স্বার্থের সম্মেলনে তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র
jugantor
কাতারের দোহায় দুই দিনব্যাপী বৈঠক শুরু
স্বার্থের সম্মেলনে তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র
তালেবান চায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি-অর্থছাড় * ওয়াশিংটন চায় সন্ত্রাস দমনের নিশ্চয়তা * অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গড়তে প্রস্তুত : তালেবান

  যুগান্তর ডেস্ক  

১০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তালেবানের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার কাতারের দোহায় দুদিনব্যাপী এই বৈঠক শুরু হয়। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই প্রথম কোনো সম্মেলন। সম্মেলনে নিজ নিজ স্বার্থকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন উভয় পক্ষের প্রতিনিধি দল। তালেবানের নজর সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, মানবিক সহায়তা ও অর্থছাড়ের দিকে। অন্যদিকে সন্ত্রাস দমন ও আফগানিস্তানে একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার’ গঠনের নিশ্চয়তা চায় ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই আলোচনা মোটেও তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বার্থ নিশ্চিতেই এই আলোচনায় বসবেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।

এদিকে সুর নরম করেছে তালেবান। আফগানিস্তানে সবার অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে ‘প্রস্তুত’ আছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। তবে ওই সরকারে কে থাকবে বা না থাকবে তা নিয়ে পশ্চিমাদের নির্দেশনা মানবে না বলেও জানিয়েছে তারা। একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের পক্ষে পশ্চিমা চাপের জবাবে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন গোষ্ঠীটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি সুহাইল শাহীন। এই বৈঠকের আগেই আলজাজিরাকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন সুহাইল শাহীন। এতে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই আফগান জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।’ তালেবান বলেছে, গত মাসে ঘোষিত তাদের মন্ত্রিসভায় জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে এবং পরে নারীদেরও যুক্ত করা হবে। তবে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকারে ‘পুরোনো সরকারের লোকদের’ অন্তর্ভুক্ত করার মার্কিন পরামর্শে তালেবান এখনো রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর তালেবানের ‘আফগানিস্তান ইসলামি আমিরাত’ (আইইএ) নানাভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে। কিন্তু পশ্চিমারা বলছে, নারী এবং সংখ্যালঘুদের সঙ্গে আচরণের ভিত্তিতে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে। নারীদের উচ্চ বিদ্যালয় অব্যাহতভাবে বন্ধ রাখা এবং হাজারো জনগণের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানোর কারণে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তালেবানের সমালোচনা করছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আলজাজিরা জানায়, শনিবার কাতারের দোহায় তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুদিনব্যাপী বৈঠক শুরু হয়েছে। এদিন তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির নেতৃত্বে একটি আফগান প্রতিনিধি দল দোহায় পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের এই টিমে রয়েছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহকারী বিশেষ প্রতিনিধি টম ওয়েস্ট, ইউএসএআইডির শীর্ষ মানবাধিকার কর্মকর্তা সারাহ চার্লস। থাকছেন না যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি জালমাই খলিলজাদ। যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি করার প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

রয়টার্স জানিয়েছে, মূলত আফগানিস্তানে আটকে পরা বিদেশিদের উদ্ধার করা নিয়েই এই আলোচনা। এছাড়া এই আলোচনায় আফগানিস্তানে নারী অধিকার নিশ্চিত ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় তালেবানের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, মার্কিন এনজিও ইউএসএআইডি ও মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বৈঠকে, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকসহ দোভাষীদের নিরাপত্তার ইস্যুটি উত্থাপন করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অপহৃত নাগরিক মার্ক ফ্রেরিচসকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারেও কথা বলবেন তারা। বৈঠকে আরও প্রাধান্য পাবে আল কায়দাকে আশ্রয় না দেওয়ার বিষয়টিও। আফগানিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি সব আফগানের অধিকার রক্ষায় তালেবানের ওপর চাপ দেওয়া হবে। বিশেষ করে আফগান মেয়ে ও নারীদের অধিকার নিশ্চিতে।

কাতারের দোহায় দুই দিনব্যাপী বৈঠক শুরু

স্বার্থের সম্মেলনে তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র

তালেবান চায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি-অর্থছাড় * ওয়াশিংটন চায় সন্ত্রাস দমনের নিশ্চয়তা * অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গড়তে প্রস্তুত : তালেবান
 যুগান্তর ডেস্ক 
১০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তালেবানের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার কাতারের দোহায় দুদিনব্যাপী এই বৈঠক শুরু হয়। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই প্রথম কোনো সম্মেলন। সম্মেলনে নিজ নিজ স্বার্থকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন উভয় পক্ষের প্রতিনিধি দল। তালেবানের নজর সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, মানবিক সহায়তা ও অর্থছাড়ের দিকে। অন্যদিকে সন্ত্রাস দমন ও আফগানিস্তানে একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার’ গঠনের নিশ্চয়তা চায় ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই আলোচনা মোটেও তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বার্থ নিশ্চিতেই এই আলোচনায় বসবেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।

এদিকে সুর নরম করেছে তালেবান। আফগানিস্তানে সবার অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে ‘প্রস্তুত’ আছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। তবে ওই সরকারে কে থাকবে বা না থাকবে তা নিয়ে পশ্চিমাদের নির্দেশনা মানবে না বলেও জানিয়েছে তারা। একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের পক্ষে পশ্চিমা চাপের জবাবে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন গোষ্ঠীটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি সুহাইল শাহীন। এই বৈঠকের আগেই আলজাজিরাকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন সুহাইল শাহীন। এতে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই আফগান জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।’ তালেবান বলেছে, গত মাসে ঘোষিত তাদের মন্ত্রিসভায় জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে এবং পরে নারীদেরও যুক্ত করা হবে। তবে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকারে ‘পুরোনো সরকারের লোকদের’ অন্তর্ভুক্ত করার মার্কিন পরামর্শে তালেবান এখনো রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর তালেবানের ‘আফগানিস্তান ইসলামি আমিরাত’ (আইইএ) নানাভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে। কিন্তু পশ্চিমারা বলছে, নারী এবং সংখ্যালঘুদের সঙ্গে আচরণের ভিত্তিতে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে। নারীদের উচ্চ বিদ্যালয় অব্যাহতভাবে বন্ধ রাখা এবং হাজারো জনগণের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানোর কারণে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তালেবানের সমালোচনা করছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আলজাজিরা জানায়, শনিবার কাতারের দোহায় তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুদিনব্যাপী বৈঠক শুরু হয়েছে। এদিন তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির নেতৃত্বে একটি আফগান প্রতিনিধি দল দোহায় পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের এই টিমে রয়েছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহকারী বিশেষ প্রতিনিধি টম ওয়েস্ট, ইউএসএআইডির শীর্ষ মানবাধিকার কর্মকর্তা সারাহ চার্লস। থাকছেন না যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি জালমাই খলিলজাদ। যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি করার প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

রয়টার্স জানিয়েছে, মূলত আফগানিস্তানে আটকে পরা বিদেশিদের উদ্ধার করা নিয়েই এই আলোচনা। এছাড়া এই আলোচনায় আফগানিস্তানে নারী অধিকার নিশ্চিত ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় তালেবানের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, মার্কিন এনজিও ইউএসএআইডি ও মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বৈঠকে, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকসহ দোভাষীদের নিরাপত্তার ইস্যুটি উত্থাপন করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অপহৃত নাগরিক মার্ক ফ্রেরিচসকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারেও কথা বলবেন তারা। বৈঠকে আরও প্রাধান্য পাবে আল কায়দাকে আশ্রয় না দেওয়ার বিষয়টিও। আফগানিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি সব আফগানের অধিকার রক্ষায় তালেবানের ওপর চাপ দেওয়া হবে। বিশেষ করে আফগান মেয়ে ও নারীদের অধিকার নিশ্চিতে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন