মুখ খুললে ভয়, চোখ বুজলেই হতাশা
jugantor
আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের ১০০ দিন
মুখ খুললে ভয়, চোখ বুজলেই হতাশা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৪ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে প্রথম একশ দিনের শাসনেই এক ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। আফগান নাগরিক সমাজ এখন গোষ্ঠীটির হাতের মুঠোয়। অবলা নারী থেকে শুরু করে সাংবাদিক-মানবাধিকাকর্মী কেউ আর নিরাপদ নয়। সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই গ্রেফতার-গুম। বিরোধী মতের ওপর চালানো হচ্ছে নির্যাতন-নিপীড়ন। শুধু তাই নয়, গত কয়েক সপ্তাহে দরিদ্র আফগানদের অথনৈতিক অবস্থা আরও নাজুক হয়েছে। নতুন করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের লাখ লাখ মানুষ। নাগরিকদের চোখে-মুখে এখন শুধু হতাশার প্রতিচ্ছবি। আন্তর্জাতিক মানবাধিক গোষ্ঠী ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস’র (আইএফএইচআর) এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্বের ১১৭টি দেশের ১৯২টি সংগঠন নিয়ে গঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস’ (আইএফএইচআর)। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটি ১৯২২ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী মানুষের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির তালেবান বিষয়ক প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে তালেবান শাসনের প্রথম একশ’ দিন মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তালেবানের অবৈধ ক্ষমতা দখলের পর গত কয়েক সপ্তাহে আফগানিস্তানে আইনের শাসন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। চলতি বছরের ১৫ আগস্ট অনেকটা বিনা রক্তপাতে গোটা আফগানিস্তানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তালেবান। এরপর তারা সেপ্টেম্বরে অন্তর্র্বর্তী সরকার গঠন করে।

৫০০ কোটি রুপি সহায়তা পাকিস্তানের : আফগানিস্তানকে ৫০০ কোটি রুপি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার এক বৈঠকে সহায়তার অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বৈঠকে পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে আফগানিস্তানের জন্য ভারতীয় খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা পরিবহণের অনুমোদন দেওয়া হয়। আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘আফগানিস্তান ইন্টার মিনিস্ট্রিয়াল কোঅর্ডিনেশন সেল’ (এআইসিসি) নামে একটি নতুন দপ্তর খুলেছে পাকিস্তান। এদিন ইসলামাবাদে নবগঠিত দপ্তরের প্রথম বৈঠকে সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি, অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা শওকত তারিন, সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুঈদ ইউসুফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী এবং সামরিক কর্মকর্তারা।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম-জাতিসংঘ : জাতিসংঘ আবারও আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশটির অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যে, আফগানিস্তানের ক্রেডিট মার্কেটে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ২০২০ সালে যেখানে ছিল শতকরা ২০ ভাগ তা চলতি বছরে ৫৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের ১০০ দিন

মুখ খুললে ভয়, চোখ বুজলেই হতাশা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে প্রথম একশ দিনের শাসনেই এক ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। আফগান নাগরিক সমাজ এখন গোষ্ঠীটির হাতের মুঠোয়। অবলা নারী থেকে শুরু করে সাংবাদিক-মানবাধিকাকর্মী কেউ আর নিরাপদ নয়। সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই গ্রেফতার-গুম। বিরোধী মতের ওপর চালানো হচ্ছে নির্যাতন-নিপীড়ন। শুধু তাই নয়, গত কয়েক সপ্তাহে দরিদ্র আফগানদের অথনৈতিক অবস্থা আরও নাজুক হয়েছে। নতুন করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের লাখ লাখ মানুষ। নাগরিকদের চোখে-মুখে এখন শুধু হতাশার প্রতিচ্ছবি। আন্তর্জাতিক মানবাধিক গোষ্ঠী ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস’র (আইএফএইচআর) এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্বের ১১৭টি দেশের ১৯২টি সংগঠন নিয়ে গঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস’ (আইএফএইচআর)। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটি ১৯২২ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী মানুষের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির তালেবান বিষয়ক প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে তালেবান শাসনের প্রথম একশ’ দিন মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তালেবানের অবৈধ ক্ষমতা দখলের পর গত কয়েক সপ্তাহে আফগানিস্তানে আইনের শাসন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। চলতি বছরের ১৫ আগস্ট অনেকটা বিনা রক্তপাতে গোটা আফগানিস্তানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তালেবান। এরপর তারা সেপ্টেম্বরে অন্তর্র্বর্তী সরকার গঠন করে।

৫০০ কোটি রুপি সহায়তা পাকিস্তানের : আফগানিস্তানকে ৫০০ কোটি রুপি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার এক বৈঠকে সহায়তার অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বৈঠকে পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে আফগানিস্তানের জন্য ভারতীয় খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা পরিবহণের অনুমোদন দেওয়া হয়। আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘আফগানিস্তান ইন্টার মিনিস্ট্রিয়াল কোঅর্ডিনেশন সেল’ (এআইসিসি) নামে একটি নতুন দপ্তর খুলেছে পাকিস্তান। এদিন ইসলামাবাদে নবগঠিত দপ্তরের প্রথম বৈঠকে সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি, অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা শওকত তারিন, সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুঈদ ইউসুফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী এবং সামরিক কর্মকর্তারা।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম-জাতিসংঘ : জাতিসংঘ আবারও আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশটির অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যে, আফগানিস্তানের ক্রেডিট মার্কেটে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ২০২০ সালে যেখানে ছিল শতকরা ২০ ভাগ তা চলতি বছরে ৫৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : আফগানিস্তানে তালেবানের পুনরুত্থান