কাবুলে সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা
jugantor
কাবুলে সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা
নাগরিকদের হোটেলে না থাকার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনের * তালেবানের সঙ্গে ‘খোলামেলা ও পেশাদার’ আলোচনা হয়েছে : যুক্তরাষ্ট্র

  যুগান্তর ডেস্ক  

১২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কাবুলে সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা

আফগানিস্তানের কাবুলে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানীর হোটেলগুলোতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। সেই নিজ নিজ নাগরিকদের সতর্ক করেছে পশ্চিমা দেশ দুটি। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়, কাবুলের সেরেনা হোটেল সংলগ্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক যারা রয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে তাদের অন্যত্র সরে যেতে বলা হচ্ছে। আলজাজিরা।

সতর্ক করা হয়েছে ব্রিটিশ নাগরিকদেরও। এ ব্যাপারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ব্রিটিশ নাগরিকরা যেন কোনো হোটেলে না থাকেন, বিশেষ করে কাবুলে সেরেনার মতো হোটেলে। সেরেনা কাবুলের একটি অভিজাত হোটেল। আট সপ্তাহ আগে তালেবান কাবুল নিয়ন্ত্রণের আগে এই হোটেলটি বিদেশিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। এর আগেও দুবার হামলার টার্গেটে ছিল এটি। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গত ১৫ আগস্ট দখল করে নেয় তালেবান। এরপর থেকেই পরিস্থিতির চরম অবনতি হয় দেশটিতে। এর মাঝে গত শুক্রবার (৮ অক্টোবর) কুন্দুজের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হন এবং আহত হন শতাধিক। পরে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট এই হামলার দায় স্বীকার করে।

এদিকে কাতারের দোহায় তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠক শেষ হয়েছে। তালেবান প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এই বৈঠককে ‘খোলামেলা ও পেশাদার’ হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও তালেবানের ক্ষমতাগ্রহণের পর শনিবার প্রথমবারের জন্য তালেবানের সঙ্গে বৈঠকে বসে মার্কিন কর্মকর্তারা। শনিবার শুরু হয়ে রোববার শেষ হয় দুদিনব্যাপী এই বৈঠক।

বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চলতি সপ্তাহে দোহা আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের নিরাপদে ফেরার নিশ্চয়তার বিষয়গুলো নিয়ে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, ‘তালেবানের সঙ্গে হওয়া বৈঠকটি ছিল পেশাদার এবং প্রাণবন্ত।’ তবে নতুন কোনো চুক্তি হয়েছে কি-না, বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

এছাড়া আফগানিস্তানের সমাজব্যবস্থায় সবক্ষেত্রে নারীদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণসহ মানবাধিকার বিষয়গুলোও উঠে এসেছে আলোচনায়। তালেবানের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথাও জানান তারা।

আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র : আফগানিস্তানকে মানবিক সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার কাতারের দোহায় আফগান-মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় তালেবান কর্মকর্তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনা ‘ভালো হয়েছে’। ওয়াশিংটন আফগানিস্তানে মানবিক সহায়ত দেবে। তবে এর সঙ্গে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই। যুক্তরাষ্ট্রও এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিষয়টি কোনোভাবেই তালেবানদের স্বীকৃতির প্রস্তাবনা নয়।

কাবুলে সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা

নাগরিকদের হোটেলে না থাকার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনের * তালেবানের সঙ্গে ‘খোলামেলা ও পেশাদার’ আলোচনা হয়েছে : যুক্তরাষ্ট্র
 যুগান্তর ডেস্ক 
১২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
কাবুলে সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের কাবুলে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানীর হোটেলগুলোতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। সেই নিজ নিজ নাগরিকদের সতর্ক করেছে পশ্চিমা দেশ দুটি। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়, কাবুলের সেরেনা হোটেল সংলগ্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক যারা রয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে তাদের অন্যত্র সরে যেতে বলা হচ্ছে। আলজাজিরা।

সতর্ক করা হয়েছে ব্রিটিশ নাগরিকদেরও। এ ব্যাপারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ব্রিটিশ নাগরিকরা যেন কোনো হোটেলে না থাকেন, বিশেষ করে কাবুলে সেরেনার মতো হোটেলে। সেরেনা কাবুলের একটি অভিজাত হোটেল। আট সপ্তাহ আগে তালেবান কাবুল নিয়ন্ত্রণের আগে এই হোটেলটি বিদেশিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। এর আগেও দুবার হামলার টার্গেটে ছিল এটি। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গত ১৫ আগস্ট দখল করে নেয় তালেবান। এরপর থেকেই পরিস্থিতির চরম অবনতি হয় দেশটিতে। এর মাঝে গত শুক্রবার (৮ অক্টোবর) কুন্দুজের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হন এবং আহত হন শতাধিক। পরে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট এই হামলার দায় স্বীকার করে।

এদিকে কাতারের দোহায় তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠক শেষ হয়েছে। তালেবান প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এই বৈঠককে ‘খোলামেলা ও পেশাদার’ হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও তালেবানের ক্ষমতাগ্রহণের পর শনিবার প্রথমবারের জন্য তালেবানের সঙ্গে বৈঠকে বসে মার্কিন কর্মকর্তারা। শনিবার শুরু হয়ে রোববার শেষ হয় দুদিনব্যাপী এই বৈঠক।

বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চলতি সপ্তাহে দোহা আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের নিরাপদে ফেরার নিশ্চয়তার বিষয়গুলো নিয়ে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, ‘তালেবানের সঙ্গে হওয়া বৈঠকটি ছিল পেশাদার এবং প্রাণবন্ত।’ তবে নতুন কোনো চুক্তি হয়েছে কি-না, বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

এছাড়া আফগানিস্তানের সমাজব্যবস্থায় সবক্ষেত্রে নারীদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণসহ মানবাধিকার বিষয়গুলোও উঠে এসেছে আলোচনায়। তালেবানের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথাও জানান তারা।

আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র : আফগানিস্তানকে মানবিক সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার কাতারের দোহায় আফগান-মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় তালেবান কর্মকর্তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনা ‘ভালো হয়েছে’। ওয়াশিংটন আফগানিস্তানে মানবিক সহায়ত দেবে। তবে এর সঙ্গে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই। যুক্তরাষ্ট্রও এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিষয়টি কোনোভাবেই তালেবানদের স্বীকৃতির প্রস্তাবনা নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন