সিআইএ চরদের হত্যা করছে চীন-রাশিয়া
jugantor
সিআইএ চরদের হত্যা করছে চীন-রাশিয়া
কয়েক ডজন চর হত্যার শিকার ওয়াশিংটনের

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র চর শিকারে নেমেছে চীন ও রাশিয়া। বসে নেই ইরান ও পাকিস্তানও। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা অনেক এজেন্টকেই হত্যা করেছে দেশগুলো। সিআইএ’র কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। শুধু তাই নয়, এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সাবধানতা অবলম্বনের জন্য বিশ্বজুড়ে নিজেদের স্টেশন ও ঘাঁটিগুলোতে বিশেষ বার্তাও পাঠিয়েছেন তারা। নিউইয়র্ক টাইমসের মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সিআইএ বা সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা। বিশ্বজুড়েই আলোচিত ও সমালোচিত। কেউই তাদের নজরদারির হাত থেকে মুক্ত নন। শুধু গোয়েন্দা তথ্য হাতিয়ে নেওয়া নয়, দেশে দেশে হত্যা মিশনসহ নানা গোপন অভিযান চালিয়ে থাকে সিআইএ। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে শত্রু বা টার্গেট দেশের কিছু স্থানীয় নাগরিককে চর হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা ও চর নিয়োগের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সিআইএ।

সিআইএ’র তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। এখন থেকে দুই বছর আগে (২০১৯ সালের জুলাই মাসে) দেশটির সরকার জানায়, তারা সিআইএ’র হয়ে কাজ করা অন্তত ১৭ জন গুপ্তচরকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। দেশটির তদন্তকারী সংস্থা জানায়, সন্দেহভাজনরা ইরানের পরমাণু, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিল। বিবিসি।

নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, সম্প্রতি সিআইএ’র এজেন্ট বা তথ্যদাতাদের বিরুদ্ধে রীতিমতো অভিযানে নেমেছে রাশিয়া, চীন, ইরান ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এর ফলে সিআইএ’র এজেন্টরা হয় ধরা পড়ছে, না হয় হত্যার শিকার হচ্ছে। আবার কখনও এসব চরকে ‘ডাবল এজেন্ট’ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সিআইএ সাধারণত তাদের এজেন্ট হত্যার কথা শিকার করে না। করলেও সেটা খুবই দুর্লভ। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের সংখ্যা সাধারণত জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়। এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার অনেক কর্মীও এসব তথ্য জানতে পারেন না। সিআইএ’র বার্তায় আরও বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের ওপর অধিক আস্থা রাখা, দ্রুত তাদের এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ করার মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাব্য গোয়েন্দা তথ্যঝুঁকির প্রতি অবহেলার বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। আপস করা তথ্যদাতাদের উত্থানে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সিআইএ’র সব ক্রিয়াকলাপ আরও বেশি অত্যাধুনিক উপায়ে পর্যবেক্ষণ করছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ফেসিয়াল রিকগনিশন টুলস (মুখমণ্ডল চিহ্নিতকরণ যন্ত্র) ও অন্যান্য হ্যাকিং প্রযুক্তির নানা ব্যবহার রয়েছে।

সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ডগলাস লন্ডন এ ব্যাপারে বলেন, ‘যখন কোনো অ্যাজেন্টের সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটে, তখন আসলে কাউকে দায়ী করা হয় না। অনেক সময় এমন কিছু থাকে, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে অবহেলার ঘটনাও থাকে। এ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ পদে থাকা ব্যক্তিদের কখনোই দায়ী করা হয় না।’ তবে বিশেষ ওই তারবার্তা সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি। নতুন এ তারবার্তা নিয়ে সিআইএ কোনো মন্তব্য করেনি। ওই বার্তা যারা পড়েছেন তারা বলেছেন, সম্ভাব্য নতুন তথ্যদাতাদের তালিকাভুক্তি ও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি জড়িত কর্মকর্তাদের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।

সিআইএ চরদের হত্যা করছে চীন-রাশিয়া

কয়েক ডজন চর হত্যার শিকার ওয়াশিংটনের
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র চর শিকারে নেমেছে চীন ও রাশিয়া। বসে নেই ইরান ও পাকিস্তানও। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা অনেক এজেন্টকেই হত্যা করেছে দেশগুলো। সিআইএ’র কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। শুধু তাই নয়, এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সাবধানতা অবলম্বনের জন্য বিশ্বজুড়ে নিজেদের স্টেশন ও ঘাঁটিগুলোতে বিশেষ বার্তাও পাঠিয়েছেন তারা। নিউইয়র্ক টাইমসের মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সিআইএ বা সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা। বিশ্বজুড়েই আলোচিত ও সমালোচিত। কেউই তাদের নজরদারির হাত থেকে মুক্ত নন। শুধু গোয়েন্দা তথ্য হাতিয়ে নেওয়া নয়, দেশে দেশে হত্যা মিশনসহ নানা গোপন অভিযান চালিয়ে থাকে সিআইএ। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে শত্রু বা টার্গেট দেশের কিছু স্থানীয় নাগরিককে চর হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা ও চর নিয়োগের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সিআইএ।

সিআইএ’র তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। এখন থেকে দুই বছর আগে (২০১৯ সালের জুলাই মাসে) দেশটির সরকার জানায়, তারা সিআইএ’র হয়ে কাজ করা অন্তত ১৭ জন গুপ্তচরকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। দেশটির তদন্তকারী সংস্থা জানায়, সন্দেহভাজনরা ইরানের পরমাণু, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিল। বিবিসি।

নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, সম্প্রতি সিআইএ’র এজেন্ট বা তথ্যদাতাদের বিরুদ্ধে রীতিমতো অভিযানে নেমেছে রাশিয়া, চীন, ইরান ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এর ফলে সিআইএ’র এজেন্টরা হয় ধরা পড়ছে, না হয় হত্যার শিকার হচ্ছে। আবার কখনও এসব চরকে ‘ডাবল এজেন্ট’ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সিআইএ সাধারণত তাদের এজেন্ট হত্যার কথা শিকার করে না। করলেও সেটা খুবই দুর্লভ। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের সংখ্যা সাধারণত জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়। এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার অনেক কর্মীও এসব তথ্য জানতে পারেন না। সিআইএ’র বার্তায় আরও বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের ওপর অধিক আস্থা রাখা, দ্রুত তাদের এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ করার মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাব্য গোয়েন্দা তথ্যঝুঁকির প্রতি অবহেলার বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। আপস করা তথ্যদাতাদের উত্থানে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সিআইএ’র সব ক্রিয়াকলাপ আরও বেশি অত্যাধুনিক উপায়ে পর্যবেক্ষণ করছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ফেসিয়াল রিকগনিশন টুলস (মুখমণ্ডল চিহ্নিতকরণ যন্ত্র) ও অন্যান্য হ্যাকিং প্রযুক্তির নানা ব্যবহার রয়েছে।

সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ডগলাস লন্ডন এ ব্যাপারে বলেন, ‘যখন কোনো অ্যাজেন্টের সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটে, তখন আসলে কাউকে দায়ী করা হয় না। অনেক সময় এমন কিছু থাকে, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে অবহেলার ঘটনাও থাকে। এ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ পদে থাকা ব্যক্তিদের কখনোই দায়ী করা হয় না।’ তবে বিশেষ ওই তারবার্তা সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি। নতুন এ তারবার্তা নিয়ে সিআইএ কোনো মন্তব্য করেনি। ওই বার্তা যারা পড়েছেন তারা বলেছেন, সম্ভাব্য নতুন তথ্যদাতাদের তালিকাভুক্তি ও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি জড়িত কর্মকর্তাদের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন