নতুন পাসপোর্ট দেবে তালেবান
jugantor
নতুন পাসপোর্ট দেবে তালেবান
শীতের আগেই ‘অন্ধকার যুগ’ আসছে আফগানিস্তানে

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগান জনগণকে নতুন পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তালেবান সরকার। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত সপ্তাহে পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র পরিবর্তনের ঘোষণা

দেয় তালেবান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণসংযোগ বিভাগের মুখপাত্র সাঈদ খোস্তি বলেন, প্রথম দফায় ২৫ হাজার নাগরিককে নতুন পাসপোর্ট দেওয়া হবে। এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে পাসপোর্ট বিভাগের কর্মীদের চাকরিতে ফেরার নির্দেশ দেন। পাসপোর্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলম গুল হাক্কানি বলেন, প্রতিদিন ৫-৬ হাজার পার্সপোর্ট দেওয়া হবে। নারী নাগরিকদের পাসপোর্ট সরবরাহের জন্য নারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। গত দুই মাসে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার নাগরিক নতুন পাসপোর্টের জন্য দরখাস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।

স্নাতক ডিগ্রিধারীরা কোনো কাজের না : গত বিশ বছরে যারা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন তারা কোনো কাজের না। কাবুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে এক বৈঠকে মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আব্দুল বাকি হাক্কানি। এনডিটিভি।

তালেবানের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী মূলত মার্কিন সমর্থিত হামিদ কারজাই ও আশরাফ ঘানির শাসনামল, ২০০০-২০২০ সাল পর্যন্ত যারা স্নাতক পাস করেছেন তাদের কথাই উল্লেখ করেছেন। হাক্কানি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত এমন শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া যারা শিক্ষার্থী ও নতুন প্রজন্মকে এমন মূল্যবোধ শিক্ষা দেবে, যা দেশের কাজে লাগবে। আফগানিস্তান যেন ভবিষ্যতে তাদের মেধা কাজে লাগাতে পারে। ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানে মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিতদের তুলনায় আধুনিক শিক্ষায় মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা কম গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার ক্ষেত্রে আফগানিস্তানে ২০০০-২০২০ সাল পর্যন্ত সময়কে গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ যুগ হিসাবে মনে করা হয়।

তালেবানকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে -ম্যাক্রোঁ : জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন সামনে করে আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের স্বীকৃতির ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, তালেবানকে জি-২০ সম্মেলন থেকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে তাদেরকে নারীদের জন্য সমতা, বিদেশি মানবিক কার্যক্রমের প্রবেশাধিকার এবং ইসলামি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতা না করার মতো বিষয়গুলো মানতে হবে। রয়টার্স।

বিদ্যুৎ বিল মেটাচ্ছে না তালেবান : আফগানিস্তানে আসন্ন শীতের মৌসুম। পাহাড়ি দেশটির হাড় কাঁপানো ঠান্ডা যে কতটা নির্মম হতে পারে তা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। এহেন পরিস্থিতিতে এবার কার্যত ‘অন্ধকার যুগে’ ফিরে যেতে চলেছে দেশটি। কারণ, বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানি করলেও সেই বিল মেটাচ্ছে না তালেবান শাসকরা। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো জোগান বন্ধ করে দিতে চলেছে বলে খবরে জানা যায়। আফগানিস্তানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জোগান দেওয়ার জন্য সেই অর্থে কোনো কেন্দ্রীয় পরিকাঠামো বা ‘ন্যাশনাল পাওয়ার গ্রিড’ নেই। ফলে প্রতিবেশী মধ্য এশীয় দেশগুলো থেকেই বিদ্যুৎ আমদানি করতে হয় কাবুলকে। তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর ইস্তফা দিয়েছেন দেশটির সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থার প্রধান দাউদ নুরাজি। তারপর থেকেই কার্যত থমকে রয়েছে সমস্ত প্রশাসনিক কাজ। এছাড়া বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোর বকেয়াও মেটাচ্ছে না তালেবান। ফলে শীত মৌসুমের আগেই সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে তারা। দাউদ নুরাজি জানিয়েছেন, মূলত উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান থেকে প্রয়োজনের ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ আমদানি করে আফগানিস্তান। আর চলতি বছর অনাবৃষ্টির জেরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে শীতের মৌসুমে বিদ্যুতের জোগান বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াবে।

নতুন পাসপোর্ট দেবে তালেবান

শীতের আগেই ‘অন্ধকার যুগ’ আসছে আফগানিস্তানে
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগান জনগণকে নতুন পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তালেবান সরকার। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত সপ্তাহে পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র পরিবর্তনের ঘোষণা

দেয় তালেবান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণসংযোগ বিভাগের মুখপাত্র সাঈদ খোস্তি বলেন, প্রথম দফায় ২৫ হাজার নাগরিককে নতুন পাসপোর্ট দেওয়া হবে। এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে পাসপোর্ট বিভাগের কর্মীদের চাকরিতে ফেরার নির্দেশ দেন। পাসপোর্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলম গুল হাক্কানি বলেন, প্রতিদিন ৫-৬ হাজার পার্সপোর্ট দেওয়া হবে। নারী নাগরিকদের পাসপোর্ট সরবরাহের জন্য নারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। গত দুই মাসে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার নাগরিক নতুন পাসপোর্টের জন্য দরখাস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।

স্নাতক ডিগ্রিধারীরা কোনো কাজের না : গত বিশ বছরে যারা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন তারা কোনো কাজের না। কাবুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে এক বৈঠকে মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আব্দুল বাকি হাক্কানি। এনডিটিভি।

তালেবানের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী মূলত মার্কিন সমর্থিত হামিদ কারজাই ও আশরাফ ঘানির শাসনামল, ২০০০-২০২০ সাল পর্যন্ত যারা স্নাতক পাস করেছেন তাদের কথাই উল্লেখ করেছেন। হাক্কানি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত এমন শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া যারা শিক্ষার্থী ও নতুন প্রজন্মকে এমন মূল্যবোধ শিক্ষা দেবে, যা দেশের কাজে লাগবে। আফগানিস্তান যেন ভবিষ্যতে তাদের মেধা কাজে লাগাতে পারে। ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানে মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিতদের তুলনায় আধুনিক শিক্ষায় মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা কম গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার ক্ষেত্রে আফগানিস্তানে ২০০০-২০২০ সাল পর্যন্ত সময়কে গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ যুগ হিসাবে মনে করা হয়।

তালেবানকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে -ম্যাক্রোঁ : জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন সামনে করে আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের স্বীকৃতির ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, তালেবানকে জি-২০ সম্মেলন থেকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে তাদেরকে নারীদের জন্য সমতা, বিদেশি মানবিক কার্যক্রমের প্রবেশাধিকার এবং ইসলামি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতা না করার মতো বিষয়গুলো মানতে হবে। রয়টার্স।

বিদ্যুৎ বিল মেটাচ্ছে না তালেবান : আফগানিস্তানে আসন্ন শীতের মৌসুম। পাহাড়ি দেশটির হাড় কাঁপানো ঠান্ডা যে কতটা নির্মম হতে পারে তা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। এহেন পরিস্থিতিতে এবার কার্যত ‘অন্ধকার যুগে’ ফিরে যেতে চলেছে দেশটি। কারণ, বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানি করলেও সেই বিল মেটাচ্ছে না তালেবান শাসকরা। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো জোগান বন্ধ করে দিতে চলেছে বলে খবরে জানা যায়। আফগানিস্তানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জোগান দেওয়ার জন্য সেই অর্থে কোনো কেন্দ্রীয় পরিকাঠামো বা ‘ন্যাশনাল পাওয়ার গ্রিড’ নেই। ফলে প্রতিবেশী মধ্য এশীয় দেশগুলো থেকেই বিদ্যুৎ আমদানি করতে হয় কাবুলকে। তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর ইস্তফা দিয়েছেন দেশটির সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থার প্রধান দাউদ নুরাজি। তারপর থেকেই কার্যত থমকে রয়েছে সমস্ত প্রশাসনিক কাজ। এছাড়া বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোর বকেয়াও মেটাচ্ছে না তালেবান। ফলে শীত মৌসুমের আগেই সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে তারা। দাউদ নুরাজি জানিয়েছেন, মূলত উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান থেকে প্রয়োজনের ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ আমদানি করে আফগানিস্তান। আর চলতি বছর অনাবৃষ্টির জেরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে শীতের মৌসুমে বিদ্যুতের জোগান বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন