যুক্তরাষ্ট্রে টয়লেট পেপার ঘাটতি, চীনে কয়লা
jugantor
যুক্তরাষ্ট্রে টয়লেট পেপার ঘাটতি, চীনে কয়লা
বিশ্বজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট

  যুগান্তর ডেস্ক  

২০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চীনে কাগজ-কয়লার ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রে টয়লেট পেপারের। ভারতে কম্পিউটার চিপসের অভাব, ব্রাজিলে কফির। এভাবে বিশ্বজুড়েই সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে লাখো কোটি মানুষ। সামনের দিনগুলোতে এই সংকট আরও তীব্রতর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এজন্য মূলত করোনা মহামারিই সবচেয়ে বেশি দায়ী। তবে এর আরও অনেক কারণ রয়েছে। চীনে কাগজ থেকে শুরু করে খাদ্য-খাবার, পোশাক এমনকি খেলনা ও আইফোন চিপস সবকিছুরই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক ড. মিশেল মেইডান বলেন, আসন্ন ক্রিসমাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু পণ্যের ব্যাপক ঘাটতি পড়বে। দেশটির এই সমস্যা তৈরি হয়েছে মূলত বিদ্যুৎ বিপর্যয় থেকে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ আসে কয়লা থেকে। কিন্তু বিশ্ববাজারে এর দাম বেড়েই চলেছে। কিন্তু কঠোর নিয়মনীতির কারণে এই অতিরিক্ত খরচ সাধারণ ভোক্তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারছে না কোম্পানিগুলো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে তারা। যার প্রভাব পড়ছে পুরো দেশের উৎপাদন ব্যবস্থায়।

মহামারির ধকল কাটিয়ে অর্থনীতি পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু চাহিদার সঙ্গে ঠিক তালমেলাতে পারছে না সরবরাহ। শুধু চীনই নয়, কয়লার মজুত মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে কমে যাওয়ায় ভারতের ১৩৫টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি এখন ধুঁকে ধুঁকে চলছে। এদিকে টয়লেট পেপার সংকটে ধুঁকছে মার্কিন নাগরিকরা। হোয়াইট হাউজ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ক্রিসমাসে এমন অনেক জিনিসই দরকার হবে যা মানুষ পাবে না। ইতোমধ্যে দেশটির খেলনা কোম্পানিগুলোর স্টকে টান পড়েছে। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে টয়লেট পেপার, বোতলজাত পানি, নতুন কাপড় ও পোষা জীব-জন্তুর খাবারের সরবরাহও কমে গেছে। গাড়ি ও কম্পিউটার চিপসের সংকট দেখা দিয়েছে ভারতে। দেশটির সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি মারুটি সুজুকির উৎপাদন ইতোমধ্যে অনেকটাই কমে গেছে। শুধু ভারতেই নয়, চিপস ঘাটতির কারণে গাড়ি উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপানের টয়োটা কোম্পানিও। আগামী নভেম্বরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিশ্বজুড়ে উৎপাদন ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনবে জাপানি গাড়ি নির্মাতা সংস্থাটি। ফলে গাড়ির উৎপাদন কমে আসবে দেড় লাখ। যদিও পুরো বছরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বজায় রেখেছে টয়োটা। ডিসেম্বর থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে এ ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি। স্মার্টফোন, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন শিল্পের হার্ডওয়্যারে দরকারি যন্ত্রাংশ হলো সেমিকন্ডাক্টর বা চিপস। গত বছর করোনার মধ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা বাড়লেও নানা কারণে কমে যায় চিপসের উৎপাদন। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কফি উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ ব্রাজিল। সেই দেশটিতেই কফির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সঙ্গে সুপেয় পানির সংকট প্রত্যক্ষ করছে দেশটির মানুষ। এজন্য চলমান ভয়াবহ খরাকে দায়ী করা হচ্ছে। খরার কারণে এ বছর কফির উৎপাদন অনেকটাই কম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে টয়লেট পেপার ঘাটতি, চীনে কয়লা

বিশ্বজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট
 যুগান্তর ডেস্ক 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চীনে কাগজ-কয়লার ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রে টয়লেট পেপারের। ভারতে কম্পিউটার চিপসের অভাব, ব্রাজিলে কফির। এভাবে বিশ্বজুড়েই সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে লাখো কোটি মানুষ। সামনের দিনগুলোতে এই সংকট আরও তীব্রতর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এজন্য মূলত করোনা মহামারিই সবচেয়ে বেশি দায়ী। তবে এর আরও অনেক কারণ রয়েছে। চীনে কাগজ থেকে শুরু করে খাদ্য-খাবার, পোশাক এমনকি খেলনা ও আইফোন চিপস সবকিছুরই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক ড. মিশেল মেইডান বলেন, আসন্ন ক্রিসমাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু পণ্যের ব্যাপক ঘাটতি পড়বে। দেশটির এই সমস্যা তৈরি হয়েছে মূলত বিদ্যুৎ বিপর্যয় থেকে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ আসে কয়লা থেকে। কিন্তু বিশ্ববাজারে এর দাম বেড়েই চলেছে। কিন্তু কঠোর নিয়মনীতির কারণে এই অতিরিক্ত খরচ সাধারণ ভোক্তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারছে না কোম্পানিগুলো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে তারা। যার প্রভাব পড়ছে পুরো দেশের উৎপাদন ব্যবস্থায়।

মহামারির ধকল কাটিয়ে অর্থনীতি পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু চাহিদার সঙ্গে ঠিক তালমেলাতে পারছে না সরবরাহ। শুধু চীনই নয়, কয়লার মজুত মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে কমে যাওয়ায় ভারতের ১৩৫টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি এখন ধুঁকে ধুঁকে চলছে। এদিকে টয়লেট পেপার সংকটে ধুঁকছে মার্কিন নাগরিকরা। হোয়াইট হাউজ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ক্রিসমাসে এমন অনেক জিনিসই দরকার হবে যা মানুষ পাবে না। ইতোমধ্যে দেশটির খেলনা কোম্পানিগুলোর স্টকে টান পড়েছে। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে টয়লেট পেপার, বোতলজাত পানি, নতুন কাপড় ও পোষা জীব-জন্তুর খাবারের সরবরাহও কমে গেছে। গাড়ি ও কম্পিউটার চিপসের সংকট দেখা দিয়েছে ভারতে। দেশটির সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি মারুটি সুজুকির উৎপাদন ইতোমধ্যে অনেকটাই কমে গেছে। শুধু ভারতেই নয়, চিপস ঘাটতির কারণে গাড়ি উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপানের টয়োটা কোম্পানিও। আগামী নভেম্বরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিশ্বজুড়ে উৎপাদন ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনবে জাপানি গাড়ি নির্মাতা সংস্থাটি। ফলে গাড়ির উৎপাদন কমে আসবে দেড় লাখ। যদিও পুরো বছরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বজায় রেখেছে টয়োটা। ডিসেম্বর থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে এ ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি। স্মার্টফোন, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন শিল্পের হার্ডওয়্যারে দরকারি যন্ত্রাংশ হলো সেমিকন্ডাক্টর বা চিপস। গত বছর করোনার মধ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা বাড়লেও নানা কারণে কমে যায় চিপসের উৎপাদন। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কফি উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ ব্রাজিল। সেই দেশটিতেই কফির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সঙ্গে সুপেয় পানির সংকট প্রত্যক্ষ করছে দেশটির মানুষ। এজন্য চলমান ভয়াবহ খরাকে দায়ী করা হচ্ছে। খরার কারণে এ বছর কফির উৎপাদন অনেকটাই কম হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন