনেতা রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন, চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিস, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহসহ আরও অনেকেই। দেশের জনগণের চোখ এড়িয়ে হাজার হাজার কোটি ডলারের সম্পদ গড়েছেন তারা।

কর ফাঁকি দিয়ে প্রাসাদ কিনিছে ব্লেয়ার দম্পতি : প্যান্ডোরা পেপারস বলছে, ৩ লাখ ১২ হাজার পাউন্ড কর ফাঁকি দিয়ে লন্ডনে একটি প্রাসাদ কিনেছিলেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তার স্ত্রী চেরি ব্লেয়ার। ২০১৭ সালে প্রাসাদটির মূল্য ছিল ৬৫ লাখ পাউন্ড। এর মালিকানা ছিল বাহরাইনের শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটনমন্ত্রী জায়েদ বিন রশিদ আলজায়ানির। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, একটি অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে প্রাসাদটি ক্রয় করে ব্লেয়ার দম্পতি। এতে তাদের ৩ লাখ ১২ হাজার পাউন্ড কর দিতে হয়নি। অবশ্য ব্রিটেনে এ ধরনের লেনদেনে আইনি বৈধতা রয়েছে। আর কর না দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই দম্পতি এমনটি করেছিলেন-এমন প্রমাণও মেলেনি। তবে সমালোচিত হচ্ছে এ বিষয়ে ব্রিটেনের ট্যাক্সসংক্রান্ত আইনটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন আইনের কারণে বিত্তশালীরা কর না দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দেশটিতে একই ধরনের ভবন বা সম্পত্তি সরাসরি কিনতে হলে সাধারণ বাসিন্দাদের বিশাল অঙ্কের কর পরিশোধ করতে হয়।

বিদেশে সম্পদের পাহাড় কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট পরিবারের : কয়েক দশক ধরে আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ কেনিয়া শাসন করছে কেনিয়াত্তা পরিবার। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে এবারও ক্ষমতায় আসার তোড়জোড় শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা। অন্যদিকে দুর্নীতি ও অনিয়মের অর্থে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ছে তারই পরিবার। ‘প্যান্ডোরা পেপারস’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। স্বাধীনতার পর থেকে কেনিয়ার রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট কেনিয়াত্তার পরিবারের আধিপত্য। কয়েক দশক ধরে গোপনে অসংখ্য অফশোর কোম্পানির মালিক হয়েছেন এই পরিবারের সদস্যরা। ফাঁস হওয়া নথিতে এই পরিবারের ছয় সদস্যের ১৩টি অফশোর কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার। বিবিসি।

আজারি প্রেসিডেন্টের ১১ বছরের ছেলের নামে ৩ কোটি পাউন্ডের সম্পদ : আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের ছেলে হায়দার আলিয়েভে। বয়স মাত্র ১১ বছর। শিশু হায়দারের জন্য লন্ডনে গোপনে একটি ভবন কেনা হয়েছে। ৩ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে এই অফিস ভবনটি কেনা হয় অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে। সদ্য প্রকাশ হওয়া প্যান্ডোরা পেপারসে উঠে এসেছে এমন তথ্য। প্যান্ডোরা পেপারসে ফাঁস হওয়া নথি মতে, আজারি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের পরিবার গোপনে লন্ডনে ১৭টি পৃথক পৃথক সম্পত্তি কিনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টের ছেলের জন্য কেনা ওই ভবনটি। শুধু প্যান্ডোরা পেপারসে ফাঁস হওয়া কেলেঙ্কারিই নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে আলিয়েভের পরিবারের বিরুদ্ধে। প্যান্ডোরা পেপারস বলছে, ২০০৯ সালে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের এক পারিবারিক বন্ধুর মালিকানাধীন কোম্পানির মাধ্যমে লন্ডনের মেফেয়ার এলাকায় ওই অফিস ভবনটি কেনা হয়েছিল। এক মাস পরে তা হায়দার আলিয়েভের নামে হস্তান্তর করা হয়।

মোনাকোয় পুতিনের আরেক বান্ধবীর বিলাসবহুল ফ্ল্যাট : বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর রাজনীতিক রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন। যেমন ক্ষমতাধর তেমন তার সম্পদের পরিমাণও। এসব সম্পদের বেশিরভাগই ঘনিষ্টজনদের নামে করেছেন তিনি। ইউরোপের দেশ মোনাকোতে পুতিনের এক বান্ধবীর একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া গেন্নাদি টিমচেঙ্কো নামে তার এক বন্ধুর নামও উঠে এসেছে এতে। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, মোনাকোতে ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে একটি গোপন লেনদেন হয়েছিল। সেখানে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের হাতবদল হয়। এতে ৩৬ লাখ ইউরোর বিনিময়ে ক্রেতা পেয়েছিলেন মন্টে কার্লো স্টার কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলায় ঝকঝকে একটি ফ্ল্যাট, দুটি পার্কিং স্পেস, একটি স্টোররুম ও সুইমিং পুল ব্যবহারের সুযোগ। ২০০৩ সালে ফ্ল্যাটটি কেনার সময় তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তখন তার বয়স ছিল ২৮ বছর। প্যান্ডোরা পেপারসের কল্যাণে অবশেষে জানা গেল, সেই নারীর নাম সভেৎলানা ক্রিভোনোগিখ। ২০২০ সালে প্রোয়েক্ট নামে স্থানীয় একটি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দাবি করে, সেন্ট পিটারসবার্গের মেয়র থাকার সময় পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন ক্রিভোনোগিখ।

গোপন সম্পদের সাম্রাজ্য গড়েছেন জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ : ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে রীতিমতো সম্পদের পাহাড় গড়েছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন। প্যান্ডোরা পেপারস অনুসারে বাদশাহর এ সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি। ১৯৯৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের অফশোর কোম্পানিগুলোর একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ১৫টি বাড়ি কিনেছেন বাদশাহ আবদুল্লাহ। এর মধ্যে মালিবু, ক্যালিফোর্নিয়া, লন্ডন ও আস্কটে তিনটি মহাসাগর ভিউয়েও তার অন্তত ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সম্পত্তি রয়েছে। মালিবু শহর সেলিব্রেটিদের বিলাসবহুল বাড়ির জন্য বিখ্যাত।

প্যান্ডোরা পেপারসে নেপালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি : প্যান্ডোরা পেপারসের নথিতে উঠে এসেছে নেপালের সবচেয়ে ধনী বিনোদ চৌধুরীর নাম। ২০১৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য মতে, বিনোদ বিশ্বের ২১৪১তম ধনী ব্যক্তি। এই ব্যবসায়ী ভূমি আইন লংঘন করে বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন। শুধু তাই নয়, শেয়ার কেনা-বেচা করেছেন ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, সাইপ্রাস, মরিশাস, সিঙ্গাপুর এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক জোনে। প্যান্ডোরা পেপারস আরও বলেছে, তার স্ত্রী এবং তিন ছেলে নির্বান, বরুন এবং রাহুলের নামে কোম্পানি রয়েছে। তারা কোথায় বসে সেই কোম্পানির ব্যাপারে স্বাক্ষর করেছেন, সে ব্যাপারেও তথ্য রয়েছে ফাঁস হওয়া নথিতে। নেপাল টাইমস।

৩৮০ ভারতীয় ৭০০ পাকিস্তানির নাম : ভারত ও পাকিস্তানের ‘হোমরাচোমরাদের’ নামও রয়েছে প্যান্ডোরা পেপারসে। ফাঁস হওয়া নথিতে তিন শতাধিক ভারতীয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর প্রায় দ্বিগুণ নাম রয়েছে পাকিস্তানিদের। দেশটির প্রায় ৭০০ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন সরকারের দুই মন্ত্রীও রয়েছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতারা সরাসরি ইমরানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ডন।

নথি অনুযায়ী, ভারতের ৩৮০ প্রভাবশালীর নাম এর তালিকায় উঠে এসেছে। ধনকুবের-ব্যবসায়ী-রাজনীতিবিদ কে নেই এই তালিকায়। এর মধ্যে রয়েছেন রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান ও ধনকুবের অনিল আম্বানি, পলাতক হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদির বোন, জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকার। এমনকি রাজনীতিবিদ, আইনবিষয়ক কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তাও রয়েছেন এ তালিকায়। ব্রিটেনের একটি আদালতে ভারতীয় ধনকুবের অনিল আম্বানিকে ‘দেউলিয়া’ ঘোষণা করা হয়। তার সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছে প্যান্ডোরা পেপারস। বলা হচ্ছে-তার ১৮টি অফশোর কোম্পানির মালিকানা রয়েছে।

এদিকে ‘প্যান্ডোরা পেপারস’ ফাঁসের জেরে বেকায়দায় পড়েছেন বিশ্বনেতারা। নিজেদের অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের খতিয়ান ফাঁস হওয়ায় মুখে চুনকালি পড়েছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা ও বতর্ক চলছে। এদিকে অভিযুক্তদের বেশিরভাগই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাপারে চুপ করে আছেন। তবে মুখ খুলতে শুরু করেছেন কেউ কেউ। এএফপি। প্যান্ডোরা পেপারসে পাকিস্তানের প্রায় ৭০০ রাজনীতিক ও ধনীর নাম এসেছে। এসব তথ্য সামনে আসার পরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্যান্ডোরা পেপারসে যেসব পাকিস্তানির নাম এসেছে, তাদের তদন্তের আওতায় আনবে তার সরকার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। প্যান্ডোরা পেপারসে নাম আসায় বিরোধীদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আনদ্রেজ বাবিস। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত সম্পদ ও সরকারি তহবিল তসরুফের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও সত্যকে বিকৃত করার চেষ্টা।’ দেশটিতে আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব সৃষ্টি করতেই এসব সামনে আনা হচ্ছে বলে পালটা অভিযোগ করেছেন তিনি।

ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেমকভ বলেন, ‘এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ। পুতিন বন্ধুমহলের কারও গোপন সম্পদ আমরা দেখিনি।’ জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে ১০ কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে-এমন অভিযোগ ‘বিকৃত তথ্য’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির রয়্যাল কোর্ট। প্যান্ডোরা পেপারসে নাম আসা চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিয়েরাও নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে তার কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন