আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ
jugantor
আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ

আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ও লাশ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে দেশটির তালেবান সরকার। বলেছে, এখন থেকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রতি এক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। রোববার তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন থেকে কোনো শাস্তিই আর প্রকাশ্যে দেওয়া হবে না। দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড ও লাশ ঝুলিয়ে রাখা যাবে, অন্যথায় নয়। ডন ও এনডিটিভি।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। এর পর থেকেই বিচারের নামে বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে গোষ্ঠীটি। সম্প্রতি অপহরণের অভিযোগে গত মাসে আফগানিস্তানের হেরাতে গুলি করে হত্যা করা হয় চারজনকে। এরপর ক্রেন থেকে তাদের লাশ প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখে তালেবানরা। হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মৌলভী শীর আহমেদ মুহাজির বলেছেন, অপহরণকে সহ্য করা হবে না। এই শিক্ষা দেওয়ার জন্য একই দিনে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং মৃতদের লাশ বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভয়াবহ ছবি ছড়িয়ে পড়ে, তাতে দেখা যায়, একটি পিকআপে মৃতদের লাশ। এ সময় একটি ক্রেন থেকে একজনের লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তা দেখতে লোকজনের ভিড় জমে যায়। তাদের সামাল দিতে যানটির চার পাশে সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ করা যায়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, হেরাতের একটি বড় ক্রসিংয়ে একটি ক্রেন থেকে একজনের লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার বুকের ওপর লেখা-অপহরণকারীদের এভাবেই শাস্তি পেতে হবে। ওই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ড্রোন হামলায় নিহতদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র : আফগানিস্তানের কাবুলে ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিরীহ ১০ আফগান নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বজনদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ক্ষতিপূরণ নেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন নিহতদের স্বজনরা। কাবুল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এক দিন আগে গত ২৯ আগস্ট ওই ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এতে একজন ত্রাণ সহায়তাকর্মী ও তার পরিবারের নয় সদস্য প্রাণ হারান। এর মধ্যে সাতজনই শিশু। এএফপি।

এক বছর আগেই মারা গেছেন তালেবানের শীর্ষ নেতা, দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমের : তালিবানের সুপ্রিম লিডার হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা মারা গেছেন বলে দাবি করেছে ভারতের একটি গণমাধ্যম। সিএনএন-নিউজ১৮ জানিয়েছে, এক বছর আগেই পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মঘাতী হামলায় হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার মৃত্যু হয়েছে। গত আগস্ট মাসে কাবুল দখল করে তালেবান। কিন্তু তার পরও আখুন্দজাদাকে জনসমক্ষে আসতে দেখা যায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাকে নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। শোনা গিয়েছিল, পাক বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে সে। কিছু সূত্র দাবি করেছিল, পাক বাহিনীর হাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এবার সেই তত্ত্বকেই মান্যতা দিল তালেবান। বিশ্লেষকদের মতে, আখুন্দজাদাকে সরিয়ে দিয়ে এবার তালেবানের রাশ ধরতে চলেছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক।

নব্বইয়ের দশকে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। তখন হিবাতুল্লাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার ওপর ভার পড়েছিল অপরাধ দমনের। ২০০১-এ টুইন টাওয়ার হামলার পর আমেরিকা যখন কাবুল থেকে তালেবানকে উচ্ছেদ করে, তখন আখুন্দজাদাকে তালেবান পরিষদের প্রধান করা হয়। ২০১৫ তালেবান প্রধান মোল্লা আখতার মনসুর তার সহকারী হিসাবে নিযুক্ত করে হিবাতুল্লাকে। ২০১৬ মার্কিন ড্রোন হামলায় মনসুর নিহত হওয়ার পর তালেবানের রাশ ধরে হিবাতুল্লা।

আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ
ফাইল ছবি

আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ও লাশ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে দেশটির তালেবান সরকার। বলেছে, এখন থেকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রতি এক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। রোববার তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন থেকে কোনো শাস্তিই আর প্রকাশ্যে দেওয়া হবে না। দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড ও লাশ ঝুলিয়ে রাখা যাবে, অন্যথায় নয়। ডন ও এনডিটিভি।

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। এর পর থেকেই বিচারের নামে বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে গোষ্ঠীটি। সম্প্রতি অপহরণের অভিযোগে গত মাসে আফগানিস্তানের হেরাতে গুলি করে হত্যা করা হয় চারজনকে। এরপর ক্রেন থেকে তাদের লাশ প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখে তালেবানরা। হেরাত প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মৌলভী শীর আহমেদ মুহাজির বলেছেন, অপহরণকে সহ্য করা হবে না। এই শিক্ষা দেওয়ার জন্য একই দিনে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং মৃতদের লাশ বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভয়াবহ ছবি ছড়িয়ে পড়ে, তাতে দেখা যায়, একটি পিকআপে মৃতদের লাশ। এ সময় একটি ক্রেন থেকে একজনের লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তা দেখতে লোকজনের ভিড় জমে যায়। তাদের সামাল দিতে যানটির চার পাশে সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ করা যায়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, হেরাতের একটি বড় ক্রসিংয়ে একটি ক্রেন থেকে একজনের লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার বুকের ওপর লেখা-অপহরণকারীদের এভাবেই শাস্তি পেতে হবে। ওই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ড্রোন হামলায় নিহতদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র : আফগানিস্তানের কাবুলে ড্রোন হামলায় শিশুসহ নিরীহ ১০ আফগান নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বজনদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ক্ষতিপূরণ নেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন নিহতদের স্বজনরা। কাবুল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এক দিন আগে গত ২৯ আগস্ট ওই ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এতে একজন ত্রাণ সহায়তাকর্মী ও তার পরিবারের নয় সদস্য প্রাণ হারান। এর মধ্যে সাতজনই শিশু। এএফপি।

এক বছর আগেই মারা গেছেন তালেবানের শীর্ষ নেতা, দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমের : তালিবানের সুপ্রিম লিডার হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা মারা গেছেন বলে দাবি করেছে ভারতের একটি গণমাধ্যম। সিএনএন-নিউজ১৮ জানিয়েছে, এক বছর আগেই পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মঘাতী হামলায় হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার মৃত্যু হয়েছে। গত আগস্ট মাসে কাবুল দখল করে তালেবান। কিন্তু তার পরও আখুন্দজাদাকে জনসমক্ষে আসতে দেখা যায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাকে নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। শোনা গিয়েছিল, পাক বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে সে। কিছু সূত্র দাবি করেছিল, পাক বাহিনীর হাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এবার সেই তত্ত্বকেই মান্যতা দিল তালেবান। বিশ্লেষকদের মতে, আখুন্দজাদাকে সরিয়ে দিয়ে এবার তালেবানের রাশ ধরতে চলেছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক।

নব্বইয়ের দশকে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। তখন হিবাতুল্লাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার ওপর ভার পড়েছিল অপরাধ দমনের। ২০০১-এ টুইন টাওয়ার হামলার পর আমেরিকা যখন কাবুল থেকে তালেবানকে উচ্ছেদ করে, তখন আখুন্দজাদাকে তালেবান পরিষদের প্রধান করা হয়। ২০১৫ তালেবান প্রধান মোল্লা আখতার মনসুর তার সহকারী হিসাবে নিযুক্ত করে হিবাতুল্লাকে। ২০১৬ মার্কিন ড্রোন হামলায় মনসুর নিহত হওয়ার পর তালেবানের রাশ ধরে হিবাতুল্লা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন