জার্মানির বাধা সত্ত্বেও ইউক্রেনে সেনা ও অস্ত্র পাঠাল ব্রিটেন
jugantor
জার্মানির বাধা সত্ত্বেও ইউক্রেনে সেনা ও অস্ত্র পাঠাল ব্রিটেন

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জার্মানির বাধা সত্ত্বেও ইউক্রেনে সেনা ও অস্ত্র পাঠাল ব্রিটেন

ইউক্রেনে সম্ভাব্য রুশ আক্রমণের জবাবে ইউক্রেনীয়দের প্রশিক্ষণ দিতে সেখানে উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্রসহ সেনাদল পাঠিয়েছে ব্রিটেন। রুশ-ইউক্রেন উত্তেজনা নিয়ে সম্ভাব্য সংকট এড়াতে জার্মানির বাধা সত্ত্বেও ভিন্ন পথে মঙ্গলবার ইউক্রেনে পৌঁছেছে ব্রিটেনের সি-১৭ বিমানটি। দি গার্ডিয়ান।

মস্কোর প্রায় ১০ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে ইউক্রেন সীমান্তে। এ অবস্থায় দেশটিতে রুশ আক্রমণের আশঙ্কাকে আমলে নিয়েছে পশ্চিমারা। সম্ভাব্য রুশ আক্রমণ মোকাবিলায় ইউক্রেনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে মনোযোগী হয়েছে ব্রিটেন। কিয়েভবাহিনীকে ক্রেমলিনের সমকক্ষ করে গড়ে তোলার মিশন হাতে নিয়েছে তারা। মঙ্গলবার পৌঁছানো ওই ব্রিটিশ বিমান ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি সতর্কসংকেত। যদিও ক্রেমলিন জোর দিয়ে বলেছে তাদের আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা নেই। সোমবার রাতে অস্ত্র ও সৈন্য বহনকারী ব্রিটিশ সামরিক বিমানটি জার্মানির আকাশসীমায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কারণ তারা চান রুশ-ইউক্রেন সংকটের রক্তপাতহীন শান্তিপূর্ণ সমাধান হোক। জার্মানির বাধা পেয়ে ব্রিটিশ সেনাবিমানটি পোল্যান্ডের পাশ দিয়ে ডেনমার্ক ও বাল্টিক অতিক্রম করে ইউক্রেন পৌঁছাতে হয়।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সতর্ক করতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়াতে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে একটি নিরাপত্তা সহায়তা প্যাকেজ এটি।’ ব্রিটেন থেকে ইউক্রেনে উড়ে আসা অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে-কাঁধ থেকে চালিত ক্ষেপণাস্ত্র। যেমন এটি৪ ৮৪এমএম অ্যান্টি-আরমার সিস্টেম, যা ন্যাটো সৈন্যরা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন। অস্ত্রটি অগ্রসরমাণ ট্যাঙ্ক এবং কম উচ্চতায় উড়ে যাওয়া যুদ্ধযান, হেলিকপ্টার এবং বিমান ধ্বংস করতে পারে। নিরাপত্তার কারণে গত রাতে ব্রিটিশ সেনাদের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ব্রিটেন ২০১৫ সাল থেকে ২২,০০০ ইউক্রেনীয় সৈন্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করার পর মিশনটি শুরু করেছিল তারা।

এদিকে সোমবার কিয়েভ সফররত জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক হুঁশিয়ারি উচ্চরণ করে বলেছেন, ‘ইউক্রেনে হামলা চালালে রাশিয়াকে মূল্য দিতে হবে।’ ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষপাতী বেয়ারবক বলেন, ‘মস্কো যদি তার প্রতিবেশীকে (ইউক্রেন) আক্রমণ করে তাহলে এর জন্য তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’ তবে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করতে নারাজ। বেয়ারবক বলেন, ‘আমরা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছি।’ বেয়ারবক জানান, গত সপ্তাহের সাইবার হামলার তদন্তে সহায়তা করার জন্য জার্মানি ইউক্রেনে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ স্পেন সফরে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি শান্ত করতে রাশিয়ার কাছ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপ আশা করি।’

জার্মানির বাধা সত্ত্বেও ইউক্রেনে সেনা ও অস্ত্র পাঠাল ব্রিটেন

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
জার্মানির বাধা সত্ত্বেও ইউক্রেনে সেনা ও অস্ত্র পাঠাল ব্রিটেন
প্রতীকী ছবি

ইউক্রেনে সম্ভাব্য রুশ আক্রমণের জবাবে ইউক্রেনীয়দের প্রশিক্ষণ দিতে সেখানে উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্রসহ সেনাদল পাঠিয়েছে ব্রিটেন। রুশ-ইউক্রেন উত্তেজনা নিয়ে সম্ভাব্য সংকট এড়াতে জার্মানির বাধা সত্ত্বেও ভিন্ন পথে মঙ্গলবার ইউক্রেনে পৌঁছেছে ব্রিটেনের সি-১৭ বিমানটি। দি গার্ডিয়ান।

মস্কোর প্রায় ১০ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে ইউক্রেন সীমান্তে। এ অবস্থায় দেশটিতে রুশ আক্রমণের আশঙ্কাকে আমলে নিয়েছে পশ্চিমারা। সম্ভাব্য রুশ আক্রমণ মোকাবিলায় ইউক্রেনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে মনোযোগী হয়েছে ব্রিটেন। কিয়েভবাহিনীকে ক্রেমলিনের সমকক্ষ করে গড়ে তোলার মিশন হাতে নিয়েছে তারা। মঙ্গলবার পৌঁছানো ওই ব্রিটিশ বিমান ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি সতর্কসংকেত। যদিও ক্রেমলিন জোর দিয়ে বলেছে তাদের আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা নেই। সোমবার রাতে অস্ত্র ও সৈন্য বহনকারী ব্রিটিশ সামরিক বিমানটি জার্মানির আকাশসীমায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কারণ তারা চান রুশ-ইউক্রেন সংকটের রক্তপাতহীন শান্তিপূর্ণ সমাধান হোক। জার্মানির বাধা পেয়ে ব্রিটিশ সেনাবিমানটি পোল্যান্ডের পাশ দিয়ে ডেনমার্ক ও বাল্টিক অতিক্রম করে ইউক্রেন পৌঁছাতে হয়।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সতর্ক করতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়াতে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে একটি নিরাপত্তা সহায়তা প্যাকেজ এটি।’ ব্রিটেন থেকে ইউক্রেনে উড়ে আসা অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে-কাঁধ থেকে চালিত ক্ষেপণাস্ত্র। যেমন এটি৪ ৮৪এমএম অ্যান্টি-আরমার সিস্টেম, যা ন্যাটো সৈন্যরা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন। অস্ত্রটি অগ্রসরমাণ ট্যাঙ্ক এবং কম উচ্চতায় উড়ে যাওয়া যুদ্ধযান, হেলিকপ্টার এবং বিমান ধ্বংস করতে পারে। নিরাপত্তার কারণে গত রাতে ব্রিটিশ সেনাদের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ব্রিটেন ২০১৫ সাল থেকে ২২,০০০ ইউক্রেনীয় সৈন্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করার পর মিশনটি শুরু করেছিল তারা।

এদিকে সোমবার কিয়েভ সফররত জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক হুঁশিয়ারি উচ্চরণ করে বলেছেন, ‘ইউক্রেনে হামলা চালালে রাশিয়াকে মূল্য দিতে হবে।’ ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষপাতী বেয়ারবক বলেন, ‘মস্কো যদি তার প্রতিবেশীকে (ইউক্রেন) আক্রমণ করে তাহলে এর জন্য তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’ তবে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করতে নারাজ। বেয়ারবক বলেন, ‘আমরা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছি।’ বেয়ারবক জানান, গত সপ্তাহের সাইবার হামলার তদন্তে সহায়তা করার জন্য জার্মানি ইউক্রেনে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ স্পেন সফরে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি শান্ত করতে রাশিয়ার কাছ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপ আশা করি।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন