সেই ক্যামেরাভীতিই এখন ব্র্যান্ড
jugantor
বিখ্যাত ট্রেডমার্ক : রম্বস পোজ
সেই ক্যামেরাভীতিই এখন ব্র্যান্ড
অ্যাঞ্জেলা ছাড়া ইইউ সম্মেলন ভ্যাটিকানহীন রোমের মতো

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পেটের হাত, বুড়ো আঙুল এবং আঙুলের ডগা স্পর্শ করে একটি হীরার আকৃতি তৈরি করা-অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের হাতের এ ভঙ্গিটি ছিল তার সবচেয়ে স্বীকৃত এবং বিখ্যাত ট্রেডমার্ক। অঙ্গভঙ্গির নিজস্ব উইকিপিডিয়ার পৃষ্ঠায়, এমনকি লন্ডনের বিখ্যাত মাদাম তুসো মোমের জাদুঘরে রম্বস পোজ দিয়ে অমর হয়ে আছেন তিনি। এএফপি।

মার্কেলের এই পোজকে জার্মান ভাষায় বলা হয় ‘মার্কেল-রুতে’, মানে মার্কেল-হীরক। ২০০২ সালে স্টার্ন ম্যাগাজিনের জন্য একটি ফটোশুটের সময় কীভাবে ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে হয়-তা শিখতে গিয়ে এবং ক্যামেরাভীতি থেকেই বেরিয়ে আসে তার এ রম্বস-পোজ। আলোকচিত্রী ক্লদিয়া কেম্প ২০০৯ সালে রেইনিশে পোস্ট পত্রিকাকে স্মরণ করে বলেন, ‘ছবি তোলার সময় হাত দিয়ে কী করবেন তা জানতেন না। পরে তাকে হাত পাশে ঝুলিয়ে রাখতে বলায় তিনি কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন।’ ২০১৩ সালের নির্বাচনের পরই মূলত মার্কেল-রম্বস বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেতে শুরু করে। কারণ ওই নির্বাচনের প্রচারণায় তার ২৩০ ফুট বাই ৬৬ ফুট একটি বিলবোর্ড তৈরি করা হয়েছিল যেখানে মার্কেল-রম্বস ছবি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে রম্বস-হাতের ছবি ছিল ২ হাজারেরও বেশি। তার স্লোগান ছিল ‘হাতেই জার্মানির ভবিষ্যৎ’। নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই মার্কেল-রম্বস হয়ে ওঠে ‘সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত’ হাতের অঙ্গভঙ্গিগুলোর একটি। তার উত্তরসূরি রাজনীতিক পরবর্তী চ্যান্সেলর শোল্জকেও এভাবে পোজ দিতে দেখা গেছে। দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্ষমতায় তার অনেক সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি কিছু তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন ইউরোপের অবিসংবাদিত নেতা জার্মারি চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। রোববার সেগুলোর বেশ কিছু উদ্ধার করেছে এএফপি। তারই সারাংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে : মার্কেল রাজনীতিতে যুক্তি এবং শালীনতা নিয়ে এসেছেন। যখন তিনি ইউরোপীয় কাউন্সিলে বক্তৃতা শুরু করতেন, সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত লোকদের আইফোন থেকে চোখ সরে যেত, লিখতে থাকা নোটপ্যাড থেকে কলমটা নেমে যেত। তার এ ক্ষমতা অসাধারণ। ২০২১ সালের মে মাসে নাৎসিদের কাছ থেকে নেদারল্যান্ডসের মুক্তির ৭৬তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি ফোরামে এ কথা বলেন রুটে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন : তিনি সবসময় সহজ বাক্যে লোকদের মনে করিয়ে দিতে পারেন, আসলে কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যখন আমরা প্রায়ই একটি অচলাবস্থার শিকার হই, তখন তিনি একটি আলোকবর্তিকার মতো পথ দেখিয়ে দেন। তারপর আমরা আবার চলছি। আমরা এটা মিস করব। ২০২১ সালের মে মাসে একটি ইউরোপীয় রাজনীতি ফোরামে এ কথা বলেন উরসুলা।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান চার্লস মিশেল : অ্যাঞ্জেলা ছাড়া একটি ইইউ শীর্ষ সম্মেলন ভ্যাটিকানহীন রোমের মতো বা আইফেল টাওয়ারবিহীন প্যারিসের মতো। মিশেল অক্টোবরে মার্কেলের সর্বশেষ ব্রাসেলস সমাবেশে এ কথা বলেছিলেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়ের ম্যাক্রোঁ : ফ্রাঙ্কো-জার্মান সম্পর্কের সবকিছুই মার্কেলের প্রতিশ্রুতি, পদক্ষেপ ও ইচ্ছার কাছে ঋণী। কখনো কখনো আমাদের সঙ্গে তার ধৈর্য এবং শোনার ক্ষমতার কাছে কৃতজ্ঞ। ২০২১ সালের মে মাসে মার্কেলের সাথে একটি বৈঠকের পর এ কথা বলেন ম্যাক্রোঁ।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন : আমি তাকে বিশ্বাস করি, তিনি খুব খোলামেলা মানুষ। সংকট সমাধানে তার প্রচেষ্টা সৎ। ২০১৬ সালে জার্মান দৈনিক বিল্ড-এর একটি সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছিলেন পুতিন।

ইইউ কমিশনের সাবেক প্রধান জিন-ক্লদ জাঙ্কার : মহামারি চলাকালীন, তিনি দারুণ কাজ করেছেন। তিনি যদি ৭৫০ বিলিয়ন ইউরো পরিকল্পনায় ‘হ্যাঁ’ না বলতেন, তবে এটি কখনোই আসত না। বেলজিয়ান সংবাদপত্র লে সোয়ারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন জাঙ্কার।

বিখ্যাত ট্রেডমার্ক : রম্বস পোজ

সেই ক্যামেরাভীতিই এখন ব্র্যান্ড

অ্যাঞ্জেলা ছাড়া ইইউ সম্মেলন ভ্যাটিকানহীন রোমের মতো
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পেটের হাত, বুড়ো আঙুল এবং আঙুলের ডগা স্পর্শ করে একটি হীরার আকৃতি তৈরি করা-অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের হাতের এ ভঙ্গিটি ছিল তার সবচেয়ে স্বীকৃত এবং বিখ্যাত ট্রেডমার্ক। অঙ্গভঙ্গির নিজস্ব উইকিপিডিয়ার পৃষ্ঠায়, এমনকি লন্ডনের বিখ্যাত মাদাম তুসো মোমের জাদুঘরে রম্বস পোজ দিয়ে অমর হয়ে আছেন তিনি। এএফপি।

মার্কেলের এই পোজকে জার্মান ভাষায় বলা হয় ‘মার্কেল-রুতে’, মানে মার্কেল-হীরক। ২০০২ সালে স্টার্ন ম্যাগাজিনের জন্য একটি ফটোশুটের সময় কীভাবে ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে হয়-তা শিখতে গিয়ে এবং ক্যামেরাভীতি থেকেই বেরিয়ে আসে তার এ রম্বস-পোজ। আলোকচিত্রী ক্লদিয়া কেম্প ২০০৯ সালে রেইনিশে পোস্ট পত্রিকাকে স্মরণ করে বলেন, ‘ছবি তোলার সময় হাত দিয়ে কী করবেন তা জানতেন না। পরে তাকে হাত পাশে ঝুলিয়ে রাখতে বলায় তিনি কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন।’ ২০১৩ সালের নির্বাচনের পরই মূলত মার্কেল-রম্বস বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেতে শুরু করে। কারণ ওই নির্বাচনের প্রচারণায় তার ২৩০ ফুট বাই ৬৬ ফুট একটি বিলবোর্ড তৈরি করা হয়েছিল যেখানে মার্কেল-রম্বস ছবি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে রম্বস-হাতের ছবি ছিল ২ হাজারেরও বেশি। তার স্লোগান ছিল ‘হাতেই জার্মানির ভবিষ্যৎ’। নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই মার্কেল-রম্বস হয়ে ওঠে ‘সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত’ হাতের অঙ্গভঙ্গিগুলোর একটি। তার উত্তরসূরি রাজনীতিক পরবর্তী চ্যান্সেলর শোল্জকেও এভাবে পোজ দিতে দেখা গেছে। দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্ষমতায় তার অনেক সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি কিছু তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন ইউরোপের অবিসংবাদিত নেতা জার্মারি চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। রোববার সেগুলোর বেশ কিছু উদ্ধার করেছে এএফপি। তারই সারাংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে : মার্কেল রাজনীতিতে যুক্তি এবং শালীনতা নিয়ে এসেছেন। যখন তিনি ইউরোপীয় কাউন্সিলে বক্তৃতা শুরু করতেন, সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত লোকদের আইফোন থেকে চোখ সরে যেত, লিখতে থাকা নোটপ্যাড থেকে কলমটা নেমে যেত। তার এ ক্ষমতা অসাধারণ। ২০২১ সালের মে মাসে নাৎসিদের কাছ থেকে নেদারল্যান্ডসের মুক্তির ৭৬তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি ফোরামে এ কথা বলেন রুটে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন : তিনি সবসময় সহজ বাক্যে লোকদের মনে করিয়ে দিতে পারেন, আসলে কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যখন আমরা প্রায়ই একটি অচলাবস্থার শিকার হই, তখন তিনি একটি আলোকবর্তিকার মতো পথ দেখিয়ে দেন। তারপর আমরা আবার চলছি। আমরা এটা মিস করব। ২০২১ সালের মে মাসে একটি ইউরোপীয় রাজনীতি ফোরামে এ কথা বলেন উরসুলা।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান চার্লস মিশেল : অ্যাঞ্জেলা ছাড়া একটি ইইউ শীর্ষ সম্মেলন ভ্যাটিকানহীন রোমের মতো বা আইফেল টাওয়ারবিহীন প্যারিসের মতো। মিশেল অক্টোবরে মার্কেলের সর্বশেষ ব্রাসেলস সমাবেশে এ কথা বলেছিলেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়ের ম্যাক্রোঁ : ফ্রাঙ্কো-জার্মান সম্পর্কের সবকিছুই মার্কেলের প্রতিশ্রুতি, পদক্ষেপ ও ইচ্ছার কাছে ঋণী। কখনো কখনো আমাদের সঙ্গে তার ধৈর্য এবং শোনার ক্ষমতার কাছে কৃতজ্ঞ। ২০২১ সালের মে মাসে মার্কেলের সাথে একটি বৈঠকের পর এ কথা বলেন ম্যাক্রোঁ।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন : আমি তাকে বিশ্বাস করি, তিনি খুব খোলামেলা মানুষ। সংকট সমাধানে তার প্রচেষ্টা সৎ। ২০১৬ সালে জার্মান দৈনিক বিল্ড-এর একটি সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছিলেন পুতিন।

ইইউ কমিশনের সাবেক প্রধান জিন-ক্লদ জাঙ্কার : মহামারি চলাকালীন, তিনি দারুণ কাজ করেছেন। তিনি যদি ৭৫০ বিলিয়ন ইউরো পরিকল্পনায় ‘হ্যাঁ’ না বলতেন, তবে এটি কখনোই আসত না। বেলজিয়ান সংবাদপত্র লে সোয়ারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন জাঙ্কার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন