এক হাজার কিমি. রেলপথে চার দেশের মাঝখানে চীন
jugantor
এক হাজার কিমি. রেলপথে চার দেশের মাঝখানে চীন
শি’র ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড পরিকল্পনা * বৃহস্পতিবার থেকে চলবে দ্রুতগামী ইলেকট্রিক ট্রেন

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৯ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের ডানা মেলতে অনেক আগেই বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চীন। ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড খ্যাত এই পরিকল্পনারই অংশ হিসাবে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমে লাওসের সঙ্গে সংযোগকারী একটি রেলপথ তৈরির কাজ শেষ করেছে লাওস-চায়না রেলওয়ে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া নবনির্মিত এক হাজার ২৪ কিলোমিটারের রেলপথটি ঘিরে আছে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার। গ্লোবাল টাইমস, চ্যানেল নিউজ এশিয়া।

২ ডিসেম্বর থেকে দুদেশের মধ্যে ঘণ্টায় ১৬০ কিমি. বেগের দ্রুতগামীর ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচল শুরু হবে এই রুটে। শুক্রবার একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০০ গণমাধ্যমকর্মীর সামনে তুলে ধরা হয় রেলপথের পরীক্ষামূলক ট্রেন ভ্রমণ। একসময় ফরাসি ইন্দোচীনের অংশ ছিল লাওস। ১৯৫৩ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। একটি পর্বতময়, স্থলবেষ্টিত দেশ। এর উত্তরে চীন, পূর্বে ভিয়েতনাম, দক্ষিণে কম্বোডিয়া এবং পশ্চিমে ও উত্তর-পশ্চিমে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এই দেশটির পরপরই বেইজিংয়ের পরবর্তী লক্ষ্য ওই চার দেশের ‘বাণিজ্যিক রুট’। চীন-লাওস রেলপথ এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের ডিপ্লোম্যাটিক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাইলফলক হিসাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ এমন একটি পরিকল্পনা যা বিশ্বের ৭০ দেশের সঙ্গে চীনের মূল ভূখণ্ডকে সংযুক্ত করবে। পরিকল্পনায় মূলত দুটি সড়কপথে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত হবে চীন। সড়ক পথের সঙ্গে রেলপথ ও তেলের পাইপলাইনও রয়েছে। সেই সঙ্গে সমুদ্রপথেও। এই পথগুলোর মাধ্যমেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত হবে চীন। বলা হয়ে থাকে প্রাচীন সিল্ক রুটের আধুনিক সংস্করণ এটি। ২০১৩ সালের নভেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণের পরপর ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নামে বেইজিংয়ের এই ‘মেজর কান্ট্রি ডিপ্লোমেসি’ রোডম্যাপ ঘোষণা করেন শি। এক হাজার ২৪ কিলোমিটার চীন-লাওস রেলপথ ইউনানের রাজধানী কুনমিং থেকে শুরু করে লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে গিয়ে শেষ হয়েছে। লাইনটি শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ড এবং আরও দক্ষিণে প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেললাইনটির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সবুজায়ন প্রচেষ্টা। এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্মাণ প্রকল্পে বৃক্ষনিধন এড়িয়ে কাজ করার নীতিনির্ধারণ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এ রেললাইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত পর্যন্ত পর্যটন শিল্পকে রক্ষার অঙ্গীকারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সবুজ রক্ষায় সাফল্য দেখানোয় এটিকে বলা হচ্ছে সবুজায়িত রেলপথ। রেলওয়েটি লাওসকে তার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং জনগণের জীবনযাত্রার উন্নতি করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউনান কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী বছরগুলোতে চীনা প্রদেশ এবং আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে এ রেলপথ। এর চীনের অংশে ১১টি এবং ৪০৯ কিলোমিটার লাও বিভাগে ১০টি

স্টেশন রয়েছে। ব্যয় হয়েছেছ ৫৫.৬৮ বিলিয়ন ইউয়ান (৮.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। প্রকল্পটিতে ৯৩টি টানেল রয়েছে যার মোট দৈর্ঘ্য ৩৯৮ কিলোমিটার। এগুলোর মধ্যে ১৫টি ১০ কিলোমিটারের বেশি। এ ছাড়াও, লাইনটিতে ১৩৬টি সেতু রয়েছে-যেগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি।

এক হাজার কিমি. রেলপথে চার দেশের মাঝখানে চীন

শি’র ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড পরিকল্পনা * বৃহস্পতিবার থেকে চলবে দ্রুতগামী ইলেকট্রিক ট্রেন
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের ডানা মেলতে অনেক আগেই বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চীন। ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড খ্যাত এই পরিকল্পনারই অংশ হিসাবে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমে লাওসের সঙ্গে সংযোগকারী একটি রেলপথ তৈরির কাজ শেষ করেছে লাওস-চায়না রেলওয়ে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া নবনির্মিত এক হাজার ২৪ কিলোমিটারের রেলপথটি ঘিরে আছে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার। গ্লোবাল টাইমস, চ্যানেল নিউজ এশিয়া।

২ ডিসেম্বর থেকে দুদেশের মধ্যে ঘণ্টায় ১৬০ কিমি. বেগের দ্রুতগামীর ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচল শুরু হবে এই রুটে। শুক্রবার একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০০ গণমাধ্যমকর্মীর সামনে তুলে ধরা হয় রেলপথের পরীক্ষামূলক ট্রেন ভ্রমণ। একসময় ফরাসি ইন্দোচীনের অংশ ছিল লাওস। ১৯৫৩ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। একটি পর্বতময়, স্থলবেষ্টিত দেশ। এর উত্তরে চীন, পূর্বে ভিয়েতনাম, দক্ষিণে কম্বোডিয়া এবং পশ্চিমে ও উত্তর-পশ্চিমে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এই দেশটির পরপরই বেইজিংয়ের পরবর্তী লক্ষ্য ওই চার দেশের ‘বাণিজ্যিক রুট’। চীন-লাওস রেলপথ এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের ডিপ্লোম্যাটিক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাইলফলক হিসাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ এমন একটি পরিকল্পনা যা বিশ্বের ৭০ দেশের সঙ্গে চীনের মূল ভূখণ্ডকে সংযুক্ত করবে। পরিকল্পনায় মূলত দুটি সড়কপথে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত হবে চীন। সড়ক পথের সঙ্গে রেলপথ ও তেলের পাইপলাইনও রয়েছে। সেই সঙ্গে সমুদ্রপথেও। এই পথগুলোর মাধ্যমেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত হবে চীন। বলা হয়ে থাকে প্রাচীন সিল্ক রুটের আধুনিক সংস্করণ এটি। ২০১৩ সালের নভেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণের পরপর ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নামে বেইজিংয়ের এই ‘মেজর কান্ট্রি ডিপ্লোমেসি’ রোডম্যাপ ঘোষণা করেন শি। এক হাজার ২৪ কিলোমিটার চীন-লাওস রেলপথ ইউনানের রাজধানী কুনমিং থেকে শুরু করে লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে গিয়ে শেষ হয়েছে। লাইনটি শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ড এবং আরও দক্ষিণে প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেললাইনটির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সবুজায়ন প্রচেষ্টা। এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্মাণ প্রকল্পে বৃক্ষনিধন এড়িয়ে কাজ করার নীতিনির্ধারণ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এ রেললাইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত পর্যন্ত পর্যটন শিল্পকে রক্ষার অঙ্গীকারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সবুজ রক্ষায় সাফল্য দেখানোয় এটিকে বলা হচ্ছে সবুজায়িত রেলপথ। রেলওয়েটি লাওসকে তার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং জনগণের জীবনযাত্রার উন্নতি করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউনান কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী বছরগুলোতে চীনা প্রদেশ এবং আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে এ রেলপথ। এর চীনের অংশে ১১টি এবং ৪০৯ কিলোমিটার লাও বিভাগে ১০টি

স্টেশন রয়েছে। ব্যয় হয়েছেছ ৫৫.৬৮ বিলিয়ন ইউয়ান (৮.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। প্রকল্পটিতে ৯৩টি টানেল রয়েছে যার মোট দৈর্ঘ্য ৩৯৮ কিলোমিটার। এগুলোর মধ্যে ১৫টি ১০ কিলোমিটারের বেশি। এ ছাড়াও, লাইনটিতে ১৩৬টি সেতু রয়েছে-যেগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন