দ. ইউক্রেনে চালু হচ্ছে রাশিয়ার পাসপোর্ট
jugantor
দ. ইউক্রেনে চালু হচ্ছে রাশিয়ার পাসপোর্ট

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিজঝিয়া অঞ্চলে রুশ পাসপোর্ট চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব দিতে পাসপোর্টপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে বুধবার একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট। এই ডিক্রির মাধ্যমে ইউক্রেনকে ‘রাশিয়ায়ন’ করার প্রক্রিয়ায় আরো একধাপ এগিয়েছে ক্রেমলিন। এর মাধ্যমে খেরসন ও জাপোরিজঝিয়ার সঙ্গে ২০১৪ সালে দখলকৃত ক্রিমিয়ার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ‘স্থলসেতু’ নির্মাণ সম্পন্ন হবে। আল-জাজিরা।

বুধবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, ‘অবৈধ পাসপোর্ট ইস্যুর মাধ্যমে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নিয়মনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন করছে রাশিয়া।’ কিয়েভ বলেছে, এই রুশ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এ ‘অপরাধী’ আচরণের জন্য ক্রেমলিনকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

পুতিনের পদক্ষেপটি ইউক্রেনের দোনেস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য চলমান একটি প্রকল্পের সম্প্রসারিত রূপ। কারণ, দোনেস্ক ও লুহানস্কে ২০১৯ সাল থেকে প্রায় আট লাখ পাসপোর্ট ইস্যু করেছে রাশিয়া। পাসেপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের রাশিয়ায় বসবাস করার প্রয়োজন নেই এবং পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ এবং রাশিয়ান ভাষা জানারও প্রয়োজন নেই। রাশিয়া মার্চের মাঝামাঝি ক্রিমিয়ার উত্তরে খেরসন অঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে এবং উত্তর-পূর্বে জাপোরিজঝিয়া অঞ্চলের কিছু অংশ দখল করেছে। খেরসনে ইউক্রেনের গভর্নরকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। সোমবার ইউক্রেনীয় মুদ্রা রিভনিয়ার পাশপাশি রুবলকে সরকারি মুদ্রা হিসাবে চালু করেছে খেরসন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দনবাসে কোনো প্রতিরোধেই মস্কোকে ঠেকাতে পারছে না কিয়েভ। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, রুশ সেনাবাহিনী পূর্ব দনবাস অঞ্চলের ৪০টিরও বেশি শহরে গোলাবর্ষণ করেছে। এতে স্কুলসহ অর্ধশতাধিক বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার বোমার আঘাতে কমপক্ষে পাঁচ ব্যক্তি নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি তারা ওই অঞ্চলে আটকে থাকা নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার পথটিও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। পাশাপাশি লিসিচানস্ক শহরে অবস্থানরত ইউক্রেনীয় বাহিনীকেও তিন দিকে থেকে আক্রমণ শুরু করছে। এই দুই শহর পতনের পরে পুরো লুহানস্ক প্রদেশ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিবিসি।

ইউক্রেনের আরেকটি শহর প্রায় অবরুদ্ধ : বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেনের সেভেরোদোনেস্ক দখলে নিতে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে রুশ সেনারা। শহরটি চার পাশ থেকে ঘিরে ফেলার দাবি করেছে রুশযোদ্ধারা। তবে পূর্ব ইউক্রেনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এ দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি এলাকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগ সড়ক এখনো দখলে নিতে পারেনি রাশিয়া। ওই সড়কটি দখল নিতে পারলেই সেভেরোদোনেস্কের সঙ্গে ইউক্রেনের অন্য শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এই অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান শেরহি হাইদি দাবি করেছেন, ‘লুহানস্কের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি।’ রাশিয়ার অন্যতম লক্ষ্য হলো সেভেরোদোনেস্ক দখলে নেওয়া। দেশটির অন্যতম বড় এই শহরটির উপকণ্ঠে তীব্র লড়াই চলছে। বিবিসি বলছে, রুশ সেনারা যদি সেভেরোদোনেস্ক থেকে বাখমুটের রাস্তাটি দখল করতে পারে- তবে পুরো শহরটিকে ঘিরে ফেলতে সক্ষম হবে তারা।

আহত রুশ সেনাদের সঙ্গে দেখা করলেন পুতিন : ইউক্রেনে ‘বিশেষ অভিযান’ চালানোর সময় আহত সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ উদ্দেশ্যে বুধবার মস্কোর মান্দ্রিক সেন্ট্রাল মিলিটারি ক্লিনিক্যাল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় পুতিনের সঙ্গে ছিলেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। এই সফরের ফুটেজ ক্রেমলিনের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রী মেডিকেল গাউন পরে একটি ওয়ার্ডে প্রবেশ করছেন। তারা চিকিৎসাধীন সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন।

দ. ইউক্রেনে চালু হচ্ছে রাশিয়ার পাসপোর্ট

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিজঝিয়া অঞ্চলে রুশ পাসপোর্ট চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব দিতে পাসপোর্টপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে বুধবার একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট। এই ডিক্রির মাধ্যমে ইউক্রেনকে ‘রাশিয়ায়ন’ করার প্রক্রিয়ায় আরো একধাপ এগিয়েছে ক্রেমলিন। এর মাধ্যমে খেরসন ও জাপোরিজঝিয়ার সঙ্গে ২০১৪ সালে দখলকৃত ক্রিমিয়ার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ‘স্থলসেতু’ নির্মাণ সম্পন্ন হবে। আল-জাজিরা।

বুধবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, ‘অবৈধ পাসপোর্ট ইস্যুর মাধ্যমে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নিয়মনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন করছে রাশিয়া।’ কিয়েভ বলেছে, এই রুশ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এ ‘অপরাধী’ আচরণের জন্য ক্রেমলিনকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

পুতিনের পদক্ষেপটি ইউক্রেনের দোনেস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য চলমান একটি প্রকল্পের সম্প্রসারিত রূপ। কারণ, দোনেস্ক ও লুহানস্কে ২০১৯ সাল থেকে প্রায় আট লাখ পাসপোর্ট ইস্যু করেছে রাশিয়া। পাসেপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের রাশিয়ায় বসবাস করার প্রয়োজন নেই এবং পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ এবং রাশিয়ান ভাষা জানারও প্রয়োজন নেই। রাশিয়া মার্চের মাঝামাঝি ক্রিমিয়ার উত্তরে খেরসন অঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে এবং উত্তর-পূর্বে জাপোরিজঝিয়া অঞ্চলের কিছু অংশ দখল করেছে। খেরসনে ইউক্রেনের গভর্নরকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। সোমবার ইউক্রেনীয় মুদ্রা রিভনিয়ার পাশপাশি রুবলকে সরকারি মুদ্রা হিসাবে চালু করেছে খেরসন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দনবাসে কোনো প্রতিরোধেই মস্কোকে ঠেকাতে পারছে না কিয়েভ। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, রুশ সেনাবাহিনী পূর্ব দনবাস অঞ্চলের ৪০টিরও বেশি শহরে গোলাবর্ষণ করেছে। এতে স্কুলসহ অর্ধশতাধিক বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার বোমার আঘাতে কমপক্ষে পাঁচ ব্যক্তি নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি তারা ওই অঞ্চলে আটকে থাকা নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার পথটিও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। পাশাপাশি লিসিচানস্ক শহরে অবস্থানরত ইউক্রেনীয় বাহিনীকেও তিন দিকে থেকে আক্রমণ শুরু করছে। এই দুই শহর পতনের পরে পুরো লুহানস্ক প্রদেশ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিবিসি।

ইউক্রেনের আরেকটি শহর প্রায় অবরুদ্ধ : বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেনের সেভেরোদোনেস্ক দখলে নিতে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে রুশ সেনারা। শহরটি চার পাশ থেকে ঘিরে ফেলার দাবি করেছে রুশযোদ্ধারা। তবে পূর্ব ইউক্রেনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এ দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি এলাকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগ সড়ক এখনো দখলে নিতে পারেনি রাশিয়া। ওই সড়কটি দখল নিতে পারলেই সেভেরোদোনেস্কের সঙ্গে ইউক্রেনের অন্য শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এই অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান শেরহি হাইদি দাবি করেছেন, ‘লুহানস্কের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি।’ রাশিয়ার অন্যতম লক্ষ্য হলো সেভেরোদোনেস্ক দখলে নেওয়া। দেশটির অন্যতম বড় এই শহরটির উপকণ্ঠে তীব্র লড়াই চলছে। বিবিসি বলছে, রুশ সেনারা যদি সেভেরোদোনেস্ক থেকে বাখমুটের রাস্তাটি দখল করতে পারে- তবে পুরো শহরটিকে ঘিরে ফেলতে সক্ষম হবে তারা।

আহত রুশ সেনাদের সঙ্গে দেখা করলেন পুতিন : ইউক্রেনে ‘বিশেষ অভিযান’ চালানোর সময় আহত সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ উদ্দেশ্যে বুধবার মস্কোর মান্দ্রিক সেন্ট্রাল মিলিটারি ক্লিনিক্যাল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় পুতিনের সঙ্গে ছিলেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। এই সফরের ফুটেজ ক্রেমলিনের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রী মেডিকেল গাউন পরে একটি ওয়ার্ডে প্রবেশ করছেন। তারা চিকিৎসাধীন সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন