হয় মানিয়ে নাও, নয় মর
jugantor
হয় মানিয়ে নাও, নয় মর
ব্রিটিশ পরিবেশবিদের হুঁশিয়ারি * জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় ব্রিটেন

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হয় মানিয়ে নাও, নয় মর

চলতি বছরের শুরুতে জার্মানিতে কয়েক ডজন মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে মারা গেছেন। শিগগিরই কিংবা নিকটসময়ে বন্যায় শত শত মানুষ মারা যেতে পারে ব্রিটেনেও। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ সংস্থা এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির (ইএ) পরিবেশবিদরা। একটি প্রতিবেদনে কঠোরভাবে জানিয়েছে আশঙ্কা থাকা সত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য মোটেও প্রস্তুত নয় ব্রিটেন। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মহাসম্মেলন কপ-২৬কে (৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর) সামনে রেখে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের প্রচেষ্টার মতোই জরুরি।’ একই মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এমা হাওয়ার্ড বয়েড। বলেছেন, ‘হয় এটা মানিয়ে নাও, নয় মর।’ বিবিসি।

প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্রিটেনের প্রস্তুতিও মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি। তার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির পরিবেশ বিভাগ ডিফ্রা বলেছে, ‘আমরা বিশ্ব জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’ মিসেস হাওয়ার্ড বয়েডের মতে, ‘আমরা সঠিকভাবে কাজ করলে জলবায়ু জরুরি অবস্থা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি। কিন্তু কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের হাতে আর সময় নেই, দ্রুত তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া সহিংস হয়ে উঠছে।’ ইএ’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ ব্রিটেনের শীতকালীন বৃষ্টি ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টি বাড়বে ১৫ ভাগ। সমুদ্রের উচ্চতা বাড়বে আরও ২৩ সেন্টিমিটার। ২০৮০ সালে বাড়বে ৪৫ সেন্টিমিটার।

কার্বন নিঃসরণ জিরো টার্গেটে পৌঁছতে লাগবে কয়েক দশক : ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বলছে, বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ নিট জিরো টার্গেটে পৌঁছতে কয়েক দশক লেগে যেতে পারে। বর্তমান পরিকল্পনায় তাদের ২০৫০ সালের নিট শূন্য লক্ষ্যমাত্রা ৬০ শতাংশ কম অর্জিত হবে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমবে মাত্র ৪০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বলেছে, নেতাদের আসন্ন কপ-২৬ জলবায়ুু সম্মেলনে আলোচনার জন্য কংক্রিট নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে ‘দ্ব্যর্থহীন সংকেত’ পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। গ্লাসগোতে শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতাদের জন্য এই বছর একটি ‘গাইডবুক’ হিাসবে বিবেচিত হবে।

সংগঠনটি বলেছে যে, বর্তমান পরিকল্পনা এবং নিট শূন্য লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পরবর্তী দশকে বিনিয়োগ করতে হবে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ‘কোভিড-১ মহামারি সময়ে গ্রিন এনার্জি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ হারিয়েছে বিশ্ব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মহামারির মতো একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধারের সাক্ষী হচ্ছি।’

জলবায়ু সংকটে প্রভাবিত হতে পারে ৮৫ শতাংশ মানবতা : জলবায়ু পরিবর্তন ইতোমধ্যেই বিশ্বের জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। হাজার হাজার বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত এই বিশ্লেষণটি তৈরি করেছে গবেষকদের একটি দল-যারা ১৯৫১ থেকে ২০১৮-এর মধ্যে প্রকাশিত গবেষণার বিশাল সংখ্যার মাধ্যমে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে প্রায় এক লাখ গবেষণাপত্র খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণার লেখক ম্যাক্স ক্যালাঘান এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রচুর প্রমাণ আছে যে জলবায়ু পরিবর্তন সমস্ত মহাদেশ, সমস্ত সিস্টেমকে প্রভাবিত করছে।’

গবেষকরা একটি কম্পিউটারকে জলবায়ু-প্রাসঙ্গিকতা চিহ্নিত করতে শিখিয়েছেন-যা থেকে প্রজাপতি বিলুপ্তি থেকে শুরু করে তাপ-সম্পর্কিত মানুষের মৃত্যু এবং বনভূমির আবরণ পরিবর্তনের বিষয়গুলোর ওপর কাগজগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে। এ গবেষণা থেকেই তারা খুঁজে পেয়েছেন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন কীভাবে মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছে।

হয় মানিয়ে নাও, নয় মর

ব্রিটিশ পরিবেশবিদের হুঁশিয়ারি * জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় ব্রিটেন
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
হয় মানিয়ে নাও, নয় মর
ফাইল ছবি

চলতি বছরের শুরুতে জার্মানিতে কয়েক ডজন মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে মারা গেছেন। শিগগিরই কিংবা নিকটসময়ে বন্যায় শত শত মানুষ মারা যেতে পারে ব্রিটেনেও। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ সংস্থা এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির (ইএ) পরিবেশবিদরা। একটি প্রতিবেদনে কঠোরভাবে জানিয়েছে আশঙ্কা থাকা সত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য মোটেও প্রস্তুত নয় ব্রিটেন। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মহাসম্মেলন কপ-২৬কে (৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর) সামনে রেখে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের প্রচেষ্টার মতোই জরুরি।’ একই মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এমা হাওয়ার্ড বয়েড। বলেছেন, ‘হয় এটা মানিয়ে নাও, নয় মর।’ বিবিসি।

প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্রিটেনের প্রস্তুতিও মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি। তার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির পরিবেশ বিভাগ ডিফ্রা বলেছে, ‘আমরা বিশ্ব জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’ মিসেস হাওয়ার্ড বয়েডের মতে, ‘আমরা সঠিকভাবে কাজ করলে জলবায়ু জরুরি অবস্থা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারি। কিন্তু কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের হাতে আর সময় নেই, দ্রুত তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া সহিংস হয়ে উঠছে।’ ইএ’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ ব্রিটেনের শীতকালীন বৃষ্টি ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টি বাড়বে ১৫ ভাগ। সমুদ্রের উচ্চতা বাড়বে আরও ২৩ সেন্টিমিটার। ২০৮০ সালে বাড়বে ৪৫ সেন্টিমিটার।

কার্বন নিঃসরণ জিরো টার্গেটে পৌঁছতে লাগবে কয়েক দশক : ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বলছে, বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ নিট জিরো টার্গেটে পৌঁছতে কয়েক দশক লেগে যেতে পারে। বর্তমান পরিকল্পনায় তাদের ২০৫০ সালের নিট শূন্য লক্ষ্যমাত্রা ৬০ শতাংশ কম অর্জিত হবে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমবে মাত্র ৪০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বলেছে, নেতাদের আসন্ন কপ-২৬ জলবায়ুু সম্মেলনে আলোচনার জন্য কংক্রিট নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে ‘দ্ব্যর্থহীন সংকেত’ পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। গ্লাসগোতে শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতাদের জন্য এই বছর একটি ‘গাইডবুক’ হিাসবে বিবেচিত হবে।

সংগঠনটি বলেছে যে, বর্তমান পরিকল্পনা এবং নিট শূন্য লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পরবর্তী দশকে বিনিয়োগ করতে হবে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ‘কোভিড-১ মহামারি সময়ে গ্রিন এনার্জি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ হারিয়েছে বিশ্ব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মহামারির মতো একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধারের সাক্ষী হচ্ছি।’

জলবায়ু সংকটে প্রভাবিত হতে পারে ৮৫ শতাংশ মানবতা : জলবায়ু পরিবর্তন ইতোমধ্যেই বিশ্বের জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। হাজার হাজার বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত এই বিশ্লেষণটি তৈরি করেছে গবেষকদের একটি দল-যারা ১৯৫১ থেকে ২০১৮-এর মধ্যে প্রকাশিত গবেষণার বিশাল সংখ্যার মাধ্যমে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে প্রায় এক লাখ গবেষণাপত্র খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণার লেখক ম্যাক্স ক্যালাঘান এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রচুর প্রমাণ আছে যে জলবায়ু পরিবর্তন সমস্ত মহাদেশ, সমস্ত সিস্টেমকে প্রভাবিত করছে।’

গবেষকরা একটি কম্পিউটারকে জলবায়ু-প্রাসঙ্গিকতা চিহ্নিত করতে শিখিয়েছেন-যা থেকে প্রজাপতি বিলুপ্তি থেকে শুরু করে তাপ-সম্পর্কিত মানুষের মৃত্যু এবং বনভূমির আবরণ পরিবর্তনের বিষয়গুলোর ওপর কাগজগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে। এ গবেষণা থেকেই তারা খুঁজে পেয়েছেন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন কীভাবে মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন