মধ্যরাতের বিদ্রোহে ঘর ভাঙল কংগ্রেসের
jugantor
মধ্যরাতের বিদ্রোহে ঘর ভাঙল কংগ্রেসের
মেঘালয়ে কংগ্রেসের ১৮ এমএলএ’র ১২ জন তৃণমূলে * প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদায় তৃণমূল

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আসাম, ত্রিপুরা, গোয়া, হরিয়ানার পর এবার পূর্বের রাজ্য মেঘালয়ে বিরোধী দল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরাল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা মুকুল সাংমাসহ ১২ জন বিধায়ক দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। বুধবার রাত দশটার দিকে রাজ্যসভার স্পিকার মেতবাহ লিংদুর কাছে চিঠি দিয়ে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তারা। এই ঘটনাকে ‘মধ্যরাতের বিদ্রোহ’ আখ্যা দিয়েছে এনডিটিভি। ফলে মেঘালয়ে এখন প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেল পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বানার্জির দল তৃণমূল। এর একদিন আগে (২৩ নভেম্বর) দিল্লিতে মমতার উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন হরিয়ানা কংগ্রেস নেতা ও সাবেক বিধায়ক অশোক তানওয়ার। একই সময়ে দলটিতে আরও নাম লেখান কংগ্রেস নেতা সাবেক ক্রিকেটার কির্তী আজাদ ও সাবেক জনতা দল নেতা পবন ভার্মা। এর কয়েক ঘণ্টা আগে মমতা বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে চলমান লড়াই-সংগ্রামে অন্য দলের যে কোনো নেতা যোগ দিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানাবে তার দল। গত কয়েক মাস ধরে তৃণমূল কংগ্রেস যেসব রাজ্যে সংগঠন বিস্তার করেছে তার মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন মেঘালয়। এর আগে আসাম, গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং হরিয়ানায় কংগ্রেস নেতাদের দলে টেনে নিজেদের বিস্তার ঘটাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বাংলাদেশের সীমান্ত-লাগোয়া মেঘালয়ের বিধানসভায় মোট আসন ৬০টি। ৪০টি আসন তথা বিধায়ক নিয়ে বর্তমানে ক্ষমতায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ১৮টি বিধায়ক নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে ছিল রাহুল-প্রিয়াংকাদের কংগ্রেস। বিধায়কদের গণবিদ্রোহের পর তাদের বিধায়ক সংখ্যা ১৮ থেকে নেমে এখন দাঁড়াল ৬-এ। ২০১০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুকুল সাংমা। বর্তমানে তিনি মেঘালয়ের বিরোধী দলনেতা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সঙ্গে সাক্ষাতের এক সপ্তাহের মধ্যে মুকুল তৃণমূলে যোগ দেন। পূর্ব গারো পাহাড়ের প্রভাবশালী নেতা মুকুল দল ছাড়ায় মেঘালয়ে কংগ্রেসের চরম সর্বনাশ হয়ে গেল। ‘কারও সর্বনাশ আর কারও পৌষ মাস’ প্রবাদের মতো এই রাজ্যে এখন প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদায় মমতার তৃণমূল।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন মুকুল সাংমা। সেখানে তিনি মমতা ব্যানার্জির প্রশংসা করে বলেন, ‘বিরোধীদের মধ্যে মমতা ব্যানার্জি পারেন বিজেপিকে পর্যুদস্ত করতে। দেশের গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত। কিন্তু কংগ্রেস মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারছে না। তাই মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বেই আমরা কাজ করব।’ এর আগে ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে আগে মেঘালয়ের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা লোকসভার সাবেক স্পিকার পিএ সাংমা এনসিপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। ওই বছর লোকসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিটে জেতেন তিনি।

মধ্যরাতের বিদ্রোহে ঘর ভাঙল কংগ্রেসের

মেঘালয়ে কংগ্রেসের ১৮ এমএলএ’র ১২ জন তৃণমূলে * প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদায় তৃণমূল
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আসাম, ত্রিপুরা, গোয়া, হরিয়ানার পর এবার পূর্বের রাজ্য মেঘালয়ে বিরোধী দল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরাল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা মুকুল সাংমাসহ ১২ জন বিধায়ক দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। বুধবার রাত দশটার দিকে রাজ্যসভার স্পিকার মেতবাহ লিংদুর কাছে চিঠি দিয়ে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তারা। এই ঘটনাকে ‘মধ্যরাতের বিদ্রোহ’ আখ্যা দিয়েছে এনডিটিভি। ফলে মেঘালয়ে এখন প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেল পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বানার্জির দল তৃণমূল। এর একদিন আগে (২৩ নভেম্বর) দিল্লিতে মমতার উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন হরিয়ানা কংগ্রেস নেতা ও সাবেক বিধায়ক অশোক তানওয়ার। একই সময়ে দলটিতে আরও নাম লেখান কংগ্রেস নেতা সাবেক ক্রিকেটার কির্তী আজাদ ও সাবেক জনতা দল নেতা পবন ভার্মা। এর কয়েক ঘণ্টা আগে মমতা বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে চলমান লড়াই-সংগ্রামে অন্য দলের যে কোনো নেতা যোগ দিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানাবে তার দল। গত কয়েক মাস ধরে তৃণমূল কংগ্রেস যেসব রাজ্যে সংগঠন বিস্তার করেছে তার মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন মেঘালয়। এর আগে আসাম, গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং হরিয়ানায় কংগ্রেস নেতাদের দলে টেনে নিজেদের বিস্তার ঘটাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বাংলাদেশের সীমান্ত-লাগোয়া মেঘালয়ের বিধানসভায় মোট আসন ৬০টি। ৪০টি আসন তথা বিধায়ক নিয়ে বর্তমানে ক্ষমতায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ১৮টি বিধায়ক নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে ছিল রাহুল-প্রিয়াংকাদের কংগ্রেস। বিধায়কদের গণবিদ্রোহের পর তাদের বিধায়ক সংখ্যা ১৮ থেকে নেমে এখন দাঁড়াল ৬-এ। ২০১০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুকুল সাংমা। বর্তমানে তিনি মেঘালয়ের বিরোধী দলনেতা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সঙ্গে সাক্ষাতের এক সপ্তাহের মধ্যে মুকুল তৃণমূলে যোগ দেন। পূর্ব গারো পাহাড়ের প্রভাবশালী নেতা মুকুল দল ছাড়ায় মেঘালয়ে কংগ্রেসের চরম সর্বনাশ হয়ে গেল। ‘কারও সর্বনাশ আর কারও পৌষ মাস’ প্রবাদের মতো এই রাজ্যে এখন প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদায় মমতার তৃণমূল।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন মুকুল সাংমা। সেখানে তিনি মমতা ব্যানার্জির প্রশংসা করে বলেন, ‘বিরোধীদের মধ্যে মমতা ব্যানার্জি পারেন বিজেপিকে পর্যুদস্ত করতে। দেশের গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত। কিন্তু কংগ্রেস মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারছে না। তাই মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বেই আমরা কাজ করব।’ এর আগে ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে আগে মেঘালয়ের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা লোকসভার সাবেক স্পিকার পিএ সাংমা এনসিপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। ওই বছর লোকসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিটে জেতেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন