জনগণকে ভাতে মারছে জান্তা
jugantor
জনগণকে ভাতে মারছে জান্তা
এবার আসেম সম্মেলন থেকে বাদ মিয়ানমার

  অনলাইন ডেস্ক  

২৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলের পর থেকে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে বিরত থাকেনি গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভকারীরা। তারই প্রতিশোধ নিতে জনগণকে ক্ষুধার রাজ্যে ঠেলে দিচ্ছে জান্তারা। তারা এখন কৌশলে ‘ভাতে মারছে’ নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে। শুক্রবার এমন অভিযোগ করেছেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থি উপদেষ্টা পরিষদ। তারা বলছেন, অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করছে জান্তারা। এমনকি খাদ্য ও ওষুধ পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত সম্ভাব্য রুটগুলোর রাস্তা কেটে ফেলছে, পরিকল্পিতভাবে গবাদিপশুগুলোকে হত্যা করছে ক্ষমতাসীনদের দোসররা। এ অবস্থায় আরেকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে বাদ পড়েছে জান্তা সরকার। দি গার্ডিয়ান।

মিয়ানমারের বিশেষ উপদেষ্টা পরিষদ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বে কৃষকদের ফসল কাটায় বাধা দিয়েছে সামরিক বাহিনী। বিশেষজ্ঞদের এ পরিষদে এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন যারা আগে জাতিসংঘের হয়ে মিয়ানমারে কাজ করেছেন। তারা বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত সাধারণ মানুষের সমর্থন পেতে গণতন্ত্রপন্থি রাজনীতিবিদদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) সঙ্গে কাজ করা, জান্তাদের সঙ্গে নয়।

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সাবেক সদস্য ক্রিস সিডোটি বলেন, ‘কী করা উচিত তা ভেবে হাত নাড়ানোর পরিবর্তে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এনইউজির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে পারে। তাতে, জনগণ যথার্থভাবে সহযোগিতা পাবে। এটা দরকারও।’ উদ্দেশ্যমূলকভাবে খাবার থেকে বঞ্চিত করাসহ জান্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করেছে এ পরিষদ। মিয়ানমারে জাতিসংঘের সাবেক দূত ইয়াংহি লি বলেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, জান্তা তার কর্মের প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে চলেছে। কেউ যদি জনগণের স্বার্থে সামরিক বাহিনীকে স্থান দেওয়ার দাবি তোলে- তাহলে তারা আসলে নিজেদের দুর্ভোগকে দীর্ঘায়িত করছে। জাতিসংঘের একটি জরুরি আপডেটে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬০০ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নভেম্বর পর্যন্ত মোট ছয় লাখের বেশি মানুষ দেশটিতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত অধিকাংশ মানুষ খাদ্য, ওষুধ এবং জ্বালানির জন্য লড়াই করছে। জাতিসংঘের মতে, মিয়ানমারে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষাকারী সাহায্যের প্রয়োজন, যাদের মধ্যে ২০ লাখই অভ্যুত্থানের পর চিহ্নিত।

এদিকে, দেশটির অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের কারণে কুখ্যাত হওয়া জান্তাদের আরেকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এশিয়া-ইউরোপের আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন ‘এশিয়া ইউরোপ মিটিং’ (আসেম)-এ রাখা হয়নি কোনো জান্তা প্রতিনিধি। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে বাদ পড়ল মিয়ানমার-যা দেশটিকে বিশ্বমঞ্চ থেকে আলাদা করে দেওয়ারই ইঙ্গিত।

অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস সূত্র জানায়, জান্তাকে বলা হয়েছিল, বৈঠকে তারা কেবল একজন অরাজনৈতিক প্রতিনিধি পাঠাতে পারে। আঞ্চলিক ব্লকটি মিয়ানমারের জান্তা নেতা সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে দেশটির অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য সাইডলাইনে বসিয়ে রেখেছে। যদিও মিয়ানমার আসিয়ানের সদস্য। কিয়োডো নিউজ জানিয়েছে, মিয়ানমার আয়োজক দেশ কম্বোডিয়াকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আসিয়ান সূত্রের বরাত দিয়ে কোনো শীর্ষ সম্মেলনে তারা অংশ নেবে না।

আসেম সম্মেলন থেকে বাদ পড়ার আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে হওয়া আসিয়ান-চীন বিশেষ সম্মেলনেও মিয়ানমারকে রাখা হয়নি। যদিও জান্তামিত্র চীন মিয়ানমারকে বৈঠকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্লকের অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষমেশ ব্যর্থ হয়েছে তারা। আর এর আগে মিয়ানমার বাদ পড়েছিল আসিয়ানের সম্মেলন থেকে।

পরপর তিনটি শীর্ষ সম্মেলন থেকে বাদ যাওয়া ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য একটি ধাক্কাই। যখন জান্তারা আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের কাছে মিয়ানমারের সরকার হিসেবে বৈধতা চায়-তখন এই বাদ পড়ার ঘটনা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীটিকে বেসামরিক ছায়া সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনারই নামান্তর।

জনগণকে ভাতে মারছে জান্তা

এবার আসেম সম্মেলন থেকে বাদ মিয়ানমার
 অনলাইন ডেস্ক 
২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলের পর থেকে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে বিরত থাকেনি গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভকারীরা। তারই প্রতিশোধ নিতে জনগণকে ক্ষুধার রাজ্যে ঠেলে দিচ্ছে জান্তারা। তারা এখন কৌশলে ‘ভাতে মারছে’ নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে। শুক্রবার এমন অভিযোগ করেছেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থি উপদেষ্টা পরিষদ। তারা বলছেন, অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করছে জান্তারা। এমনকি খাদ্য ও ওষুধ পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত সম্ভাব্য রুটগুলোর রাস্তা কেটে ফেলছে, পরিকল্পিতভাবে গবাদিপশুগুলোকে হত্যা করছে ক্ষমতাসীনদের দোসররা। এ অবস্থায় আরেকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে বাদ পড়েছে জান্তা সরকার। দি গার্ডিয়ান।

মিয়ানমারের বিশেষ উপদেষ্টা পরিষদ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বে কৃষকদের ফসল কাটায় বাধা দিয়েছে সামরিক বাহিনী। বিশেষজ্ঞদের এ পরিষদে এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন যারা আগে জাতিসংঘের হয়ে মিয়ানমারে কাজ করেছেন। তারা বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত সাধারণ মানুষের সমর্থন পেতে গণতন্ত্রপন্থি রাজনীতিবিদদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) সঙ্গে কাজ করা, জান্তাদের সঙ্গে নয়।

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সাবেক সদস্য ক্রিস সিডোটি বলেন, ‘কী করা উচিত তা ভেবে হাত নাড়ানোর পরিবর্তে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এনইউজির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে পারে। তাতে, জনগণ যথার্থভাবে সহযোগিতা পাবে। এটা দরকারও।’ উদ্দেশ্যমূলকভাবে খাবার থেকে বঞ্চিত করাসহ জান্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করেছে এ পরিষদ। মিয়ানমারে জাতিসংঘের সাবেক দূত ইয়াংহি লি বলেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, জান্তা তার কর্মের প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে চলেছে। কেউ যদি জনগণের স্বার্থে সামরিক বাহিনীকে স্থান দেওয়ার দাবি তোলে- তাহলে তারা আসলে নিজেদের দুর্ভোগকে দীর্ঘায়িত করছে। জাতিসংঘের একটি জরুরি আপডেটে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬০০ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নভেম্বর পর্যন্ত মোট ছয় লাখের বেশি মানুষ দেশটিতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত অধিকাংশ মানুষ খাদ্য, ওষুধ এবং জ্বালানির জন্য লড়াই করছে। জাতিসংঘের মতে, মিয়ানমারে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষাকারী সাহায্যের প্রয়োজন, যাদের মধ্যে ২০ লাখই অভ্যুত্থানের পর চিহ্নিত।

এদিকে, দেশটির অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের কারণে কুখ্যাত হওয়া জান্তাদের আরেকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এশিয়া-ইউরোপের আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন ‘এশিয়া ইউরোপ মিটিং’ (আসেম)-এ রাখা হয়নি কোনো জান্তা প্রতিনিধি। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে বাদ পড়ল মিয়ানমার-যা দেশটিকে বিশ্বমঞ্চ থেকে আলাদা করে দেওয়ারই ইঙ্গিত।

অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস সূত্র জানায়, জান্তাকে বলা হয়েছিল, বৈঠকে তারা কেবল একজন অরাজনৈতিক প্রতিনিধি পাঠাতে পারে। আঞ্চলিক ব্লকটি মিয়ানমারের জান্তা নেতা সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে দেশটির অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য সাইডলাইনে বসিয়ে রেখেছে। যদিও মিয়ানমার আসিয়ানের সদস্য। কিয়োডো নিউজ জানিয়েছে, মিয়ানমার আয়োজক দেশ কম্বোডিয়াকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আসিয়ান সূত্রের বরাত দিয়ে কোনো শীর্ষ সম্মেলনে তারা অংশ নেবে না।

আসেম সম্মেলন থেকে বাদ পড়ার আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে হওয়া আসিয়ান-চীন বিশেষ সম্মেলনেও মিয়ানমারকে রাখা হয়নি। যদিও জান্তামিত্র চীন মিয়ানমারকে বৈঠকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্লকের অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষমেশ ব্যর্থ হয়েছে তারা। আর এর আগে মিয়ানমার বাদ পড়েছিল আসিয়ানের সম্মেলন থেকে।

পরপর তিনটি শীর্ষ সম্মেলন থেকে বাদ যাওয়া ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য একটি ধাক্কাই। যখন জান্তারা আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের কাছে মিয়ানমারের সরকার হিসেবে বৈধতা চায়-তখন এই বাদ পড়ার ঘটনা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীটিকে বেসামরিক ছায়া সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনারই নামান্তর।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন