ফিলিপাইনে পঞ্চমুখী লড়াই
jugantor
প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২২
ফিলিপাইনে পঞ্চমুখী লড়াই

  যুগান্তর ডেস্ক  

১২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এগিয়ে আসছে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ছয় বছরের মেয়াদ শেষ করে ইস্তফা দিচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে। রাজনীতিই ছেড়ে দিচ্ছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তাহলে কে হচ্ছেন তার পরবর্তী উত্তরসূরি?

২০২২ সালের ৯ মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা এখনো শুরু হয়নি। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রার্থীদের পদক্ষেপ এবং কৌশলগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। এ থেকে কিছুটা হলেও আন্দাজ করা যাচ্ছে ফিলিপাইনের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন একপেশে হচ্ছে না। পঞ্চমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমজমাট হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দি গার্ডিয়ান।

শুক্রবার ছিল প্রার্থিতা ঘোষণার শেষ দিন। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের দৌড়ে আসা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বৈরশাসকের ছেলে ফার্ডিনান্ড মার্কোস জুনিয়র, সিনেটর ও সাবেক বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ম্যানি প্যাকুইয়াও, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দুতের্তে সমালোচক লেনি রোব্রেদো এবং সাবেক অভিনেতা ম্যানিলার মেয়র ইসকোমেলেনো। দুতের্তে কন্যা সারা দুতের্তে কার্পিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও শুক্রবার তিনি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থিতা জমা দেননি। তবে আইনের মারপ্যাঁচে শেষমেশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট লেনি রোব্রেদো : বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন লেনি রোব্রেদো। ৫৬ বছর বয়সি একজন মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী তিনি। দেশের রাজনীতিতে তিনি বিরোধীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে মাদকের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত যে যুদ্ধ শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে, তার কড়া সমালোচক লেনি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আমি শুধু আমার সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করব এমন নয়। একই সঙ্গে ক্ষমতার শেষ দিনগুলোতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে ফিলিপাইনের জন্য লড়াই করে যাব। উল্লেখ্য, দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাইরে আলাদাভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়। প্রেসিডেন্ট দুতের্তের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন তিন সন্তানের জননী রোব্রেদো। আর নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি হবেন ফিলিপাইনের তৃতীয় নারী প্রেসিডেন্ট। তার আগে ১৯৮৬ সালে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন কোরাজন অ্যাকুইনো, ২০০১ সালে গেন্ডারিয়া ম্যাকাপাগাল অরোয়ো।

স্বৈরশাসকের ছেলে ফার্দিনান্দ : মার্কোস জুনিয়র ফার্দিনান্দ (৬৪)। তাকে বংবং নামে ডাকা হয়। মঙ্গলবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন-২০২২ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেকে একক প্রার্থী মনে করছেন তিনি। পিতৃতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের সময় ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছেন বংবং, এমনটাই অনুমান করছেন সংশ্লিষ্টরা। মার্কোস জুনিয়র দাবি করেছেন, তার পরিবারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ মানহানিকর। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার প্রার্থিতা থাকায় ফিলিপাইনের মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো আতঙ্কে রয়েছে। প্রতিবাদকারীরা বুধবার ম্যানিলায় মানবাধিকার কমিশন ভবনের বাইরে জড়ো হয়ে তার এ সিদ্ধান্তের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন। তাতে ভ্রূক্ষেপ না করলেও চলবে বংবংয়ের। কারণ, দুতের্তে নিজেকে মার্কোস পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে দ্বিধা করেন না। সে কারণে তাকে সমর্থন দিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফিলিপাইনের দক্ষিণে দুতের্তের জনপ্রিয়তা এবং উত্তরে মার্কোসের জনপ্রিয়তা একত্রিত হয়ে ‘তাণ্ডবশক্তি’ তৈরি হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

বক্সার প্যাকুইয়াও : বক্সার হিসেবে ম্যানি প্যাকুইয়াওর দক্ষতা নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই। ২৬ বছরের বক্সিং ক্যারিয়ারের পর, তিনি ফিলিপাইনে সর্বকালের অন্যতম সেরা বক্সার হিসাবে বিবেচিত হন এবং আটটি ভিন্ন বিভাগে বিশ্ব শিরোপা অর্জনকারী একমাত্র ব্যক্তি। কিন্তু ৪২ বছর বয়সী এই বক্সারের রাজনীতি দক্ষতা সম্পর্কে অনেক কমই জানা যায়।

একজন অত্যন্ত ক্যারিশম্যাটিক এবং গর্বিত খ্রিস্টান প্যাকুইয়াও জানিয়েছেন, তিনি প্রথম ফিলিপাইনের সিনেটর হিসাবে ২০১৬ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সাহায্য করতে চান। যখন তিনি ছোট ছিলেন তখন তিনি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ছিলেন এবং মিষ্টি এবং সিগারেট বিক্রি করে টাকা উপার্জন করেছিলেন। কিশোর বয়সে, তিনি তার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য একজন শ্রমিক হিসাবে কাজ করেছিলেন। যদিও এখন তিনি একজন কোটিপতি।

অভিনেতা মোরোনো : ২০২২ নির্বাচনে একজন তারকা প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্কো মোরোনো (৪৬)। ম্যানিলার মেয়র তিনি। চলতি সপ্তাহেই তিনি তার প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন। গত তিন বছরে তিনি রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করা এই অভিনেতা নিজেই স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ‘আমি ম্যানিলারই একটি বস্তিতে বেড়ে উঠেছিলাম, জীবিকা অর্জনের জন্য আবর্জনা কুড়িয়ে বিক্রি করেছি।’

মেলেনোর আসল নাম ফ্রান্সিসকো ডোমাগোসো, ইসকো মোরেনো তার মঞ্চনাম। ১৯৯৮ সালে ম্যানিলায় সিটি কাউন্সিলর হিসাবে রাজনীতিতে চলে আসেন, ২০০৭ সালে ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালে মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসী বলেই জনগণ তাকে ভোট দেবে বলে তার ধারণা।

দুতের্তের ছায়া : সাম্প্রতিক প্রার্থী জরিপে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন দুতের্তে কন্যা সারা দুতের্তে কার্পিও (৪৩)। সে হিসাবে ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। বরং দাভাও সিটির মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য নথি জমা দিয়েছেন। সোমবার তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, তার বাবার দলের নেতৃত্ব দিতে চান না তিনি। যা হোক, এক মাসের মধ্যে এ চিত্র পাল্টেও যেতে পারে। ফিলিপাইনের নির্বাচনি নিয়ম অনুযায়ী মেয়র নির্বাচনের জন্য আবেদন করলেও ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তার সেই প্রার্থিতা মেয়র থেকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য পরিবর্তন করতে পারবেন। সে হিসাবে তার প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের সম্ভাবনা এখনো উবে যায়নি। ২০১৬ সালে তার বাবা ঠিক তাই করেছিলেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২২

ফিলিপাইনে পঞ্চমুখী লড়াই

 যুগান্তর ডেস্ক 
১২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এগিয়ে আসছে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ছয় বছরের মেয়াদ শেষ করে ইস্তফা দিচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে। রাজনীতিই ছেড়ে দিচ্ছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তাহলে কে হচ্ছেন তার পরবর্তী উত্তরসূরি?

২০২২ সালের ৯ মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা এখনো শুরু হয়নি। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রার্থীদের পদক্ষেপ এবং কৌশলগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। এ থেকে কিছুটা হলেও আন্দাজ করা যাচ্ছে ফিলিপাইনের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন একপেশে হচ্ছে না। পঞ্চমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমজমাট হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দি গার্ডিয়ান।

শুক্রবার ছিল প্রার্থিতা ঘোষণার শেষ দিন। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের দৌড়ে আসা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বৈরশাসকের ছেলে ফার্ডিনান্ড মার্কোস জুনিয়র, সিনেটর ও সাবেক বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ম্যানি প্যাকুইয়াও, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দুতের্তে সমালোচক লেনি রোব্রেদো এবং সাবেক অভিনেতা ম্যানিলার মেয়র ইসকোমেলেনো। দুতের্তে কন্যা সারা দুতের্তে কার্পিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও শুক্রবার তিনি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থিতা জমা দেননি। তবে আইনের মারপ্যাঁচে শেষমেশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট লেনি রোব্রেদো : বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন লেনি রোব্রেদো। ৫৬ বছর বয়সি একজন মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী তিনি। দেশের রাজনীতিতে তিনি বিরোধীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে মাদকের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত যে যুদ্ধ শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে, তার কড়া সমালোচক লেনি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আমি শুধু আমার সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করব এমন নয়। একই সঙ্গে ক্ষমতার শেষ দিনগুলোতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে ফিলিপাইনের জন্য লড়াই করে যাব। উল্লেখ্য, দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাইরে আলাদাভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়। প্রেসিডেন্ট দুতের্তের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন তিন সন্তানের জননী রোব্রেদো। আর নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি হবেন ফিলিপাইনের তৃতীয় নারী প্রেসিডেন্ট। তার আগে ১৯৮৬ সালে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন কোরাজন অ্যাকুইনো, ২০০১ সালে গেন্ডারিয়া ম্যাকাপাগাল অরোয়ো।

স্বৈরশাসকের ছেলে ফার্দিনান্দ : মার্কোস জুনিয়র ফার্দিনান্দ (৬৪)। তাকে বংবং নামে ডাকা হয়। মঙ্গলবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন-২০২২ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেকে একক প্রার্থী মনে করছেন তিনি। পিতৃতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের সময় ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছেন বংবং, এমনটাই অনুমান করছেন সংশ্লিষ্টরা। মার্কোস জুনিয়র দাবি করেছেন, তার পরিবারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ মানহানিকর। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার প্রার্থিতা থাকায় ফিলিপাইনের মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো আতঙ্কে রয়েছে। প্রতিবাদকারীরা বুধবার ম্যানিলায় মানবাধিকার কমিশন ভবনের বাইরে জড়ো হয়ে তার এ সিদ্ধান্তের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন। তাতে ভ্রূক্ষেপ না করলেও চলবে বংবংয়ের। কারণ, দুতের্তে নিজেকে মার্কোস পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে দ্বিধা করেন না। সে কারণে তাকে সমর্থন দিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফিলিপাইনের দক্ষিণে দুতের্তের জনপ্রিয়তা এবং উত্তরে মার্কোসের জনপ্রিয়তা একত্রিত হয়ে ‘তাণ্ডবশক্তি’ তৈরি হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

বক্সার প্যাকুইয়াও : বক্সার হিসেবে ম্যানি প্যাকুইয়াওর দক্ষতা নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই। ২৬ বছরের বক্সিং ক্যারিয়ারের পর, তিনি ফিলিপাইনে সর্বকালের অন্যতম সেরা বক্সার হিসাবে বিবেচিত হন এবং আটটি ভিন্ন বিভাগে বিশ্ব শিরোপা অর্জনকারী একমাত্র ব্যক্তি। কিন্তু ৪২ বছর বয়সী এই বক্সারের রাজনীতি দক্ষতা সম্পর্কে অনেক কমই জানা যায়।

একজন অত্যন্ত ক্যারিশম্যাটিক এবং গর্বিত খ্রিস্টান প্যাকুইয়াও জানিয়েছেন, তিনি প্রথম ফিলিপাইনের সিনেটর হিসাবে ২০১৬ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সাহায্য করতে চান। যখন তিনি ছোট ছিলেন তখন তিনি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ছিলেন এবং মিষ্টি এবং সিগারেট বিক্রি করে টাকা উপার্জন করেছিলেন। কিশোর বয়সে, তিনি তার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য একজন শ্রমিক হিসাবে কাজ করেছিলেন। যদিও এখন তিনি একজন কোটিপতি।

অভিনেতা মোরোনো : ২০২২ নির্বাচনে একজন তারকা প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্কো মোরোনো (৪৬)। ম্যানিলার মেয়র তিনি। চলতি সপ্তাহেই তিনি তার প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন। গত তিন বছরে তিনি রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করা এই অভিনেতা নিজেই স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ‘আমি ম্যানিলারই একটি বস্তিতে বেড়ে উঠেছিলাম, জীবিকা অর্জনের জন্য আবর্জনা কুড়িয়ে বিক্রি করেছি।’

মেলেনোর আসল নাম ফ্রান্সিসকো ডোমাগোসো, ইসকো মোরেনো তার মঞ্চনাম। ১৯৯৮ সালে ম্যানিলায় সিটি কাউন্সিলর হিসাবে রাজনীতিতে চলে আসেন, ২০০৭ সালে ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালে মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসী বলেই জনগণ তাকে ভোট দেবে বলে তার ধারণা।

দুতের্তের ছায়া : সাম্প্রতিক প্রার্থী জরিপে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন দুতের্তে কন্যা সারা দুতের্তে কার্পিও (৪৩)। সে হিসাবে ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। বরং দাভাও সিটির মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য নথি জমা দিয়েছেন। সোমবার তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, তার বাবার দলের নেতৃত্ব দিতে চান না তিনি। যা হোক, এক মাসের মধ্যে এ চিত্র পাল্টেও যেতে পারে। ফিলিপাইনের নির্বাচনি নিয়ম অনুযায়ী মেয়র নির্বাচনের জন্য আবেদন করলেও ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তার সেই প্রার্থিতা মেয়র থেকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য পরিবর্তন করতে পারবেন। সে হিসাবে তার প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের সম্ভাবনা এখনো উবে যায়নি। ২০১৬ সালে তার বাবা ঠিক তাই করেছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন