বিশ্ব জলবায়ু নিয়ে তিন প্রজন্ম হতাশ
jugantor
মুখ খুলল ব্রিটিশ রাজপরিবার
বিশ্ব জলবায়ু নিয়ে তিন প্রজন্ম হতাশ
কাজের চেয়ে কথা হচ্ছে বেশি : রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ * মহাকাশে ভ্রমণ পরে, আগে পৃথিবী বাঁচান : প্রিন্স উইলিয়ামস * ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে বিরক্ত রানির নাতি জর্জ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী মাসেই গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬। আর এ বিষয়টি সামনে এনেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের তিন প্রজন্মের মুখে ফুটে উঠল হতাশার চিহ্ন। কার্ডিফে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওয়েল্স অ্যাসেম্বলির ষষ্ঠ সেশনে জলবায়ু সংকট নিয়ে কথা বলছিলেন ৯৫ বছর বয়সি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুত্রবধূ প্রিন্সেস ক্যামিলিয়া ও ওয়েল্স পার্লামেন্টের প্রিজাইডিং অফিসার এলেন জোনসের সঙ্গে আলোচনায় বিশ্বনেতাদের ওপর বিরক্তি ও হতাশা প্রকাশ করেছেন রানি। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু কপ-২৬ সম্মেলন সম্পর্কে শুনেই আসছি। কিন্তু এখনো জানি না কারা কারা আসছেন। আমার কোনো ধারণা নেই। কারা আসছেন না, আমরা শুধু তা জানি। মনে হচ্ছে, এটি খুব বেশি আশাব্যঞ্জক হবে না।’ রানির কথাগুলো নিয়ে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে ওয়েল্স পার্লামেন্ট। রানিকে বলতে শোনা যায়, ‘তারা যখন কথা বলে সেটি সত্যিই অনেক বিরক্তিকর। তারা বলে কিন্তু কাজ করে না।’ আগের দিন বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রানির নাতি প্রিন্স উইলিয়ামস মহাকাশ পর্যটনের সম্ভাবনাময় খাতের বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আমাদের আগে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। পৃথিবীকে বাঁচাতে হবে। মহাকাশ গবেষণা ও মহাকাশে নভোযান পাঠানো নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছে ধনী দেশগুলো। কোনো দেশ আবার মহাকাশ পর্যটন ব্যবসায় ‘সম্ভাবনা’ও দেখছেন। তা ছাড়া মহাকাশে গিয়ে সিনেমার শুটিংয়ের কথাও শুনেছি আমরা। এসবের সমালোচনা করেছেন প্রিন্স উইলিয়ামস। তিনি মনে করেন, মহাকাশ নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামার পরিবর্তে সবাইকে বরং এই পৃথিবীর দিকে নজর দেওয়া উচিত। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে মার্কিন বিলিয়নিয়ার জেফ বেজোসের মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা ব্লু অরিজিন থেকে মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে গিয়েছিলেন ৯০ বছর বয়সি প্রখ্যাত অভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনার। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন এমন কিছু মেধাবী ও সুন্দর মনের মানুষ, যারা অন্য কোথাও গিয়ে বাঁচার জায়গা না খুঁজে বরং এই গ্রহকেই মেরামতের কাজে মনোযোগী হবেন।’ কপ-২৬ প্রসঙ্গে প্রিন্স উইলিয়ামস বলেন, ‘আমি মনে করি, খুব স্পষ্ট ও সৎভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এগুলোর সমাধান কী হতে পারে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। আমরা যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে আর কোনো কথার ফুলঝুরি চাই না।’ এসময় বড় ছেলে আট বছর বয়সি জর্জও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমার ছেলে স্কুলের মাঠ থেকে ময়লা কুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলেছিল। পরদিন এসে আবার ময়লা দেখতে পেল। এ নিয়ে সে আমার কাছে পরিবেশ নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। যদিও সে আবারও ওই ময়লা তুলে ডাস্টবিনে ফেলেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি শঙ্কিত যে জর্জকে যদি ৩০ বছর বয়সেও আমার মতো উদ্বেগ নিয়ে কথা বলতে হয়, তাহলে তো আর কিছুই করার থাকবে না।’

মুখ খুলল ব্রিটিশ রাজপরিবার

বিশ্ব জলবায়ু নিয়ে তিন প্রজন্ম হতাশ

কাজের চেয়ে কথা হচ্ছে বেশি : রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ * মহাকাশে ভ্রমণ পরে, আগে পৃথিবী বাঁচান : প্রিন্স উইলিয়ামস * ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে বিরক্ত রানির নাতি জর্জ
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী মাসেই গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬। আর এ বিষয়টি সামনে এনেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের তিন প্রজন্মের মুখে ফুটে উঠল হতাশার চিহ্ন। কার্ডিফে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওয়েল্স অ্যাসেম্বলির ষষ্ঠ সেশনে জলবায়ু সংকট নিয়ে কথা বলছিলেন ৯৫ বছর বয়সি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুত্রবধূ প্রিন্সেস ক্যামিলিয়া ও ওয়েল্স পার্লামেন্টের প্রিজাইডিং অফিসার এলেন জোনসের সঙ্গে আলোচনায় বিশ্বনেতাদের ওপর বিরক্তি ও হতাশা প্রকাশ করেছেন রানি। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু কপ-২৬ সম্মেলন সম্পর্কে শুনেই আসছি। কিন্তু এখনো জানি না কারা কারা আসছেন। আমার কোনো ধারণা নেই। কারা আসছেন না, আমরা শুধু তা জানি। মনে হচ্ছে, এটি খুব বেশি আশাব্যঞ্জক হবে না।’ রানির কথাগুলো নিয়ে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে ওয়েল্স পার্লামেন্ট। রানিকে বলতে শোনা যায়, ‘তারা যখন কথা বলে সেটি সত্যিই অনেক বিরক্তিকর। তারা বলে কিন্তু কাজ করে না।’ আগের দিন বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রানির নাতি প্রিন্স উইলিয়ামস মহাকাশ পর্যটনের সম্ভাবনাময় খাতের বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আমাদের আগে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। পৃথিবীকে বাঁচাতে হবে। মহাকাশ গবেষণা ও মহাকাশে নভোযান পাঠানো নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছে ধনী দেশগুলো। কোনো দেশ আবার মহাকাশ পর্যটন ব্যবসায় ‘সম্ভাবনা’ও দেখছেন। তা ছাড়া মহাকাশে গিয়ে সিনেমার শুটিংয়ের কথাও শুনেছি আমরা। এসবের সমালোচনা করেছেন প্রিন্স উইলিয়ামস। তিনি মনে করেন, মহাকাশ নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামার পরিবর্তে সবাইকে বরং এই পৃথিবীর দিকে নজর দেওয়া উচিত। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে মার্কিন বিলিয়নিয়ার জেফ বেজোসের মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা ব্লু অরিজিন থেকে মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে গিয়েছিলেন ৯০ বছর বয়সি প্রখ্যাত অভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনার। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন এমন কিছু মেধাবী ও সুন্দর মনের মানুষ, যারা অন্য কোথাও গিয়ে বাঁচার জায়গা না খুঁজে বরং এই গ্রহকেই মেরামতের কাজে মনোযোগী হবেন।’ কপ-২৬ প্রসঙ্গে প্রিন্স উইলিয়ামস বলেন, ‘আমি মনে করি, খুব স্পষ্ট ও সৎভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এগুলোর সমাধান কী হতে পারে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। আমরা যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে আর কোনো কথার ফুলঝুরি চাই না।’ এসময় বড় ছেলে আট বছর বয়সি জর্জও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমার ছেলে স্কুলের মাঠ থেকে ময়লা কুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলেছিল। পরদিন এসে আবার ময়লা দেখতে পেল। এ নিয়ে সে আমার কাছে পরিবেশ নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। যদিও সে আবারও ওই ময়লা তুলে ডাস্টবিনে ফেলেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি শঙ্কিত যে জর্জকে যদি ৩০ বছর বয়সেও আমার মতো উদ্বেগ নিয়ে কথা বলতে হয়, তাহলে তো আর কিছুই করার থাকবে না।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন