বানে ভাসছে দ. সুদান
jugantor
বানে ভাসছে দ. সুদান

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক  

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বানে ভাসছে দ. সুদান

কোলের শিশুকে বানের পানি থেকে বাঁচানোর সংগ্রামে মা। কোনোমতে একটি উঁচু স্থানে রাখা হয়েছে পরিবারের একমাত্র অবলম্বন, শেষ সম্বল গরু। বানের পানি বাঁচিয়ে ঘরের ভেতর কোনোমতে মাচান সাজিয়ে থাকার ব্যবস্থা-সবই বন্যাপীড়িত অঞ্চলের নৈমিত্তিক দৃশ্য। এ দৃশ্যগুলোর অংশীদার এবার দক্ষিণ সুদানের মানুষগুলো। তীব্র জলবায়ু সংকট। খরা আর উষ্ণতায় ধুঁকছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। কারণ একই হলেও, দক্ষিণ সুদানের চিত্র অন্য রকম। সেখানে জীবন তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে। গ্রীষ্মের তীব্র বর্ষণে সৃষ্ট বানের জলে ভেসে যাচ্ছে দুর্বিনীত ক্ষুধায় পীড়িত মানুষের ঘর-দোর-খাদ্য। বানের জল এখনো থইথই। তিন বছর আগে দেশটিতে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল তার রেশ কাটতে না কাটতেই গেল বছরও বন্যার আঘাত। তলিয়ে গেছে মানুষগুলোর চাষের জমি, ভিটে-মাটি। মানবিক বিপর্যয় পার করছে দেশটির আবালবৃদ্ধবণিতা। নেই পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। ফলে দূষিত পানি করণে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতেও পড়েছে তারা। বন্যায় বিধ্বস্ত ৩১টি কাউন্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফাঙ্গাক। পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এখানকার বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোকে স্থানান্তরেরও জায়গা নেই। রাতে সামান্য ঘুম-স্বস্তির জন্য খুঁজতে হয় এক টুকরো শুকনো জমি। স্থানীয় একটি বাজারের উঁচু জমিতে কোনোমতে ভাগাভাগি করেন রাতের ঘুম। দেশটিতে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বন্যায়। জাতিসংঘ বলছে বন্যায় ৭ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে মানুষ অনেক এলাকায় জমি চাষ করতে পারেনি। যারা এই বছরের ফসল হারিয়েছে, তারা হারিয়েছে তাদের গবাদিপশুও। এখন তাদের খাদ্য বলতে ওই জলে ভাসা পদ্ম, শাপলা কিংবা ভ্যাট। এগুলো খেয়ে অভ্যস্ত না হলেও তা খেয়ে জীবন চালাতে বাধ্য তারা। আনুমানিক ২৫ লাখ মানুষ সেখানে গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন। দুর্ভিক্ষ আসন্ন। গার্ডিয়ান।

বৈশ্বিক জলবায়ু সূচক অনুসারে, দক্ষিণ সুদান জলবায়ু ভাঙনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, সংঘাত, মানবাধিকার হ্রাস এবং কোভিড-১৯ এর কারণে উদ্ভূত আর্থিক সমস্যাগুলো বন্যার মতো চরম দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষমতা হারিয়েছে দেশটি। শুধু কোভিড নয়, অন্যান্য রোগের মহামারিও ধেঁয়ে আসছে দক্ষিণ সুদানের দিকে। গার্ডিয়ান।

বানে ভাসছে দ. সুদান

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বানে ভাসছে দ. সুদান
ছবি: সংগৃহীত

কোলের শিশুকে বানের পানি থেকে বাঁচানোর সংগ্রামে মা। কোনোমতে একটি উঁচু স্থানে রাখা হয়েছে পরিবারের একমাত্র অবলম্বন, শেষ সম্বল গরু। বানের পানি বাঁচিয়ে ঘরের ভেতর কোনোমতে মাচান সাজিয়ে থাকার ব্যবস্থা-সবই বন্যাপীড়িত অঞ্চলের নৈমিত্তিক দৃশ্য। এ দৃশ্যগুলোর অংশীদার এবার দক্ষিণ সুদানের মানুষগুলো। তীব্র জলবায়ু সংকট। খরা আর উষ্ণতায় ধুঁকছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। কারণ একই হলেও, দক্ষিণ সুদানের চিত্র অন্য রকম। সেখানে জীবন তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে। গ্রীষ্মের তীব্র বর্ষণে সৃষ্ট বানের জলে ভেসে যাচ্ছে দুর্বিনীত ক্ষুধায় পীড়িত মানুষের ঘর-দোর-খাদ্য। বানের জল এখনো থইথই। তিন বছর আগে দেশটিতে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল তার রেশ কাটতে না কাটতেই গেল বছরও বন্যার আঘাত। তলিয়ে গেছে মানুষগুলোর চাষের জমি, ভিটে-মাটি। মানবিক বিপর্যয় পার করছে দেশটির আবালবৃদ্ধবণিতা। নেই পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। ফলে দূষিত পানি করণে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতেও পড়েছে তারা। বন্যায় বিধ্বস্ত ৩১টি কাউন্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফাঙ্গাক। পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এখানকার বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোকে স্থানান্তরেরও জায়গা নেই। রাতে সামান্য ঘুম-স্বস্তির জন্য খুঁজতে হয় এক টুকরো শুকনো জমি। স্থানীয় একটি বাজারের উঁচু জমিতে কোনোমতে ভাগাভাগি করেন রাতের ঘুম। দেশটিতে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বন্যায়। জাতিসংঘ বলছে বন্যায় ৭ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে মানুষ অনেক এলাকায় জমি চাষ করতে পারেনি। যারা এই বছরের ফসল হারিয়েছে, তারা হারিয়েছে তাদের গবাদিপশুও। এখন তাদের খাদ্য বলতে ওই জলে ভাসা পদ্ম, শাপলা কিংবা ভ্যাট। এগুলো খেয়ে অভ্যস্ত না হলেও তা খেয়ে জীবন চালাতে বাধ্য তারা। আনুমানিক ২৫ লাখ মানুষ সেখানে গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন। দুর্ভিক্ষ আসন্ন। গার্ডিয়ান।

বৈশ্বিক জলবায়ু সূচক অনুসারে, দক্ষিণ সুদান জলবায়ু ভাঙনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, সংঘাত, মানবাধিকার হ্রাস এবং কোভিড-১৯ এর কারণে উদ্ভূত আর্থিক সমস্যাগুলো বন্যার মতো চরম দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষমতা হারিয়েছে দেশটি। শুধু কোভিড নয়, অন্যান্য রোগের মহামারিও ধেঁয়ে আসছে দক্ষিণ সুদানের দিকে। গার্ডিয়ান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন