আরও অস্ত্র চায় ছায়া সরকারের সেনারা
jugantor
আরও অস্ত্র চায় ছায়া সরকারের সেনারা
মিয়ানমারের জঙ্গলে পিপল’স ডিফেন্স ফোর্সের প্রশিক্ষণ

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আরও অস্ত্র চায় ছায়া সরকারের সেনারা

মিয়ানমারে গণতন্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার হয়েছে। হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে গণতন্ত্রপন্থি হাজারও মানুষ। সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকাগুলোর গভীর জঙ্গলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তারা। পাশাপাশি কয়েক মাস ধরেই অত্যাধুনিক সব অস্ত্রসজ্জিত সেনাবাহিনীর ওপর একের পর এক গেরিলা অভিযান চালাচ্ছে। এতে কয়েক হাজার সেনাও মারা গেছে, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিশ্লেষকরা বলছেন, চোরাগোপ্তা অভিযানে সেনাবাহিনীকে হতচকিত করে দিলেও তাদের হাতে তেমন উন্নত অস্ত্রশস্ত্র নেই। আর তাই লড়াই-সংগ্রাম এগিয়ে নিতে আরও অস্ত্র চায় এসব বিদ্রোহী সেনারা।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার দখল নেয় সেনাবাহিনী। ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার শুরু হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন চলছে। সেই সঙ্গে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিপন্থি ছায়া সরকার মিয়ানমার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের (এনইউজি) পক্ষে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে গণতন্ত্রপন্থিরা। গড়ে তুলেছে ‘পিপল’স ডিফেন্স ফোর্স’ নামে প্রায় ডজনখানেক প্রতিরোধ বাহিনী। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর পাশাপাশি এসব বাহিনীতে যোগ দিচ্ছে দেশটির নারীরাও।

এএফপি জানিয়েছে, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর গভীর জঙ্গলে চলে পিপল’স ডিফেন্স ফোর্সের সেনাদের গেরিলা প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ শেষে এখান থেকেই চলে সেনাবাহিনীর ওপর বিভিন্ন অভিযান। গত কয়েক মাসে অসংখ্য অভিযান চালিয়েছে প্রশিক্ষিত সেনারা। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছে। তবে অস্ত্র চালানো, ছদ্মবেশ ধারণের পাশাপাশি নিয়মিত ওতপেতে সেনাবাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ায় পিডিএফের সেনারা যে দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতা দেখিয়েছে তা বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র উপদেষ্টা রিচার্ড হোরসি বলেন, ‘আমি মনে করি, পিডিএফ সেনাদের হামলার ক্ষিপ্রতায় অবাক হয়ে গেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। শুধু তাই নয়, তাদের গোয়েন্দা বাহিনী ও কৌশলগত কোনো পদক্ষেপই ঠিকমতো কাজ করছে না।’ মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) একটি ছায়া সরকার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপরই একটি ‘গণআত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ’ ঘোষণা করে, যাকে বিশ্লেষকরা দেশটির নিয়ন্ত্রণকারী জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের আহ্বান হিসাবে দেখছেন।

আরও অস্ত্র চায় ছায়া সরকারের সেনারা

মিয়ানমারের জঙ্গলে পিপল’স ডিফেন্স ফোর্সের প্রশিক্ষণ
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আরও অস্ত্র চায় ছায়া সরকারের সেনারা
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে গণতন্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার হয়েছে। হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে গণতন্ত্রপন্থি হাজারও মানুষ। সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকাগুলোর গভীর জঙ্গলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তারা। পাশাপাশি কয়েক মাস ধরেই অত্যাধুনিক সব অস্ত্রসজ্জিত সেনাবাহিনীর ওপর একের পর এক গেরিলা অভিযান চালাচ্ছে। এতে কয়েক হাজার সেনাও মারা গেছে, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিশ্লেষকরা বলছেন, চোরাগোপ্তা অভিযানে সেনাবাহিনীকে হতচকিত করে দিলেও তাদের হাতে তেমন উন্নত অস্ত্রশস্ত্র নেই। আর তাই লড়াই-সংগ্রাম এগিয়ে নিতে আরও অস্ত্র চায় এসব বিদ্রোহী সেনারা।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার দখল নেয় সেনাবাহিনী। ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার শুরু হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন চলছে। সেই সঙ্গে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিপন্থি ছায়া সরকার মিয়ানমার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের (এনইউজি) পক্ষে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে গণতন্ত্রপন্থিরা। গড়ে তুলেছে ‘পিপল’স ডিফেন্স ফোর্স’ নামে প্রায় ডজনখানেক প্রতিরোধ বাহিনী। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর পাশাপাশি এসব বাহিনীতে যোগ দিচ্ছে দেশটির নারীরাও।

এএফপি জানিয়েছে, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর গভীর জঙ্গলে চলে পিপল’স ডিফেন্স ফোর্সের সেনাদের গেরিলা প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ শেষে এখান থেকেই চলে সেনাবাহিনীর ওপর বিভিন্ন অভিযান। গত কয়েক মাসে অসংখ্য অভিযান চালিয়েছে প্রশিক্ষিত সেনারা। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছে। তবে অস্ত্র চালানো, ছদ্মবেশ ধারণের পাশাপাশি নিয়মিত ওতপেতে সেনাবাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ায় পিডিএফের সেনারা যে দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতা দেখিয়েছে তা বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র উপদেষ্টা রিচার্ড হোরসি বলেন, ‘আমি মনে করি, পিডিএফ সেনাদের হামলার ক্ষিপ্রতায় অবাক হয়ে গেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। শুধু তাই নয়, তাদের গোয়েন্দা বাহিনী ও কৌশলগত কোনো পদক্ষেপই ঠিকমতো কাজ করছে না।’ মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) একটি ছায়া সরকার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপরই একটি ‘গণআত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ’ ঘোষণা করে, যাকে বিশ্লেষকরা দেশটির নিয়ন্ত্রণকারী জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের আহ্বান হিসাবে দেখছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন