বার্বাডোজে ডুবল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য
jugantor
বার্বাডোজে ডুবল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য

  যুগান্তর ডেস্ক  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে। সংবিধান থেকে মুছে ফেলা হলো ‘রয়্যাল’ শব্দটি। নামিয়ে ফেলা হলো ব্রিটিশ রাজের পতাকা। এভাবে পৃথিবীর বুকে নতুন এক স্বাধীন প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে জায়গা করে নিল বার্বাডোজ। নতুন করে শুরু করল পথচলা। এর মধ্যদিয়ে ৩৯৬ বছর পর ক্যারিবীয় ক্ষুদ্র দ্বীপ দেশটিতে ডুবে গেল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য্য। ১৬২৫ সালে একটি মাত্র জাহাজ নিয়ে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপদেশটিকে দখল করে একদল ব্রিটিশ। এরপর শুরু হয় চারশ বছরের দাসত্বের ইতিহাস।

গত বছরই এক ঘোষণায় বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মটলি বলেন, ব্রিটিশ উপনিবেশের দিন শেষ। এবার নতুন সূর্য দেখবে বার্বাডোজ। অবশেষে সেই সুবর্ণ মাহেন্দ্রক্ষণ এলো দ্বীপবাসীর জীবনে। আগেই জানানো হয়েছিল, মঙ্গলবার স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকীর দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে। দিনটিকে সামনে রেখে উদ্যাপন ও উৎসবের রঙে সাজে পুরো দ্বীপ। আমন্ত্রণ জানানো হয় ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের উত্তরাধিকার প্রিন্স চার্লস ও মার্কিন পপ সংগীতশিল্পী রিহান্নাসহ আরও অনেক অতিথিকে। সোমবার সন্ধ্যা থেকেই আলোয় উদ্ভাসিত রাজধানী ব্রিজটাউনের হিরোজ স্কয়ারে একত্রিত হতে শুরু করেন দেশ-বিদেশের অতিথিরা। ঘড়ির কাঁটা ১২টার ঘর পার হওয়া মাত্রই শুরু হয় ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠান। হস্তান্তর প্রক্রিয়ার ঘোষণা করেন ন্যাশনাল কালচারাল ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যারল রবার্ট-রেইফার। প্রথমেই জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে আস্তে আস্তে নামিয়ে আনা ব্রিটিশ রাজের পতাকা ‘দ্য রয়্যাল স্ট্যানডার্ড’। সেই জায়গায় তোলা হয় কালো ত্রিশূল মাথাবিশিষ্ট নীল-হলুদ-নীলের ডোরাকাটা বার্বাডোজের জাতীয় পতাকা।

এরপর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে শপথ বাক্য পাঠের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেশের দায়িত্ব নেন ৭২ বছর বয়সি ডেম সান্দ্রা ম্যাসন। তার সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়। হাততালি দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান অতিথিরা। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লসও। রয়টার্স লিখেছে, ব্রিটিশ রানির রাজকীয় পদবি বাতিল করে নতুন বার্বাডোজের ঘোষণার সময় তিনি নিস্তব্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশবাসীকে বার্বাডোজ প্রজাতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান সান্দ্রা ম্যাসন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ আমাদেরই গঠন করতে হবে। আমরা বার্বাডোজের জনগণই আমাদের জাতির রক্ষক।’ বক্তব্য দেন প্রিন্স চার্লসও। বক্তব্যে ঔপনিবেশিক আমলে মানুষের চরম দুর্দশার কথা স্বীকার করেন তিনি। বার্বাডোজ প্রজাতন্ত্রকে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই প্রজাতন্ত্রের সৃষ্টি একটি নতুন শুরুর প্রতিশ্রুতি। অতীতের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনগুলো ও দাসত্বের নৃশংসতা, যা আমাদের ইতিহাসে চিরকাল দাগ রেখে গেছে সেসবকে পেছনে ফেলে এই দ্বীপের জনগণ অসাধারণ মনোবলের সঙ্গে তাদের পথ তৈরি করেছেন।’

বার্বাডোজে ডুবল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য

 যুগান্তর ডেস্ক 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে। সংবিধান থেকে মুছে ফেলা হলো ‘রয়্যাল’ শব্দটি। নামিয়ে ফেলা হলো ব্রিটিশ রাজের পতাকা। এভাবে পৃথিবীর বুকে নতুন এক স্বাধীন প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে জায়গা করে নিল বার্বাডোজ। নতুন করে শুরু করল পথচলা। এর মধ্যদিয়ে ৩৯৬ বছর পর ক্যারিবীয় ক্ষুদ্র দ্বীপ দেশটিতে ডুবে গেল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য্য। ১৬২৫ সালে একটি মাত্র জাহাজ নিয়ে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপদেশটিকে দখল করে একদল ব্রিটিশ। এরপর শুরু হয় চারশ বছরের দাসত্বের ইতিহাস।

গত বছরই এক ঘোষণায় বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মটলি বলেন, ব্রিটিশ উপনিবেশের দিন শেষ। এবার নতুন সূর্য দেখবে বার্বাডোজ। অবশেষে সেই সুবর্ণ মাহেন্দ্রক্ষণ এলো দ্বীপবাসীর জীবনে। আগেই জানানো হয়েছিল, মঙ্গলবার স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকীর দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে। দিনটিকে সামনে রেখে উদ্যাপন ও উৎসবের রঙে সাজে পুরো দ্বীপ। আমন্ত্রণ জানানো হয় ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের উত্তরাধিকার প্রিন্স চার্লস ও মার্কিন পপ সংগীতশিল্পী রিহান্নাসহ আরও অনেক অতিথিকে। সোমবার সন্ধ্যা থেকেই আলোয় উদ্ভাসিত রাজধানী ব্রিজটাউনের হিরোজ স্কয়ারে একত্রিত হতে শুরু করেন দেশ-বিদেশের অতিথিরা। ঘড়ির কাঁটা ১২টার ঘর পার হওয়া মাত্রই শুরু হয় ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠান। হস্তান্তর প্রক্রিয়ার ঘোষণা করেন ন্যাশনাল কালচারাল ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যারল রবার্ট-রেইফার। প্রথমেই জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে আস্তে আস্তে নামিয়ে আনা ব্রিটিশ রাজের পতাকা ‘দ্য রয়্যাল স্ট্যানডার্ড’। সেই জায়গায় তোলা হয় কালো ত্রিশূল মাথাবিশিষ্ট নীল-হলুদ-নীলের ডোরাকাটা বার্বাডোজের জাতীয় পতাকা।

এরপর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে শপথ বাক্য পাঠের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেশের দায়িত্ব নেন ৭২ বছর বয়সি ডেম সান্দ্রা ম্যাসন। তার সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়। হাততালি দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান অতিথিরা। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লসও। রয়টার্স লিখেছে, ব্রিটিশ রানির রাজকীয় পদবি বাতিল করে নতুন বার্বাডোজের ঘোষণার সময় তিনি নিস্তব্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশবাসীকে বার্বাডোজ প্রজাতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান সান্দ্রা ম্যাসন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ আমাদেরই গঠন করতে হবে। আমরা বার্বাডোজের জনগণই আমাদের জাতির রক্ষক।’ বক্তব্য দেন প্রিন্স চার্লসও। বক্তব্যে ঔপনিবেশিক আমলে মানুষের চরম দুর্দশার কথা স্বীকার করেন তিনি। বার্বাডোজ প্রজাতন্ত্রকে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই প্রজাতন্ত্রের সৃষ্টি একটি নতুন শুরুর প্রতিশ্রুতি। অতীতের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনগুলো ও দাসত্বের নৃশংসতা, যা আমাদের ইতিহাসে চিরকাল দাগ রেখে গেছে সেসবকে পেছনে ফেলে এই দ্বীপের জনগণ অসাধারণ মনোবলের সঙ্গে তাদের পথ তৈরি করেছেন।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন