মালদ্বীপে আগে ভয় ছিল হাঙরের এখন প্লাস্টিক
jugantor
মালদ্বীপে আগে ভয় ছিল হাঙরের এখন প্লাস্টিক

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মালদ্বীপে আগে ভয় ছিল হাঙরের এখন প্লাস্টিক

ভারত মহাসাগরের দ্বীপদেশ মালদ্বীপের মানুষেরা একসময় সবচেয়ে বেশি ভয় পেত হাঙরকে। ভয়ে পানিতেই নামতে চাইত না। কিন্তু তাদের সে আতঙ্ক আর নেই। এখন হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটে, খেলা করে তারা। কিন্তু হাঙরের ভয় কাটতে না কাটতেই তাদের সামনে নতুন এক আতঙ্ক এসে হাজির হয়েছে। প্লাস্টিককেই এখন সবচেয়ে বেশি ভয় পায় দেশটির অধিবাসীরা। ছোট-বড় এক হাজার ২০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত মালদ্বীপ। দ্বীপগুলোর চার পাশে অসংখ্য হাঙরের বাস। বিশাল আকারের এই হাঙরগুলোকে ঐতিহ্যগতভাবেই ভয়ঙ্কর মনে করত বাসিন্দারা। এ কারণে জেলেরা প্রায়ই তাদের দেখামাত্রই মেরে ফেলে। কিন্তু এখন থেকে কয়েক বছর আগে হঠাৎই তাদের সেই ভুল ভেঙে যায়। লোনু আহমেদ নামে এক যুবক একদিন সাহস করেই সাগরের গভীরে ডুব দেন। সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে আহমেদ বলেন, ‘আমি কখনো হাঙর দেখে ভয় পাইনি। আমি জানতাম, হাঙরের কাজ বিভিন্ন মরা-পচা জিনিস খেয়ে সাগর পরিষ্কার রাখা। তারা মানুষকে আক্রমণ করে না। আমি তাদের কাছ থেকে দেখেছি।’ আহমেদের এই অভিজ্ঞতা মালদ্বীপের মানুষের শত শত বছরের ভয় তাড়িয়ে দেয়। আহমেদের দেখাদেখি বহু মানুষ সাগরে নামতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, এখন তারা হাঙরের সঙ্গে সাঁতারও কাটে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মালদ্বীপ আগে থেকেই পর্যটনের জন্য বিখ্যাত। হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটার সুযোগে পর্যটক সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে।

আর পর্যটনই এখন দেশটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অপার সৌন্দর্য এখন হুমকির মুখে শুধুমাত্র প্লাস্টিকের কারণে। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ মালদ্বীপে প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা নেই বললেই চলে। ফলে সমুদ্র সৈকতগুলোতে প্লাস্টিকের চর জমছে। রাস্তাঘাট, অলি-গলি যেদিকেই তাকানো যায়, শুধু প্লাস্টিক আর প্লাস্টিক। এসব প্লাস্টিকের বেশির ভাগই পানির সঙ্গে সাগরে মিশে যাচ্ছে। ফলে সামুদ্রিক প্রবাল ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে জলজ প্রাণীদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

মালদ্বীপে আগে ভয় ছিল হাঙরের এখন প্লাস্টিক

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মালদ্বীপে আগে ভয় ছিল হাঙরের এখন প্লাস্টিক
ফাইল ছবি

ভারত মহাসাগরের দ্বীপদেশ মালদ্বীপের মানুষেরা একসময় সবচেয়ে বেশি ভয় পেত হাঙরকে। ভয়ে পানিতেই নামতে চাইত না। কিন্তু তাদের সে আতঙ্ক আর নেই। এখন হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটে, খেলা করে তারা। কিন্তু হাঙরের ভয় কাটতে না কাটতেই তাদের সামনে নতুন এক আতঙ্ক এসে হাজির হয়েছে। প্লাস্টিককেই এখন সবচেয়ে বেশি ভয় পায় দেশটির অধিবাসীরা। ছোট-বড় এক হাজার ২০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত মালদ্বীপ। দ্বীপগুলোর চার পাশে অসংখ্য হাঙরের বাস। বিশাল আকারের এই হাঙরগুলোকে ঐতিহ্যগতভাবেই ভয়ঙ্কর মনে করত বাসিন্দারা। এ কারণে জেলেরা প্রায়ই তাদের দেখামাত্রই মেরে ফেলে। কিন্তু এখন থেকে কয়েক বছর আগে হঠাৎই তাদের সেই ভুল ভেঙে যায়। লোনু আহমেদ নামে এক যুবক একদিন সাহস করেই সাগরের গভীরে ডুব দেন। সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে আহমেদ বলেন, ‘আমি কখনো হাঙর দেখে ভয় পাইনি। আমি জানতাম, হাঙরের কাজ বিভিন্ন মরা-পচা জিনিস খেয়ে সাগর পরিষ্কার রাখা। তারা মানুষকে আক্রমণ করে না। আমি তাদের কাছ থেকে দেখেছি।’ আহমেদের এই অভিজ্ঞতা মালদ্বীপের মানুষের শত শত বছরের ভয় তাড়িয়ে দেয়। আহমেদের দেখাদেখি বহু মানুষ সাগরে নামতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, এখন তারা হাঙরের সঙ্গে সাঁতারও কাটে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মালদ্বীপ আগে থেকেই পর্যটনের জন্য বিখ্যাত। হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটার সুযোগে পর্যটক সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে।

আর পর্যটনই এখন দেশটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অপার সৌন্দর্য এখন হুমকির মুখে শুধুমাত্র প্লাস্টিকের কারণে। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ মালদ্বীপে প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা নেই বললেই চলে। ফলে সমুদ্র সৈকতগুলোতে প্লাস্টিকের চর জমছে। রাস্তাঘাট, অলি-গলি যেদিকেই তাকানো যায়, শুধু প্লাস্টিক আর প্লাস্টিক। এসব প্লাস্টিকের বেশির ভাগই পানির সঙ্গে সাগরে মিশে যাচ্ছে। ফলে সামুদ্রিক প্রবাল ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে জলজ প্রাণীদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন