সাংবাদিকরা স্বৈরাচার ও যুদ্ধের মাঝে ঢাল
jugantor
সাংবাদিকরা স্বৈরাচার ও যুদ্ধের মাঝে ঢাল
সাক্ষাৎকারে নোবেলজয়ী সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ

  অনলাইন ডেস্ক  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শান্তিতে যৌথভাবে নোবেল বিজয়ী রুশ সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ বলেছেন, ‘আমি মনে করি আমাদের বিশ্ব গণতন্ত্রকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিয়েছে এবং একনায়কত্বের দিকে ছুটতে শুরু করেছে। সাংবাদিকরা স্বাধীন গণমাধ্যমের মতো। তারা স্বৈরাচার এবং যুদ্ধের মাঝখানে প্রতিরক্ষা ঢাল হিসাবে কাজ করছেন।’ সম্প্রতি একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। দি গার্ডিয়ান।

অবশেষে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসাকে নরওয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন ফিলিপাইনের আদালত। শুক্রবার একটি ফিলিপাইনের আপিল আদালত মিসেস রেসার আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ১০ ডিসেম্বর পুরস্কার গ্রহণ নরওয়ে যাবেন মারিয়া রেসা ও মুরাতভ। আইনি মামলার কারণে মারিয়ার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিলেন ফিলিপাইনের আদালত। এ কারণে নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হওয়া তার জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে আদালতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের আবেদন করেছিলেন রেসা। শুধু তাই নয়, মারিয়া রেসাকে ওই পুরস্কার গ্রহণের জন্য নরওয়ে ভ্রমণের অনুমতি দিতে ফিলিপাইন সরকারকে অনুরোধ করেছিল জাতিসংঘ।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তেকে নিয়ে সমালোচনামূলক গল্প প্রকাশ করার জন্য রেসাকে ১০০ বছরের জেল এবং তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে। গত বছর তাকে মানহানির অভিযোগে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মামলায় আপিল করায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগও আনা হয়েছে।

মুরাতভ অনলাইনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বিশ্ব ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’ শেষবার একজন সাংবাদিক নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন ১৯৩৫ সালে। সেই নোবেল বিজয়ী কার্ল ভন ওসিটস্কি প্রকাশ করেছিলেন, হিটলার কীভাবে গোপনে জার্মানিকে পুনরুদ্ধার করছিলেন। তার প্রায় এক শতাব্দী পর এই দুই সাংবাদিক অসলোতে নোবেলের মঞ্চে পা রাখবেন। দিমিত্রি মুরাতভ রাশিয়ার নোভায়া গেজেটার প্রধান সম্পাদক- যিনি রাশিয়ার শেষ স্বাধীন সংবাদপত্রগুলোর একটিকে আগলে রেখেছেন। দিমিত্রি বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। বর্তমানে ছদ্মবেশীদের কারসাজি চলছে। চার পাশ থেকে মানবতা মাথা গুটিয়ে নিচ্ছে।’ রাশিয়ায় মুরাতভের নোবেলের খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। রাশিয়ার সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল সাংবাদিক আলেক্সি নাভালনি, যিনি বিরোধী দলের নেতাও, বর্তমানে রাশিয়ার একটি কারাগারে রয়েছেন। পুরস্কার ঘোষণার এক দিন আগে যখন মুরাতভকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল রাশিয়ার মধ্যে কার এ পুরস্কারটি পাওয়া উচিত? মুরাতভ বলেছিলেন ‘অবশ্যই আলেক্সি নাভালনি।’ তবে মুরাতভও সাহসী সাংবাদিক। তিনি বলেন, ‘এটা আতঙ্কজনক যে, এত বছর ধরে গণতন্ত্রে বসবাসকারী দেশগুলো একনায়কতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটা ভয়ংকর ব্যাপার।’

এদিকে, মারিয়ার জয়ের ঘোষণা করার সময় নোবেল কমিটি ফিলিপাইনে দুতের্তের বিতর্কিত খুনের এবং মাদকবিরোধী অভিযান বিষয়ে তার কাজের প্রশংসা করেছেন। ফিলিপাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখার জন্য তার প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেছেন তারা। আদপে, ফিলিপাইনে তার অবস্থা তো এখন টের পাচ্ছেন সবাই। ১২৬ বছরের পুরোনো ইতিহাসে রেসা ১৮তম মহিলা যিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯০১ সাল থেকে শুরু হওয়া নোবেল পুরস্কারের মাত্র ছয় শতাংশ পেয়েছেন নারীরা। নোবেলজয়ী হিসেবে নিজের নাম শোনার পর মুরাতভ বলেছিলেন, তিনি তার বিজয়কে স্বাধীন সাংবাদিকদের সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করবেন-যারা কর্তৃপক্ষের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হয়েছেন। যেসব সাংবাদিককে সরকারিভাবে ‘বিদেশি অ্যাজেন্ট’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে তাদেরও মুরাতভ সাহায্য করবেন বলে জানান।

সাংবাদিকরা স্বৈরাচার ও যুদ্ধের মাঝে ঢাল

সাক্ষাৎকারে নোবেলজয়ী সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ
 অনলাইন ডেস্ক 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শান্তিতে যৌথভাবে নোবেল বিজয়ী রুশ সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ বলেছেন, ‘আমি মনে করি আমাদের বিশ্ব গণতন্ত্রকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিয়েছে এবং একনায়কত্বের দিকে ছুটতে শুরু করেছে। সাংবাদিকরা স্বাধীন গণমাধ্যমের মতো। তারা স্বৈরাচার এবং যুদ্ধের মাঝখানে প্রতিরক্ষা ঢাল হিসাবে কাজ করছেন।’ সম্প্রতি একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। দি গার্ডিয়ান।

অবশেষে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসাকে নরওয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন ফিলিপাইনের আদালত। শুক্রবার একটি ফিলিপাইনের আপিল আদালত মিসেস রেসার আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ১০ ডিসেম্বর পুরস্কার গ্রহণ নরওয়ে যাবেন মারিয়া রেসা ও মুরাতভ। আইনি মামলার কারণে মারিয়ার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিলেন ফিলিপাইনের আদালত। এ কারণে নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হওয়া তার জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে আদালতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের আবেদন করেছিলেন রেসা। শুধু তাই নয়, মারিয়া রেসাকে ওই পুরস্কার গ্রহণের জন্য নরওয়ে ভ্রমণের অনুমতি দিতে ফিলিপাইন সরকারকে অনুরোধ করেছিল জাতিসংঘ।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তেকে নিয়ে সমালোচনামূলক গল্প প্রকাশ করার জন্য রেসাকে ১০০ বছরের জেল এবং তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে। গত বছর তাকে মানহানির অভিযোগে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মামলায় আপিল করায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগও আনা হয়েছে।

মুরাতভ অনলাইনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বিশ্ব ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’ শেষবার একজন সাংবাদিক নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন ১৯৩৫ সালে। সেই নোবেল বিজয়ী কার্ল ভন ওসিটস্কি প্রকাশ করেছিলেন, হিটলার কীভাবে গোপনে জার্মানিকে পুনরুদ্ধার করছিলেন। তার প্রায় এক শতাব্দী পর এই দুই সাংবাদিক অসলোতে নোবেলের মঞ্চে পা রাখবেন। দিমিত্রি মুরাতভ রাশিয়ার নোভায়া গেজেটার প্রধান সম্পাদক- যিনি রাশিয়ার শেষ স্বাধীন সংবাদপত্রগুলোর একটিকে আগলে রেখেছেন। দিমিত্রি বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। বর্তমানে ছদ্মবেশীদের কারসাজি চলছে। চার পাশ থেকে মানবতা মাথা গুটিয়ে নিচ্ছে।’ রাশিয়ায় মুরাতভের নোবেলের খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। রাশিয়ার সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল সাংবাদিক আলেক্সি নাভালনি, যিনি বিরোধী দলের নেতাও, বর্তমানে রাশিয়ার একটি কারাগারে রয়েছেন। পুরস্কার ঘোষণার এক দিন আগে যখন মুরাতভকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল রাশিয়ার মধ্যে কার এ পুরস্কারটি পাওয়া উচিত? মুরাতভ বলেছিলেন ‘অবশ্যই আলেক্সি নাভালনি।’ তবে মুরাতভও সাহসী সাংবাদিক। তিনি বলেন, ‘এটা আতঙ্কজনক যে, এত বছর ধরে গণতন্ত্রে বসবাসকারী দেশগুলো একনায়কতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটা ভয়ংকর ব্যাপার।’

এদিকে, মারিয়ার জয়ের ঘোষণা করার সময় নোবেল কমিটি ফিলিপাইনে দুতের্তের বিতর্কিত খুনের এবং মাদকবিরোধী অভিযান বিষয়ে তার কাজের প্রশংসা করেছেন। ফিলিপাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখার জন্য তার প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেছেন তারা। আদপে, ফিলিপাইনে তার অবস্থা তো এখন টের পাচ্ছেন সবাই। ১২৬ বছরের পুরোনো ইতিহাসে রেসা ১৮তম মহিলা যিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯০১ সাল থেকে শুরু হওয়া নোবেল পুরস্কারের মাত্র ছয় শতাংশ পেয়েছেন নারীরা। নোবেলজয়ী হিসেবে নিজের নাম শোনার পর মুরাতভ বলেছিলেন, তিনি তার বিজয়কে স্বাধীন সাংবাদিকদের সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করবেন-যারা কর্তৃপক্ষের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হয়েছেন। যেসব সাংবাদিককে সরকারিভাবে ‘বিদেশি অ্যাজেন্ট’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে তাদেরও মুরাতভ সাহায্য করবেন বলে জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন