নারী সেজে হামলা চালাচ্ছে পুরুষ বিদ্রোহীরা
jugantor
ফের অশান্ত মিয়ানমার
নারী সেজে হামলা চালাচ্ছে পুরুষ বিদ্রোহীরা
এবার বড়সড়ো হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জান্তা

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে মিয়ানমার। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহী যোদ্ধাদের কাছে মার খেয়ে কোণঠাসা মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী। গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে নিহত হয়েছে অন্তত ৮৮ জান্তাসদস্য। এবার শুরু হয়েছে অতর্কিত কিংবা চোরাগোপ্তা হামলা। সু চি-পন্থি নেতাদের দেশটির ছায়া সরকারের পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) যোদ্ধারা মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো নারীর বেশে হামলা চালিয়েছে মান রাজ্যের কয়েকটি আবাসিক এলাকায়। এপি।

পিডিএফ যোদ্ধাদের দুই পুরুষ হামলাকারী মহিলাদের পোশাক পরে চাউংজোন টাউনশিপের ওয়েস্টার্ন চ্যাংজোন ওয়ার্ডের প্রশাসক উইন অং (৬১)-এর বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। একজন পিডিএফ সদস্য জানান, ‘আমাদের সৈন্যরা তার বাড়িতে অতিথি তালিকায় নাম দিতে যাওয়ার ভান করেছিল। প্রশাসক তার বাসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অতিথি হিসাবে নিবন্ধনের সুবিধার্থে অনায়াসে ঢুকতে দিচ্ছিলেন। কারণ, সে সময় নিজেদের নজরদারি নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে দেশব্যাপী ‘অতিথি সংগ্রহ’ কর্মসূচি চালু করেছিল। উইং অং-এর আশপাশে বসবাসকারী একজন চাংজোনের বাসিন্দা জানান, বুধবার সকালে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে গিয়ে প্রশাসকের মৃত্যুর কথা জানতে পারেন। তার বুকে গুলি করা হয়েছিল।

উইং অং গত মাসে অন্তত পাঁচজনকে আটক করতে জান্তাদের সহযোগিতা করেছিল বলে অভিযোগ পেয়েছে পিডিএফ। তারই প্রতিশোধে এ হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, চাংজোন এলাকায় অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জড়িত ছিলেন। সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমন্টে পার্টির (ইউএসডিপি) সদস্য ছিলেন তিনি। অভ্যুত্থানের পর ওই এলাকায় প্রশাসক হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

এদিকে স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠী জানিয়েছে শিন, স্যাগাইং ও ম্যাগওয়ে রাজ্যে চূড়ান্ত শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জান্তাবাহিনী। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর কয়েকটি হামলায় জান্তাযোদ্ধা হত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। পিডিএফ যোদ্ধাদের মোকাবেলার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহী সদস্যদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জান্তারা। আশঙ্কা করা হচ্ছে শিগগিরই খুব বড়সড়ো হামলায় বহু লোকের প্রাণহানি ঘটাবে তারা। এনইউজি কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৭০০ টিরও বেশি সশস্ত্র সংঘর্ষে কমপক্ষে এক হাজার ৫০০ হতাহতের শিকার হয়ে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে জান্তাবাহিনী। এই ক্ষতির প্রতিশোধ হিসাবে, সরকার বহু গ্রামে অভিযান চালিয়েছে, হাজার হাজার নাগরিককে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। এ কারণে তারা ২৫ টাউনশিপে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস বন্ধ করে দিয়েছে।

জান্তার উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মিয়ানমার পুলিশ বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল থান হ্লাইং সামরিক বাহিনীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আঞ্চলিক কমান্ডের অধিনায়ক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার নেতৃত্বেই শিন, স্যাগাইং ও ম্যাগওয়েতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করছে তারা। এই অঞ্চলের আগের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফিও থান্টকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগে আটক করেছে জান্তা সরকার। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দি ইরাবতী গত শুক্রবার জানিয়েছে, জান্তা অন্তত চারটি ব্যাটালিয়নে প্রায় তিন হাজার সৈন্যকে শাসনবিরোধী শক্তির মূলোৎপাটনের লক্ষ্য স্থির করে উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারে পাঠিয়েছে। শিন রাজ্যের কাপেটলেট টাউনশিপের শিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের (সিডিএফ) একজন ডেপুটি কমান্ডার বলেন, তার ব্রিগেড জানতে পেরেছে, মঙ্গলবার ভোরে তিনটি সাঁজোয়া যান এবং কমপক্ষে ৮৬টি সামরিক ট্রাকের একটি বহর ম্যাগওয়ে অঞ্চলের পাকোক্কু থেকে কানপ্লেটলের দিকে যাচ্ছিল।

স্থানীয় প্রধান প্রতিরোধ গোষ্ঠী ইয়াউ ডিফেন্স ফোর্সের মুখপাত্রের মতে, সামরিক বাহিনী কেবল স্যাগাইং এবং শিনেই সেনাবাহিনী পাঠায়নি, বরং ম্যাগওয়ের ইয়াও অঞ্চলেও পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা হামলা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। ওদের অতিরিক্ত সৈন্য ঠেকানোর জন্য যাবতীয় রসদ আমাদের কাছেও আছে।’

ফের অশান্ত মিয়ানমার

নারী সেজে হামলা চালাচ্ছে পুরুষ বিদ্রোহীরা

এবার বড়সড়ো হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জান্তা
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে মিয়ানমার। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহী যোদ্ধাদের কাছে মার খেয়ে কোণঠাসা মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী। গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে নিহত হয়েছে অন্তত ৮৮ জান্তাসদস্য। এবার শুরু হয়েছে অতর্কিত কিংবা চোরাগোপ্তা হামলা। সু চি-পন্থি নেতাদের দেশটির ছায়া সরকারের পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) যোদ্ধারা মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো নারীর বেশে হামলা চালিয়েছে মান রাজ্যের কয়েকটি আবাসিক এলাকায়। এপি।

পিডিএফ যোদ্ধাদের দুই পুরুষ হামলাকারী মহিলাদের পোশাক পরে চাউংজোন টাউনশিপের ওয়েস্টার্ন চ্যাংজোন ওয়ার্ডের প্রশাসক উইন অং (৬১)-এর বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। একজন পিডিএফ সদস্য জানান, ‘আমাদের সৈন্যরা তার বাড়িতে অতিথি তালিকায় নাম দিতে যাওয়ার ভান করেছিল। প্রশাসক তার বাসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অতিথি হিসাবে নিবন্ধনের সুবিধার্থে অনায়াসে ঢুকতে দিচ্ছিলেন। কারণ, সে সময় নিজেদের নজরদারি নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে দেশব্যাপী ‘অতিথি সংগ্রহ’ কর্মসূচি চালু করেছিল। উইং অং-এর আশপাশে বসবাসকারী একজন চাংজোনের বাসিন্দা জানান, বুধবার সকালে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে গিয়ে প্রশাসকের মৃত্যুর কথা জানতে পারেন। তার বুকে গুলি করা হয়েছিল।

উইং অং গত মাসে অন্তত পাঁচজনকে আটক করতে জান্তাদের সহযোগিতা করেছিল বলে অভিযোগ পেয়েছে পিডিএফ। তারই প্রতিশোধে এ হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, চাংজোন এলাকায় অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জড়িত ছিলেন। সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমন্টে পার্টির (ইউএসডিপি) সদস্য ছিলেন তিনি। অভ্যুত্থানের পর ওই এলাকায় প্রশাসক হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

এদিকে স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠী জানিয়েছে শিন, স্যাগাইং ও ম্যাগওয়ে রাজ্যে চূড়ান্ত শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জান্তাবাহিনী। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর কয়েকটি হামলায় জান্তাযোদ্ধা হত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। পিডিএফ যোদ্ধাদের মোকাবেলার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহী সদস্যদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জান্তারা। আশঙ্কা করা হচ্ছে শিগগিরই খুব বড়সড়ো হামলায় বহু লোকের প্রাণহানি ঘটাবে তারা। এনইউজি কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৭০০ টিরও বেশি সশস্ত্র সংঘর্ষে কমপক্ষে এক হাজার ৫০০ হতাহতের শিকার হয়ে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে জান্তাবাহিনী। এই ক্ষতির প্রতিশোধ হিসাবে, সরকার বহু গ্রামে অভিযান চালিয়েছে, হাজার হাজার নাগরিককে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। এ কারণে তারা ২৫ টাউনশিপে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস বন্ধ করে দিয়েছে।

জান্তার উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মিয়ানমার পুলিশ বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল থান হ্লাইং সামরিক বাহিনীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আঞ্চলিক কমান্ডের অধিনায়ক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার নেতৃত্বেই শিন, স্যাগাইং ও ম্যাগওয়েতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করছে তারা। এই অঞ্চলের আগের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফিও থান্টকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগে আটক করেছে জান্তা সরকার। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দি ইরাবতী গত শুক্রবার জানিয়েছে, জান্তা অন্তত চারটি ব্যাটালিয়নে প্রায় তিন হাজার সৈন্যকে শাসনবিরোধী শক্তির মূলোৎপাটনের লক্ষ্য স্থির করে উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারে পাঠিয়েছে। শিন রাজ্যের কাপেটলেট টাউনশিপের শিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের (সিডিএফ) একজন ডেপুটি কমান্ডার বলেন, তার ব্রিগেড জানতে পেরেছে, মঙ্গলবার ভোরে তিনটি সাঁজোয়া যান এবং কমপক্ষে ৮৬টি সামরিক ট্রাকের একটি বহর ম্যাগওয়ে অঞ্চলের পাকোক্কু থেকে কানপ্লেটলের দিকে যাচ্ছিল।

স্থানীয় প্রধান প্রতিরোধ গোষ্ঠী ইয়াউ ডিফেন্স ফোর্সের মুখপাত্রের মতে, সামরিক বাহিনী কেবল স্যাগাইং এবং শিনেই সেনাবাহিনী পাঠায়নি, বরং ম্যাগওয়ের ইয়াও অঞ্চলেও পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা হামলা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। ওদের অতিরিক্ত সৈন্য ঠেকানোর জন্য যাবতীয় রসদ আমাদের কাছেও আছে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন