২০০ বছর ঘুরে কার্বনকেন্দ্র চীনে
jugantor
২০০ বছর ঘুরে কার্বনকেন্দ্র চীনে

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত দুইশ’ বছরে একের পর এক জায়গা বদলেছে ‘কার্বন ভরকেন্দ্র’। শুরুটা হয় ব্রিটেনে। এরপর আস্তে আস্তে ঘাঁটি গাড়ে যুক্তরাষ্ট্রে। সবশেষে সেখান থেকে সরে এখন স্থায়ী হয়েছে চীনে। অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণে এই মুহূর্তে বিশ্বের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে এশিয়ার দেশটি। জলবায়ু নিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে পৃথিবী। এর বড় কারণ অধিক পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ। শিল্পোন্নত দেশগুলোই যার জন্য দায়ী। প্রতিবেদন মতে, ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে উনিশ শতকের শুরুর দিকেই সর্বাধিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হয়ে ওঠে ব্রিটেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভরকেন্দ্র আস্তে আস্তে তার জায়গা বদলেছে। বিংশ শতকের শুরুর দিকে ব্রিটেনের সঙ্গে যোগ হয় ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশগুলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে ইউরোপকে সরিয়ে কার্বন ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র।

এরপর এশিয়ায় শুরু হয় ব্যাপক শিল্পায়ন। যার নেতৃত্ব দেয় চীন। ফলে কার্বন ভরকেন্দ্র আবারও তার স্থান বদল করে। সরে আসে ৭ হাজার মাইল পূর্বে। একুশ শতকের প্রথম দিকেই যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে এখন বিশ্বের প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হয়ে উঠেছে চীন। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির নতুন মডেল বলছে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলোতেই কার্বন নিঃসরণ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। আগামী এক দশকে সেটা অনুন্নত বা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতেও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২০৬০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ ‘শূন্যে’ নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি (প্রতিবছর ১১ হাজার ২৫৬ মেগা টন, প্রতি মেগা টনে ১০ লাখ টন) কার্বন নিঃসরণ করে দেশটি। বিশ্লেষকরা বলছে, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ এই পরিমাণেই কার্বন নিঃসরণ করবে চীন। এরপর তা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। আগামী এক দশকে আফ্রিকার দেশগুলোতেও কার্বন নিঃসরণ আরও কিছু বাড়বে।

২০২১ সালে ধনী দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে : গত বছরের চেয়ে এ বছর ২০টি ধনী দেশে কার্বন নিঃসরণ আরও বেড়েছে। নতুন এক গবেষণা রিপোর্ট মতে, জি-২০ভুক্ত দেশগুলোতে এই নিঃসরণ ৪ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে এটা ৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এর মধ্যে চীন, ভারত ও আর্জেন্টিনা-এই তিনটি দেশ তাদের ২০১৯ সালের নিঃসরণ স্তর ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

জলবায়ু লড়াইয়ে বাবার সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন প্রিন্স উইলিয়াম : জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাবা প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম। ব্রিটেনের গ্লাসগো শহরে জলবায়ুবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কপ২৬ শীর্ষ সম্মেলনের আগে বৃহস্পতিবার এ খবর নিশ্চিত করেছেন তিনি। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জলবায়ু লড়াইয়ে বাবার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি (প্রিন্স চার্লস) আসলেই এক কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন। এবং ইতোমধ্যে এক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতার প্রমাণও দিয়েছেন।

২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনবে রাশিয়া-পুতিন : চীন আগেই ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারই পথ ধরে এবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়াও সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। বুধবার মস্কোয় জ্বালানিবিষয়ক এক সভায় তিনি বলেন, ‘একটা কার্বনমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করবে রাশিয়া। তার জন্য আমরা ইতোমধ্যে একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এবং সেটা ২০৬০ সালের মধ্যেই।’

২০০ বছর ঘুরে কার্বনকেন্দ্র চীনে

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত দুইশ’ বছরে একের পর এক জায়গা বদলেছে ‘কার্বন ভরকেন্দ্র’। শুরুটা হয় ব্রিটেনে। এরপর আস্তে আস্তে ঘাঁটি গাড়ে যুক্তরাষ্ট্রে। সবশেষে সেখান থেকে সরে এখন স্থায়ী হয়েছে চীনে। অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণে এই মুহূর্তে বিশ্বের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে এশিয়ার দেশটি। জলবায়ু নিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে পৃথিবী। এর বড় কারণ অধিক পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ। শিল্পোন্নত দেশগুলোই যার জন্য দায়ী। প্রতিবেদন মতে, ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে উনিশ শতকের শুরুর দিকেই সর্বাধিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হয়ে ওঠে ব্রিটেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভরকেন্দ্র আস্তে আস্তে তার জায়গা বদলেছে। বিংশ শতকের শুরুর দিকে ব্রিটেনের সঙ্গে যোগ হয় ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশগুলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে ইউরোপকে সরিয়ে কার্বন ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র।

এরপর এশিয়ায় শুরু হয় ব্যাপক শিল্পায়ন। যার নেতৃত্ব দেয় চীন। ফলে কার্বন ভরকেন্দ্র আবারও তার স্থান বদল করে। সরে আসে ৭ হাজার মাইল পূর্বে। একুশ শতকের প্রথম দিকেই যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে এখন বিশ্বের প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হয়ে উঠেছে চীন। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির নতুন মডেল বলছে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলোতেই কার্বন নিঃসরণ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। আগামী এক দশকে সেটা অনুন্নত বা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতেও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২০৬০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ ‘শূন্যে’ নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি (প্রতিবছর ১১ হাজার ২৫৬ মেগা টন, প্রতি মেগা টনে ১০ লাখ টন) কার্বন নিঃসরণ করে দেশটি। বিশ্লেষকরা বলছে, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ এই পরিমাণেই কার্বন নিঃসরণ করবে চীন। এরপর তা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। আগামী এক দশকে আফ্রিকার দেশগুলোতেও কার্বন নিঃসরণ আরও কিছু বাড়বে।

২০২১ সালে ধনী দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে : গত বছরের চেয়ে এ বছর ২০টি ধনী দেশে কার্বন নিঃসরণ আরও বেড়েছে। নতুন এক গবেষণা রিপোর্ট মতে, জি-২০ভুক্ত দেশগুলোতে এই নিঃসরণ ৪ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে এটা ৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এর মধ্যে চীন, ভারত ও আর্জেন্টিনা-এই তিনটি দেশ তাদের ২০১৯ সালের নিঃসরণ স্তর ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

জলবায়ু লড়াইয়ে বাবার সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন প্রিন্স উইলিয়াম : জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাবা প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম। ব্রিটেনের গ্লাসগো শহরে জলবায়ুবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কপ২৬ শীর্ষ সম্মেলনের আগে বৃহস্পতিবার এ খবর নিশ্চিত করেছেন তিনি। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জলবায়ু লড়াইয়ে বাবার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি (প্রিন্স চার্লস) আসলেই এক কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন। এবং ইতোমধ্যে এক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতার প্রমাণও দিয়েছেন।

২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনবে রাশিয়া-পুতিন : চীন আগেই ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারই পথ ধরে এবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়াও সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। বুধবার মস্কোয় জ্বালানিবিষয়ক এক সভায় তিনি বলেন, ‘একটা কার্বনমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করবে রাশিয়া। তার জন্য আমরা ইতোমধ্যে একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এবং সেটা ২০৬০ সালের মধ্যেই।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন