মার্কেলের স্বামীর মতো সাধারণ থাকতে চান শলৎজপত্নী
jugantor
মার্কেলের স্বামীর মতো সাধারণ থাকতে চান শলৎজপত্নী

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের (৬৩) স্ত্রী ব্রিট্টা আর্নস্টের বয়স এখন ষাট। বিদায়ি চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের স্বামী জোয়াকিউম সৌরের মতোই সাধারণ থাকতে চান তিনিও। সৌর যেভাবে পর্দার আড়ালে থেকেছেন টানা ১৬ বছর, সেভাবেই রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, সমাজ-সামাজিকতা থেকে দূরে সরে যেতে চান ব্রিট্টা। নিউজইন টোয়েন্টিফোর ডটকম। ব্র্যান্ডেনবার্গের শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়াবিষয়কমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ২০১৭ সাল থেকে। এর আগে ২০১৪ সালে হয়েছিলেন শ্লেজউইক হোলস্টেনের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে। স্বামী শলৎজের উচ্চাকাক্সক্ষা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই তার। এমনকি স্বামীর রাজনৈতিক বিশিষ্ট অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও সেটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ নেই তার। গৎবাঁধা নিয়মে আবদ্ধ থাকাটা যেন এখন আর ভালো লাগছে না তার। আর এ কারণেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কে নতুন শহর পটসডাম এবং আশেপাশের এলাকা ঘুরে বেড়ানোর ছবি পোস্ট করেন। হেঁটে ঘুরে বেড়ানোর প্রতি একটা বিশেষ টান তৈরি হয়েছে হামবুর্গে জন্ম নেওয়া ব্রিট্টার। এলবে ও অ্যালস্টার নদীর শহর হামবুর্গ, এ কারণেই উত্তর মধ্য জার্মানির এ শহর তাকে খুব টানে।

হামবুর্গেই কেটেছে তার জীবনের অনেকটা সময়। ১৯৯৮ সালে বিয়ে করা ওলাফ শলৎজ ও ব্রিট্টা আর্নস্ট নিঃসন্তান দম্পতি। ২০১৮ সালের বসন্তে শলৎজ পটসডামে একটি নতুন ব্যক্তিগত অবকাশঘর তৈরি করেছিলেন-যখন শলৎজ ফেডারেল অর্থমন্ত্রী হিসাবে হামবুর্গের প্রথম মেয়র পদ থেকে বার্লিনে চলে আসেন। আর্নস্ট বাস্তববাদী এবং শান্ত স্বভাবের সোজাসাপ্টা মানুষ। তার স্বামীর নতুন ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি খুব শক্ত হয়ে যান। কারণ মন্ত্রী হিসাবে তিনি চ্যান্সেলরের সঙ্গে স্বামীত্বের সম্পর্ককে বড় করে দেখছেন না। শোলজও ছিলেন এমন প্রশ্নে অনেকটাই বাস্তববাদী। ফেডারেল নির্বাচনি প্রচারণায় তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি নির্বাচনে জয়ী হলে তার স্ত্রী কাজ চালিয়ে যাবেন কিনা। এ প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান কৌশলে। আরেকটি অনুষ্ঠানে তাকে ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল একই প্রশ্ন। তিনি বলেছিলেন-‘এ প্রশ্ন করার সময় আসেনি।’

কাঠখড় পুড়িয়ে আসা শোলজ এখন জার্মানির চ্যান্সেলর : জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিডি) সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রচারণা শুরু করেছিল তলানি থেকে। অনেকেই ওলাফ শোলজের (৬৩) পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। অথচ সবার ধারণাকে উলটো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জীবনের বহু কাঠখড় পুড়িয়ে আসা সেই শোলজই এখন জার্মানির চ্যান্সেলর। এএফপি।

উত্তরের শহর ওসনাব্রুকে জন্ম নেওয়া শোলজ ১৯৭৫ সালে এসপিডির যুব আন্দোলনে যোগ দিয়ে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অভিষিক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৮০-এর দশকে আন্দোলনের সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। কিন্তু এর নেতা হতে ব্যর্থ হন। কারণ তাকে খুব বামপন্থি বলে মনে করা হতো, যদিও পরে তিনি আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছিলেন। একজন আইনজীবী হিসাবে প্র্যাকটিসের পর এবং ১৯৮৫ সালে শ্রম সমস্যায় বিশেষায়িত তার নিজস্ব আইন ফার্ম প্রতিষ্ঠার ১৯৯৮ সালে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হন শোলজ। ২০০২-২০০৪ সালে এসপিডির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে, তৎকালীন চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডারের অজনপ্রিয় শ্রম সংস্কারের জন্য তিনি ‘শোলজোম্যাট’ নামে পরিচিত হন।

মার্কেলের স্বামীর মতো সাধারণ থাকতে চান শলৎজপত্নী

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের (৬৩) স্ত্রী ব্রিট্টা আর্নস্টের বয়স এখন ষাট। বিদায়ি চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের স্বামী জোয়াকিউম সৌরের মতোই সাধারণ থাকতে চান তিনিও। সৌর যেভাবে পর্দার আড়ালে থেকেছেন টানা ১৬ বছর, সেভাবেই রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, সমাজ-সামাজিকতা থেকে দূরে সরে যেতে চান ব্রিট্টা। নিউজইন টোয়েন্টিফোর ডটকম। ব্র্যান্ডেনবার্গের শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়াবিষয়কমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ২০১৭ সাল থেকে। এর আগে ২০১৪ সালে হয়েছিলেন শ্লেজউইক হোলস্টেনের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে। স্বামী শলৎজের উচ্চাকাক্সক্ষা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই তার। এমনকি স্বামীর রাজনৈতিক বিশিষ্ট অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও সেটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ নেই তার। গৎবাঁধা নিয়মে আবদ্ধ থাকাটা যেন এখন আর ভালো লাগছে না তার। আর এ কারণেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কে নতুন শহর পটসডাম এবং আশেপাশের এলাকা ঘুরে বেড়ানোর ছবি পোস্ট করেন। হেঁটে ঘুরে বেড়ানোর প্রতি একটা বিশেষ টান তৈরি হয়েছে হামবুর্গে জন্ম নেওয়া ব্রিট্টার। এলবে ও অ্যালস্টার নদীর শহর হামবুর্গ, এ কারণেই উত্তর মধ্য জার্মানির এ শহর তাকে খুব টানে।

হামবুর্গেই কেটেছে তার জীবনের অনেকটা সময়। ১৯৯৮ সালে বিয়ে করা ওলাফ শলৎজ ও ব্রিট্টা আর্নস্ট নিঃসন্তান দম্পতি। ২০১৮ সালের বসন্তে শলৎজ পটসডামে একটি নতুন ব্যক্তিগত অবকাশঘর তৈরি করেছিলেন-যখন শলৎজ ফেডারেল অর্থমন্ত্রী হিসাবে হামবুর্গের প্রথম মেয়র পদ থেকে বার্লিনে চলে আসেন। আর্নস্ট বাস্তববাদী এবং শান্ত স্বভাবের সোজাসাপ্টা মানুষ। তার স্বামীর নতুন ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি খুব শক্ত হয়ে যান। কারণ মন্ত্রী হিসাবে তিনি চ্যান্সেলরের সঙ্গে স্বামীত্বের সম্পর্ককে বড় করে দেখছেন না। শোলজও ছিলেন এমন প্রশ্নে অনেকটাই বাস্তববাদী। ফেডারেল নির্বাচনি প্রচারণায় তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি নির্বাচনে জয়ী হলে তার স্ত্রী কাজ চালিয়ে যাবেন কিনা। এ প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান কৌশলে। আরেকটি অনুষ্ঠানে তাকে ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল একই প্রশ্ন। তিনি বলেছিলেন-‘এ প্রশ্ন করার সময় আসেনি।’

কাঠখড় পুড়িয়ে আসা শোলজ এখন জার্মানির চ্যান্সেলর : জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিডি) সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রচারণা শুরু করেছিল তলানি থেকে। অনেকেই ওলাফ শোলজের (৬৩) পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। অথচ সবার ধারণাকে উলটো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জীবনের বহু কাঠখড় পুড়িয়ে আসা সেই শোলজই এখন জার্মানির চ্যান্সেলর। এএফপি।

উত্তরের শহর ওসনাব্রুকে জন্ম নেওয়া শোলজ ১৯৭৫ সালে এসপিডির যুব আন্দোলনে যোগ দিয়ে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অভিষিক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৮০-এর দশকে আন্দোলনের সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। কিন্তু এর নেতা হতে ব্যর্থ হন। কারণ তাকে খুব বামপন্থি বলে মনে করা হতো, যদিও পরে তিনি আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছিলেন। একজন আইনজীবী হিসাবে প্র্যাকটিসের পর এবং ১৯৮৫ সালে শ্রম সমস্যায় বিশেষায়িত তার নিজস্ব আইন ফার্ম প্রতিষ্ঠার ১৯৯৮ সালে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হন শোলজ। ২০০২-২০০৪ সালে এসপিডির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে, তৎকালীন চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডারের অজনপ্রিয় শ্রম সংস্কারের জন্য তিনি ‘শোলজোম্যাট’ নামে পরিচিত হন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন