অনাহারে মরবে কোটি কোটি মানুষ
jugantor
অনাহারে মরবে কোটি কোটি মানুষ
আফগানিস্তানে চরম খাদ্য সংকট

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনাহারে মরবে কোটি কোটি মানুষ

আফগানিস্তানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। ক্রমেই দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন শীতে শিশুসহ কোটি কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যেতে পারে। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচীবিষয়ক এক শীর্ষ কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে মানবিক সহায়তা ত্বরান্বিত করতে বিদেশে আটকে থাকা আফগান রিজার্ভের অর্থ ছাড় করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। সোমবার রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেছেন, বর্তমানে আফগানিস্তানের প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার মানুষ চরম খাদ্য অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। একই সঙ্গে পাঁচ বছরের কম বয়সি ৩০ লাখ ২০ হাজার শিশু চরম অপুষ্টির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে। গত আগস্টে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সৈন্য প্রত্যাহার করে নিলে দেশটির শাসনভার দখল করে তালেবান বাহিনী। এতে করে আফগানিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। কারণ বিদেশি সাহায্যনির্ভর আফগানিস্তানের সব ধরনের সহায়তা স্থগিত করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ দেশটিতে অর্থ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, কোনো দেশের জিডিপির ১০% বিদেশি সহায়তা থেকে এলে সে দেশের অর্থনীতিকে বিদেশনির্ভর বলা হয়ে থাকে। সেখানে আফগানিস্তানের জিডিপির ৪০% আসে বিদেশি সাহায্য থেকে। আফগানিস্তানের অনেক মানুষই এখন জমিজমা বিক্রি করে দিচ্ছে বেঁচে থাকার খাবার কিনতে। নতুন তালেবান প্রশাসন বিদেশি সম্পদ দেশে আনতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সরকারি চাকুরে এবং অন্যান্য পেশাজীবীর বেতনও স্থগিত রাখা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ডব্লিউএফপি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আসন্ন শীতেও আফগান নাগরিকরা বিচ্ছিন্ন থাকলে তারা পুরোপুরিভাবে মানবিক বিপর্যয়ে পড়বে। আর এই প্রথম শহুরে আফগানরা খাদ্যের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এদিকে আগামী এক মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে ফের কূটনৈতিক মিশন চালু করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তালেবান সরকারের সঙ্গে সীমিত সম্পৃক্ততা আরও গভীর করতে চায় ইউরোপীয় দেশগুলোর এই জোট। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই উদ্যোগের অর্থ হলো প্রায় ১২ সপ্তাহ পর ফের কাবুলে ফিরবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা।

এদিকে আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানবিষয়ক সাবেক বিশেষ দূত জালমাই খলিলজাদে। তিনি বলেছেন, যুদ্ধে তালেবানের কাছে হেরে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। অনেক চেষ্টা করেও যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন বাহিনী। এমন বাস্তবতায় তালেবানের সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতার পথ বেছে নেয় ওয়াশিংটন।

অনাহারে মরবে কোটি কোটি মানুষ

আফগানিস্তানে চরম খাদ্য সংকট
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অনাহারে মরবে কোটি কোটি মানুষ
ফাইল ছবি

আফগানিস্তানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। ক্রমেই দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন শীতে শিশুসহ কোটি কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যেতে পারে। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচীবিষয়ক এক শীর্ষ কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে মানবিক সহায়তা ত্বরান্বিত করতে বিদেশে আটকে থাকা আফগান রিজার্ভের অর্থ ছাড় করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। সোমবার রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেছেন, বর্তমানে আফগানিস্তানের প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার মানুষ চরম খাদ্য অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। একই সঙ্গে পাঁচ বছরের কম বয়সি ৩০ লাখ ২০ হাজার শিশু চরম অপুষ্টির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে। গত আগস্টে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সৈন্য প্রত্যাহার করে নিলে দেশটির শাসনভার দখল করে তালেবান বাহিনী। এতে করে আফগানিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। কারণ বিদেশি সাহায্যনির্ভর আফগানিস্তানের সব ধরনের সহায়তা স্থগিত করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ দেশটিতে অর্থ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, কোনো দেশের জিডিপির ১০% বিদেশি সহায়তা থেকে এলে সে দেশের অর্থনীতিকে বিদেশনির্ভর বলা হয়ে থাকে। সেখানে আফগানিস্তানের জিডিপির ৪০% আসে বিদেশি সাহায্য থেকে। আফগানিস্তানের অনেক মানুষই এখন জমিজমা বিক্রি করে দিচ্ছে বেঁচে থাকার খাবার কিনতে। নতুন তালেবান প্রশাসন বিদেশি সম্পদ দেশে আনতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সরকারি চাকুরে এবং অন্যান্য পেশাজীবীর বেতনও স্থগিত রাখা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ডব্লিউএফপি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আসন্ন শীতেও আফগান নাগরিকরা বিচ্ছিন্ন থাকলে তারা পুরোপুরিভাবে মানবিক বিপর্যয়ে পড়বে। আর এই প্রথম শহুরে আফগানরা খাদ্যের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এদিকে আগামী এক মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে ফের কূটনৈতিক মিশন চালু করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তালেবান সরকারের সঙ্গে সীমিত সম্পৃক্ততা আরও গভীর করতে চায় ইউরোপীয় দেশগুলোর এই জোট। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই উদ্যোগের অর্থ হলো প্রায় ১২ সপ্তাহ পর ফের কাবুলে ফিরবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা।

এদিকে আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানবিষয়ক সাবেক বিশেষ দূত জালমাই খলিলজাদে। তিনি বলেছেন, যুদ্ধে তালেবানের কাছে হেরে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। অনেক চেষ্টা করেও যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন বাহিনী। এমন বাস্তবতায় তালেবানের সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতার পথ বেছে নেয় ওয়াশিংটন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন