আকাশে উড়বে ডিস্কোবার
jugantor
আকাশে উড়বে ডিস্কোবার

  সেলিম কামাল  

২৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভিআইপি যাত্রীদের প্রলুব্ধ করতে একটি ব্যতিক্রমী বিমানসেবা চালু করছে জার্মান এয়ারলাইন্সের একটি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান লুফথানসা টেকনিক। নিরামিষাশী আসনসহ একটি হেলিকপ্টার, একটি সান ডেক এবং গ্যারেজসহ আবাসিক হোটেলও থাকছে ওই বিমানে। হোটেল মালিকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩৫ হাজার ফুট উপরে ডিস্কো বারে মউজমাস্তি করতে পারবেন যাত্রীরা। গত সপ্তাহে দুবাই এয়ারশোতে উপস্থাপিত হয়েছে এমনই একটি পরিকল্পনা।

বৈশ্বিক মহামারীতে বিমান শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এ অবস্থায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বিমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচনা সত্ত্বেও ধনীদের জেটবিমান চালানো কিংবা তাতে চড়ে বেড়ানোর আগ্রহে কমতি নেই। আর এ কারণেই সুপারইয়াটের মতো এ ধরনের বিলাসবহুল প্রাইভেট বিমান অফার করতে চায় লুফথানসা টেকনিক। যেকোনো সময় যেকোনো গন্তব্যে পৌঁছে দেবে এ বিমান। যে বিমানটিতে থাকবে বেসক্যাম্পসহ পাঁচতারা হোটেলের যাবতীয় সুবিধা। অবসর যাপনের অত্যাধুনিক পরিকাঠামো দিয়ে সাজানো এই এয়ারশোটি হচ্ছে এ-৩৩০। এতে রয়েছে তিনটি ডাবল বেডরুম, একটি জিম এবং একটি গ্যারেজ। সান ডেক সুবিধা ভোগ করা যাবে বিমানটি মাটিতে নেমে পার্ক করার পর। আটজন যাত্রীর জন্য একটি খাবার টেবিল এবং একটি রান্নাঘর থাকবে যেখান থেকে দুবাইয়ের সেরা রেস্তোরাঁর খাবার পরিবেশন করা হবে। পারফরম্যান্সের জন্য থাকবে ডিজে বোর্ড।

সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিক্রয়প্রধান উইল্যান্ড টিম বলেন, ‘আমরা একটি উড়োজাহাজের ধারণা নিয়ে এসেছি- যেটি মনে হবে একটি উড়ন্ত হোটেল। যারা বিমানটি ভাড়া করবেন, তারা দুই সপ্তাহের মধ্যে সারা বিশ্ব ভ্রমণ করতে পারবেন। এটি সুপারইয়াটের চেয়ে দ্রুত বিলাসবহুল ভ্রমণের বিকল্প হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’ কর্তৃপক্ষ আশা করছে ২০২৩ সাল থেকে তারা বিশ্বজুড়ে বিলাসী যাত্রীদের সেবা দিতে শুরু করবে।

নতুন এই ধারণাগুলো এসেছে বিলাসবহুল জেটগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে। মহামারি চলাকালীন, বাণিজ্যিক বিমান চলাচল কমে যাওয়ায়, ধনী ভ্রমণকারীরা যারা ভিড় এড়াতে বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলোকে ‘না’ বলেন- তারাই ব্যক্তিগত জেটগুলোতে চড়ে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, ফ্লোরিডাভিত্তিক বেসরকারি বিমান চলাচল সংস্থা ফ্লাইএলাইটজেটস, কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পর থেকে বুকিং বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। প্রাইভেট জেট চার্টার ভিস্তাজেট গত মার্চ থেকে তার ব্র্যান্ডগুলোতে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট ঘণ্টার চাহিদা বাড়িয়েছে ৬৫ শতাংশ। ইউএস এভিয়েশন নির্মাতা হানিওয়েল অ্যারোস্পেসের মতে, প্রাইভেট জেটগুলোর বিক্রিও বেড়েছে। বিমান নির্মাতারা মহামারির পর থেকে প্রচুর অর্ডার পাচ্ছেন। কোম্পানিটি আগামী দশকে ২৩৮ বিলিয়ন মূল্যের সাত হাজার ৪০০টি নতুন ব্যবসায়িক জেট সরবরাহের পূর্বাভাস দিয়েছে।

কোভিড-১৯ এর পর এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির প্রথম বড় সমাবেশ দুবাই এয়ারশো ২০২১। এর আয়োজক টারসাস মিডল ইস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিমোথি হাউস বলেন, ‘মহামারি চলাকালীন ব্যবসায়িক বিমান চলাচল নির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। মহামারীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শন করায় তাদের চাহিদা বেড়েছে।’ পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এয়ারশোতে ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ডিল হয়েছে, এর দর্শক ছিল লাখেরও বেশি। টিমোথি বলেন, ‘অবস্থাদৃষ্টে মনে হলো, সবাই এমন একটি আয়োজনের অপেক্ষাতেই ছিলেন।’ এই ইভেন্টে প্রদর্শিত হয়েছে ১৭৫টি বিমান- যেগুলোতে বাণিজ্যিক এয়ারবাস থেকে শুরু করে কর্পোরেট হেলিকপ্টার এবং সামরিক বিমানও ছিল।

কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট যে, জলবায়ু পরিবর্তনের সমালোচনা থাকলেও নতুন ধারণা নিয়ে আসা বিমানটি সেই অর্থে জলবায়ুবান্ধব নয়। বরং যেখানে ২৫০ জন যাত্রী নিয়ে এ-৩৩০ এয়ারবাস চলাচল করে এবং সেটি যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত করে, ১৪ জনের জন্য ডিজাইন করা একই এয়ারবাস সেই একই হারে পরিবেশকে দূষিত করবে। তবে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেবে কি-না লুফথানসা টেকনিক-তা জানানো হয়নি। তবে টিম স্বীকার করেছেন, ‘সবুজ আলো’ দেখাতে এত কম লোক নিয়ে ওড়াটা অর্থহীন হতে পারে। কিন্তু যাদের পছন্দ, তারা করবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন পরিবেশবান্ধব করার জন্য কিছু পদক্ষেপ তারা নিচ্ছেন।

আকাশে উড়বে ডিস্কোবার

 সেলিম কামাল 
২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভিআইপি যাত্রীদের প্রলুব্ধ করতে একটি ব্যতিক্রমী বিমানসেবা চালু করছে জার্মান এয়ারলাইন্সের একটি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান লুফথানসা টেকনিক। নিরামিষাশী আসনসহ একটি হেলিকপ্টার, একটি সান ডেক এবং গ্যারেজসহ আবাসিক হোটেলও থাকছে ওই বিমানে। হোটেল মালিকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩৫ হাজার ফুট উপরে ডিস্কো বারে মউজমাস্তি করতে পারবেন যাত্রীরা। গত সপ্তাহে দুবাই এয়ারশোতে উপস্থাপিত হয়েছে এমনই একটি পরিকল্পনা।

বৈশ্বিক মহামারীতে বিমান শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এ অবস্থায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বিমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচনা সত্ত্বেও ধনীদের জেটবিমান চালানো কিংবা তাতে চড়ে বেড়ানোর আগ্রহে কমতি নেই। আর এ কারণেই সুপারইয়াটের মতো এ ধরনের বিলাসবহুল প্রাইভেট বিমান অফার করতে চায় লুফথানসা টেকনিক। যেকোনো সময় যেকোনো গন্তব্যে পৌঁছে দেবে এ বিমান। যে বিমানটিতে থাকবে বেসক্যাম্পসহ পাঁচতারা হোটেলের যাবতীয় সুবিধা। অবসর যাপনের অত্যাধুনিক পরিকাঠামো দিয়ে সাজানো এই এয়ারশোটি হচ্ছে এ-৩৩০। এতে রয়েছে তিনটি ডাবল বেডরুম, একটি জিম এবং একটি গ্যারেজ। সান ডেক সুবিধা ভোগ করা যাবে বিমানটি মাটিতে নেমে পার্ক করার পর। আটজন যাত্রীর জন্য একটি খাবার টেবিল এবং একটি রান্নাঘর থাকবে যেখান থেকে দুবাইয়ের সেরা রেস্তোরাঁর খাবার পরিবেশন করা হবে। পারফরম্যান্সের জন্য থাকবে ডিজে বোর্ড।

সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিক্রয়প্রধান উইল্যান্ড টিম বলেন, ‘আমরা একটি উড়োজাহাজের ধারণা নিয়ে এসেছি- যেটি মনে হবে একটি উড়ন্ত হোটেল। যারা বিমানটি ভাড়া করবেন, তারা দুই সপ্তাহের মধ্যে সারা বিশ্ব ভ্রমণ করতে পারবেন। এটি সুপারইয়াটের চেয়ে দ্রুত বিলাসবহুল ভ্রমণের বিকল্প হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’ কর্তৃপক্ষ আশা করছে ২০২৩ সাল থেকে তারা বিশ্বজুড়ে বিলাসী যাত্রীদের সেবা দিতে শুরু করবে।

নতুন এই ধারণাগুলো এসেছে বিলাসবহুল জেটগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে। মহামারি চলাকালীন, বাণিজ্যিক বিমান চলাচল কমে যাওয়ায়, ধনী ভ্রমণকারীরা যারা ভিড় এড়াতে বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলোকে ‘না’ বলেন- তারাই ব্যক্তিগত জেটগুলোতে চড়ে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, ফ্লোরিডাভিত্তিক বেসরকারি বিমান চলাচল সংস্থা ফ্লাইএলাইটজেটস, কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পর থেকে বুকিং বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। প্রাইভেট জেট চার্টার ভিস্তাজেট গত মার্চ থেকে তার ব্র্যান্ডগুলোতে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট ঘণ্টার চাহিদা বাড়িয়েছে ৬৫ শতাংশ। ইউএস এভিয়েশন নির্মাতা হানিওয়েল অ্যারোস্পেসের মতে, প্রাইভেট জেটগুলোর বিক্রিও বেড়েছে। বিমান নির্মাতারা মহামারির পর থেকে প্রচুর অর্ডার পাচ্ছেন। কোম্পানিটি আগামী দশকে ২৩৮ বিলিয়ন মূল্যের সাত হাজার ৪০০টি নতুন ব্যবসায়িক জেট সরবরাহের পূর্বাভাস দিয়েছে।

কোভিড-১৯ এর পর এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির প্রথম বড় সমাবেশ দুবাই এয়ারশো ২০২১। এর আয়োজক টারসাস মিডল ইস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিমোথি হাউস বলেন, ‘মহামারি চলাকালীন ব্যবসায়িক বিমান চলাচল নির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। মহামারীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শন করায় তাদের চাহিদা বেড়েছে।’ পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এয়ারশোতে ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ডিল হয়েছে, এর দর্শক ছিল লাখেরও বেশি। টিমোথি বলেন, ‘অবস্থাদৃষ্টে মনে হলো, সবাই এমন একটি আয়োজনের অপেক্ষাতেই ছিলেন।’ এই ইভেন্টে প্রদর্শিত হয়েছে ১৭৫টি বিমান- যেগুলোতে বাণিজ্যিক এয়ারবাস থেকে শুরু করে কর্পোরেট হেলিকপ্টার এবং সামরিক বিমানও ছিল।

কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট যে, জলবায়ু পরিবর্তনের সমালোচনা থাকলেও নতুন ধারণা নিয়ে আসা বিমানটি সেই অর্থে জলবায়ুবান্ধব নয়। বরং যেখানে ২৫০ জন যাত্রী নিয়ে এ-৩৩০ এয়ারবাস চলাচল করে এবং সেটি যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত করে, ১৪ জনের জন্য ডিজাইন করা একই এয়ারবাস সেই একই হারে পরিবেশকে দূষিত করবে। তবে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেবে কি-না লুফথানসা টেকনিক-তা জানানো হয়নি। তবে টিম স্বীকার করেছেন, ‘সবুজ আলো’ দেখাতে এত কম লোক নিয়ে ওড়াটা অর্থহীন হতে পারে। কিন্তু যাদের পছন্দ, তারা করবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন পরিবেশবান্ধব করার জন্য কিছু পদক্ষেপ তারা নিচ্ছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন