ভিন্নধর্মী মায়ের ঘরে বড় হলো মুসলিম মেয়ে
jugantor
মালয়েশিয়ার সামাজিক মাধ্যমে ঝড়
ভিন্নধর্মী মায়ের ঘরে বড় হলো মুসলিম মেয়ে

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া  

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভিন্নধর্মী মায়ের ঘরে বড় হলো মুসলিম মেয়ে

মা-মা-ই হয়। মায়েদের কোনো জাত থাকে না। ধর্ম থাকে না। দেশ থাকে না। চিরন্তন এই সত্যটিই আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন মালয়েশিয়ার বাসিন্দা চীনের নাগরিক চি হুই লান। ২২ বছর আগে রোহানার মা তাকে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষিকা চি হুই লান (৮৩) এর কোলে তুলে দিয়ে তার নিজ দেশে ইন্দোনেশিয়া চলে যান। রোহানা সেসময় আড়াই বছরের শিশু। রোহানার মা ওই কিন্ডারগার্টেনের একজন ক্লিনার হিসাবে কাজ করতেন। চি হুই লান রোহানাকে তার নিজের সন্তানের মতো করে বড় করে তোলেন।

পড়াতেন সকালে স্কুলে, বিকালে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য নিয়ে যেতেন ইসলামি একাডেমিতে। বাসায় ব্যবস্থা করে দিতেন নামাজ, কুরআন ও হাদিস পড়ার। খেতে দিতেন হালাল খাবার, পরিয়ে রাখতেন মুসলিম পোশাক। চি হুই লান ছিলেন একজন মালয়েশিয়ান চাইনিজ ভিন্নধর্মী মহিলা। ধর্মীয় ও বর্ণগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তার নিজের রক্ত-মাংসের মেয়ের মতো লালন-পালন করেছেন রোহানাকে। ১৬ জানুয়ারি দেশটির জাতীয় দৈনিক স্টার অনলাইনে রোহানা ও তার পালক-মা চি হুই লানকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে রোহানা ও তার পালক মাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ঝড় উঠেছে। অন্য ধর্মের প্রতি এতটা শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কারণে মালয়েশিয়ার সাধারণ মানুষ হতে জাতীয় পত্রিকায় সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর মনে স্পর্শ করেছে, চি হুই লানের ভালোবাসা। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, এমনই হওয়া উচিত আমাদের। আমরা যেন মানুষের মতো মানুষ হই এবং প্রতিটা ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। চি হুই লান বলেন, ‘আমি একজন মা হিসাবে মরার আগে তাকে বিয়ে দিতে চাই এবং তাকে সফল ও সুখী হতে দেখতে চাই।

আমি স্বস্তি পেয়েছি কারণ তার সমস্ত জীবন আমি নিশ্চিত করেছি যে সে একজন মুসলিম হিসাবেই বড় হয়েছে এবং চিরকাল সেভাবেই থাকবে।’ এর আগে রোহানার নাগরিকত্ব না পাওয়ার বিষয়টি বাটু এলাকার আবাসিক প্রতিনিধি পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মুজাফফর গোলাম মুস্তাকিমের কাছে উত্থাপন করেছিলেন চি। রোহানা বলেন, বর্তমানে আমি নাগরিকত্বের মর্যাদা পাওয়ার সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আমি বুঝতে পারি, কারণ আমার মা ইন্দোনেশিয়ান এবং আমার বাবা ছোটবেলা থেকেই নিখোঁজ।

মালয়েশিয়ার সামাজিক মাধ্যমে ঝড়

ভিন্নধর্মী মায়ের ঘরে বড় হলো মুসলিম মেয়ে

 আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া 
১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ভিন্নধর্মী মায়ের ঘরে বড় হলো মুসলিম মেয়ে
ফাইল ছবি

মা-মা-ই হয়। মায়েদের কোনো জাত থাকে না। ধর্ম থাকে না। দেশ থাকে না। চিরন্তন এই সত্যটিই আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন মালয়েশিয়ার বাসিন্দা চীনের নাগরিক চি হুই লান। ২২ বছর আগে রোহানার মা তাকে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষিকা চি হুই লান (৮৩) এর কোলে তুলে দিয়ে তার নিজ দেশে ইন্দোনেশিয়া চলে যান। রোহানা সেসময় আড়াই বছরের শিশু। রোহানার মা ওই কিন্ডারগার্টেনের একজন ক্লিনার হিসাবে কাজ করতেন। চি হুই লান রোহানাকে তার নিজের সন্তানের মতো করে বড় করে তোলেন।

পড়াতেন সকালে স্কুলে, বিকালে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য নিয়ে যেতেন ইসলামি একাডেমিতে। বাসায় ব্যবস্থা করে দিতেন নামাজ, কুরআন ও হাদিস পড়ার। খেতে দিতেন হালাল খাবার, পরিয়ে রাখতেন মুসলিম পোশাক। চি হুই লান ছিলেন একজন মালয়েশিয়ান চাইনিজ ভিন্নধর্মী মহিলা। ধর্মীয় ও বর্ণগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তার নিজের রক্ত-মাংসের মেয়ের মতো লালন-পালন করেছেন রোহানাকে। ১৬ জানুয়ারি দেশটির জাতীয় দৈনিক স্টার অনলাইনে রোহানা ও তার পালক-মা চি হুই লানকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে রোহানা ও তার পালক মাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ঝড় উঠেছে। অন্য ধর্মের প্রতি এতটা শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কারণে মালয়েশিয়ার সাধারণ মানুষ হতে জাতীয় পত্রিকায় সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর মনে স্পর্শ করেছে, চি হুই লানের ভালোবাসা। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, এমনই হওয়া উচিত আমাদের। আমরা যেন মানুষের মতো মানুষ হই এবং প্রতিটা ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। চি হুই লান বলেন, ‘আমি একজন মা হিসাবে মরার আগে তাকে বিয়ে দিতে চাই এবং তাকে সফল ও সুখী হতে দেখতে চাই।

আমি স্বস্তি পেয়েছি কারণ তার সমস্ত জীবন আমি নিশ্চিত করেছি যে সে একজন মুসলিম হিসাবেই বড় হয়েছে এবং চিরকাল সেভাবেই থাকবে।’ এর আগে রোহানার নাগরিকত্ব না পাওয়ার বিষয়টি বাটু এলাকার আবাসিক প্রতিনিধি পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মুজাফফর গোলাম মুস্তাকিমের কাছে উত্থাপন করেছিলেন চি। রোহানা বলেন, বর্তমানে আমি নাগরিকত্বের মর্যাদা পাওয়ার সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আমি বুঝতে পারি, কারণ আমার মা ইন্দোনেশিয়ান এবং আমার বাবা ছোটবেলা থেকেই নিখোঁজ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন