১০ মিনিট শহরে কার্বন চমক
jugantor
১০ মিনিট শহরে কার্বন চমক
প্যারিসের ১৫ মিনিট সিটি উদ্যোগের বিকল্প

  যুগান্তর ডেস্ক  

১২ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

১০ মিনিট শহরে কার্বন চমক

শহরটিতে থাকবে না কোনো গাড়ি। চলতে হবে হেঁটে কিংবা সাইকেলে। কৃষিকাজ? সেও হবে, জলবায়ুবান্ধব কৌশলে। থাকবে না জীবাশ্ম-জ্বালানির ব্যবহার। সিউলে এমনই কার্বন চমক নিয়ে আসছে ‘১০ মিনিট শহর’। অফিস, বাজার কিংবা থিয়েটার-যেখানেই যাবেন, মাত্র ১০ মিনিট। ডাচ আর্কিটেকচার ফার্ম ইউএন স্টুডিওর নকশায় প্রকল্পটির পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি।

‘প্রজেক্ট এইচ ১’ নামের শহর উন্নয়ন প্রকল্পটির আওতায় পুরোনো শিল্প শহরগুলোকে আন্তঃসংযোগ সুবিধাসহ পরিপাটি শহরে পরিণত করা হবে। ‘কার্বনশূন্য’ এমন আবাসিক শহরের পরিকল্পনা প্রথম আলোচনায় আসে ফ্রান্সে। জলবায়ু সংকট ও মহামারি কোভিড-১৯ সমন্বিত সময়কে মোকাবিলা করতে ২০২০ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ‘১৫ মিনিট সিটি’ নামের প্রকল্প চালুর ঘোষণা দেন প্যারিসের মেয়র এনিস হিদালগো। ২০১৬ সালে উদ্ভাবিত ফ্রেঞ্চ-কলম্বিয়ান বিজ্ঞানী কার্লোস মরিনোর ধারণায় ওই প্রকল্পটি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। ১০ মিনিটের শহরের মতোই বাড়ি থেকে হেঁটে কিংবা সাইকেলে ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে।

কোনো গাড়ি থাকবে না। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহৃত যান ব্যবহারের অনুমতি নেই। প্যারিসের ওই ধারণাকেই লুফে নিয়েছে হুন্দাই। আটটি আবাসিক ভবনের সমন্বয়ে ১২৫ একর জমির ওপর তৈরি হবে একেকটি শহর। এর ভেতরেই থাকবে বিনোদনের স্থান, ফিটনেস সেন্টার, খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, হাইড্রোপনিক সিস্টেমের (জলবায়ুবান্ধব বিশেষ চাষাবাদ প্রক্রিয়া) শহুরে খামার। এক বিবৃতিতে ইউএন স্টুডিওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বেন ভ্যান বার্কেল বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি। সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ে একজন বাসিন্দার কী কী বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে, তা নির্ধারণ করেছি। অবসর-বিনোদনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে তিনি পছন্দ করতে পারেন, আমরা সে ব্যাপারেও পর্যালোচনা করেছি। তার প্রয়োজনে কোনোভাবেই তাকে যেন এই শহরের বাইরে যেতে না-হয়, সে বিষয়েও সজাগ থাকছি আমরা।

এতে তার প্রচুর সময় বাঁচবে এবং তিনি সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারবেন।’ প্রকল্পের আরেক মুখপাত্র জানান, ‘পরিকল্পনামাফিক শহরটি হবে মূলত একটি সবুজ শহর। বাগানে সবুজ, ছাদেও থাকবে সবুজ।’ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ পদ্ধতিতে শহরটি রোধ করবে পানির অপচয়। তবে শহরটির অবকাঠামোগত সুবিধা বলছে, উচ্চবিত্তের লোকজনই শহরটি দখলে মরিয়া হবেন। সে ক্ষেত্রে নিু আয়ের প্রান্তিক লোকজন এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে সমালোচকদের ধারণা।

১০ মিনিট শহরে কার্বন চমক

প্যারিসের ১৫ মিনিট সিটি উদ্যোগের বিকল্প
 যুগান্তর ডেস্ক 
১২ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
১০ মিনিট শহরে কার্বন চমক
ছবি: সংগৃহীত

শহরটিতে থাকবে না কোনো গাড়ি। চলতে হবে হেঁটে কিংবা সাইকেলে। কৃষিকাজ? সেও হবে, জলবায়ুবান্ধব কৌশলে। থাকবে না জীবাশ্ম-জ্বালানির ব্যবহার। সিউলে এমনই কার্বন চমক নিয়ে আসছে ‘১০ মিনিট শহর’। অফিস, বাজার কিংবা থিয়েটার-যেখানেই যাবেন, মাত্র ১০ মিনিট। ডাচ আর্কিটেকচার ফার্ম ইউএন স্টুডিওর নকশায় প্রকল্পটির পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি।

‘প্রজেক্ট এইচ ১’ নামের শহর উন্নয়ন প্রকল্পটির আওতায় পুরোনো শিল্প শহরগুলোকে আন্তঃসংযোগ সুবিধাসহ পরিপাটি শহরে পরিণত করা হবে। ‘কার্বনশূন্য’ এমন আবাসিক শহরের পরিকল্পনা প্রথম আলোচনায় আসে ফ্রান্সে। জলবায়ু সংকট ও মহামারি কোভিড-১৯ সমন্বিত সময়কে মোকাবিলা করতে ২০২০ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ‘১৫ মিনিট সিটি’ নামের প্রকল্প চালুর ঘোষণা দেন প্যারিসের মেয়র এনিস হিদালগো। ২০১৬ সালে উদ্ভাবিত ফ্রেঞ্চ-কলম্বিয়ান বিজ্ঞানী কার্লোস মরিনোর ধারণায় ওই প্রকল্পটি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। ১০ মিনিটের শহরের মতোই বাড়ি থেকে হেঁটে কিংবা সাইকেলে ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে।

কোনো গাড়ি থাকবে না। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহৃত যান ব্যবহারের অনুমতি নেই। প্যারিসের ওই ধারণাকেই লুফে নিয়েছে হুন্দাই। আটটি আবাসিক ভবনের সমন্বয়ে ১২৫ একর জমির ওপর তৈরি হবে একেকটি শহর। এর ভেতরেই থাকবে বিনোদনের স্থান, ফিটনেস সেন্টার, খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, হাইড্রোপনিক সিস্টেমের (জলবায়ুবান্ধব বিশেষ চাষাবাদ প্রক্রিয়া) শহুরে খামার। এক বিবৃতিতে ইউএন স্টুডিওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বেন ভ্যান বার্কেল বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি। সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ে একজন বাসিন্দার কী কী বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে, তা নির্ধারণ করেছি। অবসর-বিনোদনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে তিনি পছন্দ করতে পারেন, আমরা সে ব্যাপারেও পর্যালোচনা করেছি। তার প্রয়োজনে কোনোভাবেই তাকে যেন এই শহরের বাইরে যেতে না-হয়, সে বিষয়েও সজাগ থাকছি আমরা।

এতে তার প্রচুর সময় বাঁচবে এবং তিনি সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারবেন।’ প্রকল্পের আরেক মুখপাত্র জানান, ‘পরিকল্পনামাফিক শহরটি হবে মূলত একটি সবুজ শহর। বাগানে সবুজ, ছাদেও থাকবে সবুজ।’ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ পদ্ধতিতে শহরটি রোধ করবে পানির অপচয়। তবে শহরটির অবকাঠামোগত সুবিধা বলছে, উচ্চবিত্তের লোকজনই শহরটি দখলে মরিয়া হবেন। সে ক্ষেত্রে নিু আয়ের প্রান্তিক লোকজন এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে সমালোচকদের ধারণা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন