ওমিক্রন-ভয়ে কঠিন বিধি ব্রিটেনে
jugantor
ওমিক্রন-ভয়ে কঠিন বিধি ব্রিটেনে

  যুগান্তর ডেস্ক  

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ওমিক্রন-ভয়ে কঠিন বিধি ব্রিটেনে

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে ব্রিটেনের সেলফ আইসোলেশন বিধি পাশ করা হয়েছে। মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, এই আইনের আওতায় থাকা নতুন কোভিড বিধিগুলো তিন সপ্তাহের মধ্যে পর্যালোচনা করা হবে। কিন্তু ওমিক্রন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা নিশ্চিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্ব-বিচ্ছিন্নতার নতুন নিয়মটি আগামী মার্চ পর্যন্ত। মঙ্গলবার এ বিষয়ক নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা ১০ দিন বাধ্যতামূলক সেলফ আইসোলেশনে থাকবেন। অন্যথায় তাদের ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। ডেইলি মেইল, দ্য গার্ডিয়ান, পলিটিকো।

এমপিরা মঙ্গলবার জনসনের সেলফ আইসোলেশন আইনটি ৪৩১/৩৬ ভোটে পাশ হয়েছে। আইনটির অধীনে রয়েছে-১. গণপরিবহণ ও দোকানে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, ২. মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা করিডোরে ঘোরাফেরা করার সময় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, ৩. ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি ১০ দিনের বাধ্যতামূলক সেলফ আইসোলেশনে যাবেন, ৪. বিদেশ-ফেরত পর্যটকরা ফিরে আসার দিনই করোনা পরীক্ষা করবেন, এবং ৫. প্রতি ২১ দিনে নিয়মগুলো পর্যালোচনা করা হবে সংসদে।

বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার নিয়মটি ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে সেলফ আইসোলেশন নিয়মটি ২৪ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

নতুন এই আইনগুলো সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রক্ষণশীল সংসদ-সদস্যরা। তারা বলেছেন, এটি অর্থনীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্য সচিব সাজিদ জাভিদ বুধবার সেই উদ্বেগগুলোকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা এখনো খুব কম। যুক্তরাজ্যজুড়ে ২২ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এ কারণে বরিস জনসনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে জাভিদও বলেছেন, ক্রিসমাস পার্টি বা স্কুলের অনুষ্ঠানগুলো বাতিল করার প্রয়োজন হবে না। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এজেন্সির প্রধান ডা. জেনি হ্যারিস মঙ্গলবার বলেছেন, ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে জনগণের সামাজিকীকরণ সীমাবদ্ধ করা উচিত। স্বাস্থ্য সচিব নতুন নিয়মগুলোকে মানার পাশাপাশি ক্রিসমাস পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগে কোভিড পরীক্ষার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।

সাময়িক আইনটির সমালোচনা করে টোরি এমপি স্টিভ ব্রাইন বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের অর্থনীতি এবং ব্যবসায় মহামারি দেখছি না-আমরা এমন একটি মহামারির অপেক্ষায় রয়েছি, যা আমাদের শিক্ষাকে আবার ধ্বংস করবে।’

ভ্যাকসিনমন্ত্রী ম্যাগি থ্রুপ বলেন, ‘ওমিক্রন একটি উদীয়মান হুমকি-যা পরিচিত, কিন্তু এখনো সুপরিচিত নয়। এ কারণে নতুন ব্যবস্থাগুলো আনুপাতিক, সতর্কতামূলক এবং ভারসাম্যপূর্ণ।

ছায়া জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস বলেন, ‘এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিতর্ক করা দুঃখজনক, জনগণের আস্থা জাগানোর জন্য কোভিড নিয়মের সংসদীয় অনুমোদন অত্যাবশ্যক ছিল।’

শতভাগ মানুষকে টিকাদানের পথে আরও এগিয়ে সিঙ্গাপুর : সিঙ্গাপুরে টিকা পাওয়ার যোগ্য জনগণকে টিকা প্রয়োগের হার ৯৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের উদ্বেগে দেশটির কর্তৃপক্ষ এখন বুস্টার ডোজ প্রয়োগের দিকে আগাচ্ছে। রয়টার্স।

টিকাদানের হারে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় দেশগুলোর একটি সিঙ্গাপুর। মঙ্গলবার রাতে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের টিকাদানের হার হালনাগাদ করে। এতে দেখা যায়, ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটির ৯৬ শতাংশ টিকা পাওয়ার যোগ্য নাগরিক তা গ্রহণ করেছেন।

সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ। ৯৬ শতাংশ যোগ্য জনগোষ্ঠী টিকা গ্রহণ করার অর্থ হলো

দেশটির প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ টিকা নিয়েছেন। দুই মাস আগে দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর ৮২ শতাংশের পূর্ণ ডোজ টিকা গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

ওমিক্রন-ভয়ে কঠিন বিধি ব্রিটেনে

 যুগান্তর ডেস্ক 
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ওমিক্রন-ভয়ে কঠিন বিধি ব্রিটেনে
ছবি: সংগৃহীত

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে ব্রিটেনের সেলফ আইসোলেশন বিধি পাশ করা হয়েছে। মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, এই আইনের আওতায় থাকা নতুন কোভিড বিধিগুলো তিন সপ্তাহের মধ্যে পর্যালোচনা করা হবে। কিন্তু ওমিক্রন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা নিশ্চিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্ব-বিচ্ছিন্নতার নতুন নিয়মটি আগামী মার্চ পর্যন্ত। মঙ্গলবার এ বিষয়ক নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা ১০ দিন বাধ্যতামূলক সেলফ আইসোলেশনে থাকবেন। অন্যথায় তাদের ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। ডেইলি মেইল, দ্য গার্ডিয়ান, পলিটিকো।

এমপিরা মঙ্গলবার জনসনের সেলফ আইসোলেশন আইনটি ৪৩১/৩৬ ভোটে পাশ হয়েছে। আইনটির অধীনে রয়েছে-১. গণপরিবহণ ও দোকানে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, ২. মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা করিডোরে ঘোরাফেরা করার সময় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, ৩. ওমিক্রন আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি ১০ দিনের বাধ্যতামূলক সেলফ আইসোলেশনে যাবেন, ৪. বিদেশ-ফেরত পর্যটকরা ফিরে আসার দিনই করোনা পরীক্ষা করবেন, এবং ৫. প্রতি ২১ দিনে নিয়মগুলো পর্যালোচনা করা হবে সংসদে।

বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার নিয়মটি ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে সেলফ আইসোলেশন নিয়মটি ২৪ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

নতুন এই আইনগুলো সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রক্ষণশীল সংসদ-সদস্যরা। তারা বলেছেন, এটি অর্থনীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্য সচিব সাজিদ জাভিদ বুধবার সেই উদ্বেগগুলোকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা এখনো খুব কম। যুক্তরাজ্যজুড়ে ২২ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এ কারণে বরিস জনসনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে জাভিদও বলেছেন, ক্রিসমাস পার্টি বা স্কুলের অনুষ্ঠানগুলো বাতিল করার প্রয়োজন হবে না। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এজেন্সির প্রধান ডা. জেনি হ্যারিস মঙ্গলবার বলেছেন, ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে জনগণের সামাজিকীকরণ সীমাবদ্ধ করা উচিত। স্বাস্থ্য সচিব নতুন নিয়মগুলোকে মানার পাশাপাশি ক্রিসমাস পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগে কোভিড পরীক্ষার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।

সাময়িক আইনটির সমালোচনা করে টোরি এমপি স্টিভ ব্রাইন বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের অর্থনীতি এবং ব্যবসায় মহামারি দেখছি না-আমরা এমন একটি মহামারির অপেক্ষায় রয়েছি, যা আমাদের শিক্ষাকে আবার ধ্বংস করবে।’

ভ্যাকসিনমন্ত্রী ম্যাগি থ্রুপ বলেন, ‘ওমিক্রন একটি উদীয়মান হুমকি-যা পরিচিত, কিন্তু এখনো সুপরিচিত নয়। এ কারণে নতুন ব্যবস্থাগুলো আনুপাতিক, সতর্কতামূলক এবং ভারসাম্যপূর্ণ।

ছায়া জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস বলেন, ‘এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিতর্ক করা দুঃখজনক, জনগণের আস্থা জাগানোর জন্য কোভিড নিয়মের সংসদীয় অনুমোদন অত্যাবশ্যক ছিল।’

শতভাগ মানুষকে টিকাদানের পথে আরও এগিয়ে সিঙ্গাপুর : সিঙ্গাপুরে টিকা পাওয়ার যোগ্য জনগণকে টিকা প্রয়োগের হার ৯৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের উদ্বেগে দেশটির কর্তৃপক্ষ এখন বুস্টার ডোজ প্রয়োগের দিকে আগাচ্ছে। রয়টার্স।

টিকাদানের হারে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় দেশগুলোর একটি সিঙ্গাপুর। মঙ্গলবার রাতে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের টিকাদানের হার হালনাগাদ করে। এতে দেখা যায়, ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটির ৯৬ শতাংশ টিকা পাওয়ার যোগ্য নাগরিক তা গ্রহণ করেছেন।

সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ। ৯৬ শতাংশ যোগ্য জনগোষ্ঠী টিকা গ্রহণ করার অর্থ হলো

দেশটির প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ টিকা নিয়েছেন। দুই মাস আগে দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর ৮২ শতাংশের পূর্ণ ডোজ টিকা গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন