মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকট ‘জলবায়ু পরিবর্তন’
jugantor
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন
মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকট ‘জলবায়ু পরিবর্তন’
ড্রাইভিং ছেড়ে সাইকেল চালাতে বলছে হু

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে মানব স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। তাপদাহ, ঝড়, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় আঘাত, রোগ বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা বাড়ছে। এগুলো বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অসমভাবে প্রভাবিত করছে যা গত পাঁচ দশকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অগ্রগতিকে বিপরীতে নেওয়ার হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশ্বের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রায় সৃষ্ট কারণগুলোই এ অবস্থার জন্য দায়ী। জলবায়ুবিষয়ক বৃহৎ সম্মেলন কপ-২৬ সামনে রেখে প্রকাশিত সোমবারের ৮২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ৩১ অক্টোবর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিতব্য ১৩ দিনের এ সম্মেলন শেষ হবে ১২ নভেম্বর।

প্রতিবেদনে পৃথিবীর উষ্ণায়ন কমাতে ১০ গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো পরিবহণ ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরায়ন। ড্রাইভিং (ব্যক্তিগত গাড়ি) ছেড়ে সাইকেল চালানো ও হাঁটার অভ্যাস তৈরি করতে বলছে ডব্লিউএইচও। এতে কার্বন নিঃসরণ কমবে এবং শারীরিক ক্রিয়াকলাপও স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত টেকসই নগরায়নের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। শহরে সবুজায়ন প্রকল্প বায়ুদূষণ রোধ করতে সহায়তা করে এবং বাসিন্দানের ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ মুক্তির স্থান হিসাবে কাজ করে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে উদ্ভিজ খাদ্য গ্রহণ করে পুষ্টি গ্রহণের পাশাপাশি বৈশ্বিক নির্গমন হ্রাসে সহায়তার সুপারিশ করেছে। এর ফলে আরও স্থিতিস্থাপক খাদ্যব্যবস্থা তৈরি হবে, যা বছরে ৫০ লাখ ডায়েট সম্পর্কিত মৃত্যু রোধ করবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিপর্যয় এড়াতে বিশ্বের তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি কোনোভাবেই বাড়তে দিতে দেওয়া যাবে না। প্যারিস চুক্তিতে দেওয়া ডিগ্রি এবং এমনকি এক ডিগ্রি গরমের অতিরিক্ত দশমাংশও মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেরবে। হুর মতে, বায়ুদূষণের মতো পরিবেশগত ঝুঁকি প্রতি বছর এক কোটি ৩৭ লাখ মৃত্যুর জন্য দায়ী। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিরাপদ, পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই পরিবেশ’কে মৌলিক মানবাধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ফিজি এবং মালদ্বীপের মতো জলবায়ু পরিবর্তনে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো আনা এই রেজ্যুলেশনের বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য।

জলবায়ু সংকটে স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে খোলা চিঠি : গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে জনগণের স্বাস্থ্য সুবিধাগুলো বিবেচনার জন্য রাজনীতিকদের আহ্বান জানিয়েছে ৪ শতাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পেশাদার ব্যক্তি। সোমবার একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করে এ আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এএফপি। চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা জানি যে জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান এবং ক্রমবর্ধমান। শিগগিরই এ সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ জলবায়ু সংকটে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি, চরম আবহাওয়া দূষণ এবং বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থার ব্যাঘাতের কারণে বছরে ৭০ লাখ মানুষ মারা যায় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন

মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকট ‘জলবায়ু পরিবর্তন’

ড্রাইভিং ছেড়ে সাইকেল চালাতে বলছে হু
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে মানব স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। তাপদাহ, ঝড়, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় আঘাত, রোগ বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা বাড়ছে। এগুলো বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অসমভাবে প্রভাবিত করছে যা গত পাঁচ দশকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অগ্রগতিকে বিপরীতে নেওয়ার হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশ্বের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রায় সৃষ্ট কারণগুলোই এ অবস্থার জন্য দায়ী। জলবায়ুবিষয়ক বৃহৎ সম্মেলন কপ-২৬ সামনে রেখে প্রকাশিত সোমবারের ৮২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ৩১ অক্টোবর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিতব্য ১৩ দিনের এ সম্মেলন শেষ হবে ১২ নভেম্বর।

প্রতিবেদনে পৃথিবীর উষ্ণায়ন কমাতে ১০ গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো পরিবহণ ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরায়ন। ড্রাইভিং (ব্যক্তিগত গাড়ি) ছেড়ে সাইকেল চালানো ও হাঁটার অভ্যাস তৈরি করতে বলছে ডব্লিউএইচও। এতে কার্বন নিঃসরণ কমবে এবং শারীরিক ক্রিয়াকলাপও স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত টেকসই নগরায়নের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। শহরে সবুজায়ন প্রকল্প বায়ুদূষণ রোধ করতে সহায়তা করে এবং বাসিন্দানের ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ মুক্তির স্থান হিসাবে কাজ করে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে উদ্ভিজ খাদ্য গ্রহণ করে পুষ্টি গ্রহণের পাশাপাশি বৈশ্বিক নির্গমন হ্রাসে সহায়তার সুপারিশ করেছে। এর ফলে আরও স্থিতিস্থাপক খাদ্যব্যবস্থা তৈরি হবে, যা বছরে ৫০ লাখ ডায়েট সম্পর্কিত মৃত্যু রোধ করবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিপর্যয় এড়াতে বিশ্বের তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি কোনোভাবেই বাড়তে দিতে দেওয়া যাবে না। প্যারিস চুক্তিতে দেওয়া ডিগ্রি এবং এমনকি এক ডিগ্রি গরমের অতিরিক্ত দশমাংশও মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেরবে। হুর মতে, বায়ুদূষণের মতো পরিবেশগত ঝুঁকি প্রতি বছর এক কোটি ৩৭ লাখ মৃত্যুর জন্য দায়ী। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিরাপদ, পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই পরিবেশ’কে মৌলিক মানবাধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ফিজি এবং মালদ্বীপের মতো জলবায়ু পরিবর্তনে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো আনা এই রেজ্যুলেশনের বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য।

জলবায়ু সংকটে স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে খোলা চিঠি : গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে জনগণের স্বাস্থ্য সুবিধাগুলো বিবেচনার জন্য রাজনীতিকদের আহ্বান জানিয়েছে ৪ শতাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পেশাদার ব্যক্তি। সোমবার একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করে এ আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এএফপি। চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা জানি যে জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান এবং ক্রমবর্ধমান। শিগগিরই এ সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ জলবায়ু সংকটে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি, চরম আবহাওয়া দূষণ এবং বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থার ব্যাঘাতের কারণে বছরে ৭০ লাখ মানুষ মারা যায় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন