ইন্টারনেটেও বৈষম্যে নারীরা
jugantor
ইন্টারনেটেও বৈষম্যে নারীরা

  যুগান্তর ডেস্ক  

১২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে চরম ইন্টারনেট বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নারীরা। ফলে ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে এই দেশগুলো। সেই সঙ্গে লিঙ্গ বৈষম্য আরও বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি দেশে ডিজিটাল বৈষম্য এতটাই যে, অনলাইনে নারীদের উপস্থিতি পুরুষদের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ কম। দ্য গার্ডিয়ান।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশনের গবেষণা প্রতিবেদনটি রোববার প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে নারী-পুরুষের এই ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, এই বৈষম্য কমিয়ে আনতে সরকারগুলোর ব্যর্থতার কারণে গত এক দশকে দেশগুলোর বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ কোটি ডলারের মতো। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে সরকারগুলো যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয় আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ আরও ৫ হাজার কোটি ডলার খোয়াতে পারে। প্রতিবেদন মতে, ভারত শুধু গত বছরই মিসর ও নাইজেরিয়াসহ ৩২টি দেশের প্রায় ১ হাজার ২৬০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা হারিয়েছে। কারণ বৈষম্যের কারণে এই দেশগুলোর নারীরা ডিজিটাল অর্থনীতিতে তেমন কোনো অবদান রাখতে পারেনি। জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগের দিক থেকে পুরুষদের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে নারীরা। আফ্রিকায় ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছেন ৩৭ শতাংশ পুরুষ। অথচ এই সুবিধাপ্রাপ্তিতে নারীদের সংখ্যা মাত্র ২০ শতাংশ। অর্থাৎ পুরুষদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। দরিদ্র দেশ ঘানায় বাস্তব অবস্থাটা এমন যে, একজন সাধারণ শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কম্পিউটার স্পর্শ করারও সুযোগ নেই। এছাড়া লিঙ্গ বৈষম্য তো আছেই! অনেক সময় দেখা যায়, কোনো বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ আছে কিন্তু সেটা শুধু পরিবারের পুরুষ সদস্যদের জন্য। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারীরা সেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পান না।

সামাজিক বৈষম্যের পাশাপাশি আর্থিক সচ্ছলতাটাও একটি বড় অন্তরায়। যার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য নেই, তার পক্ষে ইন্টারনেট ব্যবহার করা অসম্ভব প্রায়! নারীরা সাইবার স্পেসে শুধু বৈষম্যের শিকারই হচ্ছে না, হেনস্তারও শিকার হচ্ছেন এই লকডাউন পরিস্থিতিতে। পাকিস্তানের লাহোর কেন্দ্রীক একটি হেল্পলাইনে করোনাকালীন ফোন কল ৫০০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

ইন্টারনেটেও বৈষম্যে নারীরা

 যুগান্তর ডেস্ক 
১২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে চরম ইন্টারনেট বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নারীরা। ফলে ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে এই দেশগুলো। সেই সঙ্গে লিঙ্গ বৈষম্য আরও বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি দেশে ডিজিটাল বৈষম্য এতটাই যে, অনলাইনে নারীদের উপস্থিতি পুরুষদের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ কম। দ্য গার্ডিয়ান।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশনের গবেষণা প্রতিবেদনটি রোববার প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে নারী-পুরুষের এই ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, এই বৈষম্য কমিয়ে আনতে সরকারগুলোর ব্যর্থতার কারণে গত এক দশকে দেশগুলোর বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ কোটি ডলারের মতো। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে সরকারগুলো যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয় আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ আরও ৫ হাজার কোটি ডলার খোয়াতে পারে। প্রতিবেদন মতে, ভারত শুধু গত বছরই মিসর ও নাইজেরিয়াসহ ৩২টি দেশের প্রায় ১ হাজার ২৬০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা হারিয়েছে। কারণ বৈষম্যের কারণে এই দেশগুলোর নারীরা ডিজিটাল অর্থনীতিতে তেমন কোনো অবদান রাখতে পারেনি। জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগের দিক থেকে পুরুষদের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে নারীরা। আফ্রিকায় ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছেন ৩৭ শতাংশ পুরুষ। অথচ এই সুবিধাপ্রাপ্তিতে নারীদের সংখ্যা মাত্র ২০ শতাংশ। অর্থাৎ পুরুষদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। দরিদ্র দেশ ঘানায় বাস্তব অবস্থাটা এমন যে, একজন সাধারণ শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কম্পিউটার স্পর্শ করারও সুযোগ নেই। এছাড়া লিঙ্গ বৈষম্য তো আছেই! অনেক সময় দেখা যায়, কোনো বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ আছে কিন্তু সেটা শুধু পরিবারের পুরুষ সদস্যদের জন্য। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারীরা সেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পান না।

সামাজিক বৈষম্যের পাশাপাশি আর্থিক সচ্ছলতাটাও একটি বড় অন্তরায়। যার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য নেই, তার পক্ষে ইন্টারনেট ব্যবহার করা অসম্ভব প্রায়! নারীরা সাইবার স্পেসে শুধু বৈষম্যের শিকারই হচ্ছে না, হেনস্তারও শিকার হচ্ছেন এই লকডাউন পরিস্থিতিতে। পাকিস্তানের লাহোর কেন্দ্রীক একটি হেল্পলাইনে করোনাকালীন ফোন কল ৫০০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন