সিআইএ’র বিরুদ্ধে ‘গণযুদ্ধ’ চীনে
jugantor
সিআইএ’র বিরুদ্ধে ‘গণযুদ্ধ’ চীনে
পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার খবর নাকচ বেইজিংয়ের

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৯ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘গণযুদ্ধ’র আহ্বান জানিয়েছে চীনা সেনাবাহিনী। রোববার এক সম্পাদকীয়তে এই আহ্বান জানায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম পিপলস লিবারেশন আর্মি ডেইলি। শুধু চীনকে টার্গেট করে সপ্তাহখানেক আগেই (৭ অক্টোবর) বিশেষ একটি ইউনিট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি ‘সিআইএ’। ইউনিটটির নাম দেওয়া হয়েছে-চীনা মিশন সেন্টার। এর কাজ হবে শুধু চীনের বিভিন্ন হুমকির ওপর বিশেষ নজর রাখা। চীনে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য গঠনের ঘোষণা দিয়ে সিআইএ’র পরিচালক উইলিয়াম বার্নস বলেন, দেশটি এই শতাব্দীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় ‘ভূরাজনৈতিক হুমকি’।

এরই প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে সিআইএ’র সম্প্রসারিত অভিযান হিসাবে অভিহিত করেছে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর দৈনিক। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, পিপলস লিবারেশন আর্মি ডেইলির একটি উইবো অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়-‘মার্কিন গোয়েন্দা পরিষেবা, যা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে বিশেষ এজেন্ট নিয়োগ করছে, এর পেছনে অবশ্যই আরও ভয়াবহ এবং অসহনীয় পদ্ধতি থাকতে হবে।’ আরও বলা হয়-‘কোনো ধূর্ত শিয়াল একটি ভালো শিকারিকে পরাজিত করতে পারে না।’ জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে ‘গণযুদ্ধ’র আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘গোয়েন্দা ঝুঁকির বিরুদ্ধে প্রহরা গড়ে তুলতে ও বিদেশি গুপ্তচরদের জন্য অপতৎপরতা চালানো ও নিজেদের লুকিয়ে রাখা অসম্ভব করতে আমাদের এখন জনযুদ্ধের প্রয়োজন।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিআইএ’র এজেন্টদের বিরুদ্ধে রীতিমতো শিকারে নেমেছে রাশিয়া, চীন, ইরান এবং পাকিস্তানের মতো দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। শুধু তাই নয়, এসব গুপ্তচরকে বন্দি বা হত্যা ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে ডাবল এজেন্টে পরিণত করছে, যারা উলটো তথ্য গোপন ও ভুল তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। সিআইএ’র গতিবিধি নজরদারির জন্য বায়োমেট্রিক স্ক্যান, ফেসিয়াল রেকগনিশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং হ্যাকিং সরঞ্জামের মতো উদ্ভাবন কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান দক্ষতা দেখিয়েছে দেশগুলো। সতর্কতামূলক ওই তারবার্তার কয়েক দিন পরই চীনের বিরুদ্ধে নতুন গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করে সিআইএ। সিআইএ’র এ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীনকে শীর্ষ কৌশলগত প্রতিযোগী হিসাবে তুলে ধরার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জুনে বাইডেন পেন্টাগনে একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। যেটির দায়িত্ব হলো বেইজিংয়ের সামরিক চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা ও মোকাবিলা করা।

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডাকে চীনের হুঁশিয়ারি : চীনের সেনাবাহিনী তাইওয়ান প্রণালীতে আমেরিকা ও কানাডার যুদ্ধজাহাজ চলাচলের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা এর গতিবিধি এবং এসব থেকে যেকোনো হুমকির যথাযথ জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বলেছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমূলক পদক্ষেপকে হালকাভাবে নেবে না চীন। সোমবার রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যুদ্ধজাহাজ চলাচল আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন করবে। রোববার মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডিউয়ি তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে প্রবেশ করে। এ সময় কানাডার একটি যুদ্ধজাহাজ মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে সঙ্গ দিচ্ছিল। মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পূর্ব এশিয়ায় নিজের অংশীদারদের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে নতুন একটি হাইপারসনিক পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার খবর নাকচ করে দিয়েছে চীন। বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র নয়, একটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। গোপনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র চালানো হয়েছিল বলে শনিবার এক প্রতিবেদনে দাবি করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

সিআইএ’র বিরুদ্ধে ‘গণযুদ্ধ’ চীনে

পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার খবর নাকচ বেইজিংয়ের
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৯ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘গণযুদ্ধ’র আহ্বান জানিয়েছে চীনা সেনাবাহিনী। রোববার এক সম্পাদকীয়তে এই আহ্বান জানায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম পিপলস লিবারেশন আর্মি ডেইলি। শুধু চীনকে টার্গেট করে সপ্তাহখানেক আগেই (৭ অক্টোবর) বিশেষ একটি ইউনিট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি ‘সিআইএ’। ইউনিটটির নাম দেওয়া হয়েছে-চীনা মিশন সেন্টার। এর কাজ হবে শুধু চীনের বিভিন্ন হুমকির ওপর বিশেষ নজর রাখা। চীনে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য গঠনের ঘোষণা দিয়ে সিআইএ’র পরিচালক উইলিয়াম বার্নস বলেন, দেশটি এই শতাব্দীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় ‘ভূরাজনৈতিক হুমকি’।

এরই প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে সিআইএ’র সম্প্রসারিত অভিযান হিসাবে অভিহিত করেছে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর দৈনিক। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, পিপলস লিবারেশন আর্মি ডেইলির একটি উইবো অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়-‘মার্কিন গোয়েন্দা পরিষেবা, যা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে বিশেষ এজেন্ট নিয়োগ করছে, এর পেছনে অবশ্যই আরও ভয়াবহ এবং অসহনীয় পদ্ধতি থাকতে হবে।’ আরও বলা হয়-‘কোনো ধূর্ত শিয়াল একটি ভালো শিকারিকে পরাজিত করতে পারে না।’ জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে ‘গণযুদ্ধ’র আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘গোয়েন্দা ঝুঁকির বিরুদ্ধে প্রহরা গড়ে তুলতে ও বিদেশি গুপ্তচরদের জন্য অপতৎপরতা চালানো ও নিজেদের লুকিয়ে রাখা অসম্ভব করতে আমাদের এখন জনযুদ্ধের প্রয়োজন।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিআইএ’র এজেন্টদের বিরুদ্ধে রীতিমতো শিকারে নেমেছে রাশিয়া, চীন, ইরান এবং পাকিস্তানের মতো দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। শুধু তাই নয়, এসব গুপ্তচরকে বন্দি বা হত্যা ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে ডাবল এজেন্টে পরিণত করছে, যারা উলটো তথ্য গোপন ও ভুল তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। সিআইএ’র গতিবিধি নজরদারির জন্য বায়োমেট্রিক স্ক্যান, ফেসিয়াল রেকগনিশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং হ্যাকিং সরঞ্জামের মতো উদ্ভাবন কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান দক্ষতা দেখিয়েছে দেশগুলো। সতর্কতামূলক ওই তারবার্তার কয়েক দিন পরই চীনের বিরুদ্ধে নতুন গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করে সিআইএ। সিআইএ’র এ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীনকে শীর্ষ কৌশলগত প্রতিযোগী হিসাবে তুলে ধরার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জুনে বাইডেন পেন্টাগনে একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। যেটির দায়িত্ব হলো বেইজিংয়ের সামরিক চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা ও মোকাবিলা করা।

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডাকে চীনের হুঁশিয়ারি : চীনের সেনাবাহিনী তাইওয়ান প্রণালীতে আমেরিকা ও কানাডার যুদ্ধজাহাজ চলাচলের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা এর গতিবিধি এবং এসব থেকে যেকোনো হুমকির যথাযথ জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বলেছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমূলক পদক্ষেপকে হালকাভাবে নেবে না চীন। সোমবার রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যুদ্ধজাহাজ চলাচল আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন করবে। রোববার মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডিউয়ি তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে প্রবেশ করে। এ সময় কানাডার একটি যুদ্ধজাহাজ মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে সঙ্গ দিচ্ছিল। মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পূর্ব এশিয়ায় নিজের অংশীদারদের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে নতুন একটি হাইপারসনিক পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার খবর নাকচ করে দিয়েছে চীন। বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র নয়, একটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। গোপনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র চালানো হয়েছিল বলে শনিবার এক প্রতিবেদনে দাবি করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন