মার্কিন সেনাবাহিনীর অস্ত্র চুরি
jugantor
মার্কিন সেনাবাহিনীর অস্ত্র চুরি
হাজার হাজার রকেট ল্যান্ডমাইন, শত শত পাউন্ড বিস্ফোরক উধাও

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন সেনাবাহিনীর অস্ত্র চুরি

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্র চুরি হয়ে গেছে। একটি দুটি নয়, হাজার হাজার রকেট ল্যান্ডমাইন গ্রেনেডের হদিস নেই। সরবরাহের সময় রাস্তা থেকে কিংবা সামরিক ঘাঁটি থেকে এসব অস্ত্র উধাও হয়ে গেছে। আর এর সঙ্গে জড়িত সেনা সদস্যরাই। চুরি ধামাচাপা দিতে রেকর্ড খাতায় ভুল তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা মোটেই করা হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

খবরে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গত এক দশকে এসব অস্ত্র চুরি হয়েছে। ভয়াবহ বিস্ফোরণ কিংবা আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া সামরিক বাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ আলোচনায় এসেছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরির ঘটনায়। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ দশকে ২ হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র চুরি গেছে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে। খোঁজ নেই, কয়েক হাজার গ্রেনেড এবং শতাধিক পাউন্ড বিস্ফোরকের।

মার্কিন সেনাবাহিনী লেফটেন্যান্ট রেইস জ্যাকবসন বলছেন, অস্ত্র এবং বিস্ফোরক বেহাত হয়ে যাওয়াটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যত পুরোনো হোক না কেন এগুলো সব সময়ই ভয়ংকর। অস্ত্র ও গোলাবারুদ খোয়া যাওয়া যতটা না উদ্বেগের তার চেয়েও ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, এসব হাতিয়ে নিয়েছে খোদ বাহিনীর সদস্যরাই। এপি অন্তত ৬৩টি ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে যেখানে অস্ত্র উদ্ধারের পর কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন সেগুলো হারিয়ে গিয়েছিল। অস্ত্র চুরির দায়ে ২ সেনা সদস্যকে বিচারের মুখোমুখিও করা হয়েছে। এতে চুরির ঘটনা শিকারও করেছেন তারা।

অস্ত্র চুরিতে অভিযুক্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক সাবেক সার্জেন্ট অ্যালেক্স ক্র্যাসোভেক বলেন, কিছু বিস্ফোরক সরিয়েছিলাম বাড়িতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। ভেবেছিলাম সেগুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের সাথে মজা করব। তবে এগুলো বিক্রি কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত আরেক সাবেক সার্জেন্ট ট্রেভিস গ্লসার বলেন, ২০১৬ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। মনে হচ্ছিল যদি হিলারি ক্লিনটন নির্বাচনে যেতেন তাহলে দেশজুড়ে সহিংসতা সৃষ্টি হবে। সেই ভয়ে পরিবারকে রক্ষার জন্য আমি কিছু গ্রেনেড সরিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে রাখি। ভয়ানক অস্ত্র ও বিস্ফোরক বেহাত হওয়ায় ঘটেছে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেছে সাধারণ মানুষের। এসব চুরি এবং দুর্ঘটনা তদন্তে নেমেছে মার্কিন কংগ্রেসও।

নৌবাহিনীর মেরিন কর্পসের একজন সদস্য ১৩ কেজি সি৪ প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভ চুরি করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাকে এর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জবাবে কর্তৃপক্ষের কাছে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এগুলো নেওয়ার সময় একটা মাত্র বিষয়ই আমার মনে ছিল; আর সেটা হচ্ছে আমি আমার পরিবার ও আমার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করছি।’ চুরির এসব ঘটনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতেও শুরু করেছেন সামরিক কর্মকর্তারা। তবে তারা বলছেন, চুরির সঙ্গে জড়িত সেনাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে কম হলেও তা শূন্যে নামিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। পেন্টাগন মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল উরিয়াহ ওরল্যান্ড বলেন, ‘আমরা সংখ্যাটাকে শূন্যে নিয়ে আসতে চাই।’

জাতিসংঘের সামনে ‘অস্ত্রধারী’ আটক : প্রায় তিন ঘণ্টার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনের অবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সদর দপ্তরের সামনে থেকে ‘অস্ত্রধারী’ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। এর আগে ওই ব্যক্তি জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে অবস্থান করেন। সতর্কতার অংশ হিসাবে সদর দপ্তরের চার পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। সদর দপ্তরের বাইরে অস্ত্র হাতে এক ব্যক্তিকে ঘুরতে দেখার পরপরই দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র জানান, জাতিসংঘের সদর দপ্তর বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে পুলিশের কার্যক্রম চলছে। জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। তবে কার্যালয়ের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু আছে। রয়টার্স।

মার্কিন সেনাবাহিনীর অস্ত্র চুরি

হাজার হাজার রকেট ল্যান্ডমাইন, শত শত পাউন্ড বিস্ফোরক উধাও
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মার্কিন সেনাবাহিনীর অস্ত্র চুরি
ফাইল ছবি

মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্র চুরি হয়ে গেছে। একটি দুটি নয়, হাজার হাজার রকেট ল্যান্ডমাইন গ্রেনেডের হদিস নেই। সরবরাহের সময় রাস্তা থেকে কিংবা সামরিক ঘাঁটি থেকে এসব অস্ত্র উধাও হয়ে গেছে। আর এর সঙ্গে জড়িত সেনা সদস্যরাই। চুরি ধামাচাপা দিতে রেকর্ড খাতায় ভুল তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা মোটেই করা হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

খবরে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গত এক দশকে এসব অস্ত্র চুরি হয়েছে। ভয়াবহ বিস্ফোরণ কিংবা আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া সামরিক বাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ আলোচনায় এসেছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরির ঘটনায়। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ দশকে ২ হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র চুরি গেছে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে। খোঁজ নেই, কয়েক হাজার গ্রেনেড এবং শতাধিক পাউন্ড বিস্ফোরকের।

মার্কিন সেনাবাহিনী লেফটেন্যান্ট রেইস জ্যাকবসন বলছেন, অস্ত্র এবং বিস্ফোরক বেহাত হয়ে যাওয়াটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যত পুরোনো হোক না কেন এগুলো সব সময়ই ভয়ংকর। অস্ত্র ও গোলাবারুদ খোয়া যাওয়া যতটা না উদ্বেগের তার চেয়েও ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, এসব হাতিয়ে নিয়েছে খোদ বাহিনীর সদস্যরাই। এপি অন্তত ৬৩টি ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে যেখানে অস্ত্র উদ্ধারের পর কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন সেগুলো হারিয়ে গিয়েছিল। অস্ত্র চুরির দায়ে ২ সেনা সদস্যকে বিচারের মুখোমুখিও করা হয়েছে। এতে চুরির ঘটনা শিকারও করেছেন তারা।

অস্ত্র চুরিতে অভিযুক্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক সাবেক সার্জেন্ট অ্যালেক্স ক্র্যাসোভেক বলেন, কিছু বিস্ফোরক সরিয়েছিলাম বাড়িতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। ভেবেছিলাম সেগুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের সাথে মজা করব। তবে এগুলো বিক্রি কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত আরেক সাবেক সার্জেন্ট ট্রেভিস গ্লসার বলেন, ২০১৬ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। মনে হচ্ছিল যদি হিলারি ক্লিনটন নির্বাচনে যেতেন তাহলে দেশজুড়ে সহিংসতা সৃষ্টি হবে। সেই ভয়ে পরিবারকে রক্ষার জন্য আমি কিছু গ্রেনেড সরিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে রাখি। ভয়ানক অস্ত্র ও বিস্ফোরক বেহাত হওয়ায় ঘটেছে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেছে সাধারণ মানুষের। এসব চুরি এবং দুর্ঘটনা তদন্তে নেমেছে মার্কিন কংগ্রেসও।

নৌবাহিনীর মেরিন কর্পসের একজন সদস্য ১৩ কেজি সি৪ প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভ চুরি করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাকে এর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জবাবে কর্তৃপক্ষের কাছে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এগুলো নেওয়ার সময় একটা মাত্র বিষয়ই আমার মনে ছিল; আর সেটা হচ্ছে আমি আমার পরিবার ও আমার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করছি।’ চুরির এসব ঘটনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতেও শুরু করেছেন সামরিক কর্মকর্তারা। তবে তারা বলছেন, চুরির সঙ্গে জড়িত সেনাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে কম হলেও তা শূন্যে নামিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। পেন্টাগন মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল উরিয়াহ ওরল্যান্ড বলেন, ‘আমরা সংখ্যাটাকে শূন্যে নিয়ে আসতে চাই।’

জাতিসংঘের সামনে ‘অস্ত্রধারী’ আটক : প্রায় তিন ঘণ্টার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনের অবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সদর দপ্তরের সামনে থেকে ‘অস্ত্রধারী’ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। এর আগে ওই ব্যক্তি জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে অবস্থান করেন। সতর্কতার অংশ হিসাবে সদর দপ্তরের চার পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। সদর দপ্তরের বাইরে অস্ত্র হাতে এক ব্যক্তিকে ঘুরতে দেখার পরপরই দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র জানান, জাতিসংঘের সদর দপ্তর বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে পুলিশের কার্যক্রম চলছে। জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। তবে কার্যালয়ের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু আছে। রয়টার্স।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন