গোপনে তাইওয়ানকে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
jugantor
গোপনে তাইওয়ানকে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
এক বছর আগেই ঘাঁটি গেড়েছে মার্কিন সেনা : চীনের হুঁশিয়ারি

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৯ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ও মেরিন সদস্যরা গোপনে তাইওয়ানের সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি পশ্চিমা গণমাধ্যম। বৃহস্পতিবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই ডজন সেনাসদস্য ‘অন্তত এক বছর’ ধরে তাইওয়ানের স্থল ও সমুদ্রবাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনা চাউর হতেই শুক্রবার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। বলেছে, বেইজিং তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এএফপি ও ওয়াশিংটন পোস্ট।

নভেম্বরে তাইওয়ানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, তাইওয়ানের মেরিন ও বিশেষ বাহিনীর সেনাদের প্রশিক্ষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সেখানে পৌঁছেছেন। তবে সে সময় খবরটি নাকচ করেছিল দুই দেশই। তাদের দাবি ছিল, কোনো প্রশিক্ষণ নয়, তারা দ্বিপাক্ষিক সামরিক বিনিময় ও সহযোগিতায় যুক্ত হয়েছেন তারা।

এবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বা নাকচ করেনি কোনো পক্ষই। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেছেন, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা চাহিদা বিবেচনা করেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সহায়তা দেয়। গত বছর প্রকাশিত এক ভিডিওতেও মার্কিন সেনাদেরকে স্বশাসিত দ্বীপটির একটি মহড়ায় অংশ নিতে দেখা গেছে। মহড়ার শিরোনাম ছিল ‘ব্যালেন্স টেম্পার’। তাইওয়ানের গণমাধ্যম ওই ভিডিওটিও ফলাও করে প্রচার করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময়কালে চীনও তাইওয়ানের আশপাশে তাদের শক্তি প্রদর্শন বাড়িয়ে দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আলজাজিরা। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসাবে মনে করে। স্বশাসিত দ্বীপটি আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার চেষ্টা করলে সেখানে বল প্রয়োগের হুমকিও দিয়ে রেখেছে তারা।

তাইওয়ান জানিয়েছে, তারা কেবল সোমবারই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা জোনে রেকর্ড ৫৬টি চীনা বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। স্বশাসিত এই দ্বীপটির চীনবিষয়ক সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমএসি) বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ‘স্থিতাবস্থা ও তাইওয়ান প্রণালীর স্থিতিশীলতা নষ্টের’ অভিযোগ এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস চীনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ‘অস্থিতিশীল’ ও ‘উসকানিমূলক’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আমরা বেইজিংয়ের প্রতি তাদের সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ ও তাইওয়ানকে ভয়ভীতি দেখানো বন্ধে দৃঢ় আহ্বান জানাচ্ছি।’ চীনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা জোরদার করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বশাসিত দ্বীপে অবস্থান করছে এমন প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চীন শুক্রবার তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

গোপনে তাইওয়ানকে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

এক বছর আগেই ঘাঁটি গেড়েছে মার্কিন সেনা : চীনের হুঁশিয়ারি
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৯ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ও মেরিন সদস্যরা গোপনে তাইওয়ানের সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি পশ্চিমা গণমাধ্যম। বৃহস্পতিবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই ডজন সেনাসদস্য ‘অন্তত এক বছর’ ধরে তাইওয়ানের স্থল ও সমুদ্রবাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনা চাউর হতেই শুক্রবার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। বলেছে, বেইজিং তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এএফপি ও ওয়াশিংটন পোস্ট।

নভেম্বরে তাইওয়ানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, তাইওয়ানের মেরিন ও বিশেষ বাহিনীর সেনাদের প্রশিক্ষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সেখানে পৌঁছেছেন। তবে সে সময় খবরটি নাকচ করেছিল দুই দেশই। তাদের দাবি ছিল, কোনো প্রশিক্ষণ নয়, তারা দ্বিপাক্ষিক সামরিক বিনিময় ও সহযোগিতায় যুক্ত হয়েছেন তারা।

এবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বা নাকচ করেনি কোনো পক্ষই। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেছেন, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা চাহিদা বিবেচনা করেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সহায়তা দেয়। গত বছর প্রকাশিত এক ভিডিওতেও মার্কিন সেনাদেরকে স্বশাসিত দ্বীপটির একটি মহড়ায় অংশ নিতে দেখা গেছে। মহড়ার শিরোনাম ছিল ‘ব্যালেন্স টেম্পার’। তাইওয়ানের গণমাধ্যম ওই ভিডিওটিও ফলাও করে প্রচার করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময়কালে চীনও তাইওয়ানের আশপাশে তাদের শক্তি প্রদর্শন বাড়িয়ে দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আলজাজিরা। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসাবে মনে করে। স্বশাসিত দ্বীপটি আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার চেষ্টা করলে সেখানে বল প্রয়োগের হুমকিও দিয়ে রেখেছে তারা।

তাইওয়ান জানিয়েছে, তারা কেবল সোমবারই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা জোনে রেকর্ড ৫৬টি চীনা বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। স্বশাসিত এই দ্বীপটির চীনবিষয়ক সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমএসি) বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ‘স্থিতাবস্থা ও তাইওয়ান প্রণালীর স্থিতিশীলতা নষ্টের’ অভিযোগ এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস চীনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ‘অস্থিতিশীল’ ও ‘উসকানিমূলক’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আমরা বেইজিংয়ের প্রতি তাদের সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ ও তাইওয়ানকে ভয়ভীতি দেখানো বন্ধে দৃঢ় আহ্বান জানাচ্ছি।’ চীনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা জোরদার করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বশাসিত দ্বীপে অবস্থান করছে এমন প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চীন শুক্রবার তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন