তামিলনাড়ুতে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলি

নিহত ১২ আহত ২০

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধে ১২ ব্যক্তির মৃত্যু হল। আহত ২০ জনের বেশি। মঙ্গলবার একটি তামার কারখানা বন্ধের দাবিতে পথে প্রতিবাদ মিছিল করছিলেন স্থানীয় জনতা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই মিছিল আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কারণ মিছিল কারখানার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। যেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা ছিল। পুলিশ সেই মিছিলকে এগোতে বাধা দিলে প্রতিবাদীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ হয়। পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নিলে পুলিশ উত্তেজিত জনতার ওপর গুলি চালায় বলে অভিযোগ। আর তাতেই ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তামিলনাড়ুর বন্দর শহর টুইটিকোরিন এলাকায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

প্রতিবাদীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই তামার কারখানা চালু হলে বাতাসে দূষণের মাত্রা বাড়বে। ফলে সেই দূষণ থেকে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই এই তামার কারখানা বন্ধের দাবিতে গত তিন মাস ধরে প্রতিবাদ করা হচ্ছিল। চিঠি দেয়া হয়েছিল তামিলনাড়ুর এআইএডিএম সরকারকে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এই কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় প্রতিবাদে নামতে হয়েছিল। সেখানে পুলিশই মিছিলে বাধা দেয়া থেকে মিছিলের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। তার ফলেই ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ৫ হাজার প্রতিবাদী জনতা মিছিল করে কারখানার পথে এগিয়ে আসছিলেন। যেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা ছিল। তাই তাদের বাধা দেয়া হয়। কিন্তু তারা কোনো কথা শুনতে না চেয়ে পাথর ছুড়তে শুরু করেন। সরকারি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। তখন তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে টিয়ারগ্যাসের শেল ফাটানো হয়। কিন্তু যারা নিহত ও আহত হয়েছেন তা পদপিষ্টের জন্যই হয়েছে। গুলি চালানো হয়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হলেও তামিলনাড়ু সরকারের মন্ত্রী ডি জয়কুমার জানান, যারা গুলিতে মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। ফলে গুলি যে চালানো হয়েছিল তা কার্যত তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। আর তাতেই পুলিশ প্রশাসন বেশ ব্যাকফুটে চলে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তার সাফাই পুলিশের কিছু করার ছিল না গুলি চালানো ছাড়া। কারণ যেভাবে মিছিলের জনতা হিংসাত্মক হয়ে উঠেছিল তাতে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। মন্ত্রীর এই বক্তব্যে তীব্র্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বিরোধী দল ডিএমকের নেতা এমকে স্ট্যালিন এই ঘটনার জন্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তার প্রতিক্রিয়া, প্রশাসন উদ্যোগী ছিল না বলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অবিলম্বে এই তামার কারখানা বন্ধ করে দেয়া উচিত। অভিনেতা তথা রাজনীতিবিদ কমল হাসান বলেন, ‘নাগরিকরা অপরাধী নন যে তাদের প্রাণ কেড়ে নিতে হবে। এটা সরকারের গাফিলতি। সরকার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলকে অবজ্ঞা করেছিল।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×