মিয়ানমারে আরও ৫০ সেনা নিহত
jugantor
মিয়ানমারে আরও ৫০ সেনা নিহত

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারে বিদ্রোহী জাতিগোষ্ঠী ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের চোরাগোপ্তা হামলায় কোণঠাসা হয়ে পড়ছে দেশটির সেনাবাহিনী। রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত চার দিনের হামলায় ৮৮ জন সেনাসদস্যের মৃত্যুর পর শুক্রবার আরও ৫০ সেনার মৃত্যুর খবর দিল স্থানীয় গণমাধ্যম ইরাবতী। দেশটির মান্দালয়, স্যাগাইং, ইয়াঙ্গুন ও কায়ার ভিন্ন এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের (পিপল ডিফেন্স ফোর্সের, পিডিএফ) হামলায় বুধবার থেকে শুক্রবার নতুন করে এই ৫০ সেনার মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে ১৩৮ সেনার মৃত্যু হয়েছে। স্যাগাইং অঞ্চলের সোয়ে বো জেলায় শুক্রবার ভোরে বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীর এক হামলায় কমপক্ষে ১২ জন জান্তাসেনা নিহত হয়েছে বলে খবরে দাবি করা হয়। খিন-ইউ টাউনশিপের মায়াকান গ্রামের কাছে দুটি সামরিক যান ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বুধবার নিহত হয় আট জান্তাসেনা।

মিয়াংয়ের সিভিলিয়ান ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন (সিএিসওএম) দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে স্যাগাইংয়ের মিয়াং টাউনশিপে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে আরও ১০ জান্তাসেনা। একই দিন সকালে আরও দুটি সেনাযানে আক্রমণ চালিয়েছিল সিডিএসওএম। এতে কতজন সেনা হতাহত হয়েছে, সে খবর জানতে পারেনি তারা। তবে বৃহস্পতিবার রাতে মান্দালয়ের নাতোগি ও কিয়াউক্সি টাউনশিপেও নাগরিক যোদ্ধাদের জিরো গেরিলা ফোর্স সুফিউকোন গ্রামের একটি স্কুলের সামনে অবস্থানরত ক্ষমতাসীন সেনাদের ঘুমন্ত একটি দলকে আক্রমণ করেছিল। জিরো গেরিলা ফোর্স দাবি করেছে এ সময় কমপক্ষে ১২ জন সেনা নিহত হয়েছে এবং বহু আহত হয়েছে। ‘একই দিন’, মান্দালয়ের এক বাসিন্দা জানিয়েছে, ‘একটি ট্রেনে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জান্তাসেনা নিহত হয়েছে। ট্রেনটি যাত্রী পরিবহণের দায়িত্বে থাকলেও সেটির ভেতরে কোনো যাত্রী ছিল না। কারণ, যাত্রীদের উঠতে না দিয়ে সেনারা খাদ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী আনা-নেওয়ার কাজে ট্রেনটি ব্যবহার করছিল।’ বৃহস্পতিবার সকালে ইয়াঙ্গুনের উত্তর ওক্কালপা টাউনশিপের একটি সেতুর কাছে সেনাবাহিনীর ওপর অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা একটি গাড়ি থেকে গুলি চালালে একজন জান্তাসৈনিক আহত হয়। কায়া রাজ্যে বৃহস্পতিবার সকালে তিন জান্তাসৈন্য নিহত ও চারজন আহত হয়। কারেনি ন্যাশনালিটিস ডিফেন্স ফোর্সের (কেএনডিএফ) যোদ্ধাদের প্রতিরোধ অভিযানে অংশ নিচ্ছিল ওই জান্তাদলটি। ঘটনার পর শাসক সৈন্যরা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে এবং আশপাশের গ্রামে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়।

শেষ মুহূর্তে আসিয়ান সম্মেলন এড়িয়ে গেলেন জাতিসংঘের মহাসচিব : একদম শেষ মুহূর্তে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর মন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক স্থগিত করতে বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। গত ৮ অক্টোবর মিয়ানমারের সামরিক সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ানা মায়ুং লুইনসহ আসিয়ানের ১০ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। আলজাজিরা জাতিসংঘের এক কূটনীতিক বলেছেন, সামরিক সরকারের প্রতিনিধির সঙ্গে একই অনলাইন বৈঠক যেন জান্তা সরকারের স্বীকৃতির কোনোরূপ চিহ্ন না হয় তা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মহাসচিব। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে মিয়ানমারের বর্তমান রাষ্ট্রদূত নির্বাচিত সরকারে প্রতিনিধি কেও মোয়ি তুন। আবার সেনা সরকারের প্রতিনিধিও রাষ্ট্রদূতের আসন দাবি করছেন। তাই জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কে হবেন তা নির্ধারণে সদস্য দেশগুলোর সিদ্ধান্তের আগে যেতে চান না গুতেরেস।

মিয়ানমারে আরও ৫০ সেনা নিহত

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারে বিদ্রোহী জাতিগোষ্ঠী ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের চোরাগোপ্তা হামলায় কোণঠাসা হয়ে পড়ছে দেশটির সেনাবাহিনী। রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত চার দিনের হামলায় ৮৮ জন সেনাসদস্যের মৃত্যুর পর শুক্রবার আরও ৫০ সেনার মৃত্যুর খবর দিল স্থানীয় গণমাধ্যম ইরাবতী। দেশটির মান্দালয়, স্যাগাইং, ইয়াঙ্গুন ও কায়ার ভিন্ন এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের (পিপল ডিফেন্স ফোর্সের, পিডিএফ) হামলায় বুধবার থেকে শুক্রবার নতুন করে এই ৫০ সেনার মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে ১৩৮ সেনার মৃত্যু হয়েছে। স্যাগাইং অঞ্চলের সোয়ে বো জেলায় শুক্রবার ভোরে বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীর এক হামলায় কমপক্ষে ১২ জন জান্তাসেনা নিহত হয়েছে বলে খবরে দাবি করা হয়। খিন-ইউ টাউনশিপের মায়াকান গ্রামের কাছে দুটি সামরিক যান ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বুধবার নিহত হয় আট জান্তাসেনা।

মিয়াংয়ের সিভিলিয়ান ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন (সিএিসওএম) দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে স্যাগাইংয়ের মিয়াং টাউনশিপে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে আরও ১০ জান্তাসেনা। একই দিন সকালে আরও দুটি সেনাযানে আক্রমণ চালিয়েছিল সিডিএসওএম। এতে কতজন সেনা হতাহত হয়েছে, সে খবর জানতে পারেনি তারা। তবে বৃহস্পতিবার রাতে মান্দালয়ের নাতোগি ও কিয়াউক্সি টাউনশিপেও নাগরিক যোদ্ধাদের জিরো গেরিলা ফোর্স সুফিউকোন গ্রামের একটি স্কুলের সামনে অবস্থানরত ক্ষমতাসীন সেনাদের ঘুমন্ত একটি দলকে আক্রমণ করেছিল। জিরো গেরিলা ফোর্স দাবি করেছে এ সময় কমপক্ষে ১২ জন সেনা নিহত হয়েছে এবং বহু আহত হয়েছে। ‘একই দিন’, মান্দালয়ের এক বাসিন্দা জানিয়েছে, ‘একটি ট্রেনে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জান্তাসেনা নিহত হয়েছে। ট্রেনটি যাত্রী পরিবহণের দায়িত্বে থাকলেও সেটির ভেতরে কোনো যাত্রী ছিল না। কারণ, যাত্রীদের উঠতে না দিয়ে সেনারা খাদ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী আনা-নেওয়ার কাজে ট্রেনটি ব্যবহার করছিল।’ বৃহস্পতিবার সকালে ইয়াঙ্গুনের উত্তর ওক্কালপা টাউনশিপের একটি সেতুর কাছে সেনাবাহিনীর ওপর অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা একটি গাড়ি থেকে গুলি চালালে একজন জান্তাসৈনিক আহত হয়। কায়া রাজ্যে বৃহস্পতিবার সকালে তিন জান্তাসৈন্য নিহত ও চারজন আহত হয়। কারেনি ন্যাশনালিটিস ডিফেন্স ফোর্সের (কেএনডিএফ) যোদ্ধাদের প্রতিরোধ অভিযানে অংশ নিচ্ছিল ওই জান্তাদলটি। ঘটনার পর শাসক সৈন্যরা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে এবং আশপাশের গ্রামে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়।

শেষ মুহূর্তে আসিয়ান সম্মেলন এড়িয়ে গেলেন জাতিসংঘের মহাসচিব : একদম শেষ মুহূর্তে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর মন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক স্থগিত করতে বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। গত ৮ অক্টোবর মিয়ানমারের সামরিক সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ানা মায়ুং লুইনসহ আসিয়ানের ১০ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। আলজাজিরা জাতিসংঘের এক কূটনীতিক বলেছেন, সামরিক সরকারের প্রতিনিধির সঙ্গে একই অনলাইন বৈঠক যেন জান্তা সরকারের স্বীকৃতির কোনোরূপ চিহ্ন না হয় তা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মহাসচিব। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে মিয়ানমারের বর্তমান রাষ্ট্রদূত নির্বাচিত সরকারে প্রতিনিধি কেও মোয়ি তুন। আবার সেনা সরকারের প্রতিনিধিও রাষ্ট্রদূতের আসন দাবি করছেন। তাই জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কে হবেন তা নির্ধারণে সদস্য দেশগুলোর সিদ্ধান্তের আগে যেতে চান না গুতেরেস।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন